ফণীবিধ্বস্তদের কাছে একটি বাসই এখন জীবনসুধা

394

ফণীর দাপটে বিধ্বস্ত ওড়িশা। পুরী সহ গোটা রাজ্যে সুপার সাইক্লোন ফণী যে তাণ্ডব চালিয়েছে তার জেরে সেখানকার জনজীবন এখনও বিপর্যস্ত। তার মধ্যে অন্যতম প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে পানীয় জল। ঝড়ের দাপটে অধিকাংশ জলাশয়ের জল কলুষিত হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় সেখানকার গ্রামবাসীকে স্বস্তি দিতে সেখানে পৌঁছেছে একটি বাস। সেই বাসই এখন হয়ে উঠেছে তৃষ্ণার্ত মানুষের মুশকিল আসান।

৪০ ফুট লম্বা ওই বাসটির নির্মাতা গুজরাতের সেন্ট্রাল সল্ট অ্যান্ড মেরিন কেমিক্যালস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিএসএমসিআরআই)। ২০০৭-০৮ সালে নির্মিত বাসটি দৈনিক ৪০ হাজার লিটার দূষিত ও লবণাক্ত জলকে পরিস্রুত করে পানীয় জলে পরিণত করতে পারে।

ফণী আছড়ে পড়ার চার দিন পরে ৭ মে ওই বাসটিকে উপকূলবর্তী জেলাগুলির উদ্দেশে পাঠিয়ে দেয় সিএসএমসিআরআই। তারপর থেকে বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে সেখানকার মানুষদের কাছে পরিত্রাতা হয়ে উঠেছে এই বাস।

পুরো প্রক্রিয়ার অন্যতম ব্যবস্থাপক সিনিয়র বিজ্ঞানী সঞ্জয় পাতিল এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের কাছে জানাচ্ছেন, তাঁদের বাসটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে গিয়ে সেখানকার মানুষকে পরিষেবা দিচ্ছে। তাঁদের সাহায্য করছে ওড়িশার স্টেট রুরাল ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যানিটেশন (আরডবলিউএসএস)। আপাতত প্রতি ঘণ্টায় ৪ হাজার লিটার জল পুকুর থেকে তুলে পরিস্রুত করছে। জলে মিশে যাওয়া লবণ নিষ্কাশন ও জলকে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ামুক্ত করা হচ্ছে। যেহেতু বিদ্যুতের সরবরাহও বিঘ্নিত হচ্ছে, তাই জেনারেটরের সাহায্যে কাজ চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি বাসের ছাদে থাকা সৌর প্যানেলের আংশিক সাহায্যও মিলছে। এর আগে ২০১৩ সালে বন্যার সময়েও ওড়িশার মানুষের জলকষ্ট দূর করেছিল এই বাসটি। আবার একবার এই বাস ত্রাতার ভূমিকায় দেখা দিল ফণী-আক্রান্ত মানুষদের সামনে।

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.