দিলীপ কুমারকে ভুল প্রমাণ করে ছেড়েছিলেন লতা মঙ্গেশকর; জানেন সে গল্প?

এমন অনেক ঘটনাই ঘটে যা পরবর্তীকালে সম্পূর্ণ রূপে বদলে দেয় আমাদের জীবন | এমনি একটা ঘটনা ঘটেছিল কিংবদন্তী গায়িকা লতা মঙ্গেশকরের জীবনে |

লতার বাবা পণ্ডিত দীনানাথ মঙ্গেশকর একজন শাস্ত্রীয় সঙ্গীত গাইয়ে ছিলেন | একই সঙ্গে উনি থিয়েটারেও অভিনয় করতেন | লতার জন্মের পর ওঁর নাম রাখা হয় হেমা | কিন্তু পরে ওঁর বাবার একটি নাটক ‘ ভাব বন্ধন ‘এর প্রধান নায়িকা লতিকার নাম অনুসারে লতা নাম রাখা হয় ওঁর | ৫ বছর বয়েস থেকে লতা ওঁর বাবার কাছে গান শিখতেন | পড়াশোনার দিকে কোনদিনই খুব একটা গুরুত্ব দেন নি উনি | আসলে সারাদিন রেওয়াজ করেই কেটে যেত‚ কখন আর পড়াশোনা করবেন |

লতার কিশোরীবেলায় ওঁর বাবার মৃত্যু হয় | এর কিছুদিন পরে লতা মারাঠি ছবিতে গান গাওয়ার সুযোগ পান | উনি মুম্বাইতে পা রাখেন | এবং সেখানে উস্তাদ আমানত আলি খান এবং বেশ কিছু সঙ্গীত বিশেষজ্ঞের কাছে প্রশিক্ষণ নেন | এইখান থেকেই উনি হিন্দি ছবিতে গান করার সুযোগ পান |

ওই সময় হিন্দি ফিল্ম ইন্ড্রাস্ট্রিতে নূরজাহানের খুব রমরমা ছিল | তাই লতাকে নিজের জায়গা পাকা করার জন্য বেশ কষ্ট করতে হয়েছিল |

বম্বে স্টুডিওজ তখনকার দিনে নামকরা প্রডাকশন হাউজ | এর অবস্থান ছিল মুম্বাইয়ের পশ্চিম মালাডে | লতা লোকাল ট্রেনে করে রোজ মালাড যেতেন | এইসময় ওঁর সঙ্গী হতেন সুরকার অনিল বিশ্বাস | একদিন যখন ওঁরা দুজনে ট্রেনে করে মালাডের স্টুডিওতে যাচ্ছিলেন‚ তখন ট্রেনে ওঁদের সঙ্গে দেখা হয় তরুন নায়ক দিলীপ কুমারের |

দিলীপ কুমারকে লঞ্চ করেছিল বম্বে টকিজ | তাই অনিল ওঁকে খুব ভালো করে চিনতেন | উনি লতা এবং দিলীপের আলাপ করিয়ে দেন | দিলীপ কুমার আবার নূরজাহানের ডাই হার্ড ফ্যান ছিলেন এবং মনে করতেন নূরজাহানের জায়গা অন্য কোন গায়িকাই নিতে পারবে না |

গল্প করতে করতে অনিল বিশ্বাস দিলীপকে জানান লতা ওঁর ছবিতে গান গাইবেন | দিলীপ কুমার লতার দিকে তাকিয়ে জানতে চান ‘ এই মেয়েটার দেশ কোথায় ? ‘ উত্তরে অনিল জানান ‘ও মহারাষ্ট্র থেকে এসেছে | ‘ এই উত্তর শুনে দিলীপ কুমার নাক সিঁটকে বলে ওঠেন ‘ ও ! এর তো তাহলে উর্দুর উচ্চারণ খুবই সাধারণ হবে | রোজকার ডাল-ভাতের মতো | ‘ দিলীপ কুমারের করা এই মন্তব্য মোটেই ভালো ভাবে নেননি লতা | যদিও উনি কোন উত্তর দেন নি কিন্তু সারাটা রাস্তা রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে স্টুডিওতে পৌঁছন উনি |

এই ঘটনার পর লতা বুঝতে পারেন উর্দুর কারণেই অন্য গায়িকারা নূরজাহানকে টেক্কা দিতে পারছেন না | সেই মুহূর্তে উনি ভালো করে উর্দুতে তালিম নেওয়ার পণ করেন | কিছুদিনের মধ্যে উনি এই ভাষা ভালো করে রপ্ত করে নেন |

লতা যে উর্দুতে কতটা পারদর্শী হয়ে উঠেছেন তা কিছুদিনের মধ্যে ফুটে উঠতে লাগলো ওঁর গানে | দিলীপ যিনি এক সময় ওঁকে ব্যঙ্গ করেছিলেন‚ উনিই পরবর্তীকালে ওঁর অভিনীত ছবিতে লতার নাম সুপারিশ করতে লাগলেন |

লতার প্রথম হিন্দি গান মারাঠি ছবি ‘ গজভানু ‘র জন্য | ১৯৫৭ সালে দিলীপ ওঁর সঙ্গে একটা ডুয়েট গান করেন হৃষিকেশ মুখার্জির ‘ মুসাফির ‘ ছবির জন্য | সলিল চৌধূরির কম্পোজ করা এই গান বেশ কিছুদিন ধরে দিলীপ অনুশীলন করেন | কিন্তু রেকর্ডিং এর দিন উনি খুব নার্ভাস হয়ে পড়েন | ভয় তাড়াতে সলিল ওঁকে এক পেগ ব্র্যান্ডিও খাওয়ান  | কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হলো না |

এই ঘটনার ফলে লতা এবং দিলীপের মধ্যে রেষারেষির কারণে দুজনের সম্পর্ক এতটাই খারাপ হয়ে যায় যে দশ বছরেরও বেশি সময় ওঁদের কথা বন্ধ ছিল | পরে ১৯৭০ সালে দিলীপের হাতে একটা রাখি বেঁধে পুরনো শত্রুতা মিটিয়ে ফেলেন লতা | ওই সময় এই ঘটনা বেশ সাড়া ফেলে দিয়েছিল | এবং একাধিক ফিল্মি ম্যগাজিনে তা কভার স্টোরি করা হয় |

 

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.