ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সের শিকার? মন নিয়ে সমস্যায় ভুগছেন? (পর্ব ৪)

ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সের শিকার? মন নিয়ে সমস্যায় ভুগছেন? (পর্ব ৪)

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

মুখে যতই বলিবয়স একটা সংখ্যা মাত্রজীবন কিন্তু অন্য গল্প শোনায়বয়স যত সামনের দিকে গড়ায় তত জমে থাকা নানা স্মৃতি মনকে ধূসর করেসেই যন্ত্রণা চাপতে গিয়ে কেউ হারিয়ে ফেলেন সৌজন্যের মাত্রা বোধকেউ সরিয়ে নেনগুটিয়ে নেন সবার থেকেসব কিছু থেকেজীবনের সায়াহ্নে পৌছে এই সমস্যা কি আপনারওআপনার মতো আরও যাঁরা এই ধরনের সমস্যায় জেরবারমন বিশ্লেষক পারমিতা মিত্র ভৌমিক রয়েছেন তাঁদের পাশে—

ঘটনা ১: আজও মেয়েদের বাড়ি বলতে জন্মের পর বাবার বাড়ি, বিয়ের পরে শ্বশুরবাড়ি, বয়সকালে সন্তানের আশ্রয়| পোশাকে-চলনে-বলনে কেতাদুরস্ত হলেও এখনো মেয়েদের ‘নিজের’ বলে কিচ্ছুটি নেই| এখনো তাঁরা স্বামীর ওপর এতটাই নির্ভরশীল যে কোনওভাবে বিবাহিত জীবন নষ্ট হয়ে গেলে মানসিকভাবে কতটা অসহায় হয়ে পড়েন একজন নারী তারই উদাহরণ ৫৮ বছরের রঞ্জনা গাঙ্গুলি| স্বামীর সঙ্গে দীর্ঘ ২৫ বছর মুম্বই বাসের পর পড়ন্ত বেলায় সেই বাঁধন ছিড়ে কলকাতায় মায়ের কাছে আশ্রয় নিয়েছেন| একমাত্র ছেলে কাজের সূত্রে আমেরিকায়| দীর্ঘদিনের শারীরিক-মানসিক অত্যাচারে রঞ্জনা আজ অবসন্ন, আশাহীন, একা মানবী| যাঁর নিজের ওপর আস্থা প্রায় তলানিতে ঠেকেছে| রঞ্জনার এখন শেষ পারানির কড়ি বৃদ্ধ মা| তাই সারাক্ষণ ভয়ে ভয়ে থাকেন, এই বুঝি মা দুনিয়া ছেড়ে চলে গেলেন| এত বড় পৃথিবীতে মাকে হারিয়ে একা কী করে কাটাবেন? এই অসহ্য যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে কী করবেন রঞ্জনা?  

কী হয়েছে, কেন হয়েছে— রঞ্জনার সঙ্গে কথা বলে জানলাম, বিয়ের পরের দিন থেকেই রঞ্জনার স্বামী ওঁর ওপর প্রচন্ড অত্যাচার চালাতেন| ঘর টিকিয়ে রাখতে সব অত্যাচার মেনে নিয়ে তিনি নতুন জীবন শুরু করেন| এরপর স্বামী কাজের সূত্রে মুম্বই চলে গেলে তিনিও সেখানে যান| আশা ছিল, হয়ত এবার বদলাবেন স্বামী| সন্তানও আসে এই সময়েই| আর ঠিক তখনই রঞ্জনা জানতে পারেন, বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে স্বামীর|  কলকাতায় ফেরার ২ মাস পরে দেখা করেন আমার সঙ্গে|       

সমাধান— সমস্তটা জানার পর অবসাদ কাটাতে আর আত্মসম্মান বাড়াতে Cognitive Behavioural Therapy শুরু করা হল| এরই সঙ্গে সপ্তাহে ২ দিন telephonic support দেওয়া হল রঞ্জনাকে| একই সঙ্গে যোগাযোগ করলাম ছেলের সঙ্গেও| বিস্তারিত জানানো হল তার মায়ের অবস্থা| ছেলেকে অনুরোধ করা হল যাতে সপ্তাহে ২-৩ দিন মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন| আর সপ্তাহে একদিন স্কাইপ করেন| যাতে ছেলের সঙ্গে মায়ের বন্ডিং তৈরি হয়|

টানা ১৫ সপ্তাহ এই ট্রিটমেন্ট চলার পর রঞ্জনাকে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হল| এছাড়া, এর আগে রঞ্জনা শিক্ষিকা ছিলেন| তাই অনলাইনে পড়ানোরও ব্যবস্থা করে দেওয়া হল| কাজে ব্যস্ত হয়ে পরতেই ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেলেন রঞ্জনা| এখন মাসে একবার আসেন রঞ্জনা আমার কাছে| অনেক অসহায়, অত্যাচারিত নারীর আজ একমাত্র সহায় রঞ্জনা নিজেই|

যোগাযোগ: ৯৮৩০০-২১৫৬৭ 

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

Leave a Reply

pandit ravishankar

বিশ্বজন মোহিছে

রবিশঙ্কর আজীবন ভারতীয় মার্গসঙ্গীতের প্রতি থেকেছেন শ্রদ্ধাশীল। আর বারে বারে পাশ্চাত্যের উপযোগী করে তাকে পরিবেশন করেছেন। আবার জাপানি সঙ্গীতের সঙ্গে তাকে মিলিয়েও, দুই দেশের বাদ্যযন্ত্রের সম্মিলিত ব্যবহার করে নিরীক্ষা করেছেন। সারাক্ষণ, সব শুচিবায়ু ভেঙে, তিনি মেলানোর, মেশানোর, চেষ্টার, কৌতূহলের রাজ্যের বাসিন্দা হতে চেয়েছেন। এই প্রাণশক্তি আর প্রতিভার মিশ্রণেই, তিনি বিদেশের কাছে ভারতীয় মার্গসঙ্গীতের মুখ। আর ভারতের কাছে, পাশ্চাত্যের জৌলুসযুক্ত তারকা।