সামনেই পরীক্ষা? রইল পরীক্ষা-ভীতি কাটানোর কয়েকটি সহজ উপায়…

যখনই কেউ প্রশ্ন করে ছাত্রজীবনে কোন বিষয়টি না থাকলে সবচেয়ে ভাল হত, কোনওকিছু না ভেবেই উত্তর আসে ‘পরীক্ষা’। পরীক্ষার প্রতি এই ভয় বা দুশ্চিন্তা থাকাটা খুবই স্বাভাবিক। পরীক্ষায় সময়ে ছাত্র-ছাত্রীরা যে মানসিক চাপ অনুভব করে তা হয় মূলত অ্যাড্রিনালিন-সহ অন্যান্য স্ট্রেস হরমোনের অতিরিক্ত নিঃসরণের ফলে। একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে প্রায় ৯৬% ছাত্র-ছাত্রী পরীক্ষা ভীতিতে আক্রান্ত। তবে কয়েকটি উপায় অবলম্বন করলেই পরীক্ষার ভীতি থেকে মুক্তি থেকে পাওয়া যায়।

* পরীক্ষা নিয়ে ইতিবাচক ধারণা- পরীক্ষা ভীতির অন্যতম কারণ হল আত্মবিশ্বাসের অভাব। অনেক সময়ে ভাল প্রস্তুতি থাকার পরেও কেবলমাত্র আত্মবিশ্বাসের অভাবে অহেতুক ভীতির জন্ম হয়। তাই পরীক্ষার আগে এই ভীতি দূর করতে প্রধান লক্ষ্য হবে নিজের প্রতি একটা ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করা। ‘সব পারব’ মনের মধ্যে এই বিশ্বাস থাকলে অনেক কঠিন কাজও সহজ হয়ে যায়।

* ধ্যান- ধ্যান বা মেডিটেশন মনের অস্থিরতা এবং উদ্বেগ কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে। ধ্যান করলে দুশ্চিন্তা দূর হয়, মস্তিষ্ক ঠাণ্ডা থাকে, এবং মনসংযোগ বৃদ্ধি পায়। তবে তার জন্য কোনও অতিরিক্ত পরিশ্রম করার দরকার নেই। গুগল প্লে স্টোরে এইরকম অনেক অ্যাপ রয়েছে যার সাহায্যে এই ধ্যানচর্চা করা যায়।

* কী কী কারণে ভয় লাগছে সেগুলি লিখে ফেলা- ঠিক কোন কোন কারনে ভয় হচ্ছে তা একটি সাদা কাগজে লিখে ফেলতে হবে। বুদ্ধিটা অত্যন্ত হাস্যকর বলে মনে হলেও, এটি কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর একটি উপায়। যে যে বিষয়গুলিকে নিয়ে ভয় হচ্ছে সেইগুলো পয়েন্ট করে লিখে নিয়ে তারপর কাগজটি ছিঁড়ে  ফেলতে হবে। দেখা গেছে এতে অনেকটা হালকা লাগছে। এই মনস্তাত্ত্বিক কৌশলটির ওপর ২০১১ সালে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করে। সেই গবেষণায় দেখা যায়, এই কৌশল শুধুমাত্র পরীক্ষা ভীতিই কমায় না, পরীক্ষার রেজাল্টেরও অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটায়।

* ঠিক সময়ে খাওয়া- পরীক্ষার সময়ে দৈনন্দিন রুটিন একেবারে মেনে চলা হয় না, আর তা সম্ভবও নয়। যার প্রভাব পড়ে ছাত্র -ছাত্রীদের খাদ্যাভ্যাসেও। এই খাদ্যাভ্যাসও  পরীক্ষাভীতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। কারণ আমরা যে খাবার খাই তা সরাসরি আমাদের মানসিক অবস্থায় প্রভাব বিস্তার করে। তাই এই সময়ে উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবারের বদলে কার্বোহাইড্রেট ও ফাইবার-যুক্ত  খাবার খাওয়া উচিত। কারণ, এইসব খাবার পরিপাক হয় ধীরে ধীরে। তাই, মস্তিষ্ক একাগ্রতা ধরে রাখতে পারে। এই মনোযোগ বা একাগ্রতার অভাবই আমাদের পরীক্ষাভীতির অন্যতম কারণ।

* পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম- রাত জেগে পড়াশোনার ফলে ছাত্র -ছাত্রীদের ঘুমেরও ব্যাঘাত ঘটে। দিনের পর দিন নাওয়া-খাওয়া ভুলে একভাবে প্রস্তুতি নিতে নিতে ঘুমের জন্য সময় দেওয়া হয়। বিশেষত পরীক্ষার আগেরদিন রাত জেগে ‘লাস্ট মিনিট প্রিপারেশন’এ কম-বেশি সকলেই পরিচিত। কিন্তু এর ফলে যে কী সাংঘাতিক ক্ষতি হতে পারে তা আমরা ভুলেই যাই। অন্যদিকে পর্যাপ্ত ঘুম আমাদের মস্তিষ্ক থেকে স্ট্রেস হরমোনগুলো দূর করে আমাদের দুশ্চিন্তাকে কমিয়ে আনে। পাশাপাশি ঘুমের মাধ্যমে মস্তিষ্ক তার ক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.