শিশুদের কাছে এখন বিনোদন বলতে টেলিভিশন আর কম্পিউটার গেমস। কারণ প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনে শিশুদের খেলাধুলার অবকাশ নেই বললেই চলে। আর তাই শিশুদের অবসর যাপনের প্রধান অঙ্গ হয়ে উঠেছে টেলিভিশন। টেলিভিশনে কার্টুন চ্যানেলের প্রতি তাঁদের ঝোঁক দিন দিন যেভাবে বাড়ছে তাতে শিশুদের একাধিক শারিরীক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। অল্প বয়সেই চোখে চশমা, মাথা ব্যাথা, ঝিমুনি ভাব, খিদে কমে আসা, অল্প বয়সেই শরীরে মেদ জমে যাওয়া ইত্যাদি নানা সমস্যায় আজকাল বহু শিশুই ভোগেন। কিন্তু এই টেলিভিশনের প্রতি শিশুদের আসক্তি কমানোর কয়েকটি উপায় রয়েছে। দেখে নিন সেগুলি কি কি…

* শিশুকে একভাবে টিভির সামনে মুখ গুঁজে বসে থাকতে দেবেন না। তাকে যে-কোনও ধরণের কাজে যুক্ত রাখুন। তবে বাড়ি রয়েছে মানেই তাকে সবসময় হোম-ওয়ার্কে ব্যস্ত রাখবেন না। তাকে ছবি আঁকতে, গান শুনতে উৎসাহ দিন।

* আপনার শিশু প্রতিদিন কতক্ষণ টিভি দেখবে এবং কি কি অনুষ্ঠান দেখবে তার একটা রুটিন তৈরী করে দিন। সেইসময়ের বাইরে টিভি দেখা যাবে না।

Banglalive-6

* টিভি দেখার সময়ে আপনার শিশুকে চিপস্,  সফ্ট ড্রিঙ্ক- এর মতো জাঙ্ক ফুডের থেকে দূরে রাখুন। মনে রাখবেন এই ধরণের খাবার খুব অল্প বয়স থেকে খাওয়া অভ্যাস করলে আপনার শিশু ওবেসিটির মতো গুরুত্বপূর্ন সমস্যায় ভুগতে পারে।

Banglalive-8

* মূলত খাওয়ার সময়ে টিভি দেখার একটা ইচ্ছে কাজ করে। সারা দিনে সম্ভব না হলেও অন্তত রাতের খাবারটা একসঙ্গে বসে খাওয়ার চেষ্টা করুন। শিশুকে গল্প-গুজবের মধ্যে রাখুন, দেখবেন সমস্যা দূর হবে।

Banglalive-9

* টিভি দেখার জন্য ঘরের বসার জায়গাটি বেশি আরামদায়ক হলে টিভি দেখার নেশা বৃদ্ধি পায়। তাই টিভি যেই ঘরে আছে সেই ঘরের আসবাবপত্রের অবস্থান পরিবর্তন করুন। চেষ্টা করবেন শোওয়ার ঘরে টিভি না রাখতে।

* আপনার শিশু যদি অত্যধিক পরিমাণে টিভি দেখায় আসক্ত হয়ে যায় তাহলে সেক্ষেত্রে টিভির রিমোট লুকিয়ে রাখুন তাতেও কাজ না হলে আপনার কেবল সংযোগ বন্ধ রাখুন।  প্রথমে একটু কষ্ট হলেও একটানা ১৫ দিন কেবল সংযোগ বন্ধ থাকলে দেখবেন আপনার শিশুর এই নেশা কেটে গিয়েছে।

আরও পড়ুন:  কয়েক হাজার বছর ধরে জাপানে নিষ্ঠাভরে পূজিতা দেবী সরস্বতী

* ছুটি পেলে ঘরে বসে সিনেমা দেখে সময় না কাটিয়ে শিশুকে নিয়ে বেড়িয়ে আসুন। এতে আপনার শিশুর মন ভাল থাকবে।

NO COMMENTS