বেগুন খেলে গাল চুলকানো বা চিংড়ি মাছ খেলে ঠোঁট ফুলে যাওয়া ইত্যাদি নানারকমের অ্যালার্জির শিকার হয়ে থাকেন অনেকেই। বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিশেষ কিছু খাবারের সঙ্গে শরীর মানিয়ে নিতে না পারলে সাধারণত ফুড অ্যালার্জি হয়ে থাকে। এক গবেষণায় জানা গেছে, যে প্রাকৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশুদের তুলনায় শহরের শিশুরা ফুড অ্যালার্জিতে বেশি ভোগে। কারণ, প্রাকৃতিক পরিবেশে শরীরের জন্য উপকারী কিছু ব্যাকটেরিয়া থাকে। এগুলো খাবারসহ সব অন্যান্য বিভিন্ন রকমের অ্যালার্জি প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। অ্যালার্জেন থেকেই মূলত অ্যালার্জি সৃষ্টি হয়ে থাকে।

* কোন কোন খাবার থেকে ফুড অ্যালার্জি হতে পারে?- ডিম, দুধ, চিনাবাদাম, আখরোট, আমন্ড, সোয়বিন, ভুট্টা, জিলাটিন, যেকোনও প্রকারের মাংস,চিংড়ি মাছ এছাড়াও রসুন, সর্ষে ইত্যাদি।

* ফুড অ্যালার্জির লক্ষণ- এক একজন মানুষের শরীরে ফুড অ্যালার্জির এক একরকম লক্ষণ দেখা যেতে পারে। যেমন- চোখ চুলকানো, চোখ থেকে জল পড়া, ত্বকের চুলকানি, ত্বক চাকা চাকা হয়ে ফুলে যাওয়া, ঠোঁট, জিভ ও গলায় চুলকানি ভাব, সেইসঙ্গে ফোলাভাব। এছাড়া হাঁচি, কাশি, গলা ব্যাথা, গলায় ফোলাভাব, বমি ভাব ইত্যাদি। এমনকী কিছু কিছু অ্যালার্জির লক্ষণ এতটাই মারাত্মক প্রকৃতির হয় যে, যার ফলে স্নায়ুর গতি ওঠা-নামা করতে থাকে, রক্তচাপ কমে যেতে পারে, শ্বাসকষ্টের সমস্যা এতটাই মারাত্মক হয়ে যেতে পারে, যার ফলে মানুষ অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারে।

* চিকিৎসা- ফুড অ্যালার্জির জন্য নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। এই ধরণের সমস্যায় চিকিৎসকরা সাধারণত অ্যান্টি অ্যালার্জি ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেন। তবে অ্যালার্জির মাত্রা বেশি হলে, রোগীর অবস্থা যদি আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠে তাহলে তাঁকে অবশ্যই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া উচিত। তবে সমস্যা এড়াতে, যে যে খাবার খেলে অ্যালার্জির হয়, সেগুলি বর্জন করা উচিত। আজকাল ইমিউনোথেরাপির মাধ্যমে অ্যালার্জির চিকিৎসা করা হয়ে থাকে। তবে কোন পদ্ধতিতে অ্যালার্জির চিকিৎসা করলে তাড়াতাড়ি উপকার পাওয়া যাবে সেবিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Banglalive-8
আরও পড়ুন:  স্বয়ং মহাদেব জন্মলাভ করেন অশ্বত্থামা এবং ঋষি দুর্বাসা হয়ে

NO COMMENTS