মুখে যতই বলিবয়স একটা সংখ্যা মাত্রজীবন কিন্তু অন্য গল্প শোনায়বয়স যত সামনের দিকে গড়ায় তত জমে থাকা নানা স্মৃতি মনকে ধূসর করেএকইভাবে টিনএজ সমস্যার দিক থেকে এখনো আমরা মুখ ফিরিয়েফলেছোট থেকেই নানা সমস্যায় জেরবার এই বয়সযন্ত্রণা চাপতে গিয়ে বড়রা যেমন হারিয়ে ফেলেন সৌজন্যের মাত্রা বোধছোটরা সবার থেকে সরিয়ে নেয়গুটিয়ে নেয় নিজেদেরঅনেকসময় আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়এই সমস্যা কি আপনার বাড়িতেওমন বিশ্লেষক পারমিতা মিত্র ভৌমিক রয়েছেন আপনাদের পাশে

Banglalive

 

সদ্য মাধ্যমিকউচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার রেজাল্ট বেরিয়েছে| সব শিক্ষার্থীই ভালো ফলের স্বপ্ন দেখেছে| কেউ স্বপ্নপূরণে সফল| কেউ ব্যর্থ| যারা ব্যর্থ তাদের পরিস্থিতি কত ভয়ানক? বিষয়টি নিয়ে লিখতে বসে এই মুহূর্তে খুব বেশি করে মনে পড়ছে একটি ছেলের কথা| নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছেলেটি সিবিএসসির ছাত্র| পরীক্ষার আগে প্রচন্ড টেনশন, ভয় ছিল তার| মাবাবা তখন আমার কাছে ছেলেটিকে নিয়ে এসেছিলেন| ছেলেটিও সেকথা জানিয়েও ছিল আমাকে| তারপরে ফল প্রকাশ| এবং চরম বিপত্তি| মাত্র ৬৬% নম্বর পেয়েছে সে| যা সিবিএসসি বোর্ডের পক্ষে খুবই পুওর| এবং এই নম্বরে সে সায়েন্স বিভাগে চান্স পাবে না|

বিপত্তির তখনও বাকি| বাড়িতে মাবাবাকে সেকথা জানাতেই রাগে ফেটে পড়লেন তাঁরা| ছেলেকে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, অন্তত কমার্সে সুযোগ না পেলে তাঁরা আর তাকে পড়াবেন না| বাড়িতেও থাকতে দেবেন না| এই বলে ছেলেটিকে বের করে দিয়ে মুখের ওপর বাড়ির দরজা বন্ধ করে দিলেন অভিভাবক! ছেলেটি এবার পথে পথে ঘুরতে লাগল| এক সময় ঠিকই করে নিল, আত্মহত্যা করবে| তার আগে কেন জানি না আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল|

এবার সে কী করবে?   

আরও পড়ুন:  বর্ষাকালে ত্বক ভালো রাখতে চাই এক্সট্রা কেয়ার‚ জেনে নিন কিছু জরুরী বিষয়

সমাধান ছেলেটির অসহায় অবস্থা দেখে চোখে জল এসে গিয়েছিল| খারাপ রেজাল্টের জন্য এভাবে কোনো মাবাবা সন্তানকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে পারেন! নিজেদের ইগো, জেদ বজায় রাখতে বলির পাঁঠা বানালেন নিজের ছেলেকে? ছেলে আজ নিজেকে শেষ করে দিলে আর তাঁরা ছেলে ফেরত পাবেন?

ছেলেটিকে তাই সবার আগে আশ্রয় দিলাম| তারপর যোগাযোগ করলাম ওর স্কুলে| সেখানে অনুরোধ করতেই ওঁরা ছেলেটিকে কমার্স বিভাগে জায়গা করে দিলেন| ছেলেটি যেন প্রাণে বাঁচল| এবার যোগাযোগ করলাম মাবাবার সঙ্গে| প্রথমে তাঁদের জানালাম, তাঁদের জেদ এবং রাগের জন্য তাঁরা সন্তান হারাতে বসেছিলেন| সবার আগে তাঁদের কাউন্সেলিং দরকার| কোনো ওষুধ কাউকে দিলাম না| বেশ কয়েক সপ্তাহ মাবাবার কাউন্সেলিং চলল| বিশেষ করে মায়ের অ্যাঙ্গার ম্যানেজমেন্টএর কোর্স করানো হল|সেই সঙ্গে ছেলেকে খেলাধুলায় ভর্তি করে দিতে বললাম| যাতে নিজের মত করে বড় হয়ে উঠতে পারে সে|

মাবাবাদের কাছে বিশেষ অনুরোধ, নিজেদের অপূর্ণ আশাপূরণের ক্ষেত্র বানাবেন না সন্তানকে| ওকে অর মত করে বড় হতে দিন| কে বলতে পারে, একদিন ওই হয়ত হবে আমাদের জাতির ভবিষ্যত!     

যোগাযোগ: ৯৮৩০০২১৫৬৭ 

NO COMMENTS