ঘরে বিরল রোগে আক্রান্ত ছেলে‚ সংসারে অভাব; তবু বিবেকের তাড়নায় গয়না‚টাকা ভর্তি ব্যাগ ফিরিয়ে দিলেন রিক্সাচালক

ছ’টা মানুষের সংসার । আয় বলতে রিক্সা চালিয়েই যেটুকু জোটে । ঘরে নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা । ছেলেটা অসুস্থ , বর্ষায় ঘরের চাল থেকে জল ঝরছে , তবু অভাবের জীবনে সততাকেই পাথেয় করে চলেছেন বছর ৫৪’র রিক্সাচালক । হাওড়া বেলুড়ের বাসিন্দা মন্টু সাহা।ঘরে শত অভাব , এক লহমায় মিটিয়ে ফেলার সুযোগ এসেছিল । তবু অবলীলায় ফিরিয়ে দিলেন রিক্সায় পড়ে থাকা হীরে, সোনা, টাকা ভর্তি ব্যগ । কেউ একজন ভুলবশত ফেলে গিয়েছে ব্যগ , সেই ব্যগ দায়িত্বসহ তাঁর হাতে পৌছে দেওয়াটাকেই কর্তব্য মনে করেন এই রিক্সাচালক ।

দুবাই শহরের বাসিন্দা রুক্মিণী দেবী(৫৮) । কিছুদিনের জন্য দেশে ফিরেছেন । ব্যস্ত সময়সীমার মধ্যে কয়েকটা জরুরি কাজ সারতে হবে । সেইমতোই গত শুক্রবার হাওড়া মার্কেট থেকে বেশ কিছু গহনা কিনে এক রিক্সা ধরেই নিজের বাড়ি ফিরেছিলেন । বাড়ি ফিরতেই টনক নড়ে ব্যস্ততার মধ্যে ব্যগটাই রিক্সায় ফেলে এসেছেন । ব্যগে রয়েছে লক্ষাধিক টাকার হীরে ও সোনার নতুন গহনা । তৎক্ষণাৎ মিসিং ডায়েরি করতে থানায় ছোটেন ।

অন্যদিকে ঘরে ফিরেই রিক্সার সিটের নীচে পড়ে থাকা ব্যগ নজরে আসে রিক্সাচালক মন্টুর । কুড়িয়ে ঘরে নিয়ে এসে স্ত্রীকে জানায় ব্যগের কথা । ব্যগ খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ দম্পতির । ব্যগে রয়েছে বেশ কিছু হীরে ও সোনার গহনা , নগদ ৬০ হাজার টাকা । এক মুহূর্ত দেরি না করে দুজনে ব্যগ নিয়ে হাজির হন থানায় । পুলিশকে জানাতেই পুলিশ রুক্মিণীদেবীকে ডেকে পাঠায় । কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হারানো ব্যগ ফিরে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা রুক্মিণীদেবী । গরিব রিক্সাচালকের এমন সততা দেখে বিস্মিত । উপহারসরূপ ১০ হাজার টাকা দিতে চান । কথায় কথায় জানতে পারলেন ছেলে বিরল রোগে আক্রান্ত । মাঝে মাঝেই রক্ত পরিবর্তন করতে হয় । চিকিৎসার খরচও অনেক । তবে সেই খরচ চান না বরং একটা অটো বা টোটো হলে ভাল হয় । রিক্সার থেকে আয়টাও একটু বেশি হবে । ছেলের চিকিৎসাটাও নিজের উপার্জনের টাকাতেই করতে পারবেন ।

এমন বিপদের দিনেও এমন স্থির দৃঢ়চেতাভাব । রুক্মিণীদেবী জানান নিজেই দেবেন সেই অটো বা টোটোর টাকা । হাতে বিশেষ সময় নেই , দুবাই ফিরেই চেকের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেবেন সেই অর্থ । থানার সহযোগিতায় সেই চেক পৌঁছে যাবে মন্টুর হাতে । কয়েক লক্ষ টাকার গহনা । ফিরিয়ে না দিলে হয়তো ভালো চিকিৎসা করাতে পারতেন ছেলের । সারিয়ে তুলতে পারতেন ভাঙা ঘরটাও । তবে হয়তো বিবেকের কাছে সারাজীবন জবাবদিহি করতে হত । নতুন টোটো বা অটো হলে ঠিক একটু একটু করে সামলে নিতে পারবেন সব । অভাবের মাঝেও আবার নতুন আশায় আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে মনটা । রিক্সাচালক মন্টু জানালেন , কষ্ট হোক তবু সততার আর সন্মানের সঙ্গে বাঁচার আনন্দই আলাদা ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here