নোটিশ স্বনামধন্য নাহুম'স-কেও

বাঙালি মানেই ভোজনরসিক | আর নিউ মার্কেট অঞ্চলে ভোজনরসিকদের কাছে এক স্বর্গীয় অনুভূতি এনে দেয় শতাব্দী প্রাচীন নাহুমস | এই ঐতিহ্যশালী দোকানটি স্মৃতির সরণিতে বাসা বেঁধে আছে |

১৯০২ সালে নাহুম ইজরায়েল মোর্ডেকাই নামক এক বাগদাদী ইহুদি ব্যক্তি নাহুমস প্রতিষ্ঠা করেন | বর্তমানে কলকাতাবাসী ইহুদিদের সংখ্যা অনেকটাই কমে এলেও বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে এ শহরে ইহুদিদের সংখ্যা ছিল প্রায় চার থেকে ছয় হাজার | প্রথমদিকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কেক পেস্ট্রি পৌঁছে দেওয়া হত | ১৯১৬ সালে নাহুমস অ্যাণ্ড সন্স  এর মূল দোকানটি স্থাপিত হয় | দিনবদলের সময়েও ঝাঁ চকচকে দোকানের সারির মধ্যে হারিয়ে যায়নি  নাহুমস | বজায় রেখেছে সেই পুরোনো দিনের সাজসজ্জা ‚ আসবাবপত্র ‚ দেওয়াল বা মেঝের ধরণ এবং অবশ্যই সেই পুরোনো দিনের স্বাদ | 

নাহুমের তৃতীয় বংশধর ডেভিড নাহুম মারা যাবার পর অনেকেই মনে করেন যে এবারে হয়তো দোকানটির ঝাঁপ পড়বে |  কারণ তাঁর কোনও সন্তান ছিল না | কিন্তু দোকানের পুরোনো কর্মচারীরা সকলে মিলে দোকানটি চালিয়ে যান | সেই ঐতিহ্যশালী দোকানের বিরূদ্ধেই উঠল অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার বানানোর অভিযোগ | 

মঙ্গলবার পুর আধিকারিকদের নিয়ে আচমকাই ক্যাথলিন এবং নাহুমসে পৌঁছন কলকাতা পুরসভার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ | পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের অফিসারেরা খাবারেরা নমুনা সংগ্রহ করতে গিয়ে দেখতে পান যে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ভাবে তৈরি করা হচ্ছে কেক ও পেস্ট্রি | হাতে গ্লাভস না পরা অবস্থাতেই তৈরি করা হচ্ছে  | তারপরে সেগুলিই সাজিয়ে রাখা হচ্ছে দোকানে ‚ পরিবেশনও করা হচ্ছে সেগুলি |


তবে শুধুমাত্র নাহুমস নয় | ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ক্যাথলিনের অবস্থাও প্রায় একই | পুরসভা সূত্রে অভিযোগ যাবতীয় জিজ্ঞাসাবাদের কোনও সদুত্তরই দিতে পারেননি দোকানের ম্যানেজার বা কর্মচারীরা |

পুরসভা সূত্রে আরও জানা গেছে ওই দুই সংস্থাকেই নিজেদের সাফাই দেবার জন্য নোটিস দেওয়া হয়েছে | নোটিসের যথাযথ উত্তর দিতে না পারলে সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপও নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে | সোমবার থেকে এখনও পর্যন্ত ওই দুই সংস্থা ছাড়া আরও ২৮ টি দোকানের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে | এই ২৮ টি দোকানের মধ্যে নোটিস পাঠানো হয়েছে ২৩ টি দোকানকেই | অর্থাৎ এই ২৩ টি দোকানেই খাবার তৈরির পরিবেশ স্বাস্থ্যকর হওয়ার ছাড়পত্র পায়নি | 

Banglalive
আরও পড়ুন:  ভ্যালেন্টাইনস ডে এ বার পালন করতে হবে ভাই-বোন হয়ে !

NO COMMENTS