‘ একই পুরুষ আমার আর মায়ের স্বামী‚ আমাদের মা-মেয়ের বিয়ে হয়েছে একজনের সঙ্গেই ‘

2203

মা এবং মেয়ের স্বামী একজনই | দুজনেই তার সঙ্গে ভাগ করে নেয় শয্যা | কোনও কেচ্ছা নয় | এটাই রীতি মাণ্ডী সম্প্রদায়ের | প্রাচীন এই জনগোষ্ঠীর বাস ভারত এবং বাংলাদেশ সীমান্তের পাহাড়ি অঞ্চলে |

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে দুই মাণ্ডী নারী এবং তাঁদের স্বামীর কথা | এই পরিবারটির বাস মধুপুরের জঙ্গল ঘেরা গ্রাম | ঢাকা থেকে মধুপুর যেতে সময় লাগে গাড়িতে ৬ ঘণ্টা |

মধুপুরের এক প্রত্যন্ত মাণ্ডী গ্রামে বাস ওরোলা দাবোতের | কিশোরীবেলায় যেই সে স্বাদ পেল নারীত্বের‚ অমনি তার সামনে প্রকাশিত হল এক ভয়ঙ্কর সত্য | ওরোলার মা মিত্তামোনি তাকে জানালেন‚ যাঁকে এতদিন ওরোলা সৎ বাবা বলে জেনে এসেছে‚ সে আসলে তার স্বামী |

মাতৃতান্ত্রিক হলেও মাণ্ডী সমাজে প্রচলিত আছে এক অদ্ভূত রীতি | যদি কোনও বিধবা তরুণী বিয়ে করতে চান‚ তাহলে তাঁকে বিয়ে করতে হবে শ্বশুরবাড়ির গোষ্ঠী থেকেই |

যেরকম হয়েছে মিত্তামোনিকে | মাত্র ২০ বছর বয়সে স্বামীকে হারান তিনি | এদিকে শ্বশুরবাড়ির বংশে তখন বিয়ের যোগ্য পাত্র ছিল একজনই | ১৭ বছর বয়সী নোতেন | তাঁকে বিয়ে করলেন মিত্তামোনি | কিন্তু মানতে হল শর্ত | যে‚ মিত্তামোনির মেয়ে যখন পূর্ণ নারী হবে‚ তখন সে হবে নোতেনের দ্বিতীয় স্ত্রী | এটাই প্রচলিত রীতি | নইলে‚ বেশি বয়সী মহিলাদের বিয়ে করতে রাজি হয় না অল্পবয়সী পুরুষ |

ওরোলা যেমন জেনেছেন‚ মাত্র তিন বছর বয়সে নাকি তাঁর বিয়ে হয় নোতেনের সঙ্গে | এখন মা-মেয়ে দুই বৌয়ের সঙ্গে দিব্যি আছেন নোতেন | সংসারে বড় হচ্ছে মা মিত্তামোনি এবং মেয়ে ওরোলার সন্তানরা | সবার বাবা‚ নোতেন |

রীতির চাপে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন ওরোলা | মাণ্ডী সমাজে মেয়েরাই বেছে নেয় জীবনসঙ্গী | প্রোপোজও তারাই করে | বিয়ের পরে শ্বশুরঘর করতে আসে স্বামী | এমনকী সম্পত্তির মালকিনও হয় মেয়েরাই | কিন্তু এসবের থেকে বঞ্চিত ওরোলা |

মাঝখান অথেকে নষ্ট হয়ে গেছে মা-মেয়ের সম্পর্ক | মিত্তামোনি এখন মা নন‚ ওরোলার সতীন | পানীয় জল‚ বিদ্যুৎহীন গ্রামে থেকে সংসার করে যান সতীন মা-মেয়ে | কলা‚ আনারস বেচে যোগাড় করেন অন্ন |

আসলে উপজাতিদের মাতৃতান্ত্রিক সমাজ শাঁখের করাত | এখানে মেয়েদের উপার্জনও করতে হয় | আবার সংসারের ঊনকোটি তেষট্টিও সামলাতে হয় | পুরুষ তাঁদের পরজীবী মাত্র |

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.