ছেঁড়া জামা‚ ফাটা চপ্পল পরে স্কুলে আসা সেদিনের বস্তির সেই ছেলেটা আজ নামী ডেন্টিস্ট

ছেঁড়া জামা‚ ফাটা চপ্পল পরে স্কুলে আসা সেদিনের বস্তির সেই ছেলেটা আজ নামী ডেন্টিস্ট

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

প্রধান শিক্ষক বুঝেছিলেন ছেলেটার মেধা আছে | যেটা নেই‚ তা হল সংসারে আর্থিক সঙ্গতি | তাই‚ ছেঁড়া চটি-ফাটা জামা পরেও তাকে স্কুলে ঢোকা থেকে বিরত করেননি | ক্লাসে সবার পায়ে চকচকে জুতো | শুধু বস্তি থেকে আসা সুবাসের পায়ে থাকত শতছিন্ন চটি | সেদিনের সেই বস্তিবাসী সুবাস আজ মুম্বইয়ের নামী ডাক্তার | ডেন্টিস্ট‚ সুবাস দারভেকর |

দুর্ঘটনায় অন্ধ হয়ে যান সুবাসের বাবা | অথৈ জলে পড়ে পুরো পরিবার | দিনে একবেলা খাবার জোটানোই দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়ায় | স্কুলের পড়াশোনা চালু থাকে প্রধান শিক্ষক এবং অন্য শিক্ষকদের সহযোগিতায় | আর ছিল মা সরস্বতীর বরাভয় | পরীক্ষায় দুরন্ত ফল দূর করে দিত মা লক্ষ্মীর কৃপা না পাওয়ার কষ্ট | গোটা বসতি যখন রাতে ঘুমিয়ে পড়ত‚ ঘর থেকে বেরোতো সুবাস | পথের বাতির নিচে বসে শেষ করত পড়াশোনা | শুধু লেখাপড়াই নয় | স্কুলের পাশাপাশি পেট্রল পাম্প‚ কারখানার মতো জায়গায় কাজ করেছেন সুবাস | দুটো পয়সার মুখ দেখার আশায় |

ক্লাস টুয়েলভে একবার নষ্ট হয়ে যেতে বসেছিল আস্ত একটা বছরই | পরীক্ষার ফিজ ১৫০ টাকার মধ্যে যোগাড় হয়েছিল ১০০ টাকা | বাকি ৫০ টাকার জন্য পরীক্ষায় বসতে পারছিলেন না সুবাস | কলেজ থেকে বিফল মনোরথ হয়ে ফিরছিলেন তিনি | পথে বাসে দেখা হল বস্তিরই এক বন্ধুর সঙ্গে |

সুবাসের বিপদের কথা শুনে তখনই সেই বন্ধু পকেট থেকে বের করে দিল ৫০ টাকার নোট | বলল‚ এটা কিন্তু কোনওদিন হয়নি | আমার কাছে তোর কোনও ধারকর্জ কিছু নেই | সাহায্য করা এখানেই থেমে যায়নি | ডাক্তারি পাশ করে নিজের ক্লিনিক খোলা অবধি সুবাসকে কোনও না কোনও ভাবে সাহায্য করে গেছে ওই বন্ধু |

পাশে থেকেছেন আরও অনেকেই | তাঁদের কথা ভুলতে পারেন না সুবাস | তিনি নিজে সমাজ থেকে যা পেয়েছেন তা আবার ফিরিয়ে দিতে চান সমাজকে | মহারাষ্ট্রের প্রত্যন্ত দাহানুতে জমি কিনে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প করান | থাকেন বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকরা | উপকৃত হন অসংখ্য আদিবাসী মানুষ | এছাড়াও দুঃস্থ পড়ুয়াদের নিয়মিত বই খাতা জামাকাপড় জুতো যোগান দেন এই ডাক্তারবাবু | যাতে তাঁর মতো আরও অনেক সুবাসকে পেতে পারে এই সমাজ | তাঁর মতোই যাঁরা নিজেদের কাজের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেবেন ভাল থাকার সু বাস বা সুন্দর গন্ধ |

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

One Response

Leave a Reply

pandit ravishankar

বিশ্বজন মোহিছে

রবিশঙ্কর আজীবন ভারতীয় মার্গসঙ্গীতের প্রতি থেকেছেন শ্রদ্ধাশীল। আর বারে বারে পাশ্চাত্যের উপযোগী করে তাকে পরিবেশন করেছেন। আবার জাপানি সঙ্গীতের সঙ্গে তাকে মিলিয়েও, দুই দেশের বাদ্যযন্ত্রের সম্মিলিত ব্যবহার করে নিরীক্ষা করেছেন। সারাক্ষণ, সব শুচিবায়ু ভেঙে, তিনি মেলানোর, মেশানোর, চেষ্টার, কৌতূহলের রাজ্যের বাসিন্দা হতে চেয়েছেন। এই প্রাণশক্তি আর প্রতিভার মিশ্রণেই, তিনি বিদেশের কাছে ভারতীয় মার্গসঙ্গীতের মুখ। আর ভারতের কাছে, পাশ্চাত্যের জৌলুসযুক্ত তারকা।

Pradip autism centre sports

বোধ