হিন্দু পুরাণও মেয়েদের ছেড়ে কথা বলেনি

আমরা যতই শক্তিরূপেণ মাতৃমূর্তির পুজো করি না কেন, হিন্দু মহাকাব্য, পুরাণ এবং পৌরাণিক কাহিনি জুড়ে মেয়েদের হ্যাটা হওয়ার উদাহরণ কম নেই | সেখানে মেয়েদের পুজো করা তো দূর অস্ত| জীবনভর নাস্তানাবুদ হতে হয়েছে |

প্রথমেই ধরা যাক সীতার কথা | রামচন্দ্রের সঙ্গে বিনা বাক্যব্যয়ে বনের পথে পা রেখেছিলেন | থাকলেন ১৪ বছর ধরে | অপহরণের পরে ফিরেও এলেন | কিন্তু শেষরক্ষা হল না | দিতে হল সতীত্বের অগ্নিপরীক্ষা | তাতে উতরেও লাভ হল না| শেষে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় চলে যেতে হল তমসা নদীর তীরে বাল্মীকির আশ্রমে| সেখানেই যমজ লব-কুশের জন্ম এবং বেড়ে ওঠা | এখনও অনেক বাড়িতে সন্ধ্যা লগ্নে মেয়ের বিয়ে দেওয়া হয় না | কারণ জনমদুখিনী সীতার নাকি বিয়ে হয়েছিল গোধূলি লগ্নেই |

সীতার থেকে কিছু কম দুর্গতি হয়নি পাঁচ পাঁচটি স্বামীর স্ত্রী দ্রৌপদীরও | বিয়ের পরে যাঁর জায়গা হয়েছিল পর্ণকুটিরে | কারণ পাণ্ডবরা তখন নির্বাসনে |এরপর অজ্ঞাতবাসে গিয়ে সৈরিন্ধ্রী হয়ে বিরাট রাজার প্রাসাদে খুন্তি ধরা…সবই করতে হয়েছে | যখন তিনি রান্না করছেন, তখন পঞ্চ স্বামী নতুন সঙ্গিনী খুঁজতে ব্যস্ত | তারপর, ভরা রাজসভায় বিবস্ত্র হওয়ার সময়ও পাশে পেলেন না কোনও স্বামীকে | শেষরক্ষা করলেন সেই সখা কৃষ্ণ |

শকুন্তলা আবার কেস খেয়ে বসলেন স্বামীর কথা ভাবতে গিয়ে | দুর্বাসা মুনির কোপে উল্টে স্বামী রাজা দুষ্মন্তই বিস্মৃত হলেন তাঁর কথা | শেষে মাছের আংটি গেলা, সেই আংটি আবার দুষ্মন্তের সামনে আসা, ওদিকে কণ্ব মুনির আশ্রমে শকুন্তলা-পুত্র ভরতের বড় হওয়া…শেষে হ্যাপি এন্ডিং | হার মানাবে হিন্দি সিনেমার চিত্রনাট্যকেও|

সতীর আবার জন্ম জন্মান্তরের কাণ্ড| এক জন্মে শিবের বউ হয়ে লাভ হল না | শ্বশুর-জামাইয়ের বনিবনাই জমল না| শেষে স্ত্রীর নিথর দেহ ৫১ টুকরো করে তবে মহাদেবের শান্তি | পরের জন্মে আবার হিমালয়ের কন্যা হয়ে জন্মে তবে সুখে ঘরকন্না করতে পারলেন পার্বতী |

আর অহল্যা তো সংসার ভাল করে শুরু করার আগেই জমে পাথর হেয় গেলেন | কী কপাল! ব্রহ্মার হাতে তৈরি অপরূপ সুন্দরীর কি না বিয়ে হল বয়সে ঢের বড় ঋষি গৌতমের সঙ্গে | ওদিকে দেবরাজ ইন্দ্রও তক্কে তক্কে ছিলেন| হাজির হলেন ঋষি গৌতমের ছদ্মবেশে | ভোগ করলেন অহল্যাকে | ব্যস! চরিত্র স্খলনের কোপে স্বামীর অভিশাপে পাথর হলেন অহল্যা | তারপর অপেক্ষা| কবে রামচন্দ্র আসবেন | বনের পথে চলতে চলতে ধাক্কা খাবেন পাথরে | অহল্যা আবার ফিরে পাবেন নিজের জীবন |

এঁদের মতো সুনাম জোটেনি মেনকার কপালে | ইন্দ্রর নির্দেশে বিশ্বামিত্রর ধ্যান ভঙ্গ করে হয়ে গেলেন দুষ্টু যৌনতার প্রতীক| চিরদিনের জন্য | ত্যাগ করতে হয়েছিল সদ্যোজাত কন্যাকে | যে পরিত্যক্ত শিশু কিনা পাখির পালকের আশ্রয়ে সারারাত থেকে নাম পেয়েছিল ‘শকুন্তলা’ |

এরকম আরও বহু উদাহরণ তয়েছে | এভাবেই আঁকা হয়েছিল মেয়েদের | কারণ সমাজে এটাই ছিল মেয়েদের অবস্থান | চাঁদে পা রাখার পরেও যে অবস্থা হয়তো খুব বেশি একটা বদলায়নি |

পৌরাণিক কাহিনি থেকে এরকম আর কোনও চরিত্রের কথা কি মনে পড়ছে? তাহলে কমেন্ট অপশনে গিয়ে শেয়ার করুন আপনার মনের কথা |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here