বিশ্ব উষ্ণায়নের জেরে উল্টোদিকে ঘুরতে চলেছে টিম ইন্ডিয়ার বিদেশ-ললাটলিখনের হাওয়া মোরগ ?

149

হঠাৎ ২০১১ সালের একটা ঘটনার কথা মনে পড়ছে আজ । বার্মিংহামে ভারত-ইংল্যান্ড তৃতীয় টেস্ট ম্যাচের চতুর্থ দিনের খেলা চলছে, আর কিছু দর্শক স্টেডিয়ামের ঠিক পাশেই ফ্যান জোনে বিয়ার খেতে -খেতে তুমুল বিদ্রুপ করছিল ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের । ওরা বলছিল ভারতের ব্যাটসম্যানরা বল একটু আধটু স্যুইং করলেই কুপোকাত। ইংল্যান্ডে টেস্ট সিরিজ চলাকালীন খেলার তৃতীয় অথবা চতুর্থ দিন অনেক মাঠেই যেমন খুশি সাজো প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ২০১১-য় এই বার্মিংহামেই একদল সমর্থক মোরগের পোশাকে এসে রীতিমতো লম্ফঝম্প করছিল যখন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা একের পর এক আউট হচ্ছিলেন।

সময় বদলেছে। ২০১৮-র গ্রীষ্মে প্রথম টেস্ট ম্যাচ হচ্ছে বার্মিংহামের সেই এজবাস্টনের মাঠে । এবার কিন্তু ভারতীয় সমর্থকরা ফ্যান্সি ড্রেস কম্পিটিশনের দিন ইংল্যান্ড ব্যাটসম্যানরা আউট হওয়ার পর মোরগের পোশাকে লম্ফঝম্প করলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

কারণটা জানেন ? এবছর ইংল্যান্ডে প্রবল গরম পড়েছে । বিলেতে একশোয় নব্বইটি বাড়িতেই কোনও এয়ারকন্ডিশনার নেই । এবার ছোট ছোট বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট হিসেবে ভাড়া দেওয়া কমদামের ঘরগুলোয় যারা ভাড়া নিয়েছেন, তাঁদের রীতিমতো নাজেহাল অবস্থা এই প্রবল গরমের ফলে ।

গরমে সুবিধা কোন দলের হবে সে কথা বোধহয় বলে দিতে হবে না । ইংল্যান্ড অধিনায়ক জো রুট পেসে ভরা পিচ চাইলেও বোধহয় বিভিন্ন মাঠের কিউরেটররা সেই পিচ তৈরি করে দিতে পারবেন না । ঠিক যেমনটা হয়েছিল গত দঃ আফ্রিকা সিরিজে । প্রথম ইনিংসে সেরকম সুবিধে করতে না পারলেও দ্বিতীয় ইনিংসে বিশ্ব উষ্ণায়নের ফায়দা তোলার প্রবল সম্ভাবনা টিম ইন্ডিয়ার । তার উপর এবার টেস্ট সিরিজ সব শেষে হওয়ায় ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা রীতিমতে প্রস্তুত হয়ে রয়েছেন । তাই এবার সিরিজের শেষে হেডলাইন “বিলেতে ব্যাটিং বিপর্যয়” না হয়ে ” বিলেতে বিরাটদের ব্যাটিং বিপ্লব ” হওয়া খুব আশ্চর্যের কিছু নয় ।

এসব কথা যা বললাম তা অবশ্যই থিওরি । কারণ এর আগে এমনও দেখা গেছে যে ইংল্যান্ডে গিয়ে পেসারদের দিব্যি সামলে দিয়ে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা শিকার হয়েছেন স্পিনার মইন আলির । তাই কোনও ভরসা নেই, কারণ খেলাটার নাম ক্রিকেট । তার উপর ইংল্যান্ডের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন আপকেও দুবার আউট করতে হবে ম্যাচ ও সিরিজ জিততে হলে ।

খেলার শেষ দুদিন পিচ স্লো হবে, তাই স্পিনাররা সুবিধা পাবেন । গরমে পিচে ফাঁটল ধরলে তো কথাই নেই। বল ঘুরবে বনবন করে । সবশেষে, একটা কথা খুব মনে হচ্ছে । গ্লোবাল ওয়ার্মিং নিয়ে সাধারণ মানুষ জেরবার হলেও কিংবা বিশ্ব জুড়ে বিজ্ঞানীরা রিসার্চ করলেও , এই মূহুর্তে টিম ইন্ডিয়া কিন্তু উষ্ণায়নের ফলে সুবিধা পেতে চলেছে । বিশ্ব উষ্ণায়ন নিয়ে এই ভারতীয় দলের কতজন ক্রিকেটার লেখাপড়া করেন জানা নেই, এবার সিরিজ জিতলে হয়তো ওদের কেউ কেউ কোনও ম্যাগাজিনের পাতা উল্টে এই বিষয়টি নিয়ে পড়াশোনা করতেও পারেন।

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.