ওঁর প্রথম বড় ব্রেক তামিল রোম্যান্টিক ছবি আলিয়াপায়ুথে‚ এই ছবির পর রঙ্গনাথান মাধবন সিনেমা ক্রিটিকদের কাছে একজন ভালো অভিনেতা ও ভক্তদের কাছে একজন রোম্যান্টিক হিরো হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন | ম্যাডির প্রেমে পড়েন বহু মহিলা দর্শক | মাধবন কিন্তু এর বহু আগেই নিজের হৃদয় দিয়ে দিয়েছেন ওঁরই  শহরের এক মেয়েকে |

Banglalive

১৯৯১ সালে মাধবন কোলহাপুরে ওঁর শহরে একটি পাবলিক স্পিকিং ওয়ার্কশপের কোচ হিসবে যোগ দেন | সেখানে ওঁর স্টুডেন্টদের মধ্যে সরিতা বির্জে নামে একজন ছিলেন | এয়ার হোস্টেস হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে সরিতা এই কোচিং সেন্টারে ভর্তি হন | আর সেখানেই শুরু হয় ওঁদের রোম্যান্স |

মাধবনের কথায়‚ কোলহাপুরে আমি পার্সোনালিটি ডেভলপমেন্টের ক্লাস নিতাম | সেখানে আমার সরিতার সঙ্গে পরিচয় হয় | ও একজন এয়ার হোস্টেস হওয়ার স্বপ্ন দেখত | অবশেষে যখন ও নিজের স্বপ্ন সফল করল আমাকে ধন্যবাদ জানাতে একদিন ডিনার খেতে নিয়ে গেল | এইভাবে শুরু হয়েছে আমাদের রোম্যান্স |

আট বছর মাধবন ও সরিতা প্রেম করেন | ইতিমধ্যেই মাধবন জনপ্রিয় শো সি হক‚ বনেগি আপনি বাত আর সায়া তে অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছেন | এছাড়াও জনপ্রিয় গেম শো তোল মোল কে বোল-এর সঞ্চালনা এবং প্রথম ফিচার ফিল্ম ইস রাত কী সুবহ নহি করে ফেলেছেন | অবশেষে ১৯৯৯ সালে মাধবন ও সরিতা বিয়ে করেন | বিয়ের পর তামিল ছবি আলিয়াপায়ুথে প্রথম বড় ব্রেক পান উনি |

আমরা জানি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে বেশিরভাগ সম্পর্কই দীর্ঘস্থায়ী হয় না | অনেকেই মনে করেছিল হয়তো কোনো সুন্দরী অভিনেত্রীর প্রেমে পড়বেন মাধবন এবং সরিতার সঙ্গে সম্পর্ক শেষ হয়ে যাবে ওঁর | এমনটা কিন্তু হয় নি | টাইমস অফ ইন্ডিয়া কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাধবন বলেন সরিতা যখন আমাকে কোনো রোম্যান্টিক দৃশ্যে দেখে ও জানে সেটা অভিনয় ছাড়া কিছুই নয় |

দীর্ঘদিন অভিনয় করতে করতে একঘেয়েমি এসে গেছিল মাধবনের জীবনে | তাই উনি ২০১২ থেকে ২০১৫ অবধি অভিনয় থেকে ব্রেক নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন | মাধবনের এই সিদ্ধান্তেও সরিতা ওঁর পাশে ছিলেন |

প্রেম করা থেকে বিয়ের পর কেটে গেছে ২৭ বছর | বহুবার দুজনের মতের বৈষম্য দেখা দিয়েছে কিন্তু তাতে একটুও চিড় ধরে নি ওঁদের সম্পর্কে | ওঁদের হ্যাপি ম্যারেড লাইফের রহস্য? একে অপরের প্রতি বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা |

আরও পড়ুন:  পর্দার বাইরে বাবা-মেয়ে এ বার বড় পর্দাতেও একই ভূমিকায়

NO COMMENTS