কৃষ্ণাঙ্গ শিশুদের ক্ষতবিক্ষত করে তৈরি হতো কুমির শিকারের ‘ টোপ’

প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ আফ্রিকা মহাদেশের এই প্রাকৃতিক সম্পদই মানুষের জীবনে বিভীষিকা হয়ে উঠেছিল। কারণ এখানকার প্রাকৃতিক সম্পদের লোভে পড়েই মার্কিনী এবং ইউরোপীয়রা আফ্রিকার অধিবাসীদের নিজেদের দেশে নিয়ে গিয়ে সেখানে তাঁদের ক্রীতদাস বানিয়ে রাখত।

আফ্রিকার ক্রীতদাসদের ওপর পশ্চিমীদের অত্যাচারের উল্লেখ পাওয়া যায় ইতিহাসের পাতায়। তাছাড়া ক্রীতদাসদের জীবনের বহু করুণ কাহিনী আছে বিভিন্ন লেখকের লেখায় । সেইসব লেখার ছত্রে ছত্রে লুকিয়ে রয়েছে পশ্চিমী দেশগুলির বর্বোরোচিত আচরণের গল্প। আফ্রিকান ক্রীতদাসদের ওপর আমেরিকা এবং ইউরোপীয়রা যে পাশবিক আচরণ করত তা জানলে শিউরে উঠতে হয়। এমনকী আফ্রিকান শিশুদের নিয়েও প্রতিনিয়ত কেনাবেচা চলত। সবথেকে বিস্ময়কর ঘটনা হল, কৃষ্ণাঙ্গ শিশুদের টোপ হিসেবে ব্যবহার করে কুমির ধরার নজিরও রয়েছে। লুইজিয়ানা, ফ্লোরিডা-সহ দক্ষিণ আমেরিকার বেশকিছু অংশে এমনই অমানবিক প্রথা প্রচলিত ছিল বলে জানা যায়।

১৮০০-১৯০০ শতকের মাঝামাঝি সময়ে কুমিরের চামড়া লাভজনক ব্যবসার কাজে লাগানো হত। কুমিরের চামড়া থেকে জুতো, ব্যাগ, জ্যাকেট, বেল্ট প্রভৃতি তৈরি করা হত। কিন্তু কুমির শিকার করা একটি অত্যন্ত কঠিন কাজ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কুমির শিকারে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ত কুমির শিকারীরা। কুমিরের আক্রমণে কারওর অঙ্গহানি হত, কাউকে আবার হয়তো জীবনও দিতে হত। তাই কুমিরের হাত থেকে বাঁচতে এবং ব্যবসা চালিয়ে যেতে শ্বেতাঙ্গরা আফ্রিকার ক্রীতদাসদের কৃষ্ণাঙ্গ শিশুদের চুরি করে নিয়ে এসে কুমির ধরতে টোপ হিসেবে ব্যবহার করা শুরু করে। তাঁদের মায়েরা যখন ব্যস্ত থাকত তখনই তাঁদের সন্তানদের চুরি করে  নিয়ে আসা হত। তবে শেতাঙ্গরা নিজেদের অপরাধ ঢাকার জন্য বলত, তাঁরা নাকি শিশুদের তাঁদের মা’য়ের কাছ থেকে কিনে আনা হত। এইসব শিশুদের যাতে কোনও ক্ষতি না হয়, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখা হত। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে ছবিটা ছিল ঠিক উল্টো। কুমিরের টোপ হিসেবে ব্যবহৃত অনেক শিশুরই পরিণতি হত ভয়ঙ্কর। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মৃত্যুবরণ করতে হত শিশুদের ।

টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত একটি খবর থেকে আফ্রিকার ক্রীতদাসের শিশুদের কুমিরের টোপ হিসেবে ব্যবহার করার একটি খবর প্রকাশিত হয়। যেখানে বলা হয়, কৃষ্ণাঙ্গ শিশুদের জলে খেলার জন্য ছেড়ে দেওয়া হত। দূরে একজন শিকারি হাতে রাইফেল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকত । কুমির যখন ধীরে ধীরে তার শিকারের দিকে এগিয়ে যেত তখনই তাকে গুলি করত ওই শিকারি।

অনেক খবরে এও দাবি করা হয়, কৃষ্ণাঙ্গ শিশুদের জীবন্ত অবস্থাতেই চামড়া টেনে ছিঁড়ে ফেলা হত, যাতে রক্তের গন্ধে কুমিরকে খুব সহজেই আকৃষ্ট করা যায়। তবে ফ্লোরিডার চেম্বার্স অব কমার্স অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানায় যে এই ধরণের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তবে শুধু টাইম ম্যাগাজিন নয়, যুক্তরাষ্ট্রের আরও অনেক সংবাদমাধ্যমে এই খবর প্রকাশিত হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি, মিশিগানের জিম ক্রো জাদুঘরে প্রদর্শিত কিছু ছবি এবং পোস্টকার্ডেও শিশুদের কুমিরের টোপ হিসেবে ব্যবহার করার প্রমাণ পাওয়া গেছে |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here