ধাতব খাঁ্চায় দিনযাপন গরিবদের

39

হং্কং্ | অন্য়তম ধনী শহর্ | সুসজ্জিত বহুতল যার পরিচিত দিগন্ত রেখা | অথচ এশিয়ার এই শহরে গরিবরা থাকেন ধাতব খাঁ্চায়্ | ঠিক যেমন চিড়িয়াখানায় থাকে জীবজন্তুরা | সেটাও বিনি পয়সায় জোটে না | নগদ ভাড়া দিয়ে কিনতে হয়্ |

হং্কং্-এর বসিন্দা Leung Cho-yin-এর কথাই ধরা যাক্ | এক সময় তাঁ্র পেশা ছিল মাং্স বিক্রি | আজ ৬৭ বছর বয়সে বন্ধ হয়েছে তাঁ্র কসাইখানা | এখন শহরের ঘিঞ্জি এলাকায় একটা ছোট্ট খাঁ্চা | আয়তনে খরগোশের খাঁ্চার মতো | তার জন্য় তাঁ্কে দিতে হয় প্রতি মাসে ১৩০০ হং্কং ডলার্ | মার্কিন ডলারে যার হিসেব ১৬৭ ডলার্ |

১৬ বর্গফুটের ওই ‘বিশাল বাড়ি’তে আবার আছে ছারপোকার উপদ্রব্ | তাই লিউং আর তাঁ্র মতো খাঁ্চার বাসিন্দারা ব্য়বহার করেন bamboo mats এবং পুরনো linoleum | সাধারণ ম্য়াট্রেসের পরিবর্তে |

গত কয়েক মাসে একদা এই ব্রিটিশ কলোনিতে বাড়ির দাম বেড়েছে হু হু করে | বহু পরিবারকে সরে যেতে হয়েছে ছোট বাড়িতে | যাঁ্দের সেটুকু সামর্থ্য় নেই, তাঁ্দের কপালে জুটেছে খাঁ্চা-যাপন্ |

লিউং জানাচ্ছেন, মাঁ্সের দোকানে কাজ করার সময় তাঁ্র একটি আঙুল চলে যায়্ | পরে সেরকম ভাল কাজও পাননি এই স্বল্পশিক্সিত | তাই মেনে নিতে হয়েছে খাঁ্চাতেই থাকতে হবে তাঁ্কে | সরকারের উপর কোনও আস্থাও নেই তাঁ্র্ |

হং্কংে এই রকমের cage-home তৈরি হয়েছিল পাঁ্চের দশকে | প্রধানত চিনের মূল ভূখণ্ড থেকে আসা যুবকদের জন্য় তৈরি হয়েছিল এগুলো | সং্খ্য়ায় কমে গেলেও এই খাঁ্চাই এখন মাথা গোঁ্জার ঠাই বহুজনের্ |

যেখানে শোয়ার ঘরের এই হাল, সেখানে রান্নাঘর বা বাথরুমের প্রশ্ন বোধহয় না তোলাই ভাল |

কলকাতার ফুটপাথবাসীদের দেখে বিদেশিদের ক্য়ামেরার ক্লিক ক্লিক বন্ধ হতেই চায় না | তৈরি হয়ে যায় সিটি অফ জয়ের মতো সিনেমা | তাহলে হং্কং্-এর মতো ধনী শহরের বুকে লুকিয়ে থাকা দারিদ্র্য়ের ক্সত তাঁ্দের চোখে বেশি করে পড়ে না কেন?

নাকি যে শহরের গায়ে অতীতে ব্রিটেন আর বর্তমানে চিনের রাজনৈতিক সম্পর্ক আষ্টেপৃষ্ঠে লেগে রয়েছে তার ক্সেত্রে সাত খুন মাফ?

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.