প্রেমহীন দাম্পত্যে মানিয়ে নিতে অভ্যস্ত বলেই ভারতে বিবাহবিচ্ছেদ নামমাত্র ?

1446

সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, ভারতে বিবাহবিচ্ছেদের হার নামমাত্র। বিচ্ছেদের হার নাকি মাত্র ১ শতাংশ। কিন্তু তা সত্ত্বেও বিষয়টি চর্চিত হচ্ছে অন্য কারণে। কারণ, সমীক্ষার ফলাফলের পেছনে লুকিয়ে থাকা কাহিনী আদৌ সুখকর নয়। পরিসংখ্যান বলছে, এদেশে হাজারে মাত্র ১৩টি বিয়ের পরিণতি হয় বিচ্ছেদ। সেই হিসেবে বিচ্ছেদের হার ১ শতাংশ, যা পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে কম। একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এই প্রসঙ্গে দুটি তথ্য দিয়েছে। প্রথমত, আমাদের দেশে সেপারেশনের সংখ্যা বিবাহবিচ্ছেদ বা ডিভোর্সের তুলনায় তিন গুণ। অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে থাকতে না পারলেও বিবাহ বিচ্ছেদ-এর তকমা পেতে চান না। দ্বিতীয়ত, ভারতে পুরুষের তুলনায় বিবাহবিচ্ছিন্ন মহিলার সংখ্যা বেশি। সুতরাং এ থেকে স্পষ্ট যে, একবার বিচ্ছেদ হলে তারপর মহিলাদের আবার বিয়ের ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে, যে সমস্যা পুরুষদের ক্ষেত্রে হচ্ছে না বললেই চলে।

অনেক সময়ে এমনও হয়েছে যে, গার্হস্থ্য হিংসা বা বৈবাহিক ধর্ষণের শিকার হয়েও, মেয়েরা সমাজের সামনে মুখ খুলতে পারেন না এই ভয়ে যে, সমাজ তাঁদের মেনে নেবে না, এই আশঙ্কা থেকে। তাঁদের মনে একটা ভয়ই কাজ করে যে, স্বামী বা তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে তাঁর যা অভিযোগ, তা হয়তো প্রকাশ্যে আনলে তা সমাজের চোখে ‘অপরাধ’ হিসেবে গণ্য করা হবে। তাই তাঁরা মনে মনে বিবাহ বিচ্ছেদ চাইলেও ভয়ে তা বলতে পারেন না।

আবার বেশকিছু ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী আলাদা থাকলেও বিবাহ বিচ্ছেদের পথে হাঁটতে চান না অনেকেই। যৌবন ছেড়ে প্রৌঢ়ত্বে পা দিয়েছেন এমন দম্পতিদের মধ্যে যে প্রবণতা দেখা যায় তা হল, এতগুলো বছর একসঙ্গে কাটিয়ে এসে এতদিন বাদে বিবাহবিচ্ছেদের কোনও অর্থ হয় না ! বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিবাহ বিচ্ছেদ চাওয়ারও একটা বয়স ঠিক করে দেয় সমাজ।  তাই ঘরোয়া আলোচনাতে অনেকেই শুনে থাকবেন, যেসব তরুণ-তরুণী বিয়ে না করার কথা বলে, প্রবীণ বিবাহিতরা তাঁদের অবশ্যই বিয়ে করার পরামর্শ দেন। ভবিষ্যতে সারাটা জীবন যাতে একা থাকতে না হয় তাই একজন সঙ্গী অবশ্যই দরকার।

এরপর রয়েছে সামাজিক নিরাপত্তার প্রশ্ন। পরিসংখ্যান বলছে আমাদের দেশে বিবাহিত মহিলাদের ধর্ষণের হার কম। বিবাহিত তকমা থাকলে অনেক রাতে সুষ্ঠুভাবে অক্ষত অবস্থায় বাড়ি ফেরার সম্ভাবনা বেশি। এক বিশেষজ্ঞের কথায় বিবাহবিচ্ছেদের হার শহরে যতটা, শহরতলি, গ্রামাঞ্চলে, প্রত্যন্ত গ্রামে ক্রমশ এই হার কমতে থাকে। সামাজিক চাপ, পারিবারিক চাপ, বন্ধুবান্ধবের চাপ, এগুলো তো থাকেই। যে দেশে এখনও কন্যাভ্রূণ হত্যা হয়, সে দেশে বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সমস্যা যে মহিলাদেরই হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ভারতীয় সংষ্কৃতিতে মনে করা হয় যে, ‘বিয়ে’ এমন একটি সম্পর্ক যা কখনও ভাঙা যায় না। মনের মধ্যে এই বিশ্বাস নিয়ে যখন টানাপোড়েন চলে তখনই মানুষ বিচ্ছেদের পথ থেকে পিছিয়ে আসে।

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.