স্বামী মহর্ষি গৌতমের ছদ্মবেশে অহল্যাকে ভোগ ইন্দ্রর‚ দেবরাজের দেহে অভিশাপের সহস্রযোনি

স্বামী মহর্ষি গৌতমের ছদ্মবেশে অহল্যাকে ভোগ ইন্দ্রর‚ দেবরাজের দেহে অভিশাপের সহস্রযোনি

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

ছোটবেলায় শুনতাম‚ ঠাকুমা বলতেন‚ ‘ অহল্যা‚ দ্রৌপদী‚ কুন্তী‚ তারা / মন্দোদরী তথা পঞ্চকন্যা স্মরণীয়তম / মহাপাতকনাশক… (বানান ভুল হলে পাঠক ক্ষমা করে নেবেন) | মাঝে মাঝে কুন্তীর বদলে সীতার নামও শুনেছি | অংশটির অর্থ বুঝতাম না | ঠাকুমাকে প্রশ্ন করেও উত্তর পাইনি | সম্প্রতি একটা বই হাতে এল‚ প্রদীপ ভট্টাচার্যর লেখা | সেখানে জানতে পারলাম এই পাঁচ মেয়ের কথা | এতদিনে বুঝলাম শৈশবে শোনা শ্লোকের অর্থ |

এই পাঁচজনকে ‘নারী’ বলা হয়নি | বলা হয়েছে ‘কন্যা’ | অর্থাৎ‚ কুমারী | অথচ এঁরা কেউ হিন্দু ধর্মের সনাতনী সেই সতী সাধ্বী পতিব্রতা নন | কেউ ধর্ষিতা হয়েছেন | কারও বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক | কারও একাধিক স্বামী | পরপুরুষের সঙ্গে যৌনতায় তাঁরা যে অভিনব ধারা স্থাপন করেছেন‚ সেই ধারাই বোধহয় তাঁদের কুমারী করে রেখেছে যুগে যুগে | পঞ্চকন্যার মধ্যে অহল্যা এবং দ্রৌপদী অযোনিসম্ভবা | এর মানে‚ তাঁদের জন্মের উৎস নারীযোনি নয় |

হিন্দুপুরাণের কুমারী পঞ্চকন্যা : প্রথম পর্বে অহল্যার কথা

প্রথমেই উত্থাপন করি অহল্যা-কথা | অহল্যা সর্বদা গুরুত্ব দিয়েছেন মনের স্বাধীনতাকেই | অহল্যা কথাটি দ্ব্যর্থক | এক অর্থ নিঁখুত | দ্বিতীয় অর্থ কুমারী | অপরূপা এই কন্যাকে সৃষ্টি করেছিলেন ব্রহ্মা | তারপর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দান করেছিলেন মহাঋষি গৌতমকে |

কথামতো‚ কৈশোরে পা দেওয়ার পর‚ অর্থাৎ ঋতুমতী হওয়ার পরে অহল্যাকে ফের ব্রহ্মার হাতে তুলে দিতে আসেন গৌতম | কিন্তু তাঁর সংযমে স্রষ্টা এতই খুশি হন‚ অহল্যাকে ফিরিয়ে দেন তাঁর কাছেই | মহর্ষি গৌতমের সঙ্গে বিবাহ হয় অহল্যার |

বনচারী গৌতমের পাশে সুন্দরী অহল্যাকে মেনে নিতে পারেননি দেবরাজ ইন্দ্র | রামায়ণের আদিকাণ্ডে কথিত‚ আশ্রমে ঋষি গৌতমের অনুপস্থিতিতে তাঁর রূপ ধরে অহল্যার কাছে আসেন ইন্দ্র | মেতে ওঠেন রতিক্রীড়ায় | অহল্যা বোঝেন তাঁর ছল | কিন্তু কৌতূহলবশত লিপ্ত হন সম্ভোগে | পরে দেবরাজকে অনুরোধ করেন‚ তাঁর স্বামী ফেরবার আগে পালিয়ে যেতে | কিন্তু গৌতম ফিরে আসায় ইন্দ্র ধরা পড়ে যান | ঋষির অভিশাপে ইন্দ্রের শুক্রথলি দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় |

আবার মহাভারতে বলে‚ গৌতমের অভিশাপে ইন্দ্রের দাড়ির অর্ধেক পীতবর্ণ গিয়েছিল | অহল্যাকে পাপস্খালনের জন্য কঠোর জীবনযাপন করতে হয়েছিল | গৌতমের আশ্রমেই উপবাস করে ছাইয়ের উপর শয়ন করতেন তিনি | স্বামীর আদেশে এটাই ছিল তাঁর প্রায়শ্চিত্ত | নারীর চিরন্তন কৌতূহলের বশবর্তী হয়ে পরপুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন অহল্যা | বনচারী ঋষির বদলে পাশে পেতে চেয়েছিলেন ঐশ্বর্যশালী ইন্দ্রকে | কিন্তু একইসঙ্গে‚ মাথা পেতে নিয়েছেন পুরুষতন্ত্রের দেওয়া শাস্তি |

রামায়ণের ‘উত্তর কাণ্ড’ পরে সংযোজিত | সেখানে বলা হচ্ছে‚ ব্রহ্মার উপর কুপিত ইন্দ্র ধর্ষণ করেছিলেন অহল্যাকে | তার শাস্তিস্বরূপ দেবরাজের দাড়ির অর্ধেক হলুদ হয়ে গিয়েছিল গৌতমের শাপে | সেইসঙ্গে তাঁকে শাপ দেওয়া হয়‚ পৃথিবীতে যত ধর্ষণ ঘটবে‚ তার অর্ধেক পাপ বহন করবেন ইন্দ্র | অহল্যার প্রস্তরীভূত হয়ে যাওয়ার আখ্যান সংযোজিত হয়েছে কথাসরিৎসাগরে | এর অর্থ‚ চারিত্রিক দোষ না থাকলেও পরপুরুষ ভোগ করলেই ভ্রষ্টা হবেন নারী |

মহাভারতের শান্তি পর্বে আছে অহল্যার পুত্র চিরকরির কথা | তাঁকে পিতা গৌতম নির্দেশ দেন‚ মাকে হত্যা করতে | যেমন জমদগ্নি দিয়েছিলেন আদেশ‚ পুত্র পরশুরামকে | পরে যখন গৌতম জানতে পারেন‚ দোষ আসলে অহল্যার নয়‚ তখন অনুতপ্ত হন |

ব্রহ্ম পুরাণ আবার বলছে‚ স্বামীর অভিশাপে অহল্যা পরিণত হন শুকনো ঝর্নায় | ইন্দ্র রূপান্তরিত হন বিড়ালে | কারণ‚ গৌতম যখন অহল্যার কাছে জানতে চান‚ ঘরে কে আছে ? অহল্যা উত্তর দেন ‘মাজ্জার’ | প্রাকৃত ভাষায় যার অর্থ দুইই‚ বিড়ল এবং প্রেমিক | সেই রূপান্তরিত বিড়ালের দেহে ছিল অসংখ্য যোনি | দুজনেই ক্ষমাভিক্ষা করেন ঋষি গৌতমের কাছে | এর ফলে অহল্যা মিশে যান গৌতমী নদীর সঙ্গে | আর ইন্দ্রের দেহের ওই যোনি পরিবর্তিত হয় মানবচক্ষুতে | অর্থাৎ গ্রিক পুরাণের আর্গাসের মতো ইন্দ্রের দেহ ছিল শতসহস্র চক্ষুতে ভরা | এই পুরাণ মতে মা হিসেবেও অহল্যা পূর্ণতা পাননি | এখানে তঁর পুত্রের নাম বলা হয়েছে শতানন্দ |

শিবপুরাণে আবার বর্ণিত অহল্যাকে নিয়ে অন্য কাহিনি | বলা হয়েছে‚ সে যুগে শত বছরের ক্ষরা চলছিল | মহর্ষি গৌতমের আশ্রমে আশ্রয় নিয়েছিলেন বহু মুনি ঋষি | কারণ বরুণদেবের আশীর্বাদে ওই আশ্রমে ছিল অশেষ জলের ভাণ্ডার‚ এক কুয়ো | আশ্রয়গ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন সপ্তর্ষিমণ্ডলের সপ্ত ঋষিও | কিন্তু তাঁদের স্ত্রীদের ষড়যন্ত্রে সপ্ত ঋষি আশ্রম থেকে বিতাড়িত করেন গৌতম এবং অহল্যাকে | পরে অবশ্য মহাদেব অভিশাপ দেন তাঁদের |

বাল্মীকি এবং বিশ্বামিত্র অবশ্য প্রশংসা ও স্তুতি করে গেছেন অহল্যার | পতিতা নন‚ বিশ্বামিত্র তাঁকে বলেছেন‚ ‘ মহাভাগ’ অর্থাৎ সর্বাধিক গুণবতী এবং মহৎ | বাল্মীকিও ‘অভাগী’র বদলে তাঁর চরিত্রকে মহিমান্বিত করেছেন | রামচন্দ্র‚ নিজের পত্নী সীতাকে সন্দেহ করলেও অহল্যাকে বলেছেন নির্দোষ | এটুকু প্রশংসা অহল্যা আদায় করে নিয়েছেন নিজের মানসিক সাহসের জোরেই | যে সাহসের বলে অকুতোভয় হয়ে নিজের কৃতকর্মের পরিণতির মুখোমুখি হতে পেরেছিলেন এই কন্যা |

( দ্বিতীয় কন্যার কথা আগামী পর্বে)

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

One Response

  1. Sab samoy dekhi hindu deb debi der niyei lekha beroy , keno musalman der kechchha niye lekha ber ki tathakathito secular manasikatay badhe !!! Dhik ei fake secularism ke !!!

Leave a Reply

Handpulled_Rikshaw_of_Kolkata

আমি যে রিসকাওয়ালা

ব্যস্তসমস্ত রাস্তার মধ্যে দিয়ে কাটিয়ে কাটিয়ে হেলেদুলে যেতে আমার ভালই লাগে। ছাপড়া আর মুঙ্গের জেলার বহু ভূমিহীন কৃষকের রিকশায় আমার ছোটবেলা কেটেছে। যে ছোট বেলায় আনন্দ মিশে আছে, যে ছোট-বড় বেলায় ওদের কষ্ট মিশে আছে, যে বড় বেলায় ওদের অনুপস্থিতির যন্ত্রণা মিশে আছে। থাকবেও চির দিন।