তাঁর গবেষণার বিষয় কৃষ্ণ গহ্বর একদিকে তাঁকে দিকপাল করেছে | অন্যদিকে এই বিষয়ই তাঁকে এক বারের জন্যেও মনোনীত করেনি নোবেল পুরস্কারের জন্য | তিনি শতাব্দী খ্যাত বিজ্ঞান সাধক স্টিফেন হকিং | কিছু তথ্য তাঁর জীবন ঘিরে |

Banglalive

# স্টিফেন হকিং-এর জন্ম ১৯৪২-এর ৮ জানুয়ারি | ঘটনাচক্রে সেটি ছিল গ্যালিলিওর ৩০০ তম মৃত্যুবার্ষিকী | হকিং চলে গেলেন অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের ১৩৯ তম জন্মদিনে | মেধায় তো আগেই স্পর্শ করেছিলেন | এ বার জন্ম মৃত্যুতেও স্পর্শ করলেন তাঁর পূর্বজদের |

# ৮ বছর বয়স অবধি ঠিকমতো পড়তেই পারতেন না | স্কুলের ফল ছিল বেশ খারাপ | তবু প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বৃত্তি পেয়ে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান পড়তে শুরু করেন ১৭ বছর বয়সে |

# কালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস‚ কৃষ্ণ গহ্বর ইত্যাদি বিষয়ে তাঁর লেখা ভারী ভারী তাত্ত্বিক বই তো জানেন | তিনি কিন্তু ছোটদের জন্যও বই লিখেছেন | তার নাম “George’s Secret Key to the Universe” | তাঁর লেখা “A Brief History of Time” বেস্ট সেলার | ২০ বছরে বিক্রি হয়েছে ১০ মিলিয়ন কপি | অনূদিত হয়েছে অন্তত ৩৬ টি ভাষায় | 

# জটিল স্নায়ুরোগে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ার আগে অবধি তিনি ছিলেন অক্সফোর্ড রোয়িং টিম-এর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য | 

# হকিং দাবি করেছিলেন কোনও কিছুই কৃষ্ণ গহ্বরকে উপেক্ষা করে চলে যেতে পারে না | এমনকী তথ্যও রেহাই পাবে না এর থেকে | পরে এই তত্ত্ব ভুল প্রমাণিত হয় | ২০০৪ সালে ভুলস্বীকার করে নেন হকিং |

# তাঁর স্পিচ সিন্থেসিজারে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে আমেরিকান অ্যাকসেন্ট | হকিং জন্মগত ভাবে ব্রিটিশ | কিন্তি ওই বাচনভঙ্গি বা উচ্চারণ পাল্টাতে চাননি | মনে করতেন ওই কণ্ঠই তাঁর নিজস্ব পরিচয় হয়ে গিয়েছে |

# বাবা ব্রিটিশ হলেও হকিং-এর মা ছিলেন স্কটিশ | দুজনেই অত্যন্ত মেধাবী | আর্থিক বাধা অতিক্রম করে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে | বাবা ছিলেন চিকিৎসা শাস্ত্রের গবেষক | মা দর্শনশাস্ত্রের | 

# ফিলিপা ও মেরি নামে দুই বোন স্টিফেনের | এছাড়াও তাঁর বাবা মা দত্তক নিয়েছিলেন এডওয়ার্ড বলে এক বালককে | দুই বোন ও এক দত্তক-ভাইয়ের সঙ্গেই বড় হন স্টিফেন |

# হকিং পরিবারের পরিচিতি ছিল অত্যন্ত মেধাবী বলে | পড়শিদের সঙ্গে বিশেষ মেলামেশাও ছিল না | এমনকী পরিবারের সবাই একটি করে বই হাতে নাকি খেতে বসতেন টেবিলে | বই পড়তে পড়তে নিঃশব্দে খেতেন | কেউ কারও সঙ্গে কোনও কথা না বলে খাওয়া শেষ করে উঠে পড়তেন |

# অক্সফোর্ডে পড়ার সময় হকিং প্রেমে পড়েন সহপাঠিনী জেন ওয়াইল্ডের | তাঁর জটিল অসুখের কথা জেনেও সরে আসেননি জেন | দুজনে বিয়ে করেন ১৯৬৫-র ১৪ জুলাই | জন্ম নেয় তিন সন্তান | রবার্ট‚ লুসি ও টিমোথি |

# একদিকে ঘরে চিকিৎসক নার্স রোগ মিলিয়ে ভারী পরিবেশ | অন্যদিকে বাইরে স্বামীর সেলেব্রিটি সত্তা | ক্রমে হাফিয়ে উঠলেন জেন | সঙ্ঘাত বাধল বিশ্বাসেও | তিনি ছিলেন ধর্মবিশ্বাসী ক্রিশ্চান | নিয়মিত চার্চে যেতেন | কয়্যারে গান করতেন | কিন্তু ঈশ্বর-অবিশ্বাসী স্বামী সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর | 

# এই অবস্থায় পারিবারিক বন্ধু ও অর্গ্যান বাদক জোনাথন হেলিয়ার জোন্স এর সঙ্গে সম্পর্ক হয় জেনের | কিন্তু তিনি ঠিক করেছিলেন সংসার ভাঙবেন না | দীর্ঘদিন জেন-জোনাথন সম্পর্ক ছিল প্লেটোনিক | 

# কিন্তু এভাবে চলল না বেশিদিন | নার্স এলাইনা ম্যাজনের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়লেন হকিং | ১৯৯৫ সালে ভেঙে গেল হকিং-জেন দাম্পত্য | হকিং বিয়ে করলেন এলাইনাকে |

# কিন্তু সে বিয়েও বিতর্কিত | অভিযোগ‚ এলাইনার হাতে নিগৃহীত হতেন হকিং | তিনি নিজে কোনওদিন কোনও অভিযোগ করেননি | ২০০৬ সালে দ্বিতীয়বার বিবাহবিচ্ছেদ হল হকিং-এর |

# জেন কিন্তু আর বিয়ে করেননি | শেষ জীবনে প্রাক্তন স্ত্রী‚ সন্তান ও নাতি নাতনিদের সঙ্গে দূরত্ব অনেক কমে গিয়েছিল হকিং-এর | 

আরও পড়ুন:  অশনি-সংকেত : বাজ পড়বার ঘটনা কি সত্যিই বাড়ছে কলকাতায় ?

NO COMMENTS