রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় আরখানগেলস্কের উত্তর মহাসাগরে অবস্থিত নোভায়া জেমলিয়া দ্বীপপুঞ্জে মেরু ভালুকের তাণ্ডবে রীতিমতো অতিষ্ঠ। জনবসতির মধ্য আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় রাশিয়ার ওই দ্বীপে জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে প্রশাসন। আরখানগেলস্কের গভর্নর ও আঞ্চলিক সরকার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়েছে। ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার সুনিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাশিয়ার এই দ্বীপে প্রায় ৩০০০ মানুষের বাস। এই জনসবসতির মধ্যেই অনেকগুলো মেরু ভালুক ঢুকে পড়েছে। যার ফলে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে এই এলাকায়। মানুষ ভয়ে বাড়ির বাইরে বেরতে পারছেন না। ছেলেমেয়েদের স্কুলেও পাঠাচ্ছেন না কেউ। সূত্রের খবর, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বেশ কয়েকটি শ্বেত ভালুক জনবসতির কাছে জড়ো হয়। সেই সময় হিংস্র এই পশুগুলো সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালায় এবং আবাসিক ভবন ও অফিসেও ঢুকে পড়ে। এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, মোট ৫২টি মেরু ভালুকের খোঁজ মিলেছে যারা এই এলাকায় ঢুকে পড়েছে এবং ৬ থেকে ১০টি শ্বেত ভাল্লুক এখনও জনবসতিতে রয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয় স্কুল ও কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীরা তাদের নিরাপত্তা চেয়ে মৌখিক ও লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করেছে।

কিন্তু, নিজেদের এলাকা ছেড়ে কেন তারা লোকালয়ে চলে এল তার উত্তর এখনও অধরা। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য মেরু অঞ্চলের বরফ গলতে শুরু করেছে। আর সেই কারণে খাদ্যাভাব দেখা দিচ্ছে । তবে আপাতত কীভাবে তাদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে এবং কীভাবে স্বাভাবিক জনজীবনে ফিরিয়ে আনা যাবে তা নিয়েই এখন উদ্বিগ্ন স্থানীয় প্রশাসন। সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, এই দ্বীপে এর আগে কখনও মেরু ভালুকের উপদ্রব কারওর নজরে পড়েনি। মেরু ভালুকগুলোর মধ্যে আবার অনেকেই প্রবল আক্রমণাত্মকও হয়ে পড়েছে, যার ফলে ওই দ্বীপে একটি সামরিক মিলিটারি ক্যাম্প গঠন করা হয়েছে। সেখানেও ঢুকে পড়ে একটি মেরু ভালুক। কোনওক্রমে প্রাণ হাতে করে বেঁচেছেন তাঁরা। মেরু ভালুক একটি বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির প্রাণী। সেইজন্য মেরু ভালুক গুলি করে মারাও নিষিদ্ধ। আর তাই ফেডেরাল এনভায়রনমেন্ট এজেন্সি তাদের গুলি করার জন্য কোনও লাইসেন্স ইস্যু করেনি।

আরও পড়ুন:  ত্রিশ লক্ষ টাকা সমেত এটিএম তুলে নিয়ে চম্পট দুষ্কৃতীদের

NO COMMENTS