নায়িকা হলেই ফর্সা সুন্দরী‚ খলনায়িকা মানেই কৃষ্ণাঙ্গী ?

একহাতে রাজদণ্ড | অন্য হাতে সেই রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধেই ক্ষুরধার কলম  | এভাবেই সাহিত্যসম্রাট হয়ে বাংলা সাহিত্যের রাজপাট শাসন করেছেন তিনি  | ১২৪৫ বঙ্গাব্দের ১৩ আষাঢ় জন্মগ্রহণ করেছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়  | জন্মবার্ষিকীতে স্মরণ-শ্রদ্ধার্ঘ্য সাহিত্যসম্রাটের প্রতি  |

বঙ্কিম চন্দ্র | বাঁকা চাঁদ | বাংলা ভাষায় বঙ্কিম চন্দ্র বলতে বোঝায়‚ অমাবস্যার পর প্রথম যে চাঁদ কালো আকাশে শোভা দেয় সেই একফালি চাঁদের টুকরোকে | কৃষ্ণের শিখিপাখার পাশে থাকে সেই চাঁদের ফালি | পবিত্র রমজান মাসের শেষে ঈদের দিন ঘোষণা হয় এই চাঁদ দেখেই | আসলে অমাবস্যার পরে এই চাঁদের টুকরোতেই তো শুক্ল পক্ষের সূচনা ঘোষণা | তাই বোধহয় বাঁকা চাঁদের এত কদর | ১৮৩৮-এর ২৭ জুন,(১৩ আষাঢ়, ১২৪৫ বঙ্গাব্দ) কাঁঠালপাড়ায় যে নবজাতকের জন্ম হয়েছিল‚ তাঁর সংস্কৃতজ্ঞ পিতাও আশা করা যায় দিনে দিনে সন্তানের মান-যশ-খ্যাতি শশিকলার মত বৃদ্ধি পাক‚ এই কামনাতেই এমন নামকরণ করেছিলেন | তাঁর সেই কামনা যে সর্বাংশে পূর্ণ হয়েছিল‚ সেকথা এখন আর বলার অবকাশ রাখে না | বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় আক্ষরিক অর্থেই শুক্লপক্ষের সূচনাকারী | আধুনিক বাংলা সাহিত্যের তিনিই জনক | তাঁর হাত ধরেই সাধারণ শিক্ষিত মানুষের অন্দরে প্রবেশাধিকার পেয়েছিল বাংলাভাষা |

উচ্চশিক্ষিত মানুষ | মেধাবী ছাত্র ছিলেন | প্রথমে মহসিন কলেজ তারপর প্রেসিডেন্সি | প্রথম স্থান অধিকার করতে অসুবিধা হয়নি কখনও | পড়াশোনা শেষ করে ব্রিটিশ সরকারের অধীনে ডেপুটি কালেকটরের পদে যোগ দেন | পরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হন | আজীবন সরকারি চাকরিই করেছেন | যে মানুষ আনন্দমঠ লিখেছেন‚ যাঁর কলম থেকে সৃষ্টি হয়েছে বন্দেমাতরম্-এর মত সঙ্গীত‚ তিনিই আবার ব্রিটিশদের অধীনস্থ কর্মচারী ছিলেন | আপাতভাবে ব্যাপারটি পরস্পর বিরোধী মনে হলেও আদতে কিন্তু তা নয় | বঙ্কিমচন্দ্র চাকরি করতেন জীবিকার প্রয়োজনে | কিন্তু তিনি কখনও তাঁর ব্রিটিশ প্রভুদের কাছে আত্মসম্মান বিকিয়ে দেননি | এর জন্য চাকরি জীবনে তাঁকে নানাভাবে হেনস্থা হতে হয়েছে | বহুবার বদলি হয়েছেন | তাঁর মেধা এবং যোগ্যতার উপযুক্ত পদমর্যাদাও তিনি পাননি | কিন্তু তবু নিজের সিদ্ধান্তে অবিচল থেকেছেন |

যে কোনও বুদ্ধিমান এবং আত্মমর্যাদাজ্ঞানসম্পন্ন মানুষের মতোই বঙ্কিমচন্দ্রও পরাধীনতাকে ঘৃণা করতেন | কিন্তু ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া এবং দীর্ঘদিন ব্রিটিশদের অধীনে কাজ করার ফলে ব্রিটিশদের চিন্তাভাবনা এবং দৃষ্টিভঙ্গির কিছু প্রভাব তাঁর উপর পড়েছিল | এই বিষয়টি তাঁর সাহিত্যে সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয় |

ইংরেজি সাহিত্যের বিশেষ প্রভাব ছিল বঙ্কিমচন্দ্রের উপর | তিনি যে ইংরেজি সাহিত্যের একজন অনুরাগী পাঠক ছিলেন‚ সে কথাও সুবিদিত | স্বাভাবিকভাবেই তিনি নিজে যখন কলম ধরলেন‚ তখন তাঁর পছন্দের সাহিত্যের অনুষঙ্গ অনেক সময়েই তাঁর লেখায় এসেছে | যে কারণেই অনেকে মনে করেন ওয়াল্টার স্কটের লেখা ‘আইভ্যানহো’ উপন্যাসের ধরনেই লেখা হয়েছিল দুর্গেশনন্দিনী | যদিও বঙ্কিমচন্দ্রের কৃতিত্ব এখানেই যে দুর্গেশনন্দিনীকে তিনি ভারতীয় প্রেক্ষাপটে এমনভাবে উপস্থাপিত করেছিলেন যে‚ আইভ্যানহোর সঙ্গে সংশ্রবের কথা মাথায় না রেখেও তার রস আস্বাদন করতে কোনও অসুবিধে হয় না | কিন্তু এই সাদৃশ্য বা প্রভাবকে বলা যেতেই পারে আঙ্গিকগত প্রভাব | বঙ্কিমচন্দ্রের ধ্যানধারনার সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই | কিন্তু তাঁর চেতনায় যে ব্রিটিশ সংস্কৃতির প্রভাব ছড়িয়ে গিয়েছিল তা বুঝতে গেলে লেখনশৈলীর কিছু কিছু দিক আলোচনা করা দরকার |

বঙ্কিমচন্দ্রের লেখায়‚ বিশেষত উপন্যাসে নারীর রূপবর্ণনা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় | তাঁর নায়িকাদের কাকে কীরকম দেখতে তার বিস্তারিত বর্ণনা আমরা পাই | সেই বিবরণ এতই প্রাঞ্জল যে তা থেকে মানুষটির চরিত্র সম্বন্ধেও একটা ধারনা অনায়াসে করে নেওয়া যায় | দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাসের কথাই যদি ধরি | সেই উপন্যাসের শুরুর দিকেই তিলোত্তমা কেমন দেখতে তার একটি বর্ণনা আছে |

” তিলোত্তমার বয়স ষোড়শ বৎসর; সুতরাং তাহার দেহায়তন প্রগলভবয়সী রমণীদিগের ন্যায় অদ্যাপি সম্পূর্ণতা প্রাপ্ত হয় নাই | দেহায়তনে ও মুখাবয়বে কিঞ্চিৎ বালিকাভাব ছিল | সুগঠিত‚ সুগোল ললাট‚ অপ্রশস্ত নহে‚ অথচ অতিপ্রশস্তও নহে‚ নিশীথ-কৌমুদীদীপ্ত নদীর ন্যায় প্রশান্তভাব-প্রকাশক; তৎপার্শ্বে অতি নিবিড়-বর্ণ কুঞ্চিতালক কেশসকল ভ্রূযুগে‚ কপোলে‚ গণ্ডে‚ অংসে‚ উরসে আসিয়া পড়িয়াছে; মস্তকের পশ্চাদভাগের কেশরাশি সুবিন্যস্ত মুক্তাহারে গ্রথিত রহিয়াছে; ললাটতলে ভ্রূযুগ সুবঙ্কিম‚ নিবিড় বর্ণ‚ চিত্রকরলিখিবৎ হইয়াও কিঞ্চিৎ অধিক সূক্ষ্মাকার;…তিলোত্তমার চক্ষু অতি শান্ত;…চক্ষু দুটি অতি প্রশস্ত‚ অতি সুঠাম‚ অতি শান্ত জ্যোতিঃ | আর চক্ষুর বর্ণ‚ ঊষাকালে সূর্যোদয়ের কিঞ্চিৎ পূর্বে‚ চন্দ্রাস্তের সময় আকাশের যে কোমল নীলবর্ণ প্রকাশ পায় সেইরূপ; সেই প্রশস্ত‚ পরিষ্কার চক্ষে তিলোত্তমা যখন দৃষ্টি করিতেন‚ তখন তাহাতে কিছুমাত্র কুটিলতা থাকিত না; তিলোত্তমা অপাঙ্গে অর্ধদৃষ্টি করিতে জানিতেন না‚ দৃষ্টিতে কেবল স্পষ্টতা আর সরলতা; দৃষ্টির সরলতাও বটে; মনের সরলতাও বটে…;”

সম্পূর্ণ বর্ণনা পড়লে তিলোত্তমা দেখতে কেমন শুধু নয়‚ মানুষটি কেমন‚ তারও একটি পরিষ্কার চিত্র ফুটে ওঠে | ভাষা নিশ্চিত অতি সুখপাঠ্য | উপমার ব্যবহার অপূর্ব | সাধারণভাবে বলা হয়‚ উপমা কবিতার ভাব পরিস্ফুট করতে সাহায্য করে | তাই উপমাতেই কবিত্ব | কিন্তু বঙ্কিমের লেখা পড়লে বোঝা যায় যে উপমার ব্যবহার গদ্য সাহিত্যকেও কতখানি সমৃদ্ধ করতে পারে |

তিলোত্তমার এই বর্ণনায়‚ তার গায়ের রং কেমন ছিল সে বিষয়ে কোনও উল্লেখ নেই | কিন্তু অন্যত্র তার অঙ্গ প্রত্যঙ্গের যে বিবরণ আছে তাতে বোঝা যায় যে সে গৌরবর্ণা অর্থাৎ ফর্সা | বঙ্কিমের অধিকাংশ নায়িকাই চম্পকবর্ণা | মানে হালকা হলুদের আভা জাগানো চাঁপা ফুলের মতো ধপধপে ফর্সা ত্বক তাদের | এইখানেই তাঁর উপর ব্রিটিশ ধ্যান-ধারনার প্রভাব সুস্পষ্ট |

সাধারণভাবে ভারতীয়দের গায়ের রং অতীব ফর্সা নয় | আমাদের প্রাচীন সাহিত্যের সুন্দরীরা অনেকেই কৃষ্ণবর্ণা | হোমের আগুন থেকে যাঁর জন্ম‚ সেই যাজ্ঞসেনী‚ মহাভারতের শ্রেষ্ঠ সুন্দরী | কিন্তু তিনি কালো | তাঁকে ডাকা হত কৃষ্ণা বলেই | অজন্তার গুহাচিত্র যদি আমরা দেখি‚ তাহলে সেখানেও দেখা যায় প্রধান সেসব চরিত্র‚ যাঁরা রাজকুমারি কিংবা রানি‚ তাঁরা সকলেই কৃষ্ণাঙ্গী | সিবলি কালো‚ যশোধরা কালো | কিন্তু অপ্রধান চরিত্র‚ দাসীদের গায়ের রং ফর্সা | সর্বদোষ হরে গোরা‚ এই ধারনা আমাদের দেশে মোটেই ছিল না | সৌন্দর্যবিচারে গায়ের রং কোনও অন্তরায় হত না | দীর্ঘকাল ব্রিটিশদের অধীনস্থ থাকার ফলে এই ধারণার বদল ঘটে | বঙ্কিমের লেখাতেও আমরা সেই পাল্টে যাওয়া মনোভাবের প্রকাশ দেখি | সেখানে প্রধান নায়িকারা গৌরবর্ণা | অপ্রধান নায়িকা বা নারীচরিত্র এবং খলনায়িকাদের গায়ের রঙ কালো | যেমন ধরা যাক কপালকুণ্ডলা | অত্যন্ত বিখ্যাত ও জনপ্রিয় উপন্যাস | গল্পের গঠন এবং চলন অপূর্ব | এখানে দুজন নায়িকা | কপালকুণ্ডলা এবং মতিবিবি | দুজনেই সুন্দরী | প্রথমে দেখে নিই কপালকুণ্ডলা কীরকম সুন্দরী | প্রথম যখন সেই নির্জন সমুদ্রসৈকতে নবকুমারের সঙ্গে কপালকুণ্ডলার দেখা হল‚ তখনই তার বর্ণনা দিয়েছেন বঙ্কিমচন্দ্র |

“…কেশভার-অবেণীসম্বন্ধ‚ সংসর্পিত‚ রাশীকৃত‚ আগুলফলম্বিত কেশভার; তদগ্রে দেহরত্ন; যেন চিত্রপটের উপর চিত্র দেখা যাইতেছে | অলকাবলীর প্রাচুর্যে মুখমণ্ডল সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ হইতেছিল না—- তথাপি মেঘবিচ্ছেদনিঃসৃত চন্দ্ররশ্মির ন্যায় প্রতীত হইতেছিল | … কেশরাশিতে স্কন্ধদেশ ও বাহুযুগল আচ্ছন্ন করিয়াছিল | স্কন্ধদেশ একেবারে অদৃশ্য; বাহুযুগের বিমলশ্রী কিছু কিছু দেখা যাইতেছিল |”…

এই বর্ণনা থেকে স্পষ্ট যে কপালকুণ্ডলা ফর্সা | এ বার আসা যাক মতিবিবির বর্ণনায় | মজার ব্যাপার হল‚ মতি বিবির কথা বলতে গিয়ে বঙ্কিমচন্দ্র কিন্তু প্রথমেই বলছেন যে ইনি নির্দোষসুন্দরী নন | তারপর অবশ্য কেন নির্দোষ বলা যাবে না এবং নির্দোষ না হয়েও কেন অপরূপ‚ সে যুক্তিও যথেষ্ট জোরালো ভাবে আছে | ” ইনি যে নির্দোষসুন্দরী নহেন‚ তাহা বলিবার কারণ এই যে‚ প্রথমত ইঁহার শরীর মধ্যমাকৃতির অপেক্ষা কিঞ্চিৎ দীর্ঘ; দ্বিতীয়তঃ অধরৌষ্ঠ কিছু চাপা; তৃতীয়ত ইনি প্রকৃতপক্ষে গৌরাঙ্গী নহেন | …”
তবে মতিবিবি গৌরাঙ্গী না হলেও তাঁর গায়ের বর্ণ কেমন‚ তারও ভারী চমৎকার বর্ণনা দিয়েছেন লেখক |

“…ইনি শ্যামবর্ণা | ‘শ্যামা মা’ বা ‘শ্যামসুন্দর’ যে শ্যামবর্ণের উদাহরণ‚ এ সে শ্যামবর্ণ নহে | তপ্ত কাঞ্চনের যে শ্যামবর্ণ হয়‚ এ সেই শ্যাম | পূর্ণচন্দ্রকরলেখা‚ অথবা হেমাম্বুদকিরীটিনী ঊষা‚ যদি গৌরাঙ্গীদিগের বর্ণপ্রতিমা হয়‚ তবে বসন্তপ্রসূত নবচুতদলরাজির শোভা এই শ্যামের অনুরূপ বলা যাইতে পারে | …”

বঙ্কিমের আরও একটি উপন্যাস কৃষ্ণকান্তের উইলেও একই ব্যাপার দেখা যায় | এখানেও নায়িকা দুজন | প্রধান নায়িকা রোহিণী | তাকে ঘিরেই গল্প এগোয় | গোবিন্দলালের স্ত্রী হলেও ভ্রমর কিন্তু অপ্রধান নায়িকা | রোহিণীর রূপ শরৎকালের চন্দ্রের মতো | আর ভ্রমর কেমন‚ তার বর্ণনাও চমৎকার |

“…নবীনালোক পূর্বদিক হইতে আসিয়া পূর্বমুখী ভ্রমরের মুখের ওপর পড়িয়াছিল | সেই উজ্জ্বল‚ পরিষ্কার‚ কোমল‚ শ্যামচ্ছবি মুখকান্তির উপর কোমল প্রভাতলোক পড়িয়া তাহার বিস্ফারিত লীলাচঞ্চল চক্ষের ওপর জ্বলিল | তাহার স্নিগ্ধোজ্জ্বল গণ্ডে প্রভাসিত হইল |”

এরকম উদাহরণ আরও আছে | দেবী চৌধুরাণী উপন্যাসে প্রফুল্ল গৌরবর্ণা | তার সঙ্গী নিশির গায়ের রং কচি পাতার মতো শ্যামল | ইন্দিরা ফর্সা | সুভাষিণীর গায়ের রং চাপা |

বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাসে খলনায়িকা সেভাবে নেই | সুন্দরীরা সকলেই প্রায় সৎ গুণের অধিকারিণী | তবুও যাঁদের মধ্যে কিছুটা অন্তত দুষ্ট বুদ্ধি আছে সেরকম নারীদের প্রসঙ্গে যদি আসা যায় তাহলে খলনায়িকার সবথেকে বড় উদাহরণ বিষবৃক্ষ উপন্যাসের হীরা | সেখানে তো সূর্যমুখী‚ চম্পকবর্ণা‚ কমল‚ কুন্দ সবারই গায়ের রং গৌর | কালো শুধু হীরা | বঙ্কিমের ভাষায় পদ্ম পলাশলোচনা শ্যামাঙ্গী | ঠিক যেমন দেবী চৌধুরাণীর নয়ান বৌ কালো | ইন্দিরায় সুভাষিণীর সন্দেহবাতিকগ্রস্ত‚ কুটিল শ্বাশুড়িরও গায়ের রং কালির বোতলের মতো |

অর্থাৎ একটু লক্ষ্য করলেই বোঝা যায়‚ যে বঙ্কিমের লেখায় অপ্রধান এবং যারা তেমন মানুষ ভাল নয় তেমন মেয়েদেরই শুধু গায়ের রং কালো | নারীর সৌন্দর্যের অন্যতম আকর্ষণ যে তার চম্পকবর্ণের ত্বক‚ এ কথা তিনি সম্ভবত নিজেও মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন | তারই প্রভাব পড়েছে লেখনীতেও |

ব্রিটিশ প্রভুদের বিরুদ্ধে তিনি কলম ধরেছেন | তাঁর আনন্দমঠের সন্তানদল দেশের জন্য উৎসর্গীকৃত প্রাণ | দেশমাতৃকার অমন বর্ণনা হয়তো বা সারা পৃথিবীতেই দুর্লভ | স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম মূলমন্ত্র ছিল বন্দে মাতরম | কিন্তু অবচেতনে তাঁর মধ্যেও যে দীর্ঘকালীন ব্রিটিশ শাসনের ধ্যান-ধারনা বিস্তার লাভ করেছিল‚ বুঝতে অসুবিধে হয় না | আবার একথাও নিশ্চিত সত্য যে ব্রিটিশদের সাংস্কৃতিক চিন্তা-ভাবনা বিশষত‚সাহিত্যের প্রভাব যদি না থাকত‚ তাহলে আমরা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে পেতাম কি না সন্দেহ | তাঁর জাতীয়তাবোধ এবং উপন্যাস লেখার ধারনা দুই-ই তিনি পেয়েছিলেন ইংরেজি শিক্ষা থেকেই | একেই বোধ হয় বলা হয় ইতিহাসের পরিহাস |

(পুনর্মুদ্রিত)

Advertisements

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.