কুকুরহত্যায় অভিযুক্ত মৌটুসী-সোমা পড়তে পারবেন না! আপুনি কোন ‘পশু’-প্রেমী হে?

2480

স্বাস্থ্যভবনের সামনে জিভ শুকিয়ে, টনটনাটন টয়লেট চেপে, হিক্কা তুলে ১১ ঘণ্টার লম্বা হুলালালা হোহো! অভিযোগ, আহত টলিউড অভিনেত্রী। ওদিকে কুকুরে আক্রান্ত রানি। তার কী হবে? আদৌ কি দোষী মৌটুসীসোমা? ঘোলা জলের আসল মাছেদের খোঁজে রমাপদ পাহাড়ি

ঘেউ ঘেউ

এই বার্তা রটি গেল ক্রমে… কলিকাতা গ্রামে…

অভিনেত্রী আহত, অভিনেতা প্রহৃত। সৌজন্যে ক পু। কলকাতা পুলিশ। ১৫ জন পশুপ্রেমীর নুনছাল উঠে গেছে পর্যন্ত। তাঁরা মিডিয়া দেখলেই কাতরাচ্ছেন, জলের বোতল চাইছেন। ঘোলা জলে ‘মাছ’ ধরতে চাইছেন।

এই বার্তা রটি গেল ক্রমে… কলিকাতা গ্রামে…

মৌটুসী, সোমা ক্লাস করেছে। নার্সিং হস্টেলে থাকছে, খাচ্ছে, ঘুমোচ্ছে, টয়লেটেও যাচ্ছে!

ম্মা সে কি! ওই খুনিগুলো! ওই পিশাচগুলো (পিশাচিনী বোধহয়!)। ওই নরকের কীটগুলো! ওই ঢ্যামনাগুলো (লিঙ্গ পরিবর্তনসাপেক্ষ)।ওই মাগিগুলো!

ওদের পিটিয়ে মেরে ফেলা উচিত। ওদের ফাঁসিকাঠে ঝুলিয়ে দেওয়া উচিত। ওদের শ্বাসনালীতে গ্যাস সিলিন্ডারের নল ঢুকিয়ে দেওয়া উচিত। ওদের নরমনরম ফুলকোফুলকো রঙ্গ করা অঙ্গগুলো কেটে কুচি কুচি করে কুত্তাদের খাইয়ে দেওয়া উচিত। যেভাবে ওরা ১৬টি কুকুরবাচ্চার (কুকুরছানা বললে শুনতে ভালো লাগে) যকৃৎ নিয়ে কিতকিত খেলেছে, লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে ধড়প্রাণ ‘অলগ’ করে দিয়েছে, ঠিক তেমনি ওদের মলদ্বার থেকে যোনিদ্বারে রডশাবলকোদালবল্লম ঢুকিয়ে দেওয়া উচিত। ডাক্তাররা (পুং) যেভাবে হুলো তুলে মেনি নার্সদের হয়ে পোঁ ধরেছেন, তাতে তাদের ‘বঁড়শি’গুলো কেটে সসে ডুবিয়ে গরম তেলে ছেড়ে দেওয়া উচিত।

আরও যে কত কি উচিত, দেবা ন জানন্তি। কিন্তু পশুপ্রেমীরা জানেন, বোঝেন। বোঝেন বলেই না সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনই আকচাআকচি। খিস্তিখেউড়। স্বাস্থ্যভবনের সামনে জিভ শুকিয়ে, টনটনাটন টয়লেট চেপে, হিক্কা তুলে ১১ ঘণ্টার লম্বা হুলালালা হোহো! রাত ১টার সময়েও ড্রামবাদ্যি শুনিয়ে এলাকার মানুষজনের কানের পোকাকে জাগিয়ে তোলা!

এমন তানানানায় আবপুলিশ গেছে খচে। কোন পশুপ্রেমীর গালে নাকি বিরাশি সিক্কার থাপ্পড়ও কষিয়েছে। ওম্মা, সে কি! নিজের নয়, বউয়েরও নয়, ইন্টুপিন্টু পেমিকপেমিকারও নয়, তেরো গুষ্টির মেসোমশাইয়ের পিসতুতো ভাইয়েরও নয়, সহজসরলপুতুপুতুগুলগুল্লা ভৌভৌগুলোর জন্যই তো এই মরণপণ ধরনা! তাল্লে?

পুলিশ ইহাতেও কাঠি দিবেক?

পশুপ্রেমীদের কাছে কুমিরগেলা পোশ্ন, যারা নিতান্তই কুকুরহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত, যে কাণ্ড মহামান্য কোর্টের বিচারাধীন, দোষ প্রমাণের ‘দ’টুকুই হয়নি, তাদের শিক্ষার অধিকারে নখদাঁত দিয়ে দাবড়ে রাখতে চাওয়ার তুমি কোন ‘পশু’প্রেমী হে?

আপুনি বলিবেন, যা বলার এট্টু ‘বাংলা’য় বলো বাপু!

বলা যাক।

যা আছে মহাভারতে

তাই ঘটে ভূভারতে

মহাভারতে ‘মহাপ্রস্থানিক’ নামে একটি পর্ব আছে। সপ্তদশ পর্ব। যুধিষ্ঠীর তাঁর সঙ্গী কুকুরটিকে ছাড়া স্বর্গে যেতে রাজি ছিলেন না মোটেই। কিন্তু ইন্দ্র বলেন, যার সঙ্গে কুকুর আছে, তিনি স্বর্গে যেতে পারবেন না। ওদিকে মহামহিম যুধিষ্ঠীরও নাছোড়বান্দা। তাঁর যুক্তি, শরণাগতকে ভয় দেখানো, স্ত্রী বধ, ব্রহ্মস্বহরণ ও মিত্রবধ— এই চার কাজে যে পাপ হয়, ভক্তকে ত্যাগ করলেও সেই পাপ হয়। তাই তিনি ভক্তকে ত্যাগ করবেন না। তখন কুকুররূপী ভগবান ধর্ম— নিজ রূপ ধারণ করে বলেন, স্বর্গে তাঁর তুল্য কেউ নেই। তিনি স্বশরীরে স্বর্গে গিয়ে অক্ষয়লোক লাভ করবেন।

কুকুর নিয়ে অঢেল কুকথার মাঝে কথাটি মগজে গোঁজা মারল এই কারণে, পশুপ্রেমীরা কুকুরের জন্য চোখের তলায় কালি ফেলছেন, চিকিৎসকনার্সরা তাঁদের সহকর্মীদের জন্য আহাআহা চুচু করছেন, কোনো কোনো চিকিৎসক ছত্রিশ ইঞ্চি বুক ফুলিয়ে বলেছেন ‘বেশ করেছি’ গোছের কথা, সাম্বাদিকরা ‘কি দিলুম’ গোছের নিউজ ব্রেক করছেন। উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপিয়ে আহ্লাদে অট্টহাসি হেসেছেনও কেউ কেউ। সত্যিটা হল, যুধিষ্ঠীরের মতো কেউই তাঁদের স্বজনদের ছাড়েননি, ত্যাগ করেননি। সে শুক্লই হোক বা কৃষ্ণ, পক্ষ কেউই ছাড়েননি। ওই যে শ্রীকৃষ্ণ কয়েছেন, স্বধর্মে নিধনং শ্রেয়ঃ। অর্থাৎ মহাভারত আছে মোদিজির মহাভারতেই। অন্যদিকে সার্কাসের সারকারিনা এখনও চলিতেছে।

শতশত, তাই হতাহত

রানি মল্লিক। বয়স তিন। এনআরএস হাসপাতালের এক কর্মীর সন্তান। যাচ্ছিল দিদার সঙ্গে। অমনি কুক্কুরকুলের কোনো ‘মিষ্টু’, রানির কোমরে জোরদার কামড় দেয়। আশপাশের লোকজন এসে তাকে রক্ষা করেন। তার কোমরের ক্ষত কতটা গভীর, তা সম্বাদমাধ্যমে দেখেছেন নিশ্চয়! এত লঙ্কাকাণ্ডের পরেও হাসপাতালে কুকুর কামড়ানোর প্রয়োজনীয় প্রতিষেধক ইঞ্জেকশন নেই। ভাঁড়ে মা ভবানী। অগতির গতি বেলেঘাটা আই ডি হাসপাতাল।

ক্যাটারিং করে ফিরছিলেন তিন জন। রাতে ফেরার পথে কুকুরের ভয়ে দৌড়তে গিয়ে লরির ধাক্কায় প্রাণ যায় উত্তম দাসের। দুজন মারাত্মক জখম। শ্যামবাজারে দিনকয়েক আগের ঘটনা। খোঁচালে আর খোঁজ নিলে, এমন হাজারো কাণ্ড প্রকাণ্ড হয়ে পশুপ্রেমীদের সামনেও ধরা দেবে।

মানো ইয়া না মানো, সচ্চাই কো জানো’, এমন একটা পোবাদবাক্যি আছে মশাই। এই কৌণিক দৃষ্টি থেকে আরও দুকথা কই। কারণ, সংখ্যাটা সত্যিই শঙ্কিত হওয়ার মতো। গত তিন বছরে নীলরতন সরকার হাসপাতালে কম করেও ৩৫ জনের উপর ‘ভালোবেসে’ কুক্কুর বংশীয়রা দাঁতের ধার পরখ করেছে। শেষ তিন মাসে প্রায় ১৫ জন। গত ডিসেম্বরে ৫ জন। ঘটনার ঠিক আগের দিন একজনের পায়ের মাংস খুবলে নিয়েছিল পর্যন্ত। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ইঞ্জেকশনটুকু হাসপাতালে অকুলান ছিল। পশুপ্রেমীদের জানারই কথা, কুকুরের কামড়ে ক্ষতস্থানে সেলাই দেওয়া অসম্ভব। জানার কথা, দংশনের ঘণ্টাখানেকের মধ্যে চিকিৎসা শুরু না হলে ভাইরাস কতটা দ্রুততায় ছড়িয়ে পড়তে পারে! জানার কথা, আপাত সুস্থ বলে মনে হলেও আগামী ২১ বছরের মধ্যে যেকোনো সময় মেয়েটি জলাতঙ্কের শিকার হয়ে ইহলোক ছাড়তে বাধ্য হতে পারে। চিকিৎসার জন্য মেয়েটিকে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে ‘রেফার’ করতে বাধ্য হয়েছিলেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কুকুরের ভয়ে এক ইন্টার্নের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে বেঁচে থাকার মতো দুর্লভ ঘটনাও এই হাসপাতালেই।

নার্সিংয়ের মতো একটি কঠিনতম জীবিকায় নিজেকে নিংড়ে দিয়ে, পায়ে পায়ে কুকুরছানাদের অনাদর সহ্য করে, হস্টেলে ফিরে মুখে তুলতে না তুলতেই পুনরায় কুকুর বংশীয়দের অত্যাচার। এ মেয়েরা যে সরকার নির্ধারিত ১২ টাকার হস্টেলে থাকে, অতএব তারা কুকুরবিড়ালদের অসহ্য অত্যাচার মেনে ভাগাভাগি করে খাবারটুকু মুখে তুলবে, এটাই নিয়তি। এই নিয়ে প্রতিবাদে সরব হতে গিয়ে, পড়ুয়াদের শুনতে হয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মুখঝামটা। ‘‘১২ টাকার হস্টেলে এর বেশি কী চাও তোমরা! তাহলে বিষ দিয়ে মেরে ফেল।’’ অতএব ইহাই ভবিতব্য।

এতকিছুর পরেও কুকুরছানাদের হত্যার ঘটনাটি নিন্দনীয়। অবশ্যই নিন্দনীয়। কিন্তু যে প্রেক্ষিতে দুগ্ধপোষ্যদের মরতে হল, সেই সমাধান হবে তো? বিষবৃক্ষকে উপড়ে ফেলা যাবে তো! হাসপাতালের শয্যায় কুকুরবিড়ালদের অত্যাচারে হাসপাতালের কোনো রোগীর প্রাণ সংশয় দেখা দিলে, সদ্যোজাতর গা চেটে সাফ করে দিলে, রোগীর ক্ষতস্থান খুবলে নিলে, নার্সদের ওপর আমাদের হামলা বন্ধ হবে তো? বেশ কতকগুলি ঘটনা কিন্তু তাই বলছে। উনিশবিশ হলেই লাথিঘুসিহাতাবেলচার ঘায়ে জখম হয়েছেন ডাক্তারনার্সরা।

পশুপ্রেমীরা, আপনাদের দিলকাটুকড়া কুকুরবিড়ালগুলোর নির্বীজকরণের ব্যবস্থা করুন না! তাহলে তো শতশত পুত্রকন্যার জননী হতে হয় না কুক্কুরী কিম্বা মা ষষ্ঠীর বাহনদের। নির্বীজকরণের নামে কুকুরপ্রতি হাজার পাঁচেক টাকা নিয়েও তিন মাস বাদে পুনরায় কেন ওরা শয়ে শয়ে বাচ্চা প্যায়দা করে, প্লিজ একটু চিরুনিতল্লাশি চালান না, ওইসব সংস্থা সম্পর্কে। তাহলে তো এই কুরুক্ষেত্র বাধত না। নার্সরা যে দিনের পর দিন অরণ্যে রোদন করে গেছেন কুকুরদের অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে, কে শুনেছে?

অন্য কারও হাত নেই তো!

এড়িয়ে গিয়েছে মিডিয়া। এড়িয়ে গিয়েছেন পশুপ্রেমীরা। নাকি, চোখে ঠুলি পরেছিলেন সক্কলে!

ডেন্টাল কলেজ আর এনআরএসএর নার্সিং হস্টেল ঠিক গায়েগায়ে না হলেও একর একর দূরত্বেও নয়। ঢিল ছুড়লে এরওর ঘরে আয়নাগুলো ঝনঝনাৎ করে খসে পড়বে। সেই সুবাদে যুযুধান দুইপক্ষ। এই বিবাদ বহুকালের। হাসপাতাল লাগোয়া বাসিন্দারা গন্ধগন্ধ নাকে সন্দেহ করছেন, ২০ সেকেন্ডের ফুটেজটি প্রতিপক্ষকে ‘টাইট’ দেওয়ার জন্য আগে কখনও তোলা হয়নি তো! যখন বারে বারে হাসপাতাল সুপারের কাছে, নার্সিং সুপারের কাছে নিষ্ফলা অভিযোগ জানাতে জানাতে তারা নিমতিতানিশুন্দিতিতার থেকেও তিতিবিরক্ত হয়ে উঠেছেন, অনন্যোপায় হয়েছেন, সেই সময় মৌটুসীসোমার কুকুরছানাপ্রহার হয়তো বা মোবাইলবন্দী হয়েছিল! একবার ঘিলু ঘেঁটে ভাবুন তো, স্রেফ দুই ছাত্রী মিলে বাচ্চাগুলোকে মেরে ফেলল আর ফুটেজ ছড়াল মাত্র ২০ সেকেন্ডের! আর ছবি উঠল না! নাকি, এর অন্তরালে অন্ধকারে অন্য কারও হাত রয়েছে! ভাবুন, ভাবার অভ্যেস করুন।

মৌটুসীর কুকুর, সোমার বিড়াল

মৌটুসী মণ্ডল। বাঁকুড়ার কোতুলপুরের কারকবেড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। বাড়িতে রয়েছে পোষা দেশি কুকুর। তাকে নিজের হাতে স্নান করাতেন মৌটুসী, খাওয়াতেনও। মাত্রাতিরিক্ত ভালোবাসতেন। অন্যদিকে সোমা বর্মণ। কাকদ্বীপের স্টিমার ঘাটের বাসিন্দা। তার রয়েছে পোষা দুই বিড়াল। ভুতু ও মেম। বাড়ি থাকলেই দেদার আদর থেকে স্নান করানো, খাওয়ানো, সবই করেন নিজের হাতে। মেধাবী ছাত্রীটি ছোটোবেলা থেকে রাস্তার কুকুরবিড়ালদের অসুস্থতায়, তাদের নিয়ে ছুটে যেতেন ডাক্তারের কাছে। সুস্থ করে তুলতে পারলে, তবেই তার মুখে হাসি ফুটত। আর তারাই কিনা ১৬টি কুকুরছানার হত্যাকারী? এদের প্রতিবেশীরা বলেছেন, গঙ্গাজলে দাঁড়িয়েও কেউ বললে একথা অবিশ্বাস্য। পশুপ্রেমীদের মুখে এদের পশুপ্রেমের কথা একটিবারও উঠে আসেনি। যেমন আসেনি, এনআরএস হাসপাতালে এত কুকুর কেন?

সুখের কথা, এত কাণ্ডের পরেও কোনো রাজনৈতিক দলই মুখ পোড়ায়নি এই বলে যে, কুকুরহত্যা নিশ্চিতভাবে বিরোধীদলের চক্রান্ত!

প্লিজ, জেগে ঘুমোবেন না

ডিসেম্বর ২০১৮। মাওবাদী তকমায় অভিযুক্ত অর্ণব দাম। মেধাবী বন্দী। তাঁকে নিয়ে প্রেসিডেন্সি জেল থেকে পুলিশ ভ্যান ছুটে গিয়েছিল রাজাবাজার কলেজের দিকে। সেট পরীক্ষা দিয়ে অর্ণব জানিয়েছেন, অধ্যাপনাই তাঁর স্বপ্ন।

ডিসেম্বর ২০১৮। বিক্রম। মাওবাদী নেতা। জেল থেকেই সরকারি চাকরি পরীক্ষা দিয়েছেন।

অক্টোবর ২০১৮। ঠাকুরমণি মুর্মু। মাওবাদী সংগঠনের এক শীর্ষস্থানীয় নেত্রী। জেল থেকে পরীক্ষা দিয়ে ৫টি বিষয়ে লেটার মার্ক সহ ৮৩ শতাংশ নম্বর নিয়ে মাধ্যমিক পাশ করেছেন।

জুন ২০১৮। দুই জঙ্গীসহ চার বন্দী বহরমপুর জেল (পড়ুন কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার) থেকে অনার্স পরীক্ষা দিয়েছেন।

এমন উদাহরণ বিস্তর। অতীতের লিস্টি ঘাঁটলে মহাভারতকেও হার মানাবে। তাহলে মৌটুসীসোমার ক্ষেত্রে পশুপ্রেমীরা (সিরিয়ালের এক অভিনেত্রী অবশ্য বলেছেন, ‘পশু নয়, প্রাণীপ্রেমী বলুন’) চোখে ঠুলি এঁটে আর কানে তুলো গুঁজে কেন? যেখানে তাদের মহামান্য আদালত এখনও পর্যন্ত ‘দোষী’ সাব্যস্ত করেনি, প্রমাণের ‘প’ ধরে (২০ সেকেন্ডের ঝাপসা ফুটেজ ছাড়া, তাও প্রহার) পোঁ তোলা সম্ভব হয়নি, সেখানে মৌটুসীসোমাকে ক্লাস থেকে বহিষ্কার করা নিয়ে দাবি তোলার এরা কোন হনু? এই প্রতিবেদকের কলজে নিয়ে ভাজা ভাজা করে খেতে ইচ্ছে করলেও, পশুপ্রেমীদের হাতে দুই শিক্ষার্থীর শিক্ষার্জন করা বিষয়ে যুক্তিসঙ্গত কোনো যুক্তি নেই। মেনকা গান্ধির হুমকি ফোনেও একটি কথা উল্লেখ আছে, যদি এরা দোষী সাব্যস্ত হয়, তবেই তাদের বহিষ্কার করুক হাসপাতাল। না করলে নার্সিং কাউন্সিলের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার হুমকিনিদানও বাতলে রেখেছেন তিনি। ওই যে কথায় বলে না, বাঁশের চেয়ে কঞ্চি দড়। কলকাত্তাইয়া পশুপ্রেমীরা মন্ত্রী মেনকার চেয়েও বেয়াড়ারকম পশুপ্রেমী বলে এই মহাবিশ্বে জুলজুল করতে চাইছেন বুঝি! কাজ না থাকলে নাকি খই ভাজে মনুষ্যে! কিম্বা মিডিয়ায় মুখ দেখানোর বিস্তর চেষ্টা করে! হালে পানি পেতে বুঝি!

দেশে দুর্ভিক্ষ হয়েছে বলে, তিনদিন না খেয়ে থাকলেই সমস্যা মেটে না। কী করে অনাবাদী তিন হাজার বিঘে চাষ করা যায়, সেটা ভাবতে হয়। যে পেশাতেই হোক না কেন, দোষীদের সংশোধন করার জন্য এখন সংশোধনের ব্যবস্থা রয়েছে, কাউন্সেলিংয়ের আয়োজন হয়েছে, শুধু দুই শিক্ষার্থীর শিক্ষার্জনে বাধা দিয়েই গোড়ার গলদে গোঁজামিল দিয়ে বাস্তবটাকে অস্বীকার করা যায় না। আর একটি কথাও বেয়াড়া সত্যি। অধিক প্রজননে অনাদর বাড়ে, অবহেলা বাড়ে, বাড়ে সমস্যাও। সে মনুষ্যজীবনেই হোক বা কুক্কুর বংশীয়দের ক্ষেত্রে। পশুপ্রেমীদের কাছে সবিশেষ অনুরোধ। আপুনি ১০ হাজার ডলারের সেমোয়েড থেকে ৯ হাজার ডলারের ইংলিশ বুলডগ অথবা ৫ হাজার ডলারের চাউ চাউ অথবা নিতান্ত স্পিচ, যাকেই প্রতিপালন করুন না কেন, স্ট্রিট ডগদেরও দত্তক নিন। রাস্তার নেড়ানেড়ি থেকে লালুভুলুদের নির্বীজকরণে শামিল হোন, অহেতুক হিক্কা তুলে দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে খ্যাঁক খ্যাঁক করবেন না। প্লিজ! দেখবেন, জয় গোঁসাইয়ের ‘কুকুরছানাদের গল্পে’র কুকুরছানাদের ভালোবাসতে দ্বিধা থাকবে না বিন্দুমাত্র!

কুকুরছানাদের কথা পিত্তি শুকিয়ে ভাবছেন ভাবুন, কিন্তু পাগলেও তার ভালোটা বোঝে। অসুস্থতায় ডাক্তারনার্সরাই ভগবানতুল্য। ধর্মরূপী কুকুর সেখানে শুধু চোখের জলটুকু ফেলতে পারে, শরীর নামের জটিল যন্ত্রটাকে মেরামত করে তুলতে পারে না। যেসব ‘মানুষের বাচ্চা’কে দরকার পড়ে, তাদের কথাও ঈষৎ ভাবুন। ‘জুতিয়ে মারতে’ অথবা ‘রড ঢোকাতে’ (ফেবুকীয় উল্লেখ) ইচ্ছে করলেও, ওনারাই যে অগতির গতি।

চৈতন্য হোক।

Advertisements

35 COMMENTS

  1. অমেয় সারমেয় কথা। কর্তব্যনিষ্ঠ সাংবাদিক রমাপদ পাহাড়ির যুক্তিনিষ্ঠ প্রতিবেদনটি পড়ে ভাল লাগলো।

  2. একটি জরুরী ও প্রাসঙ্গিক প্রতিবেদন! হয়তো কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিতর্কিত’ও মনে হতে পারে, কিন্তু আপনি সমস্যার যে আশু সমাধান খুঁজতে চেয়েছেন, তা জেনে ভাল লাগল। এই চিন্তাভাবনা ও লেখনীর শ্রীবৃদ্ধি কামনা করি।

  3. দুর্দান্ত। বক্তব্য হয়তো কিছু জায়গায় আমার মতের সঙ্গে মেলেনি কিন্তু অসাধারণ লেখনীর গুনে এক মুহূর্ত না থেমে পুরোটা পড়ে গেছি।

  4. খুবই প্রাসঙ্গিক! একদম মনের কথা! আসলে বিষয়ের গভীরে না গিয়ে আলপটকা মন্তব্য করাটা মানুষের স্বভাব! আর আছে মিডিয়ার পাখি! জি ডি বিড়লা থেকে মেট্রোতে কান্ড সবেতেই বাক্ স্বাধীনতার অপব্যবহার! সাংবাদিক রমাপদ পাহাড়ীকে অনেক ধন্যবাদ! বাছা বাছা শব্দে সঠিক জায়গাতে আঘাত করার জন্য!

  5. অসাধারণ লেখনী । খুব জানতে ইচ্ছে করে, সমগ্র পরিস্থিতি সম্পর্কে পশুপ্রেমীদের সম্যক ধারনা আছে বা এতদিনে হয়েছে নাকি এটাও সেই ”আমারা আছি” র বাজারি পন্থা. শিক্ষার অধিকার কেড়ে নেওয়া যায়?????????

  6. প্রাসংগিক লেখা , বিষয় না বুঝে ভাষার অপব্যবহার করলে প্রতিবাদও হয় না , কোন প্রাণের প্রতি ভালোবাসাও প্রকাশ পায় না , লেখককে ধন্যবাদ ।

  7. অত্যন্ত প্রাসংগিক লেখা। লেখককে ধন্যবাদ । অবুঝ প্রান্তে থেকে অপভাষা ব্যবহার কারো প্রতিই ভালোবাসা প্রকাশ করে না ।

  8. রমাপদ’র ভোলেভালা সিধেসাদা মুখাবয়ব দেখে বোঝার উপায় নেই– ভিতরে ভিতরে এত রসবোধ, অগ্নিস্ফুলিঙ্গ!!! অসাধারন লেখা, নাড়িয়ে দিয়ে গেল,,,,। hats of ramapada,,,, এমন নির্ভীকতার সাথেই চালিয়ে যাও, সাথে আছি-থাকব।।।

  9. এই একখান কথা এক্কেবারে আপনি ঠিক কইছেন। আমি আপনার সঙ্গে একমত?

  10. অসাধারণ হয়েছে দাদা! হিউমারের মোড়কে কঠিন সত্যের দারুণ সুন্দর উপস্থাপন।

  11. প্রাসংগিক লেখা , বিষয়ের গভীরে না গিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনে ভাষার অপব্যবহার শুধু মলিনতাকে প্রকাশ করে , প্রতিবাদ বা চালোবাসার প্রকাশ এভাবে হয় না । লেখককে ধন্যবাদ জানাই ।

  12. ভালো মন্দ, মুদ্রার এপিক ওপিঠ, দুদিক ই তুলে ধরেছেন

  13. প্রতিবেদনটি খুবই প্রাসঙ্গিক, তথ্যযুক্ত এবং লেখনীর গুণে অসাধারণ। RP সমস্যার ভালমন্দ দুটি দিক তুলে ধরেছেন এবং তার সমাধান খোঁজার ও চেষ্টা করেছেন,এটা খুবই ভাল বিষয়। আশা রাখব, সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান হইবে!!

  14. চাবুক যেন আছড়ে পড়ল লেখায়।

  15. প্রতিবেদনটি খুবই প্রাসঙ্গিক, তথ্যযুক্ত এবং লেখনীর গুণে অসাধারণ। RP সমস্যার ভালমন্দ দুটি দিক তুলে ধরেছেন এবং তার সমাধান খোঁজার ও চেষ্টা করেছেন,এটি খুবই ভাল। আশা রাখব, সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান হইবে!

  16. পশুপ্রেমীদের পশুত্ব ঘুচুক
    বাংলা লাইভের ফেসবুকে গিয়ে পশুপ্রেমীদের কমেন্টগুলো দেখছিলাম আর ভাবছিলাম, এরা কোন খিস্তি লগ্নে জন্মেছে। যাদের মুখের ভাষা, লেখার ভাষায় কোনো দাঁড়ি-কমা নেই, তাদের সঙ্গে মুখ লাগালে মুখ পোড়ে। এবং এটাও ঢের বুঝতে পারছি, এদের মনের ভাষাটাই বা কেমন! আর একটা কথা বলি, যদি সত্যি সত্যিই মৌটুসী-সোমা এই কুকুরছানা হত্যার কাজ করে থাকে, তাহলেও কি শিক্ষার অধিকার কেড়ে নেওয়ার অধিকার জন্মায়?
    পশুপ্রেমীদেরও জানা উচিত, তমসো মা জ্যোতির্গময় কথাটি। অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রা। যদি কারও মনের আনাচে-কানাচে অন্ধকার থেকে থাকে, তাহলে তা মুছে দেওয়ার কর্তব্য কিন্তু আর পাঁচটা সুস্থ মানুষের। তাদের সুস্থতা কীভাবে আসবে, সেটাও দেখা জরুরি।
    এসব না ভেবে, পশুপ্রেমীরা যে অশালীন মন্তব্য করে চলেছেন, তাতে তাদের নিজেদের স্বভাব সম্বন্ধে যথেষ্ট সন্দেহ প্রকাশ করতেই হয়। এই লেখাটি দু-পক্ষের বক্তব্যকেই তুলে ধরেছে, যারা প্রতিবাদী তারা প্লিজ লেখাটি মন দিয়ে পড়লে সমস্যার গভীরে কিছুটা হলেও ঢুকতে পারবেন বলে আশা রাখি। পশুপ্রেমীদের পশুত্ব ঘুচুক (যারা খিস্তিওলজি পাশ করেছেন, শুধুমাত্র তাদের উদ্দেশ্যেই এই অনুরোধ বাণী)।

  17. অরিন্দম শীল নামে এক ফেসবুক বন্ধুর কথা তুলে ধরি এখানে, যার সঙ্গে সহমত আমিও।
    অরিন্দম লিখেছেন, ‘কুকুরছানা নিয়ে প্রতিবাদটা সহজ ছিল। ওতে কেউ চটে যায় না, অ্যাড বন্ধ হওয়ার রিস্ক নেই। হাজারটা কমিটির মাথা হয়ে থাকার সম্ভাব্যতার কোনো হানি হয় না। সর্বোপরি বাড়িতে কেউ পেটো মারতে আসবে না। ওটা সেফ-সিকিওর্ড। সুতরাং ফেবু রেভেলিউশন।
    কিন্তু যখন আট বছরের বাচ্চা বিভাস পেটো খায়? ঝলসে যায় কচি মুখ?
    রাগ হয়, মনে হয় একটা জ্বালাময়ী স্ট্যাটাস দেওয়া হোক, তারপর মনে হয় কেউ যদি দেখে ফেলে? কেউ যদি রিপোর্টটা যথাস্থানে পৌঁছে সুবিধে পাওয়ার লিস্টে আমার আগে জায়গা করে নেয়?
    তাই থাক। শিশুপ্রেম নয়, পশুপ্রেমটাই সেফ।

    # কোনোভাবে ওই কুকুরছানাদের মৃত্যুকে জাস্টিফাই করছি না। কিন্তু প্রতিবাদের অ্যাপ্লিটুড সর্বত্র সমান হওয়া দরকার।

  18. Now if we discuss about this particular incident, this is shameful. Jei kore thak eta inhuman. Its not about 1… the number is 16, which is insane.
    But ajkal public sobsomoi kichhu na kichhu “hot news”-er opekhha kore…jokhon paay na, tokhhon nijer moto 1ta topic toiri kore…Jemon Aamir khhan-er wife ki bollo ba kanhayia Kumar (JNU) desh-premik na deshodrohi etc. etc….etao sei rokom-i 1ta kichhu..

  19. First of all its the responsibility of Government to take care of dogs n cats who are roaming in the hospital premises. Because they can be dangerous to the patients, doctors, nurses or whoever is present there. Kichhu oghoton hole taar daai k nebe? Then common public, media will blame to doctors n nurses only…

  20. অসম্ভব ভারসাম্য যুক্ত প্রতিবেদন, না কাউকে খুশি করার জন্য নয় কিন্তু…. নির্ভেজাল সাংবাদিকতা বলতে হয়।

    দুটি বিষয় মাথায় ভীষণ ঘুরছে…
    ১. সাংবাদিকতার বাণিজ্যিকরণ।
    ২. তার সঙ্গে ফল্গু রাজনীতি (দলীয় নয় এই ক্ষেত্রে ভাগ্যিস)
    চণ্ডীগড় দুর্ঘটনার সময় ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলাম, ‘দুর্ঘটনা আর অব্যবস্থা এক নয়’, ওটা অব্যবস্থা ছিল–প্রশাসনিক অব্যবস্থা, আয়োজকদের, সর্বোপরি নির্বোধ দায়িত্ব জ্ঞানহীন মানুষদের।
    এখানেও সেটা খাটে–এটাও অব্যবস্থা, আর তাতে হাত গরম করতে ব্যস্ত কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষ।
    প্রতিবেদনে যে যুক্তির জাল বুনেছেন তাতে ছোটো বড়ো সব মাছেরাই ধরা পড়েছে বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু লুকিয়ে যারা পুকুরে মাছ ধরছিল তারা এতে হয়তো খুশি হবেন না।
    এই মুক্ত দৃষ্টিভঙ্গী আরও দূরগামী হোক, অভিনন্দন জানিয়ে ছোটো করতে চাইছি না।

  21. Era to sob shokhher poshupremi, air condition-e thhake….besorkari hospital-e jaay, sekhhane kukur dekhhuk naa ekbar…dekhhben kivabe dur-dur kore taara maare…
    Shudhu aha-chu chu kore uchhisto khabar dilei poshuprem hoy naa… nirbijkoron-ke somorthhon korun…kukur hoite nije banchun, onyokeo banchan….

  22. লেখাটি পড়েছি দিনকয়েক আগে। মন্তব্য করতে গিয়ে বারেবারে হোঁচট খেয়েছি প্রযুক্তিগত কারণে বোধহয়। বাংলা লাইভ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য প্রথমে এই কথাটি উল্লেখ করছি।
    মূল কথাটি হল, একটি দৃশ্যের সাক্ষী। যেদিন রানি নামে মেয়েটি এনআরএস চত্তরে কুকুরের দ্বারা আক্রান্ত হল, সেদিন আমি আমার মাকে নিয়ে হাসপাতালে দেখাতে গিয়েছিলাম। ঠিক ওই সময় পশুপ্রেমীরা হাসপাতালে তাঁদের বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। রানি নামে মেয়েটিকে যখন কুকুর কামড় বসাল তখন স্বাভাবিকভাবে চারিদিকে হইহই পড়ে গেল। অথচ আশ্চর্য হয়ে দেখলাম, পশুপ্রেমীদের মুখে কোনো হা-হুতাশ নেই। তার পরেও তাদের লজ্জাটুকু করল না কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে। আমার একটাই বক্তব্য, আগে মানুষপ্রেমী হোন, তারপর পশুপ্রেম দেখাবেন। রানিকে কেন এই ভাবে আক্রান্ত হতে হল, সে জবাব পশুপ্রেমীদের কাছে আছে কি?

  23. Ramada, ami borabor tomar lekhar bhishon bhokto. Tumi amar theke boyoshe samanyo boro, kintu kolomgune anektai. Nihsondehe. Colleague holeo ei jonyo tomay ritimoto hingshe kori. Jokes apart, lekhata prochondo bhalo. Sottiy, kon poristhitite ei ghotona ghotlo aamra kintu keu-iy toliye dekhini. Sob gelo sob gelo bole jara chitkar korchen, tara eo poristhitite porle bujhben. Modhyoprodesh kromei barche bole hal fashion er ekta cycle kini mashkoyek age. Torighori slim howar taronay bike garage-e rekhe seti niye office jatayatveuru. Ekdin besh raat. Sob sere bag guchiye aamar paloksomo cycle-e chepe bosa. Bhagyo bodhoy sedin aamar jonyo bhari kichui bhebechilo. Chena rastar crossing-e dariye onor train. Ratbhoreo na norar avash dichilo besh. Otoyeb officer pichon dik diye rasta dhore bari fherar chesta. Ektu ogotei vuk vuk, bhuk dhukpuk ar gola chukchuk. Jotoi egoi totoi cheke dhore charpeyer dol. Palate bosa prantake Konomote khachay atke aamar egiye chola jib chatte chatte. Bari-Officer 900 meter-er farakta onyo rastar subade tokhon tingun. Totokkhone sara hayeche matro rasta ordhek. Charpeyer doler ektir keno jeno hotatiy Lewis hoyar chesta. Footkhaneker durotto rekhe aamay korlo tara. Etokhkhon estonaam jope chola sei aamiy ebare Babago Mago rob tule padle-e pranbhara chap ditei aamar Aluminium Cycle tokhon pokkiraaj. Pichone daat khichiye asatar dike takate giye aamar notun bahon e je brake bole ekti bostu ache , setar kotha bemalum bhule jawa. Seshtay pichone dheye asatake race-e haraleo Disneyr Launchpad-er moto Highdrain-er Dewale achre pora. Tarpor por por koyekta second-e sposto ter pelam, aamar nakh phete tothe nemeche golgole roktodhara, computar kach lagano chosmar ekta diker tubre jawa aar Aamar bahoner chaka soho alu frame tubre jawa. Esob dekhe Lewis aamay na kamraleo opomane bidhyo sei aami sei raate bari phire na guumiye bhorer alo fut-tei bike-e chepe bose phire giyechilaam or elakay. Lewis-er khoje. Pocket-e adhla it bhore. Kintu, paini. Koyek ml kacha rokto aar hazar koyek takar gochcha. Ek chanar baap ami. Tai kono chanakei mardhorer pokhkhe ami noi, se kukkur bongsher holeo. Kintu, ei chanader baap mayeder pitiye marte aamar mone bilkul nei mana. Starwars er sei Tolowarta khujchi. Bari pherer pothe egulole nikesh korte korte phirbo, tai.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.