মানুষের তৈরি মরূদ্যান তেষ্টা মেটাচ্ছে বুন্দেলখণ্ডে

394
water conservation Bundelkhand

বছর দশেক আগে, প্রচণ্ড জলাভাবে বুন্দেলখণ্ডের জাখনি গ্রামের বাসিন্দারা কয়েকটি পুকুর পুনর্জীবিত করার চেষ্টা চালিয়েছেন। ফলপ্রসূ হয়েছে তাদের সে প্রয়াস। এবছর গরমে যখন অন্যান্য গ্রামগুলি জলশূন্য, শুষ্ক হয়ে পড়েছে তখন জাখনি গ্রামের পাঁচটি পুকুরে জল উপচে পড়ছে, গ্রামবাসীদের ভোগান্তি অনেকটা কমে গেছে। পুকুরগুলি আর টিউবওয়েল থেকে তারা খুব সহজেই জল পাচ্ছেন। জলে টইটুম্বুর জাখনি গ্রামের পুকুরগুলোর জল কাজেও লাগছে নানা ভাবে।

বুন্দেলখণ্ডের গ্রামগুলিতে গ্রীষ্মে তাপমাত্রা প্রায় ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস অবধি চড়ে যায়। কিন্তু জাখনি গ্রাম অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা থাকে। জলাশয় থাকার কারণে বিকেলের দিকে জলীয় বাষ্প পূর্ণ শীতল বায়ু বয়ে আসে। একটু স্বস্তি পায় গ্রামের মানুষ। ওই গ্রামেরই এক বাসিন্দা কেশব পাণ্ডে জানিয়েছেন, ‘কিছু বছর আগেই পুকুরগুলো সব শুকিয়ে যেতে শুরু করে। দশ বছর আগে বুন্দেলখণ্ডের সবচেয়ে বড় পুকুরটিও শুকিয়ে যায়। তারপরই সেগুলি পুনরুদ্ধার করতে চেষ্টা করি আমরা। এরপরই ২০০৫ সালের জাতীয় গ্রামীণ কর্মনিয়োগ জামানত আইনের আওতায় আমরা পুকুরগুলি খুঁড়তে শুরু করি। ক্রমে গ্রামসভাও আমাদের সহায়তা করে এবং পলি পরিষ্কার করে পাঁচটি পুকুর বাঁচিয়ে তুলি আমরা। এই মুহূর্তে বুন্দেলখণ্ডের বাকি সব গ্রাম যখন জলাভাবে ধুঁকছে, আমাদের গ্রামে পাঁচ পাঁচটি পুকুর জলের অভাব মেটাচ্ছে’।

পাশের গ্রাম মাহোবাতে জলের কষ্ট বান্দার চেয়েও নিদারুণ। বরা গ্রামের গ্রামপ্রধান বাইরের একটিমাত্র জলের টিউবওয়েল থেকে একটা পাইপলাইনের সাহায্যে জল টেনে এনে জলের বন্দোবস্ত করেছেন। ‘ট্যাঙ্কারের জল তো সবাই পায় না, ট্যাঙ্কার খুব একটা নিয়মিতও নয়। একটিই টিউবওয়েল গ্রামের বাইরে, টাকা তুলে সেখান থেকেই পাইপলাইনের মাধ্যমে জল টানার ব্যবস্থা করতে হল। জল বয়ে আনার জন্য গ্রামের লোকদের যাতে বহুদূর হেঁটে যেতে না হয় সে জন্য গ্রামের ভেতরেই নানা জায়গায় বসানো হয়েছে ফিলিং পয়েন্ট। গ্রামের পাঁচ জায়গায় প্রায় ২০০০ এর ওপর ট্যাঙ্ক বসানো হয়েছে’। পুকুরের পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে গাছ লাগাতেও শুরু করেছেন এই গ্রামের মানুষরা কারণ গাছপালা মাটির গভীরে জলতলকে ওপরের দিকে উঠতে সাহায্য করে। ‘জল সরবরাহকারী একটিই মাত্র টিউবওয়েলের গুরুত্ব আমরা বুঝি। কিছুতেই এটিকে আমরা শুকিয়ে যেতে দেব না। আমরা আরও পুকুর খুঁড়ব আরও টিউবওয়েলকে কার্যকরী করে তোলার চেষ্টা করব যাতে মাটির নীচে জলতল বৃদ্ধি পায়’ এমনই আশ্বাস দিয়েছেন বরা গ্রামের একজন অধিবাসী।

বৃষ্টির জল যাতে জমতে পারে সেজন্য মাঠের চারদিকে আল দিয়েছেন তারা। পাশাপাশি এই গ্রামের মানুষরাও বুজে যাওয়া পুকুর পুনরায় উজ্জীবিত করার জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালাচ্ছেন। বুন্দেলখণ্ডের তৃষ্ণার্ত মাটি আর মানুষ যেন মরূদ্যানের আস্বাদ পেয়েছেন। মানুষের চেষ্টাতেই তা সম্ভব হয়েছে। প্রকৃতির নিষ্ঠুরতা হার মেনেছে গ্রামবাসীদের চেষ্টার কাছে। জল সংরক্ষণ আর ভূগর্ভস্থ জলকে আবার নতুন করে কাজে লাগানোর কথা ভাবছেন তারা। বাইরে থেকে নয়, গ্রামের মধ্যে নিজেরাই যাতে নিজেদের জলের চাহিদা পূরণ করতে পারেন, সে জন্যই লড়ে যাচ্ছে বুন্দেলখণ্ডের কিছু গ্রাম। ধূ-ধূ মরূপ্রান্তরে এ যেন মনুষ্যকৃত এক খণ্ড মরূদ্যান !

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.