টোকিয়ো অলিম্পিক্সের পদক তৈরি হচ্ছে ফেলে দেওয়া বাতিল মোবাইল থেকে

109

মোবাইল বা টিভি বা অন্য কোনও ইলেকট্রনিক্স জিনিস ভেঙে গিয়েছে ? অকেজো ভেবে নিশ্চয়ই সেটাকে ফেলে দিয়েছেন ডাস্টবিনে ? দেবেনই তো ! আপনি কি আর জানতেন, আপনার সেই বাতিল মোবাইল বা টিভি বা ফেলে দেওয়া ইলেকট্রনিক্স জিনিস থেকে মহার্ঘ্য পদক তৈরি করতে পারেন জাপানিরা ?

বিশ্বের অন্য কোনও দেশ হয়তো এখনও পর্যন্ত এমন উদ্ভাবনী চিন্তা দেখাতে পারেনি। কিন্তু জাপান পেরেছে।  তারাই দেখাচ্ছে আবিষ্কারের নতুন দিশা ।  ২০২০ টোকিও অলিম্পিকে সোনা, রূপো ও ব্রোঞ্জের যে পদকগুলো প্রদান করা হবে তার সবটাই আসবে ইলেকট্রনিক বর্জ্য পদার্থ থেকে।

অবাক হচ্ছেন তো ? অলিম্পিকের আয়োজকরা জানিয়েছেন  যে, পাঁচ হাজার পদক তৈরিতে যে সোনা, রূপো বা ব্রোঞ্জ লাগবে, তার সবটাই আসবে আরবান মাইনিং-এর মাধ্যমে ৷

গত বছরের এপ্রিল মাস থেকেই এই প্রোজেক্টের কাজ শুরু করেছেন তাঁরা । দু বছর আগে রাষ্ট্রপুঞ্জের থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, সারা পৃথিবীতে ইলেকট্রনিক বর্জ্যের পরিমাণ প্রায় পাঁচ কোটি টন ।  এর মধ্যেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ সেই বিপুল পরিমাণ বর্জ্য বিভিন্ন ভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে । কিন্তু এই ভাবনাচিন্তার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে জাপানই | ইতিমধ্যেই ইলেকট্রনিক বর্জ্য থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে ১৬ কেজি সোনা এবং ১৮০০ কেজি রুপো । অলিম্পিক আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আরও বেশ কিছুটা সোনা-রূপো সংগ্রহ করা হবে ।

জানা গিয়েছে শুধুমাত্র জাপানিরাই ইলেকট্রনিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের জন্য দিতে পারবেন। ইতিমধ্যে প্রায় সাড়ে চার কোটি বাতিল মোবাইল জোগাড়ও করে ফেলেছেন তারা। তা থেকে সোনা সংগ্রহ করার কাজও প্রায় শেষের দিকে। টোকিও অলিম্পিক অর্গানাইজিং কমিটির মুখপাত্র মাসা তাকায়া জানিয়েছেন যে, ৫৪.৫ শতাংশ সোনা এবং ৪৩.৯ শতাংশ রুপো সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে পরিমাণ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

ইলেকট্রনিক বর্জ্য থেকে অলিম্পিক পদক তৈরির উদ্যোগ ক্রীড়া জগতের ইতিহাসে এই প্রথম। মনে করা হচ্ছে যে, জাপানের এই আবিষ্কার অন্য দেশগুলিকে ইলেকট্রনিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের অনুপ্রেরণা জোগাবে। বাতিল জিনিসপত্রকে নতুন ভাবে নতুন কাজে লাগানোর প্রক্রিয়ায় উৎসাহ জুগিয়ে যাবে জাপানের মত দেশ।

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.