কবন্ধের গা ছমছমে গল্প তো শুনেছেন‚ জানেন কি তিনি একজন শাপগ্রস্ত গন্ধর্বকুমার !

কবন্ধের গা ছমছমে গল্প তো শুনেছেন‚ জানেন কি তিনি একজন শাপগ্রস্ত গন্ধর্বকুমার !

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
আমাদের শৈশবে গা ছমছমে গল্পের মধ্যে থাকতই থাকত কবন্ধ কাহিনী | এখনকার শিশুরা হয়তো এই নাম শোনেনি | আমরা কিন্তু শুনলেই মনে মনে একটা অবয়ব কল্পনা করতাম ‚ তারপর নিজের ভাবনায় নিজেই ত্রস্ত হতাম | ইতিহাসের পাতায় কণিষ্কর মূর্তি দেখে আরও জাল বুনতাম মনে মনে | এই কবন্ধও কিন্তু পৌরাণিক চরিত্র | পরে তা মুখে মুখে চলে আসে লোককথায় | কবন্ধ আসলে এক গন্ধর্ব কুমার | অভিশাপে তাঁর রূপ চলে গিয়েছিল | রামায়ণ‚ মহাভারত দুটি মহাকাব্যেই তাঁর উল্লেখ আছে | উল্লেখ আছে অন্যান্য প্রাচীন উৎসেও |

গন্ধর্ব অবস্থায় তাঁর নাম ছিল বিশ্ববসু বা দানু | মহাভারতে আছে‚ তিনি পাহাড়ের মতো বিশাল‚ মেঘের মতো কালো‚ তীক্ষ্ণ লোমে ভর্তি দেহ‚ বজ্রের মতো নির্ঘোষ‚ তাঁর উদরে একটি চোখ ছিল | বিশাল দন্তরাজির ফাঁকে ঝুলে থাকত লকলকে জিহ্বা | রামায়ণেও প্রায় একই | সেখানে তাঁর চোখ আছে বক্ষস্থলে | উদরে মুখগহ্বর  | নরভোজী কবন্ধের মাথাও নেই | পাও নেই | 

কবন্ধকে কে অভিশাপ দিয়েছিলেন তা নিয়ে নানা মুনির‚ নানা মত | কোথাও বলা হয়েছে তাঁকে অভিশাপ দিয়েছিলেন অষ্টাবক্র মুনি | কারণ তাঁর কদর্য চেহারা নিয়ে ব্যঙ্গ করেছিলেন বিশ্ববসু | কোথাও অভিশাপ দিয়েছিলেন ব্রহ্মা‚ কোথাও আবার দেবরাজ ইন্দ্র‚ কোথাও বা দুর্বাসা মুনি | কিন্তু শাপমুক্তির একমাত্র উপায় বিষ্ণুর অবতার রামচন্দ্রের আশীর্বাদে |

রামায়ণে আছে‚ রামচন্দ্র ও লক্ষ্মণ পাগলের মতো খুঁজে বেড়াচ্ছেন সীতাকে | রাবণের বিরুদ্ধে সমরে সামরিক বাহিনী গঠন করতে চাইছেন | একদিন দণ্ডকারণ্যের গভীরে কবন্ধ দুই বিশাল হাত প্রসারিত করে তাঁদের ধরলেন | এক হাতে রাম‚ অন্য হাতে লক্ষ্মণকে নিয়ে মুখগহ্বরের কাছে নিয়ে এলেন | বললেন ওঁদের দিয়েই উদরপূর্তি করবেন | তাঁর সমস্ত শক্তি সঞ্চিত ছিল দুই হাতে | কোষ থেকে তরবারি বের করে বীভৎসদর্শন কবন্ধের দুই বাহু ছেদ করলেন রাম ও লক্ষ্মণ | ভূপতিত হলেন কবন্ধ | মৃত্যু আসন্ন জেনে তিনি অনুরোধ করলেন যেন রামচন্দ্র ও রামানুজ তাঁর সৎকার করেন | স্বয়ং বিষ্ণু এসে তাঁকে শাপমুক্ত করলেন জেনে শান্তিতে চক্ষু নিমীলিত করলেন কবন্ধরূপী গন্ধর্ব |

তাঁর দেহের অন্ত্যেষ্টি করতেই জ্বলন্ত চিতা থেকে আবির্ভূত হলেন গন্ধর্ব বিশ্ববসু | রাম-লক্ষ্মণকে প্রণাম করে বললেন‚ বিপদগ্রস্ত সুগ্রীবকে সাহায্য করতে | বালির বিরুদ্ধে সুগ্রীব জয়ী হলে সুবিশাল বানরসেনা দিয়ে তিনি সাহায্য করবেন শ্রীরামচন্দ্রকে | যাতে তিনি স্বর্ণলঙ্কা থেকে উদ্ধার করতে পারেন সীতাকে | সুগ্রীব তখন রাজ্যচ্যুত হয়ে আত্মগোপন করেছিলেন পম্পা সরোবরের পাশে এক গুহায় | সেই গুহার পথনির্দেশও শ্রীরামচন্দ্রকে বলে দেন গন্ধর্ব বিশ্ববসু | এরপর তিনি পুষ্পরথে আরূঢ় হয়ে স্বর্গারোহণ করলেন | অনুজ লক্ষ্মণকে নিয়ে সুগ্রীবের সন্ধানে অগ্রসর হলেন শ্রীরামচন্দ্র | 

অতঃপর কী হল‚ আমরা সকলেই সম্যক অবগত | তথাপি অনেকেই জানি না শাপগ্রস্ত কবন্ধের কথা 

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

Leave a Reply

pandit ravishankar

বিশ্বজন মোহিছে

রবিশঙ্কর আজীবন ভারতীয় মার্গসঙ্গীতের প্রতি থেকেছেন শ্রদ্ধাশীল। আর বারে বারে পাশ্চাত্যের উপযোগী করে তাকে পরিবেশন করেছেন। আবার জাপানি সঙ্গীতের সঙ্গে তাকে মিলিয়েও, দুই দেশের বাদ্যযন্ত্রের সম্মিলিত ব্যবহার করে নিরীক্ষা করেছেন। সারাক্ষণ, সব শুচিবায়ু ভেঙে, তিনি মেলানোর, মেশানোর, চেষ্টার, কৌতূহলের রাজ্যের বাসিন্দা হতে চেয়েছেন। এই প্রাণশক্তি আর প্রতিভার মিশ্রণেই, তিনি বিদেশের কাছে ভারতীয় মার্গসঙ্গীতের মুখ। আর ভারতের কাছে, পাশ্চাত্যের জৌলুসযুক্ত তারকা।