কবন্ধের গা ছমছমে গল্প তো শুনেছেন‚ জানেন কি তিনি একজন শাপগ্রস্ত গন্ধর্বকুমার !

888
আমাদের শৈশবে গা ছমছমে গল্পের মধ্যে থাকতই থাকত কবন্ধ কাহিনী | এখনকার শিশুরা হয়তো এই নাম শোনেনি | আমরা কিন্তু শুনলেই মনে মনে একটা অবয়ব কল্পনা করতাম ‚ তারপর নিজের ভাবনায় নিজেই ত্রস্ত হতাম | ইতিহাসের পাতায় কণিষ্কর মূর্তি দেখে আরও জাল বুনতাম মনে মনে | এই কবন্ধও কিন্তু পৌরাণিক চরিত্র | পরে তা মুখে মুখে চলে আসে লোককথায় | কবন্ধ আসলে এক গন্ধর্ব কুমার | অভিশাপে তাঁর রূপ চলে গিয়েছিল | রামায়ণ‚ মহাভারত দুটি মহাকাব্যেই তাঁর উল্লেখ আছে | উল্লেখ আছে অন্যান্য প্রাচীন উৎসেও |

গন্ধর্ব অবস্থায় তাঁর নাম ছিল বিশ্ববসু বা দানু | মহাভারতে আছে‚ তিনি পাহাড়ের মতো বিশাল‚ মেঘের মতো কালো‚ তীক্ষ্ণ লোমে ভর্তি দেহ‚ বজ্রের মতো নির্ঘোষ‚ তাঁর উদরে একটি চোখ ছিল | বিশাল দন্তরাজির ফাঁকে ঝুলে থাকত লকলকে জিহ্বা | রামায়ণেও প্রায় একই | সেখানে তাঁর চোখ আছে বক্ষস্থলে | উদরে মুখগহ্বর  | নরভোজী কবন্ধের মাথাও নেই | পাও নেই | 

কবন্ধকে কে অভিশাপ দিয়েছিলেন তা নিয়ে নানা মুনির‚ নানা মত | কোথাও বলা হয়েছে তাঁকে অভিশাপ দিয়েছিলেন অষ্টাবক্র মুনি | কারণ তাঁর কদর্য চেহারা নিয়ে ব্যঙ্গ করেছিলেন বিশ্ববসু | কোথাও অভিশাপ দিয়েছিলেন ব্রহ্মা‚ কোথাও আবার দেবরাজ ইন্দ্র‚ কোথাও বা দুর্বাসা মুনি | কিন্তু শাপমুক্তির একমাত্র উপায় বিষ্ণুর অবতার রামচন্দ্রের আশীর্বাদে |

রামায়ণে আছে‚ রামচন্দ্র ও লক্ষ্মণ পাগলের মতো খুঁজে বেড়াচ্ছেন সীতাকে | রাবণের বিরুদ্ধে সমরে সামরিক বাহিনী গঠন করতে চাইছেন | একদিন দণ্ডকারণ্যের গভীরে কবন্ধ দুই বিশাল হাত প্রসারিত করে তাঁদের ধরলেন | এক হাতে রাম‚ অন্য হাতে লক্ষ্মণকে নিয়ে মুখগহ্বরের কাছে নিয়ে এলেন | বললেন ওঁদের দিয়েই উদরপূর্তি করবেন | তাঁর সমস্ত শক্তি সঞ্চিত ছিল দুই হাতে | কোষ থেকে তরবারি বের করে বীভৎসদর্শন কবন্ধের দুই বাহু ছেদ করলেন রাম ও লক্ষ্মণ | ভূপতিত হলেন কবন্ধ | মৃত্যু আসন্ন জেনে তিনি অনুরোধ করলেন যেন রামচন্দ্র ও রামানুজ তাঁর সৎকার করেন | স্বয়ং বিষ্ণু এসে তাঁকে শাপমুক্ত করলেন জেনে শান্তিতে চক্ষু নিমীলিত করলেন কবন্ধরূপী গন্ধর্ব |

তাঁর দেহের অন্ত্যেষ্টি করতেই জ্বলন্ত চিতা থেকে আবির্ভূত হলেন গন্ধর্ব বিশ্ববসু | রাম-লক্ষ্মণকে প্রণাম করে বললেন‚ বিপদগ্রস্ত সুগ্রীবকে সাহায্য করতে | বালির বিরুদ্ধে সুগ্রীব জয়ী হলে সুবিশাল বানরসেনা দিয়ে তিনি সাহায্য করবেন শ্রীরামচন্দ্রকে | যাতে তিনি স্বর্ণলঙ্কা থেকে উদ্ধার করতে পারেন সীতাকে | সুগ্রীব তখন রাজ্যচ্যুত হয়ে আত্মগোপন করেছিলেন পম্পা সরোবরের পাশে এক গুহায় | সেই গুহার পথনির্দেশও শ্রীরামচন্দ্রকে বলে দেন গন্ধর্ব বিশ্ববসু | এরপর তিনি পুষ্পরথে আরূঢ় হয়ে স্বর্গারোহণ করলেন | অনুজ লক্ষ্মণকে নিয়ে সুগ্রীবের সন্ধানে অগ্রসর হলেন শ্রীরামচন্দ্র | 

অতঃপর কী হল‚ আমরা সকলেই সম্যক অবগত | তথাপি অনেকেই জানি না শাপগ্রস্ত কবন্ধের কথা 

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.