‘দেশে মুসলিমরা দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক’! এই অভিযোগে চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে ভূস্বর্গের শীর্ষস্থানীয় আইএএস

189

ভূস্বর্গের তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি হয়ে উঠেছিলেন আইকন। অশান্ত দিকভ্রষ্ট কাশ্মীর তাঁর প্রতিভায় আশার আলো খুঁজে পেয়েছিল। তিনি শাহ ফয়জল। মাত্র ২৬ বছর বয়সে ২০১০-এ আইএএস পরীক্ষায় দেশের মধ্যে প্রথম হয়েছিলেন কাশ্মীরি এই যুবক। তাঁর প্রতিভাকে সঙ্গে নিয়ে নতুন সূর্যোদয়ের সম্ভাবনা দেখছিলেন কাশ্মীরবাসী। কিন্তু আচমকাই ছন্দপতন ঘটল।চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই আইএএস টপার। কর্মক্ষেত্রে হেনস্থার অভিযোগে চাকরি ছেড়ে এবার রাজনীতির ময়দানে পা রাখতে চলেছেন শাহ ফয়জল।

কাশ্মীরের ইতিহাসে এর আগে কেউ কখনও কেউ কখনও আইএএস পরীক্ষায় শীর্ষস্থান অধিকার করেননি। তিনিই প্রথম। খুব স্বাভাবিকভাবেই তাঁর প্রতিভায় আস্থা ছিল আপামোর কাশ্মীর সরকার-সহ আপামর ভূস্বর্গবাসীর। বিভিন্ন গবেষণামূলক কাজের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, একটা সময়ে স্কলারশিপ পেয়ে হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলে পড়াশোনার সুযোগও পেয়েছিলেন । কিন্তু এমনই এক প্রতিভাধর আমলাকে এবার হারাতে চলেছে কাশ্মীর। চাকরি জীবনে প্রতিনিয়ত হেনস্থার শিকার, এই অভিযোগ এনে এ বার রাজনীতির দুনিয়ায় পা রাখতে চলেছেন এই প্রতিভাবান যুবক।

শাহ ফয়জলের রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার খবর প্রকাশ্যে এনেছেন জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। যদিও কোন দলের হয়ে রাজনীতির ময়দানে পা রাখবেন ফয়জল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে শোনা গিয়েছে, আগামী লোকসভা নির্বাচনে ওমর আবদুল্লার দল ন্যাশনাল কনফারেন্স-এর হয়ে বারামুলা কেন্দ্র থেকে দাঁড়াতে পারেন তিনি।

প্রসঙ্গত, গত বছর জুলাইতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া একের পর এক ধর্ষণের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন ফয়জল। সেইসঙ্গে   তাঁর অভিযোগ‚ এই দেশে সংখ্যালঘু মুসলিমরা দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক| প্রতিনিয়ত তাঁদের হেনস্থার শিকার হতে হয়|  একজন আইএএস আধিকারিকের সরকারবিরোধী কথা ভাল চোখে দেখেনি দেশের আমলাতন্ত্র । তাঁর বিরুদ্ধে সার্ভিস রুল ভাঙার অভিযোগ আনা হয়। এমনকী, ফয়জলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, তখন থেকেই চাকরি ছাড়ার কথা ভাবতে শুরু করেছিলেন ফয়জল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.