অফ হোয়াইট কটন-সাদা স্লিভলেসে আরও গভীর বৈদুর্য্য রহস্য

অপাপবিদ্ধ শৈশবে দুজনে হাইবেঞ্চে বসতেন পাশাপাশি | সেই খুনসুটি আর খেলাধুলোর স্মৃতি কোন অতলে তলিয়ে গিয়েছিল | তলিয়েই হয়তো থাকত, যদি না সংসদ মেলাতো তাঁদের |

মুনমুন সেন এবং শশী থারুর একসময় কলকাতায় মিস হিগিন্স নামের অধুনা-বিলুপ্ত একটি স্কুলে একইসঙ্গে পড়েছেন নার্সারিতে | তারপর একজন চলে গিয়েছেন সেন্ট জেভিয়ার্স-এ অন্যজন লরেটোয় | জীবন দু’দিকে ভিন্ন খাতে বয়ে গিয়েছে | কলকাতায় এরপর অনেকদিনই ছিলেন শশী, কিন্তু ব্যস্ততা এবং অন্য পেশায় জড়িয়ে জাওয়ার কারণে দুজনের মধ্যে খুব একটা যে যোগাযোগ হতো, এমনটা নয় | থারুর কলকাতা ছাড়ার পর তো একেবারেই নয় |

নতুন লোকসভা দুই ছোট্টবেলার বন্ধুকে মেলালো আবার | নতুন সংসদ অধিবেশনের সেটি ছিল দ্বিতীয় দিন | অফ হোয়াইট কেরালা কটন আর সাদা স্লিভলেস তখন ‘বৈদুর্য রহস্য’ আরও গভীর হচ্ছে লোকসভার পোর্টিকায় ! সেই রহস্য সন্ধানেই কি পিছনে এসে দাঁড়ালেন আর এক সাংসদ শশী ? বোধহয় না | কারণ, মুনমুন এবং শশী দুজনেরই গন্তব্যই যে এক | সৌজন্য এবং উষ্ণতা বিনিময় হল দুজনের | ঈষৎ ক্লান্ত চেহারা থারুরের, চুলের রূপোলী যেন আরও বেড়েছে শেষ কয়েক মাসে |

মুনমুন সেন অবশ্য খুবই চিন্তিত পুরনো বন্ধুকে নিয়ে | স্ত্রী বিয়োগের পর কীভাবে সামলাচ্ছেন তিনি সব ? ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন, ”খুব খারাপ লাগছে ওর জন্য | সত্যিই কী বড় ট্র্যাজেডিটাই না ঘটে গেল | মনের উপর খুবই ঝড় গিয়েছে শশীর |” সুদর্শন এবং সপ্রতিভ শশী থারুরকে বাইরে থেকে অবশ্য এবার বোঝা যায়নি তাঁর মনের অবস্থা | তবে কিছুটা বিষণ্ণতা তো রয়েছেই দেহভাষায় |

শুধু মুনমুনই নন | লোকসভা অধিবেশনের প্রথম দিন তাঁর হাত অনেকক্ষণ জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়েছিলেন অনুপম খেরের জায়া, থুড়ি, সাংসদ কিরণ খের | খবরাখবর নিয়েছেন তাঁর পরিবারের |

শশী এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের সাংসদ | ফলে কিছুটা পোড়খাওয়া তো বটেই | তুলনায় মুনমুন একদম আনকোরা | রাজনীতি সম্পর্কে প্রত্যক্ষ কোনও অভিজ্ঞতাও নেই তাঁর | ফলে লোকসভার বেঞ্চে, সেন্ট্রাল হলে, সংসদীয় করিডরে, লাইব্রেরির আড্ডায় — সর্বত্রই তিনি চাইছেন কিছু না কিছু শিখতে | যাতে জল ছাড়া মীনের মতো না লাগে নিজেকে | শশী থারুরের সঙ্গে কথা তো হচ্ছেই | পাশাপাশি অন্য এক সাংসদ তাপস পালের সঙ্গেও তাঁর সখ্যতা তো দীর্ঘদিনের | কেরিয়ারের গোড়ায় ‘দীপার প্রেম’ বাদ দিলেও আরও অনেক ছবি করেছেন তাপস-মুনমুন | রিল লাইফের এই জুটি এখন রাজনীতির রিয়াল লাইফেও পাশাপাশি | মুনমুন প্রকাশ্যেই তাপসের গালে একটি আদরের ঠোনা দিয়ে বলেছেন, ”আমি ওর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি | ওর সঙ্গেই আমার ছবির জগতে পথ চলা শুরু |” এখানেও সংসদীয় রাজনীতির পাঠ তিনি অনেকের মতোই তাপসের কাছ থেকেও বুঝছেন | অন্যদিকে তাপসও অকুন্ঠভাবে বলছেন, ”ওর মতো সরল মেয়ে আমি খুব কম দেখেছি | যখন ছবি করতে এল, মুনমুন ছিল একনম্বর ঘোড়া |” পুরনো সহ-অভিনেতা এবং এখন সহ-সাংসদ মিঠুন এবং বিনোদ খান্নার সঙ্গেও উষ্ণতা বিনিময় করেছেন মুনমুন নিজস্ব ভঙ্গিতে |

এবারের অধিবেশন ছিল সংক্ষিপ্ত |
তাই কেটেছে কিছুটা পিকনিকের মেজাজেই | সরকারের মধুচন্দ্রিমা চলছে, তাই তাতে জল ঢালতে চাননি কোনও রাজনৈতিক দলই | সুচিত্রা কন্যার মেডেন স্পিচটিও হয়নি এখনও | কিন্তু তিনি যে মুনমুন সেন ! নজর না কেড়ে যাবেনটাই বা কোথায় ? খাঁটি বিলিতি উচ্চারণে শপথ নেওয়ার পর, তাঁর সঙ্গে একটু মস্করা করার লোভ তাই সামলাতে পারলেন না কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা কমলনাথ | বং কানেকশনের কারণে যিনি মুনমুনের ক্যারিশমার সঙ্গে পরিচিত | মুনমুন থ্যাংকিউ বলে নমস্কার করার পরই সহাস্যে স্পিকারের আসনে বসা কমলনাথ বলেন, এভাবে নয় আবার প্রথম থেকে হেঁটে এসে নমস্কার করতে হবে মুনমুনকে | লোকসভার উষ্ণতা একটু বাড়িয়ে দিয়ে ত্রস্ত আঁচল মুনমুন মুহূর্তেই অসহায় ভঙ্গি নিয়ে এলেন চোখে-মুখে | পালন করতে পা বাড়ালেন কমলনাথের নির্দেশ | হো হো করে হেসে প্রবীন কংগ্রেস নেতা নিরস্ত করলেন তাঁকে |

দুপুরের দিকে একটি পাওয়ার ন্যাপ নেওয়ার অভ্যাস রয়েছে মুনমুনের | সংসদ চলাকালীন যদিও তা সম্ভব হয়নি | কিন্তু এই বয়সেও তাঁকে দেখে যে ঘুম ছুটতে চলেছে লোকসভা গ্যালারির, প্রথম ইনিংসেই তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে | আজ কেরালা কটন হলে আগামীকাল কি ধনেখালি ? আজ সাদা খোল হলে কাল কি ঘোর মেরুন? এই সব গুঞ্জন প্রশ্নে দুলছে রাজধানীর চত্বর |

এই দোলন মায়া চলবে আগামী পাঁচ বছর | কারণ, বয়স যে শুধু একটা নম্বর মুনমুন সেনের কাছে !

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here