কেতজেল পাখি (পর্ব ১৩)

400
Bengali Novel

ইন্টার স্কুল জুনিয়র ফুটবল ফাইনাল। লেক বয়েজ ভার্সাস আমাদের স্কুল। সিডিউলড আর এক্সট্রা টাইমেও খেলা গোললেস। টাইব্রেকার চলছে। এই শটটা আটকাতে পারলেই আমরা চ্যাম্পিয়ন। অপোনেন্টের স্ট্রাইকারটা এগিয়ে আসছে শট নিতে। গোটা মাঠে পিন ড্রপ সাইলেন্স। একটা পাতা পড়লেও শব্দ শোনা যাবে। ঠিক এই সময় মাঝমাঠ থেকে একটা চিলচিৎকার – “কাম অ অ অন গুরু … তুই পারবি।।” সুদীপ্ত। টিমের রাইটব্যাক। স্কুলে সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু। চীৎকার করছে পাগলের মতো।

ওদের স্ট্রাইকারটা বল স্পটে বসালো। বসিয়ে পিছিয়ে গ্যালো দুচার পা। তারপর দৌড়ে এলো। পোস্টের নীচে দাঁড়িয়ে আমি একদৃষ্টিতে মাপছিলাম ছেলেটাকে। কেন জানি না মনে হচ্ছিল যেদিকে আমার একটা চোখ নেই সেই বাঁদিকেই শটটা মারবে ও। আমার কমজোরির অ্যাডভান্টেজ নিতে চাইবে। হলোও তাই। বাঁদিক দিয়ে গোলার মত ছুটে এলো মাঝারি হাইটের শটটা। আমিও চিলের মত উড়লাম বলটাকে তাক করে। দুহাতের ফিস্টে বলটা উড়ে গ্যালো বারের ওপর দিয়ে। সারা মাঠে যেন হাজারটা বাজ পড়লো এক মুহূর্তে … সবার আগে দৌড়ে আসছে আমার জিগরি দোস্ত সুদীপ্ত। পাথির মতো দুহাত মেলে। পেছনে আরও অনেকে। তারপর হাতে হাতে কাঁধে কাঁধে ভেসে যাচ্ছিলাম আমি … আসলে চোখটা চলে যাবার পর থেকেই এটা শুরু হয় আমার। ডানদিকের চেয়ে বাঁদিক দিয়ে বিপদ এলে আগে বুঝতে পারি আমি। এই অ্যাতোগুলো বছরেও একচুল নড়চড় হয়নি সেটা।

একদমে কথাগুলো বলে চুপ করে রইলো অবিনাশ। দুহাত ওপরে তুলে আড়মোড়া ভাঙ্গলো মটমট শব্দে। ফের শুরু করলো। “অনেক কষ্ট করে মাতাল হয়ে ভোঁস ভোঁস করে ঘুমোতে থাকা বাবার পকেট থেকে সরানো টাকায় আমার স্কুলের মাইনে, বইপত্তর জোগাড় করতো মা। বারবার বলতো “তোকে দশজনের একজন হতে হবে মানিক। তাহলেই আমার আর কোন দুঃখু থাকবে না।” মার সেই স্বপ্নটা সত্যি করতে পারিনি বলে আজ আমার আর কোন আফশোষ নেই কিন্তু পিটার থঙ্গরাজ না হতে পারার স্বপ্নটা আজও বুকের মধ্যে একটা গরম শিক দিয়ে খোঁচায় আমাকে। এখনো, মাঝেমাঝেই। যে মূহুর্তে এই রাতে বসে আপনার সঙ্গে কথা বলছি ঠিক তখনই দশ দশটা রাজ্যের পুলিশ, প্যারামিলিটারি ফোর্স, গ্রে হাউন্ড, স্করপিও, কোবরার মত স্পেশাল স্কোয়াডগুলো শিকারি কুকুরের মতো হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছে আমাকে। চল্লিশ বছরের ওপর চলছে খেলাটা। বিশাল লম্বা একটা টুর্নামেন্ট। দুপক্ষই নজরে রাখছে দুপক্ষকে। সামান্য একটু ভুলচুক। সব শেষ। বিপ্লব। সব মানুষের মুক্তি। ধর্ম নেই। জাতপাত নেই। গরীব বড়লোক নেই। নেই একে অন্যকে লুটে খাওয়ার কোন গল্প। এরকম একটা টুর্নামেন্ট খেলতে সেই কবে ঘর ছেড়েছিলাম। জীবদ্দশায় এ খেলায় জিতে যাওয়াটা দেখে যেতে পারবো কিনা জানিনা। অপোনেন্টের রাইফেল থেকে ছুটে আসা একটা বুলেট, যে কোন মুহূর্তে মাটিতে শুইয়ে ফেলতে পারে আমাকে। ঠিক ওই স্ট্রাইকারটার নেওয়া কামানের গোলামার্কা শটটার মত … এ ব্যাপারে নিশ্চিত নই একদম, তবে একজন সেরা গোলকীপার হওয়াটা যে আর হল না – এ আক্ষেপটা থেকে যাবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত।

“তারপর?” চারপাশের থমথমে অন্ধকার আর নির্জনতা চিরে উচ্চারিত হলো প্রশ্নটা। ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছিলো অভিরূপের।

“তারপর আর কী?” ফের এক চোখের কোনে সেই বিষাদমাখা হাসিটা ফের একবার হাসল অবিনাশ – “বয়ে চলা একটা ভীষণ খুশিমাখা সময়। সেই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হবার পর বন্ধুবান্ধব … গোটা ইস্কুলে বেবাক হিরো বনে গেলাম আমি। সেই সঙ্গে স্কুল কেটে শাম্মীর সিনেমা, লাইনে ব্ল্যাকারদের সঙ্গে মারপিট, খেস্তাখেস্তি, পরীক্ষার হলে হাতার ভাঁজে চোথা লুকিয়ে রেখে টুকলিফাইং, স্যারদের রামঠ্যাঙ্গানি … এগুলোও চলছিল সমানতালে। পরিস্থিতিটা পাল্টাতে শুরু করলো ষাটের শেষদিক থেকে। পাড়ার মোড়ে, রাস্তায়, স্কুলে আসার পথে দেয়ালে দেয়ালে অদ্ভুত সব লেখা চোখে পড়তে আরম্ভ করলো। ‘সশস্ত্র কৃষিবিপ্লব জিন্দাবাদ’, ‘তোমার বাড়ি আমার বাড়ি / নকশালবাড়ি নকশালবাড়ি’, ‘পার্লামেন্ট শুয়োরের খোঁয়াড়’। এর আগে অন্যান্য পার্টিগুলোর দেয়াল লেখার মত একদম না। আমি তো সেগুলোর মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝছিলাম না। শুধু লক্ষ করছিলাম স্কুলে তন্ময়, দেবাঞ্জন, সাগ্নিক, সুদীপ্ত … বন্ধুদের মুখগুলো কেমন যেন পাল্টে যাচ্ছিল। সবসময় কীরকম একটা গম্ভীর গম্ভীর ভাব। উঁচুক্লাসের সব সিনিয়র স্টুডেন্ট, প্রতীপদা, তীর্থদা, অঙ্কুরদাদের সঙ্গে সবসময় গুজগুজ ফুসফুস … নীচুগলায় আলোচনা। আমাকে দেখলেই চুপ করে যেতো ওরা। বেশ বুঝতে পারতাম আমাকে এড়িয়ে যেতে চাইছে সবাই। খুব মন খারাপ হতো, জানেন। সবচেয়ে খারাপ লাগতো যখন দেখতাম আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু সুদীপ্তটা বিকেলবেলা আর মাঠে নিয়মিত প্র্যাকটিসে আসছে না। স্কুল টিমের দুর্দান্ত সাইড ব্যাক। ও সামনে থাকলে পোস্টের নীচে দাঁড়িয়ে অনেকটা ভরসা পেতাম আমি। এভাবে চলতে চলতে একদিন মাঠে আসাই বন্ধ করে দিলো ও। এর মাঝখানে ইন্টার স্কুল লীগ। আমাদের থেকে অনেক কমজোরি একটা স্কুলের কাছে দুগোলে হেরে গেলাম আমরা। সুদীপ্তর বদলে যে ছেলেটা খেললো সে আটকাতেই পারলো না অপোনেন্টের লেফট আউটটাকে। একাই দু-দুটো গোল করে চলে গেল ওদের লেফট আউটটা। পরিষ্কার বুঝতে পারছিলাম সুদীপ্ত থাকলে এটা কিছুতেই হতো না। আরও বুঝছিলাম ওর মাঠে না থাকার প্রভাব পড়ছে আমার খেলায়। অদ্ভুত একটা কম্বিনেশন ছিল ওর আর আমার মধ্যে। কথা না বলেও একে অন্যকে পড়ে নিতে পারতাম মুহূর্তের মধ্যে। মাঠে সেটার অভাব ঘটছিল। মন বসাতে অসুবিধে হচ্ছিল খেলায়। একটা গোল তো খেলাম পুরো নিজের দোষে। প্রচণ্ড মেজাজ গরম হয়ে গেল। পরদিন টিফিনের সময় একলা পেয়ে চেপে ধরলাম ওকে। গালাগাল দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম … “মাঠে আসছিস না কেন?” আমার চোখে তাকিয়ে করুন একটা হাসি হাসলো আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুটা। উদাস গলায় বললো – “কী হবে খেলে? ওসবের আর কোন মানে নেই আমার কাছে।” কথাগুলো বলেই আমার সামনে থেকে চলে গেল ও। হাঁ করে তাকিয়ে রইলাম বোকার মত। মুখে কোন কথা যোগালো না। তবে কীরকম যেন মনে হচ্ছিল অন্যরকম একটা খেলা খেলবার জন্য তৈরি হচ্ছে ও, সঙ্গে অন্য বন্ধুরাও।

পরদিন বিকেলবেলা মাঠে গেলাম। গেম টিচার নরেশবাবু স্যর। প্র্যাকটিস করাচ্ছিলেন। সোজা গিয়ে দাঁড়ালাম স্যরের সামনে। নিজের বুট, হোর্স, নিক্যাপ, রিষ্টব্যান্ড, অ্যাঙ্কলেট, গ্লাভস … সবকিছু নামিয়ে রাখলাম স্যরের পায়ের সামনে। “আর খেলবো না স্যর।” স্কুলে উনিই একমাত্র টিচার, সাংঘাতিক ভালোবাসতেন আমাকে। আদর করে ডাকতেন লেভ ইয়াসিন। ভীষণ অবাক হয়ে গেলেন আমার কথা শুনে – “সে কিরে! খেলবি না কেন?”

“সুদীপ্ত আর খেলবে না, তাই।”

উত্তর শুনে তো স্যর হাঁ। “বন্ধু খেলবে না বলে তুই খেলবি না! মাথাটাথা খারাপ হয়ে গ্যাছে নাকি তোর? আরে তোকে নিয়ে কত আশা আমার। একদিন কোলকাতা ময়দানে সবাই চিনবে তোকে। লোকে আঙুল দেখিয়ে বলবে – “এই দ্যাখ। নরেশ মুখুজ্জের ছাত্র। দেশের এক নম্বর গোলকিপার। সেই তুই নাকি আর …।” কথা আটকে যাচ্ছিল স্যরের। কথার উত্তর না দিয়ে মাথা নীচু করে দাঁড়িয়ে রইলাম বেশ কিছুক্ষণ। দম আটকে আসছিল কান্নায়। মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে একছুটে বেরিয়ে এসছিলাম মাঠ থেকে। একবারও পেছনে না তাকিয়ে। গতবারের চ্যাম্পিয়ন আমাদের স্কুল খুব খারাপ রেজাল্ট করেছিল সেবার ইন্টার স্কুল টুর্নামেন্টে।” ম্লান হাসলো অবিনাশ।

“এরকম একটা স্পোর্টস কেরিয়ার। এভাবে … আজ হয়তো আপনাকে অন্যভাবে চিনতাম আমরা। তার বদলে এই পালামৌর জঙ্গলে …” বলার সময় অব্যক্ত দমচাপা একটা কষ্ট উঠে এসে ঘুরপাক খেয়ে আটকে গ্যালো অভিরূপের গলায়।

“কী করবো? আসলে সময়টাই তো ছিল ওইরকম। অবাধ্য, বেপরোয়া, পুরোন সবকিছুকে ভেঙ্গেচুরে বেরোতে চাইছিল যেন। কেউ যেন বিশাল একটা হাতুড়ি দিয়ে পিটছিলো সময়টাকে। আর শুধু কি আমি? টিমের অর্ধেকের বেশি ছেলে বরাবরের জন্য জার্সি, বুট শিকেয় তুলে রেখে বেরিয়ে এলো টীম ছেড়ে। আসলে আরও অনেক, অনেকটা বেশি লম্বা একটা টুর্নামেন্টের জন্য বোধহয় তৈরি হচ্ছিল সবাই।

ঠিক এই সময় স্কুলে একজন নতুন টিচার এলেন … অমিতেশ স্যর। একদম অন্য মাস্টারমশাইদের মত না। বকতেন না, মারতেন না। খুব মিষ্টি করে হাসতেন শুধু। পড়াবার কথা বাংলা আর ইতিহাস। তার বাইরেও যে কত বই পড়ে শোনাতেন। সে যে কতরকম গল্প। চাঁদের পাহাড়, পাগলা দাশু, ধীরে বহে ডন, ভোম্বল সর্দার, লা মিজারেবল, আমাজন অভিযাত্রীদের ডায়েরি, গর্কির ‘মা’ … স্যর পড়তে শুরু করলেই মনে হতো দোতলার ওই ক্লাসরুমটা আর নেই। ভ্যানিশ হয়ে গ্যাছে বেবাক। তার বদলে গ্লোব, রাধা, মিত্রা, নিউ এম্পায়ার, টকি শো হাউসে বসে সিনেমা দেখছি। কি আবৃত্তি করতেন স্যর। রবি ঠাকুরের ‘মৃত্যুঞ্জয়’ ‘যত বড় তুমি হও / তুমি তো মৃত্যুর চেয়ে বড় নও / আমি মৃত্যুর চেয়ে বড় – এই শেষ কথা বলে / যাবো আমি চলে …।’ শুনতে শুনতে রক্তে আগুন লেগে যেতো একবারে। স্যরের আবৃত্তি শুনতে অন্য ক্লাসের ছেলেরাও নিজেদের ক্লাস থেকে বাথরুমে যাবার বাহানায় বেরিয়ে এসে ভিড় জমাতো আমাদের ক্লাসরুমের সামনে। আড়চোখে তাকিয়ে দেখতাম সুদীপ্ত, তন্ময় … আগুনের ভাটার মতো জ্বলছে বন্ধুদের চোখগুলো। কোথায় যেন ওইসব গল্প, কবিতাগুলোর সঙ্গে নিজেদের মিলিয়ে নিতে চাইছে ওরা। কিছুটা বুঝতে পারছিলাম, অনেকটাই নয়। অদ্ভুত এক ধোঁয়াশার মধ্যে দিয়ে কাটছিল দিনগুলো।

এর মধ্যে একদিন। ক্লাস এইটের অপূর্ব। আমার এক নম্বর চ্যালা ইস্কুলে, টিফিনের সময় হাঁফাতে হাঁফাতে দৌড়ে এলো আমার কাছে। “ছুটির পর মিটিং হচ্ছে পার্কের গুমটিঘরে। সুদীপ্তদা, তন্ময়দা, উঁচু ক্লাসের প্রতীপদা, তীর্থদা সবাই থাকবে মিটিঙে। শুনলাম আর জি কর থেকে ডাক্তারির ছাত্ররাও আসবে। তোমাকে ডাকেনি ওরা?” শোনামাত্র মাথায় আগুন চড়ে গেল। অভিমানও হলো প্রচণ্ড। জিজ্ঞেস করলাম “তুই জানলি কী করে?”

“ইস্কুল শুরুর সময় গেটের মুখে তন্ময়দা ফিশফিশ করে বলছিল সুদীপ্তদাকে। আমি পাশ দিয়ে ঢুকছিলাম। শোনামাত্র কান খাড়া করে সেঁটে গেলুম … তুমি যাবে না?” কাঁচুমাচু মুখে জিজ্ঞেস করলো অপূর্ব। মেজাজটা চড়ে ছিলোই। রাগে ফেটে পড়ে ঠাঁটিয়ে একটা চড় কষালাম ওকে – “ভাগ এখান থেকে!” চড় খেয়ে দৌড়ে পালালো অপূর্ব। ফুঁসতে ফুঁসতে ফিরে এলাম ক্লাসে। স্পষ্ট বুঝতে পারছিলাম একটা বড় কোন খেলা যা আমি সন্দেহ করছি, আর সেই খেলাটা আমাকে বাদ দিয়েই খেলতে চাইছে ওরা। এ্যাতো ছোটবেলার বন্ধু সব … রাগে দুঃখে চোখ ফেটে জল এসে গেল। স্যরদের পড়ানো মাথায় ঢুকছিল না কিছু। ক্লাসে দেখলাম সুদীপ্ত, দেবাঞ্জনদের চোখে চোখ পড়লেই চোখ নামিয়ে নিচ্ছিল ওরা। মনে হলো কোন একটা অপরাধবোধে ভুগছে যেন। আমিও কথা বললাম না। স্কুল ছুটির ঘণ্টা পড়ার পর ধীরেসুস্থে ব্যাগ গুছিয়ে রওয়ানা দিলাম পার্কের দিকে। আসলে সময় নিচ্ছিলাম একটু। একটা এসপার ওসপার লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত করছিলাম নিজেকে। পার্কে ঢুকে গুমটি ঘরটার কাছে গিয়ে দেখি ইতিমধ্যেই স্কুলের প্রচুর ছেলেপুলে জমে গ্যাছে সেখানে। সুদীপ্ত, তন্ময়, প্রশান্ত, সাগ্নিক, দেবাঞ্জন, সুরজিৎ … সবাইকে দেখতে পেলাম ভিড়ের মধ্যে। অথচ আমি বাদ। দাউ দাউ করে রাগটা বোমা হয়ে ফাটলো মাথার মধ্যে। মিটিংয়ে বক্তৃতা দিচ্ছিল প্রতীপদা। কথার মাঝখানেই ভিড় ঠেলে ঢুকে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম আমাকে ডাকা হয়নি ক্যানো? প্রচণ্ড কথা কাটাকাটি শুরু হয়ে গ্যালো প্রতীপদার সঙ্গে। ওর মতে আমি রাস্তার লুম্পেন। কথায় কথায় মুখখিস্তি করি। আর সেটাই আমাকে না ডাকার কারণ।

চলবে

গত পর্বের লিঙ্ক –

কেতজেল পাখি (পর্ব ১২)

Advertisements
Previous articleধর্ষণকাণ্ডে জেলখাটা আসামি এখন পত্রিকার প্রকাশক‚ বসবেন সিভিল সার্ভিস পরীক্ষাতেও
Next articleম্যাগনোলিয়া
সুপ্রিয় চৌধুরী
জন্ম ও বেড়ে ওঠা উত্তর কলকাতার পুরোনো পাড়ায়। বহু অকাজের কাজী কিন্তু কলম ধরতে পারেন এটা নিজেরই জানা ছিল না বহুদিন। ফলে লেখালেখি শুরু করার আগেই ছাপ্পান্নটি বসন্ত পেরিয়ে গেছে। ১৪২১ সালে জীবনে প্রথম লেখা উপন্যাস 'দ্রোহজ' প্রকাশিত হয় শারদীয় 'দেশ' পত্রিকায় এবং পাঠকমহলে বিপুল সাড়া ফেলে। পরবর্তীতে আরও দুটি উপন্যাস 'জলভৈরব' (১৪২২) এবং 'বৃশ্চিককাল' (১৪২৩) প্রকাশিত হয়েছে যথাক্রমে পুজোসংখ্যা আনন্দবাজার এবং পত্রিকায়। এছাড়া বেশ কিছু প্রবন্ধ এবং দু চারটি ছোটগল্প লিখেছেন বিভিন্ন পত্রপত্রিকা আর লিটিল ম্যাগাজিনে। তার আংশিক একটি সংকলন বই আকারে প্রকাশিত হয়েছে 'ব্যবসা যখন নারীপাচার' শিরোনামে। ২০১৭ সালে পেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি পুরস্কার।

4 COMMENTS

  1. পড়লাম। সেই কলম দিয়ে আঁকা জীবন্ত ছবি। সব যেন দেখতে পেলাম। সেই সময়টা, মানুষগুলো। যেন পাঠক হিসেবে আমিও অকুস্থলে।

  2. Supriya Chowdhury r lekha jeno ekta Time Machine ja amader druto Bartoman samoy theke Ateet e pouche dae. Jeno Disney World er Space craft
    ” Back to the future” e bosechi . Ek advut aswasti kintu ajana ateet ke jana.

  3. এই মনোজ্ঞ বিশ্লেষণের জন্য দুজনকে অসংখ্য ধন্যবাদ

  4. পরতে পরতে ফিরছে পুনে , কি অসাধারণ নৈপুন্যে. কি অনবদ্য মমতায়. এই না হলে সাহিত্য, মনন না থাকলে লেখা হয়? চেল্কাশ মনে পড়ল, মাল্ভা মনে পড়ছে … চলুক কমরেড, এই হৃদয় টাই তো প্রাণিত করে আমাদের চর্যা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.