কেতজেল পাখি (পর্ব ১৪)

457
Bengali Novel

তক্কাতক্কির মাঝখানেই দেখছিলাম মাথা নীচু করে মুখ লুকোচ্ছে সুদীপ্তরা। বুঝতে পারলাম আসলে প্রতীপদা আর উঁচু ক্লাসের ছেলেদের চাপেই আমাকে না ডাকতে বাধ্য হয়েছে ওরা। মিটিংয়ে সভাপতি আর জি করের ডাক্তারদা। প্রতীপদাদেরও নেতা। কোনওরকম আলাপ পরিচয় ছিল না আগে থেকে। উনি কিন্তু আঁচ করতে পেরেছিলেন আমার মধ্যে আগুনটাকে। কথা দিয়েছিলেন মিটিংয়ের পর এ নিয়ে আলোচনা হবে। মিটিং শেষে আবার একপ্রস্থ কথা কাটাকাটির মাঝখানে একটা কথা জানিয়ে দিয়েছিলাম স্পষ্টাস্পষ্টিভাবে। বন্ধুরা একটা খেলায় নেমেছে। ওরা সব ভদ্র বাড়ির ছেলে। আমার মত বস্তিতে থাকে না। কোনরকম অন্যায় কাজ ওদের কোনদিন করতে দেখিনি আমি। তাই এবারও ওরা যে খেলাটা খেলতে যাচ্ছে সেটাও অন্যায় হতে পারেনা কিছুতেই। সুতরাং খেলাটা আমিও খেলবো, সে প্রতীপদারা চাইলে বা না চাইলেও। বন্ধুদের সঙ্গে গোর্কির ‘মা’ আমিও শুনেছি অমিতেশ স্যরের কাছে। ওদের সবার মধ্যে পাভেল একমাত্র আমিই কারণ বন্ধুদের কারো বাবারা রাতে মাল খেয়ে এসে ওদের মাকে পেটায় না। ব্যস! ডাক্তারদা ঘাস ছেড়ে লাফ দিয়ে উঠে জড়িয়ে ধরেছিলেন আমাকে। পরেরদিন নকশালবাড়ির সমর্থনে ছাত্রদের ডাকা মিছিলে আমি যেন অবশ্যই যাই, বলে বেরিয়ে গেছিলেন মাঠ ছেড়ে। দেখছিলাম বন্ধুদের চোখগুলো সন্ধের অন্ধকারেও চকচক করছে।

রাতে বাড়ি ফিরতে ফিরতে মনে হয়েছিল ডাক্তারদাকে তো বড় মুখ করে বলে এলাম আমিই পাভেল। এবার সেটা কাজে করে দেখাতে হবে। প্রমাণ করে দিতে হবে, অন্তত নিজের কাছে যে শুধুমাত্র হাওয়ায় একটা কথা ছুঁড়ে দিয়ে চলে আসিনি আমি।

অনেক রাতে বাড়ি ফিরেছিল বাবা। বেহেড মাতাল। চ্যাঁচাচ্ছিল ষাঁড়ের মত। চোখজোড়া জবাফুলের মতো লাল। সঙ্গে বেদম মুখখারাপ। ঘরে ঢুকে মায়ের গায়ে হাত তুলতে যেতেই খপ করে চেপে ধরেছিলাম হাতটা। “খবর্দার! আর কোনদিন মায়ের গায়ে হাত তুলবে না তুমি। তুললে ফল ভালো হবে না।” ভয়ংকর অবাক হয়ে গেছিল লোকটা। আমি কিন্তু দেখেছিলাম সেই চোখের কোনে চোরা একটা ভয়। একটিও কথা না বলে কাঁপতে কাঁপতে বেরিয়ে গেছিল ঘর থেকে। ঘরের কোনে দাঁড়িয়ে থাকা মা। কাঁদছে। থরথর কাঁপছে রোগা, তেলচিটে ধোঁয়ার গন্ধমাখা শরীরটা। এগিয়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরেছিলাম মাকে। “কেঁদো না। ভয় নেই। ওই লোকটা আর কোনদিন মারবে না তোমাকে।”

পরদিন তো সেই মিছিল। হাজারে হাজারে ছাত্রছাত্রী। নর্থ ক্যালকাটার প্রায় সব স্কুল কলেজের, জড়ো হয়েছে মিছিলে। মিছিলের প্রথমে গান গাইতে গাইতে যাচ্ছিলো আর জি করের দাদাদিদিরা। অন্যরকম সে সব গান। পাড়ার মাইকে এ্যাতোদিন ধরে শুনে আসা গানগুলোর সঙ্গে মেলে না একদম। এদিকে আমি তো রফিসাহেবের অন্ধ ভক্ত সেই ছোটবেলা থেকে। ক্লাসে বেদম গাইতাম টেবিল পিটিয়ে। প্রথম প্রথম ধরতে অসুবিধে হচ্ছিল একটু। তারপর গাইতে গাইতে ভিড়ে গেলাম ওদের সঙ্গে। মিছিলের শেষে ডাক্তারদা আর অন্য দাদাদিদিরা তো বটেই, প্রতীপদা, তীর্থদারাও সব ভুলে এসে জড়িয়ে ধরলো আমাকে। ব্যাস! ওই শুরু আগুনে আঙুলটা ছোঁয়ানোর। তারপর তো ধুন্ধুমার দিন একেকটা … পোস্টার, লিফ্লেট, দেয়াল লেখা। শ্লোগান, বোমা, গুলি, বন্দুক, এ্যাকশন, এনকাউন্টার, এ্যামবুশ, গোপন মিটিং …। জ্বলন্ত সময়টাকে সারা গায়ে মেখে ছুটে চলা গোটা শহর জুড়ে। ঘরের কোনে সস্তার প্লাইকাঠের আলমারির মাথায় তুলে রাখা গোলকিপিং গ্লাভস আর নরেশ স্যরের সেই লেভ ইয়াসিন বানানোর স্বপ্ন। তার বদলে হাতে উঠে আসা পাইপগান আর পেটো। ছোটবেলায় যার মতো হবার সপ্ন দেখতাম সেই লঙ্কাদা, পাড়ার দোর্দণ্ডপ্রতাপ মস্তান। ওয়াগন ব্রেকার গ্যাঙের লিডার। হাবিকে তুলে নিয়ে গেছিল রাতের অন্ধকারে খালধারে।

হাবি। পাড়ার মেয়ে। জন্ম প্রতিবন্ধী। শরীর বাড়লেও মনের বয়স বাড়েনি অ্যাতোটুকু। মুখ দিয়ে লাল ঝরছে সব সময়। সরু বাঁ পাটা টেনে টেনে হাঁটতো। ওর বাবা রাজমিস্ত্রির জোগাড়ে খাটতো। চারতলা সমান উঁচু বাঁশের ভারা থেকে পড়ে গিয়ে ওখানেই সব শেষ। মা পাঁচবাবুর বাড়ি বাসন মাজা, ঘর পোঁছার কাজে ব্যস্ত সারাদিন। হাবিকে দেখার কেউ ছিলোনা। রাস্তায় দ্যাখা হলেই ফ্যালফ্যালে দাঁত বের করে হাসতো – “অ্যা-অ্যাই কানা … বাত কাওয়াবি।” খালধারে সব ঝুপড়ি লাইন হোটেল। কুলি ধাওড়ারা খেতো। সবখানে বলা ছিল আমার – ‘হাবি চাইলেই যেন খেতে দেওয়া হয়। কোন গুণ্ডা বদমাশ, দাদাভাইকে ট্যাক্স দিতে হবে না। হাবিকে খাওয়ানোটাই ট্যাক্স। সেই হাবিকে ছিঁড়ে খেয়েছিলো লঙ্কা আর ওর কুত্তার দল। ভয়ে কেউ টুঁ শব্দটি করেনি বস্তিতে। আমিও ততদিনে আমার বয়েসি ছেলেপুলেদের নিয়ে বড়সড় সংগঠন গড়ে তুলেছি এলাকায়। ঘটনার দিন তিনেক বাদে পাড়ার মোড়ের মাথায় লঙ্কার সাথে দ্যাখা হয়ে যায় আমার। “আবে কানা, কী দেখছিস? … মারবি নাকি?” হুমকে উঠেছিল লঙ্কা। একটাও কথা না বলে কোমর থেকে মেশিনটা বের করে ঘোড়া টেনে দিয়েছিলাম সোজা বুকে। থ্রি নট থ্রি সফট-নোজ বুলেট। সুন্দরবনে দোখনো চোরাশিকারিরা বাঘ মারে ওই দিয়ে। মাটিতে পড়ার আগেই মরে কাঠ হয়ে গেছিল লঙ্কা। ওর লাশের ওপর থেকে চোখ তুলে চেঁচিয়ে বলেছিলাম – “আজ থেকে এলাকায় যে কুত্তার বাচ্চারা মেয়েদের গায়ে হাত দেবে তাদেরও এই একই অবস্থা হবে!” প্রাণে বাঁচতে পাড়া ছেড়ে ইঁদুরের মতো পালিয়েছিল গুণ্ডার দল।”

অভিরূপের দু’চোখ বিস্ফোরিত। দম আটকে আসছিল শুনতে শুনতে। এ যেন রক্ত মাড়ানো এক অনন্তযাত্রার কাহিনী শুনছে ঝাড়খণ্ডের পাণ্ডববর্জিত এই আদিম অরণ্যে বসে। ঠিক আগেরবারের মতই রুদ্ধশ্বাসে “তারপর?” প্রশ্নটা করতে পারলো কোনমতে। কণ্ঠস্বর বুজে যাওয়া, খড়খড়ে, অস্পষ্ট। নিজের কানেই অচেনা ঠেকলো কিরকম!

“তারপর … তারপর আর কী …” একটা লম্বা শ্বাস টেনে নেয়ার মৃদু শব্দ অন্ধকারে। “ক্রমাগত কঠিন থেকে কঠিন আর ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিল একেকটা দিন। সে এক ভীষণ লড়াই। রাস্তায়, স্কুলে, পাড়ার মোড়ে, ফুটপাতে, অলিতে-গলিতে। পুলিশ, সি আর পি, মিলিটারি, মাকু, নবকংগ্রেসি। এক সে এক অপোনেন্ট সব। কিন্তু একটা ব্যাপার ভীষণ অবাক করছিল নিজেকে। আমি বা আমার বন্ধুবান্ধব, কমরেডস … কেউ আর ভয় পাচ্ছি না লড়াইটাকে। শহীদ হবার চাকরি করতে নেমেছি যেন সবাই। আসলে সময়টাই তো ছিলো ওইরকম। ভয় না পাওয়ার, অবাধ, বেপরোয়া হবার সময়। এরই মধ্যে আমাদের স্কুল, উত্তর কোলকাতার ‘স্তালিনগ্রাদ’ নামে ডাকতো অন্য স্কুলের ছেলেরা। আরবান স্টুডেন্ট গেরিলাদের ঘাঁটি। ব্যাটেলিয়ন কে ব্যাটেলিয়ন পুলিশ সি আর পি নামিয়ে স্কুলের দখল নিলো প্রশাসন। সে এক ধুন্ধুমার মরণপণ যুদ্ধ। স্টুডেন্ট ভার্সাস পুলিশ। কাঁধে গুলি খেয়ে হাসপাতালে গেলাম আমি। তবে লড়েছিল বটে বন্ধুরা। জান বাজি রেখে খাটিয়ায় করে বয়ে নিয়ে গেছিলো হাসপাতালে। ওদের মধ্যে প্রশান্ত। সেই ওয়ান থেকে এক ক্লাসে। সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুদের মধ্যে একজন। খালপাড়ে বোমা বাঁধতে গিয়ে বার্স্ট করলো। চাদরে ঢেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো আর জি করে। হাজার চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারেনি ডাক্তারদারা। আর এদিকে আমি। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েই ফের লাফ আগুনে। এরকম চলতে চলতে একদিন … পার্টি থেকে সিদ্ধান্ত হলো স্কুলে ঢুকে ওয়ালিং, পোস্টারিঙ করতে হবে। কারণ আমরা যারা পার্টি এ্যাকটিভিটির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। সেদিনের সেই লড়াইয়ের পর থেকে স্কুলে ঢোকা অসম্ভব হয়ে গেছিল তাদের পক্ষে। খুব দুর্বল হয়ে গেছিলো স্কুলে আমাদের সংগঠন। তাই ওই পোস্টারিং, ওয়ালিঙের সিদ্ধান্ত। দেখিয়ে দেয়া যে নকশালরা এখনও হারিয়ে যায়নি স্কুল থেকে। এ্যাকশনে সেদিন আমার সঙ্গী থাকবে আমার জিগরি দোস্ত সুদীপ্ত আর উঁচু ক্লাসের তীর্থদা। প্ল্যান ছিলো রাতের বেলায় পাঁচিল টপকে স্কুলে ঢুকবে ওরা দুজন। বাইরে পাহারায় থাকবো আমি। একটা কথা, আজ অবধি কাউকে বলিনি জানেন, খালধার থেকে বাঁক নেয়ার মুখেই মনটা কেমন যেন কু দিয়েছিলো। কারণ জানিনা, কিন্তু বরাবর এটা হয়। বিপদের গন্ধ পাই আমি। সতর্ক করে দ্যায় আমাকে, সবসময়। যার একফোঁটা নড়চড় হয়নি এই এ্যাতোগুলো বছরে। সেদিনও দিয়েছিলো। কিন্তু ভাবলাম এ্যাতোবড় একটা এ্যাকশন প্ল্যান, এভাবে ভেস্তে যাবে? বন্ধুরা যদি বিশ্বাস না করে আমার কথা? যদি ভাবে শেষ মুহূর্তে এসে ভয় পেয়ে গেছি আমি। তাই চেপে গেছিলাম। মুখ ফুটে বলতে পারিনি কথাটা। ওদের ওখানেই অপেক্ষা করতে বলে এগিয়ে গেছিলাম। বলেছিলাম আমি হাত নেড়ে ইশারা করলে তবেই যেন এগোয় ওরা। খুব তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্তটা জানিয়েছিলাম ওদের যাতে চিন্তাভাবনার সুযোগ না পায় ওরা। আমার আশঙ্কা একেবারে অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেছিল সেদিন। স্কুলের রাস্তাটার দুধারে ফুটপাতে রোজ রাতে খালধারের মিল, ছোট ছোট কারখানার কুলি মজুর আর লরির খালাসি-ড্রাইভাররা শুতো। সেদিন কেউ ছিলো না। তার বদলে চাদর মুড়ি দিয়ে ঘাপটি মেরে শুয়ে থাকা প্রচুর খোঁচড়। স্কুলের গেট অবধি পৌঁছোনর আগেই আমাকে কব্জা করে ফেলেছিলো ওরা। আমিও লড়ে গেছিলাম সাধ্যমত। কিন্তু ওরা ছিলো সংখ্যায় অনেক বেশি। খবর পেয়ে আরও ফোর্স এসে গেছিলো। আমার বন্ধুরা, আশেপাশের পাড়ার কমরেডস, ওরা সবাই মিলে চেষ্টা করেছিলো খুব। বোমায় বোমায় অন্ধকার করে দিয়েছিলো পুরো এলাকা। কিন্তু আমাকে বাঁচাতে পারেনি। ভ্যানে পুরে আমাকে নিয়ে গিয়েছিলো থানায়। আমিও ভ্যান ফাটিয়ে স্লোগান দিচ্ছিলাম। যতবার দিচ্ছিলাম পিঠে এসে পড়ছিল ডাণ্ডার মার, গোদা বুটের লাথি। চলেছিল ততক্ষণ, যতক্ষণ না জ্ঞান হারিয়ে মুখ থুবড়ে ভ্যানের মেঝেতে পড়ে যাই। থানায় নিয়ে গিয়েই হ্যাঁচড়াতে হ্যাঁচড়াতে সোজা লকআপ। টানা পনেরোদিন। কচুয়া ধোলাই, সিলিংয়ে টাঙ্গানো, নখের ডগায় সূচ ফোটানো, কপালে ঠাণ্ডা বরফ জলের ফোঁটা, সিগারেটের ছ্যাঁকা, পিছনে রুল ঢোকানো, পাঁচহাতি ডাণ্ডার মার … বাদ পড়েনি কিছুই। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মারও বাড়তো। ঘুমোতে দিতো না কিছুতেই। চোখের ওপর হেভি ওয়াটের আলো ফেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ইন্টারোগেশন।

এই প্রথম একটা নতুন উপলব্ধি হলো আমার। এ্যাতোদিন যে লড়াইটা লড়েছি সেটা অনেক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে। একে অপরের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। একজনের সাহস অন্যের মধ্যে ছোঁয়াচে রোগের মত মিশে যেতো সব সময়। এবার লক-আপে আমি একা। পাশে দাঁড়িয়ে সাহস যোগানোর কেউ নেই। অনেক ছেলেবেলায় পাড়ায় একটা জিনিস খেয়াল করেছিলাম। বস্তির নর্দমায় এঁটোকাঁটার খোঁজে থাকা হুলোটাকে তার খাবারে ভাগ বসাতে চাওয়া নেড়ি কুকুরের পাল এ্যাটাক করলেই পিঠটা ধনুকের মতো বেঁকিয়ে আর রোঁয়া ফুলিয়ে রুখে দাঁড়াতো সেটা, দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে। কুকুররা যত বড় আর শক্তিশালীই হোক না কেন পিছিয়ে যেতো ওর সামনে। লকআপেও ওই একই কায়দায় লড়াইটা শুরু করলাম আমি। একপাল ঠ্যাঙ্গাড়ের গালাগাল আর মারের জবাবে লকআপ ফাটিয়ে স্লোগান। মার খেতে খতে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়া। ফের উঠে দাঁড়িয়ে স্লোগান। লকআপে মার খেয়ে ক্লান্ত আর ভয় পেয়ে গুটিয়ে যাওয়া আরও জনাপাঁচেক কমরেড। ওদের মধ্যেও চারিয়ে গ্যালো ব্যাপারটা। ফের শুরু হয়ে গ্যালো সেই পুরোন লড়াই। কাঁধে কাঁধ লাগিয়ে, হাতে হাত চেপে। প্রত্যেকের জেদ আর সাহস প্রত্যেকের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া। একটু একটু করে দমবন্ধ হিংস্র এই খেলাটায় জিততে শুরু করলাম আমরা। তবে মাশুল দিতে হয়েছিল অনেক। আর সেটা এই শরীরের ওপর দিয়েই। এরকম চলতে চলতে শেষমেশ একদিন জেল কাস্টডির অর্ডার। কোর্ট থেকে। ছোট ছোট পায়রার খোপের মত লোহার জানালাওয়ালা কালো ভ্যানগাড়িতে চড়িয়ে সোজা সেন্ট্রাল জেল। হাজার হাজার নকশাল ছেলেদের ভিড়ে থিকথিক করছে সেলগুলো। কুকুরেরও অখাদ্য খাওয়াদাওয়া। নোংরা, দুর্গন্ধ চারদিকে। যে কোন ছুতোয় সেলের মধ্যে পিটিয়ে মারা হচ্ছে নকশাল বন্দীদের। মারছে জেল গার্ড আর কেস টেবিল রিজার্ভ পুলিশ। এখানে ওখানে, মাঝেমাঝেই।

চলবে…

গত পর্বের লিঙ্ক – https://banglalive.com/ketjel-pakhi-the-bird-with-the-fiery-wings-bengali-novel-13/

Advertisements
Previous articleবাঁধাকপির বদলে বাজার থেকে নিয়ে ফিরলেন ২২৫০০০ লক্ষ ডলার
Next articleশীতকালে বাচ্চারা ঘন ঘন অসুস্থ হয়‚ তা এড়ানোর উপায় জেনে নিন
সুপ্রিয় চৌধুরী
জন্ম ও বেড়ে ওঠা উত্তর কলকাতার পুরোনো পাড়ায়। বহু অকাজের কাজী কিন্তু কলম ধরতে পারেন এটা নিজেরই জানা ছিল না বহুদিন। ফলে লেখালেখি শুরু করার আগেই ছাপ্পান্নটি বসন্ত পেরিয়ে গেছে। ১৪২১ সালে জীবনে প্রথম লেখা উপন্যাস 'দ্রোহজ' প্রকাশিত হয় শারদীয় 'দেশ' পত্রিকায় এবং পাঠকমহলে বিপুল সাড়া ফেলে। পরবর্তীতে আরও দুটি উপন্যাস 'জলভৈরব' (১৪২২) এবং 'বৃশ্চিককাল' (১৪২৩) প্রকাশিত হয়েছে যথাক্রমে পুজোসংখ্যা আনন্দবাজার এবং পত্রিকায়। এছাড়া বেশ কিছু প্রবন্ধ এবং দু চারটি ছোটগল্প লিখেছেন বিভিন্ন পত্রপত্রিকা আর লিটিল ম্যাগাজিনে। তার আংশিক একটি সংকলন বই আকারে প্রকাশিত হয়েছে 'ব্যবসা যখন নারীপাচার' শিরোনামে। ২০১৭ সালে পেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি পুরস্কার।

4 COMMENTS

  1. এই তো পরিপূর্ণ সুপ্রিয় চৌধুরী! একটা জ্বলন্ত সময় আসে জ্বলন্ত সব প্রত্যয় নিয়ে । পলে পলে তার কী অসাধারণ বয়ান, পাঠক যেন সেই হার-না-মানা সেই রোগের সংক্রমনের অংশ! এবার আরও আরো গভীরে টেনে নিয়ে যাও।

  2. উনি গল্প লেখেন? মেয়ের এই প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলাম – উনি মাজিসিয়ান ম্যাজিক করেন। প্রণাম। ভালো থাকবেন।

  3. @AKU

    PRIYO PATHOK, APNAR EI UTTEJONA OTHOBA BIROKTI HOITO BA SABHABIK. KINTU EKISONGE EKTI KOTHA MONE RAKHBEN, E DHORONER DHARABAHIK LEKHAY PROTI PORBO ANUJAI LEKHOK POISA PAYE.EBONG EI ODHOM LEKHOK ORTHONOITIK OBOSTHANE KHUB EKTA SOKTOPOKTO JAYGAY NEI. FOLEY DORIDRO LEKHOK ER KOTHA VEBEI NA HOY APNAR EI ‘IRTITATION’ TA SOJJHO KORLEN. LEKHATI SESH HOLEY NOI ABAR PUROTA EKSONGE PORE NEBEN PLEASE.
    BHALO THAKBEN.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.