কেতজেল পাখি (পর্ব ১১)

Bengali Novel

“তারপর আর কি … সেই শুরু অন্যরকম চিন্তাভাবনার। যাতায়াত আরম্ভ এইসব অঞ্চলে। প্রথম প্রথম কিছুদিন থেকে ফিরে যেতাম। একসময় বুঝতে পারলাম এভাবে আর চলবে না। বেশ টের পাচ্ছিলাম কোথাও একটা আপাত অদৃশ্য নজরদারি চলছে আমার গতিবিধির ওপর। এরপর একদিন বাড়িতে পুলিশ এলো। তন্নতন্ন করে চিরুনী তল্লাশি চালালো গোটা বাড়িতে। ফোনে বাবার উদ্বিগ্ন আতঙ্কিত গলা … বুঝতে পারলাম সুতো কাটার সময় হয়েছে। ব্যস, পাকাপাকিভাবে শহরের পাট চুকিয়ে রয়ে এলাম এখানে। ক’দিন বাদে নির্মলাও চলে এলো। তারপর থেকে এখানেই।” হাসলেন শশী।

অবাক চোখে শশীর দিকে তাকিয়েছিলো অভিরূপ। এতো সেই অনেক দিন আগে পড়া – ডঃ নর্ম্যান বেথুন, ডক্টর আর্নেস্তো, চে গেভারা, লিঞ্চ, বেয়ারফুট ডক্টর’স স্টোরি … যুদ্ধক্ষেত্রে ঘুরে ঘুরে চিকিৎসা …। বিস্ময়ের ঘোরটা কাটতে না কাটতেই দুর থেকে একটা চিৎকার – “ডাগদার কমরেড!” স্কোয়াডের একটা মেয়ে। দৌড়তে দৌড়তে এগিয়ে আসছে। পিছনে ধাবমান এক আদিবাসী দম্পতি। স্বামীটার কোলে বছর সাত-আটেকের একটা বাচ্চা ছেলে। দৌড়ে এসে নামিয়ে দিলো শশীর সামনে। হাউমাউ করে আর্ত আর দুর্বোধ্য স্বরে কী সব বললো। শোনামাত্র বাচ্চাটার দিকে ঝুঁকে পড়লেন শশী। পায়ের কাছে ইঞ্চিখানেকের ব্যবধানে পাশাপাশি ইঞ্জেকশনের সিরিঞ্জ ফোটানোর মত দুটো ছোট ছোট ফুটো। “স্নেকবাইট! মোস্ট প্রোবাবলি রাসেল ভাইপার। চন্দ্রবোড়া।” স্বগতোক্তি করলেন শশী। তারপরই স্কোয়াডের মেয়েটার দিকে তাকিয়ে বললেন “জলদী মেডিক্যাল ক্যাম্প মে লে চল।“ বলেই দৌড় লাগালেন সামনের দিকে। পিছন পিছন অভিরূপও।

ছোটখাটো তাঁবুটা। ওষুধপত্র আর চিকিৎসার সরঞ্জামে ঠাসা। তাঁবুর মাঝখানে একটা পুরনো লোহার স্ট্রেচার। একটা পিচবোর্ডের কার্টন থেকে একটা ইঞ্জেকশনের ভায়াল বের করে আনলেন শশী। সিরিঞ্জে ভরে দক্ষ হাতে পুশ করে দিলেন ছেলেটার শরীরে। ভায়ালের লেবেলে ‘অ্যান্টিভেনম’ শব্দটা পড়তে পারলো অভিরূপ। গ্লাভস খুলে সামনে রাখা একটা বালতির জলে হাত ধুয়ে অভিরূপের দিকে ঘুরে তাকালেন শশী। “মনে হচ্ছে সারভাইভ করে যাবে। এই তো আমাদের দেশ। প্রায় চার কিলোমিটার দুরে এই পরিবারটার গ্রাম। সেখান থেকে এই অ্যাতোটা পথ দৌড়ে আসছে এরা। একটা প্রাইমারি হেলথ সেন্টারও নেই। অথচ সাপের কামড়। ম্যালেরিয়া আর পেটের রোগের পরই অন্যতম ভয়ংকর একটা বিপদ স্থানীয় মানুষের সামনে। তবুও তো এটা শীতকাল, স্নেক বাইট ইজ রেয়ার কেস। গরম আর বর্ষাকালে এর চিকিৎসা করতে করতে জেরবার হয়ে যাই আমরা। অথচ ওষুধের সাপ্লাই ডিমান্ডের তুলনায় অনেক কম।” শশীর গলায় হতাশা। “তাও ভাগ্যিস আমাদের স্কোয়াড সেসময় গিয়েছিল ওই গ্রামটায়। নাহলে …।” কী উত্তর হতে পারে এই কথার? চুপ করে রইলো অভিরূপ।

“এক! দো! তিন! …” স্কোয়াড লিডারের কম্যান্ড আর কাউন্টিংয়ের তালে তালে ওঠানামা করছিল মাটিতে দুহাত রেখে মাঠের ওপর উপুড় হয়ে থাকা শরীরগুলো। অভিরূপ একটু অবাক হয়ে লক্ষ্য করছিল প্রতিবারই দশ অবধি গোনা শেষ হতেই ফের এক থেকে শুরু হচ্ছিল গুনতি। পাশে দাঁড়ানো অবিনাশ। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে নজর রাখছে প্রশিক্ষণের ওপর। ওকে প্রশ্নটা করলো অভিরূপ। শুনে হাসলো অবিনাশ। “আসলে আদিবাসীদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষই দশের বেশি গুনতে জানে না। ফলে ফের প্রথম থেকে শুরু করতে হয়। আমরা যখন প্রথম প্রথম এইসব অঞ্চলে আসি তখন সংখ্যা বা গোনাটা যে কী, সেটা খায় না মাথায় মাখে তাই জানতো না এখানকার মানুষ। পার্টির তরফ থেকে এটার ওপর বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়। এই অ্যাতোগুলো বছর ধরে লাগাতার চেষ্টা চালিয়ে এই জায়গায় এসে পৌঁছেছি আমরা। এখন তো অনেকে কুড়ি, তিরিশ পর্যন্তও গুনতে পারে। এমনকি পঞ্চাশ অবধিও পারে কেউ কেউ। যদিও সংখ্যাটা অত্যন্ত কম। তবে ওই পর্যন্তই। তার পরে আর মনে রাখতে পারে না। ভুলে যায়। তবে আমরাও হাল ছাড়িনি। চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি লাগাতার। একদিন এখানকার সব মানুষ একশো ছাড়িয়ে হাজার অবধি গুনতে শিখবে আর শ শ বছর ধরে সব ঠকানোর হিসেব পাই পাই বুঝে নেবে।” কথা বলার সময় পাথরের মত শক্ত চোয়াল মিশকালো মুখটায় ধকধক জ্বলছিল একচোখ।

বিকেল তিনটে। রাতে ঠাণ্ডা যতই ভয়ঙ্কর হোক না কেন, প্রথম বিকেলের ঝাড়খণ্ডী কড়ক ধূপ এখনও হুল ফোটাচ্ছে শরীরে। মাঠের একপাশে অস্থায়ী ট্রেনিং গ্রাউন্ড। ছোট ছোট গ্রুপে ভাগ করে প্রশিক্ষণ চলছে। রাইফেলের চাঁদমারি, দড়ি বেয়ে ওঠা, দুপাশে পোঁতা দুটো বেঁটে বাঁশের খুঁটিতে টাঙানো দড়ির নীচ দিয়ে গলে চলে যাওয়া, দৌড়, পিটি। বুকডন দিতে থাকা দলটার একদম পিছনের সারিতে একটা ছেলে। এখানকার নয়। সেটা চেহারাতেই স্পষ্ট। চোখে চশমা। শহর থেকে আসা মেধাবী কলেজ পড়ুয়ার ছাপ চোখেমুখে। দমফাটা হাঁফাচ্ছে ছেলেটা। হাপরের মতো ওঠানামা করছে বুকের খাঁচা। প্রতিবার মুখ থুবড়ে পড়ছে ডিপস দিতে গিয়ে। অভিরূপের সঙ্গে কথা বলতে বলতেই দৌড়ে সেদিকে এগিয়ে গেলো অবিনাশ। ছিলেছেঁড়া ধনুকের মতো দুহাতের ভরে উপুড় হয়ে পড়লো মাটিতে। চোখ সরাসরি ছেলেটার চোখে। “প্রবলেম কেয়া হ্যায় কমরেড?” প্রশ্ন করল কঠিন গলায়।

“আই কান্ট কমরেড … আই জাস্ট কান্ট!” আর্তস্বরে ককিয়ে উঠলো ছেলেটা।

“কিঁউ?” তীক্ষ্ণকণ্ঠে ফের প্রশ্ন করলো অবিনাশ। চোখ এখনও সরাসরি সেঁটে রয়েছে ছেলেটার চোখে। কড়া ধমকের সুর গলায় – “ইয়ে কর সকতা হায়, ওহ কর সকতা হায়। সবকোই কর সকতা হায় … দেখো হামকো, হাম ভি কর সকতা হায় …” বলতে বলতেই হাতের চাপে মাটিতে ভর দেয়া শরীরটা স্প্রিংয়ের মতো ওঠানামা করলো বেশ কয়েকবার। লোহার মত কাঁধের পেশিগুলো সাপের মতো কিলবিল করছিলো প্রতিবার শরীরটা ওঠানামার সঙ্গে সঙ্গে। “… আগর হাম ভি কর সকতা হায় তো তুম কিঁউ নহি? কাম অন কমরেড। তুম কর সকতে হো।” ছেলেটার পিঠে উৎসাহব্যঞ্জক একটা চাপড় মেরে উঠে দাঁড়ালো অবিনাশ। দ্রুত পা চালিয়ে এগিয়ে গেলো সামনে। একটু দুরে শুটিং প্র্যাকটিস চলছে। একটা আদিবাসী মেয়ে। বন্দুক তাক করে রয়েছে মিটার বিশেক দুরে পাথরের ওপর রাখা একটা বোতলের দিকে। বার বার নিশানা ফসকাচ্ছে। মেয়েটার পিছনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ওর হাতসমেত বন্দুকটাকে আঁকড়ে ধরলো অবিনাশ। কানের কাছে মুখ নিয়ে এসে বললো – “তুমহারা চারো তরফ আদমী, পাহাড়, জঙ্গল … সব ভুলে যাও। সির্ফ বোতল কো দেখো।”

“গুড়ুম!” মিটার বিশেক দুরে ভেঙে চুরমার বোতল। “শাব্বাস!” উল্লাসে চিৎকার করে উঠলো অবিনাশ – “একদিন সব সে বড়া গেরিলা নেত্রী বনেগি তুম।”

মাঠজুড়ে প্রশিক্ষণরত প্রতিটা দলের মধ্যে চরকির মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে লোকটা। সামান্য ছোটখাটো ভুল এমনকি প্রশিক্ষকদেরও, হাতে ধরে শুধরে দিচ্ছে সযত্নে। এই মুহূর্তে দড়ি বেয়ে উঠছে তো পরমুহূর্তেই শিখিয়ে দিচ্ছে গ্রেনেডের পিন কীভাবে খুলতে হয়। চরম দক্ষ একজন পেশাদার কম্যান্ডোর মতো।

শীতের বিকেল শেষ হয়ে সন্ধে নেমে আসছে দ্রুত। পালামৌর ঠাণ্ডা নখদাঁত বের করতে শুরু করেছে। আধো অন্ধকারে অবিনাশকে মনে হচ্ছিল ঠিক একটা অলীক মানুষের মতো। ডাজ’নট এগসিস্ট এনিহোয়্যার ইন দিস ওয়ার্ল্ড অফ রিয়ালিটি। অনেকটা সেই জন লেননের গানটার মত। দেয়ার ওয়াজ আ নো হোয়ার ম্যান / সিটিং ইন আ নো হোয়ার ল্যান্ড / মেকিং আ নো হোয়ার প্ল্যান / ফর নোবডি …। ঘোরলাগা মানুষের মতো সেদিকে তাকিয়েছিল অভিরূপ। মাথার গুঁড়িগুঁড়ি করে ছাঁটা চুল বেশিরভাগ পেকে সাদা লোকটার। বয়স আন্দাজ ষাটের কোঠায়। পঞ্চান্নর কমে তো কিছুতেই না। অথচ শরীর দেখে সেটা বোঝার উপায় নেই একদম। কী অমানুষিক পরিশ্রমের ক্ষমতা। এককথায় দানবীয়। সামরিক দক্ষতার ব্যাপারটা প্রশ্নাতীত। এবার দেখতে হবে রাজনৈতিক ভাবে কতটা শক্তিশালী মানুষটা। শিকারি কুকুরের মত ওকে খুঁজে চলেছে আট দশটা রাজ্যের পুলিশ, আধা সামরিক বাহিনী আর স্পেশাল ফোর্সের লোকজন। চল্লিশ বছরের বেশি সময় ধরে। আজ অবধি বাগে পায়নি। সব মিলিয়ে মাথার ইনাম প্রায় এক কোটি ছাড়িয়েছে। এ সফরে অভিরূপের সবচেয়ে বড় এনকাউন্টার – অবিনাশ। বহুদিন ধরে ইনসার্জেন্সির ওপর পড়াশোনা, লাইব্রেরীগুলোয় যাতায়াত, বইপত্র কেনাকাটা, আর্কাইভ আর নেট ঘাঁটাঘাঁটি … অন দ্য অ্যাস্পেক্টস অফ ডিফারেন্ট লেভেল অফ টেররিজম। দেশে বিদেশে …। এবার সেগুলো ঝালিয়ে নেবার পালা। মগজাস্ত্রের ভাণ্ডারে প্রশ্নের তিরগুলো শানিয়ে রাখছিল অভিরূপ। সঙ্গে আরেকটা ব্যাপারও ক্রমাগত ঘুরপাক খেয়ে চলেছিল মনের মধ্যে। অভিরূপের আদিবাড়ি উত্তর কোলকাতায় শোনার সঙ্গে সঙ্গে আপাত কাঠিন্যের আড়ালে ঝিলিক খেলে গেছিল একচোখের কোনে। কেন? এ প্রশ্নটা খুঁচিয়ে চলেছে অভিরূপকে। অনবরত। তবে কী আরেকটা কভার স্টোরি? কোনও লুকোনো গল্পের? গতানুগতিক ফিল্ড রিপোর্টাজের একদম বাইরে … ভাবনার জালটা ছিঁড়ে গেল প্রশিক্ষকদের সমবেত ‘বিশ্রাম’ হাঁকে। ক্যাম্পের দিকে ফিরে যাচ্ছে গেরিলা স্কোয়াডের লোকজন। লম্বা লম্বা পা ফেলে সামনে এসে দাঁড়ালো অবিনাশ। কালো পাথরের মত গা বেয়ে নামছে অবিশ্রান্ত স্বেদধারা। পাশে রাখা একটা কালো রঙের মাটির কলসী থেকে হাতা লাগানো মগে তুলে আলগোছে ঢকঢক করে জল খেলো অনেকটা। গলায় জড়ানো লাল গামছাটা দিয়ে হাতমুখ মুছে নিলো। মুচকি হাসলো অভিরূপের দিকে চেয়ে। “এরপর তো আবার আপনার সেই ইন্টারভিউ। চলুন ওইখানটায় গিয়ে বসা যাক।” বেশ খানিকটা দূরে একটা বিশাল চওড়া পাথরের দিকে আঙুল তুলে দেখালো অবিনাশ।

বাইপাসের ধারে বহুতল আবাসনের ফ্ল্যাট। শোবার ঘরে আধশোয়া সুহাসিনী। একটু আগে গোপাল পুজো সেরে এসেছেন। সুহাসিনীর কপালে গভীর চিন্তার ভাঁজ। সেই একটা মেসেজ। আর কোন খবর নেই অভির। ‘খুট’ সামনে টেবিলে কিছু নামিয়ে রাখার শব্দ। চোখ খুললেন সুহাসিনী। টেবিলে চায়ের কাপ নামিয়ে রাখছে আরতি। “আমারও হয়েছে জ্বালা। দাদা কোথায় কোথায় কাজ করতে যাবে আর এদিকে উনি সব ছেড়েছুড়ে … আর পারিনা বাপু।” চা নামিয়ে রেখে গজগজ করতে করতে চলে গেল আরতি।

হাত বাড়িয়ে বিছানার পাশে রাখা বেডসুইচটা টিপে টেবিল ল্যাম্পটা জ্বালালো শ্রীতমা। মাথাটা ছিঁড়ে যাচ্ছে যন্ত্রণায়। গতকাল রাত থেকে জ্বর। কলেজ যায়নি আজ। ডেস্কের ড্রয়ারটা খুললো শ্রীতমা। প্যারাসিটামলের ফয়েল ছিঁড়ে ট্যাবলেটটা মুখে পুরলো। গ্লাসের ঢাকনা সরিয়ে জল খেলো। আর কোন ফোন বা এস এম এস করেনি অভি। টানা একরাশ উদ্বেগ আর দুশ্চিন্তা। কানে গরম আগুনে হলকা। মাথা যন্ত্রণাটা বাড়ছে। গ্লাসটা ডেস্কে নামিয়ে রেখে আলো নিভিয়ে চোখ বুজে ফেললো শ্রীতমা।

চলবে

Advertisements
Previous articleসাগর আই লাভ ইউ (শেষ পর্ব)
Next articleভালোবাসার ফুলছাপ
সুপ্রিয় চৌধুরী
জন্ম ও বেড়ে ওঠা উত্তর কলকাতার পুরোনো পাড়ায়। বহু অকাজের কাজী কিন্তু কলম ধরতে পারেন এটা নিজেরই জানা ছিল না বহুদিন। ফলে লেখালেখি শুরু করার আগেই ছাপ্পান্নটি বসন্ত পেরিয়ে গেছে। ১৪২১ সালে জীবনে প্রথম লেখা উপন্যাস 'দ্রোহজ' প্রকাশিত হয় শারদীয় 'দেশ' পত্রিকায় এবং পাঠকমহলে বিপুল সাড়া ফেলে। পরবর্তীতে আরও দুটি উপন্যাস 'জলভৈরব' (১৪২২) এবং 'বৃশ্চিককাল' (১৪২৩) প্রকাশিত হয়েছে যথাক্রমে পুজোসংখ্যা আনন্দবাজার এবং পত্রিকায়। এছাড়া বেশ কিছু প্রবন্ধ এবং দু চারটি ছোটগল্প লিখেছেন বিভিন্ন পত্রপত্রিকা আর লিটিল ম্যাগাজিনে। তার আংশিক একটি সংকলন বই আকারে প্রকাশিত হয়েছে 'ব্যবসা যখন নারীপাচার' শিরোনামে। ২০১৭ সালে পেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি পুরস্কার।

8 COMMENTS

  1. উফ্ফ! এ কি ভয়ংকর সুন্দর নামলে সুপ্রিয় দা! লেনন , beatles, ডিলান কোথায় এসে মিশে গেল এই ভারতের জঙ্গলে আদিবাসী গ্রামে অবিনাশ হয়ে উঠলো, সত্যি তো অবিনাশ , যার বিনাশ নেই , . বিনাশ নেই সেই nowhere man এর , যে nowhere ল্যান্ড এ বসে nowhere পরিকল্পনা গুলো বানাচ্ছে nobody র জন্যে, nobody মানেই তো সেই faceless পরিচয়হীন everybody, যারা সর্বত্র, যারা আমরা সবাই, যারা সেই যাদের ‘যারা’ নেই… এটাই তো এই বুর্জুয়া সমাজের পরিচয় আর নাম সর্বস্ব দুনিয়ার সবচেয়ে বড় আন্টি-থিসিস, এটাই এক সামূহিক সামগ্রীক subversion. উত্তর কলকাতার পুনেরা অবিনাশী, তারা ছড়িয়ে পরে চে, চার্ন্দ্রু, হয়ে নয়, ছড়িয়ে পরে নামহীন, গোত্রহীন ‘অন্য’ কারিগর হয়ে যারা দ্রহজ, যারা দ্রহে জাত, দ্রোহে যাদের বৃদ্ধি, দ্রোহ যাদের বারানসী, দ্রোহ যার মাতৃভূমি ]mother-স্পেস] . ফ্যাতারুরা দেশ গড়ে, নেতারা নয়, . এই দুনিয়াতে অভিজাতরা শ্রদ্ধেয় না হলেও নামধারীরা এলিট. nowhere man এরা এই paradigm কে দুমড়ে মুচড়ে দিয়েছে, subversion এখন স্ট্রাটেজি. সুপ্রিয় চৌধুরী এটা ধরিয়ে দিয়ে আমাদের সম্বিত বোধ এনে দিলেন. আমাদের বোধ ও বাস্বী একেবারে ঠিক খাপে এনে দাঁড় করলেন. এই পৃথিবী গড়ে তোলে এই অবিনাশের মত nowhere man রাই যারা শহুরে চশমাধারী nerd দের ব্রাত্য করে না, বলে “क्यूँ नही , अगर हम कर सकते तो तुम क्यूँ नही?” সেই একই অবিনাশ আদিবাসী মেয়েকে ফোকাস শেখায় যেখানে ব্যাপক জঙ্গল প্রকৃতি থেকে abstract করে আনে শুধু টার্গেট, একদম সেই চীন চিং মাই এর বিপ্লবের গান. “তোমার টার্গেট দেখছ, দেখো শ্রেণীশত্রু মাথা, যে সমাজ এতদিন তোমায় ধর্ষণ করেছে তার অন্ডকোষ. ! কোথায় যেন চেয়ারম্যান মাও, চারু মজুমদার, অবিনাশ মিলে গেল সেই nowhere man এর মধ্যে অথছ সে কত real . There is this real nowhere man! , কোনো কল্পনা নয়, একদম বাস্তব. অবিনাশ ই বাস্তব, তাতে কিষানজিরা বারে বারে জন্ম নেই, বসাই টুডু রা বারে বারে উঁকি মারে, তাদের মাঝেই আবার রহিত ভেমুলা জাফর, নাজীবরা আসবে যাবে.. সুপ্রিয় দা কে প্রনাম জানাব না, লাল সালাম জানাব, কুর্নিশ করব আর পাশে হাঁটার ওয়াদা রাখব!

  2. ‘আন্টিল ডিয়ারস হ্যাভ দেয়ার ওন হিস্টোরিয়ান্স, দ্য হিস্ট্রি অফ হান্ট উইল অলওয়েজ গ্লোরিফাই দ্য হান্টারস’। বেশ কিছুদিন আগে কোটেশনটা দেখেছিলাম যাদবপুর ইউনিভার্সিটির দেয়ালে। কেতজেল পাখির পর্ব ১১-য় প্রিয় পাঠকের মন্তব্য পড়ে ওই কোটেশনটার কথাই সর্বপ্রথম মনে এল। কার উক্তি জানা নেই কিন্তু কি ভয়ঙ্কর আর অমোঘ সত্য ! একবিংশ শতাব্দীর একমেরু বিশ্ব জুড়ে এখন শুধুই নৃশংস শিকারিদের গৌরবগাথা রচিত হয়ে চলেছে। মুম্বাই-গুজরাট- উঃ প্রদেশের দাঙ্গাবাজ খুনিরা দেশপ্রেমী, রাষ্ট্রনায়কের সম্মান পাচ্ছেন। ভিয়েতনাম, লাওস, কম্বোডিয়া, কিউবা, চিলি, গুয়েতামালা, গ্রানাদা, ইরাক, সিরিয়া, প্যালেস্তাইন, আফগানিস্তানকে বোমায় বোমায় মাটিতে মিশিয়ে দেয়া ঘাতক, গণহত্যাকারীরা শান্তির দূত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছেন। স্তাবক আর প্রচারকও পেয়ে যাচ্ছেনও প্রচুর। অসংখ্য প্রচার মাধ্যমে তারা মানুষকে বোঝাতে চাইছে যা চলছে ঠিক চলছে। এটাই নাকি সেই উন্নয়ন ! নবারুণদার ভাষায় ‘সব
    মিলিয়ে ভয়ঙ্কর এক ভুলা মাসানের পাকে ফেলে দেয়া হয়েছে’ এই তথাকথিত উন্নয়নের রুপকথায় বেবাক চুপকথা বনে যাওয়া অতি সাধারন, দিন আনা দিন খাওয়া ( অথবা আধপেটা এমনকি না খাওয়া ) , দুনিয়ার যত হাড়হাভাতে গরীবগুরবো মানুষকে। নবারুণের বর্ণনায় যারা ফ্যাতাড়ু। সারপ্লাস পিপল। লেননের গানের সেই “নোহোয়ার ম্যান”! শাসক আর তাদের স্পন্সরারস কর্পোরেট পুঁজির মালিকরা যখন এইসব ফ্যাতাড়ুদের, নোহোয়ার ম্যানদের তাদের বুটের তলায় দলেপিষে একচেটিয়া দুনিয়া লুটের স্বপ্নে বিভোর, হয়তো খেয়ালও করছেন না উল্টোদিকেও কিন্তু একটা প্রতিরোধ তৈরি হয়ে চলেছে প্রতিনিয়ত। ফ্যাতাড়ুদের প্রতিরোধ, সারপ্লাস পিপলের প্রতিরোধ, প্রতিদিন হারতে হারতে অন্তত একটা দিন জিতে যাবার আশায় কোমর বাঁধা মানুষের প্রতিরোধ ! সেটা কিরকম? আবার আশ্রয় নিই নবারুণে।
    ‘এরা কেউ আকাশের দিকে তাকিয়ে নিরন্তর মেঘ ও খসে পড়া তারাদের সিরিয়াল দেখবে, কেউ পাতার পর পাতা জ্বলজ্বলে ফস্ফরাস অক্ষর দিয়ে কথার সমুদ্রে ঝড়তুফান তুলবে, কেউ হারিয়ে যাওয়া বিপ্লবের খোঁজে অন্ধকারে হাতড়ে হাতড়ে চকমকি মানুষ খুঁজবে, কেউ বধিরদের মধ্যে গান বিলি করে বেড়াবে, কেউ যাদের কানে মোবাইল আটকে আছে তাদের দিনের অন্তত একটা ঘন্টা কথা না বলে চুপ করে থাকতে বলবে, কেউ কেউ রাইফেল পিঠে নিয়ে বুকে হাঁটার জন্য জঙ্গলে পাড়ি দেবে, কেউ শুধু চীৎকার করে যাবে, কেউ শুনুক বা না শুনুক, যা কিছুকে স্বাভাবিক, সঙ্গত, নিয়মমাফিক বলে তকমা দেওয়া হচ্ছে তার প্রত্যেকটার মধ্যে এত মিথ্যে লুকিয়ে আছে যে… এইসব স্বাভাবিক মানুসদের কেউ কোনদিন বেপাত্তা, বেখবর করে দিতে পারবে না….

  3. পড়লাম। অবিনাশরা যুগে যুগে আসবে। সিসিফাসের মতো নতুন করে ঠেলে তুলবে খাদে পড়ে যাওয়া পাথরটাকে। এইটাই হল মানব সভ্যতার এগিয়ে যাওয়ার ইতিহাস। এর মার নেই। এই আশায়ই তো বেঁচে থাকা

  4. অসাধারণ ডিলেটিং। প্রচন্ড গতিশীল এই উপন্যাস। নিশ্বাস ফেলার অবকাশ দেয় না। এপিকে মতো।

  5. এপিকসদৃশ এই উপন্যাস। প্রচন্ড গতিশীল। অসাধারণ ডিটেইলস।

  6. It’s not only a novel but also an epic…. Unusual speed and detailing…. It’s exposing real picture of India…. Hats off

  7. মুল্যবান মতামতের জন্য অকুন্ঠ ধন্যবাদ পাঠকদের ! আপনাদের শুভেচ্ছা আমার কলমকে ভরসা জোগাবে। ভাল থাকবেন সবাই।

  8. banglalive ei prothom apnar lekha pori, etotai bhalolege gechilo je Drohoj ar Jol Bhoirob kine ek niswashe pore feli, sesh erom bhabe porechilam Biswasghatak. ei series tao osomanyo hochche. amar khub ichche apnar sathe dekha korar. ei somoy’e apni amar priyo golpo boliye der onyotomo. amar pronam neben.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.