কেতজেল পাখি (পর্ব ২০)

Bengali Novel

ছিঁড়েখুঁড়ে বের করে আনতে হবে উল্টোদিকে দাঁড়িয়ে থাকা ভিতরকার স্বাভাবিক, সাধারণ মানুষটাকে। যে মানুষটা তার ছেড়ে আশা ছেলেবেলা হারিয়ে ফেলার দুঃখে কষ্ট পায়, ঝরনা লাফিয়ে পড়া পুকুরে দুহাত ছড়িয়ে আলবাট্রাস পাখীর মত সাঁতার কাটে, প্রেমে পড়ে, নির্জন মাঝরাতে বেহালা বাজায়, যাকে ধরাছোঁয়া যায়। এটাই এই মিশনে চ্যালেঞ্জ, এনকাউন্টার অভিরূপের সামনে। আর সেই চ্যালেঞ্জটাই ফের সামনে ঠেলে দিলো ওকে।

“আর সেই একচেটিয়া আধিপত্য আর দখলদারির খেলাটা আজও চলছে। এই পুরো রেড করিডর জুড়ে। একদিকে রাষ্ট্র আর অন্যদিকে আপনারা। দুটো প্যারালাল সিস্টেম যেন। একদিকে যৌথবাহিনী, অন্যদিকে গেরিলা স্কোয়াড। একপক্ষে রনবীর সেনা, সালোয়া জুড়ুম উল্টোদিকে আপনাদের ‘লাল দস্তা’। মাঝখানে পিষে যাচ্ছেন জঙ্গলের গরীবগুর্বো মানুষ। মাথার ওপর উঁচিয়ে থাকা বন্দুকের নল। আপনারা বলছেন রাষ্ট্রের এভাবে হত্যা করার অধিকার নেই। আমার প্রশ্ন, আপনাদের কি আছে? এভাবে যখন তখন যেখানে সেখানে গণ আদালত বসিয়ে কারো প্রাণ কেড়ে নেওয়া যখন সেটা ফিরিয়ে দেয়ার ক্ষমতা আপনাদের নেই। ভবিষ্যতে মানুষটি নির্দোষ প্রমাণিত হলেও।” সামান্য কেশে গলাটা সাফ করে নিলো অভিরূপ। ফের শুরু করলো। “আপনাদের গণ আদালতে শুনেছি এলাকার সাধারণ মানুষও উপস্থিত থাকেন এবং আপনাদের রায়ে রায় দেন। কখনও তাদের জনে জনে ডেকে আলাদাভাবে জিজ্ঞেস করা হয়েছে কি, এই রায়ের সঙ্গে তারা সত্যিই একমত ছিলেন কিনা? না কি ভয়ে একমত হতে বাধ্য হয়েছেন। এখন তো এও জানা যাচ্ছে মুলতঃ বাঙলা আর অন্ধ্র থেকে আসা ইন্টেলেকচুয়াল লিডারশীপের চাপিয়ে দেয়া মত মানতে না পেরে লোকাল কমরেডদের একটা অংশ বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। নতুন পার্টি ফর্ম করেছেন তারা। আর তাদের সঙ্গে মাঝেমধ্যেই সংঘর্ষও বাঁধছে আপনাদের। দলের ওপর থেকে চাপিয়ে দেয়া নীতির সবকিছুর সঙ্গে একমত না হতে পারার জন্য ওড়িষ্যার টপ লিডারশীপের একজনকে এক্সপেল করা হয়েছে দলের তরফে। আর এই ঝাড়খণ্ডেই একজন লড়াকু জোনাল কমান্ডারকে নজরবন্দী করে রেখেছেন আপনারা। মিডিয়ার কাছে ইনফর্মেশন অনুযায়ী এরা দলের কিছু নীতির সঙ্গে একমত নাই হতে পারেন কিন্তু ব্যক্তিগত সততা আর আপোষহীনতার ক্ষেত্রে কোন খামতি ছিল না এদের। এইসব প্রশ্নের কি উত্তর দেবেন আপনি?” একটানা কথা বলার পরিশ্রম। গলা শুকিয়ে কাঠ। পাশে রাখা বোতলটা খুলে জল খেলো অভিরূপ। হাতায় মুখটা মুছে নিয়ে তাকালো সামনে।

দ্রুত পশ্চিমে হেলতে থাকা শীতরোদ ছিটকে এসে পড়েছে জীর্ণ, ভগ্নপ্রায় হাভেলীর বারান্দার এককোণে। একপাশে কাত হয়ে থাকা মুখটা। দৃষ্টিহীন চোখের গোলাপি গহ্বরটা দেখা যাচ্ছে। মিঠে রোদ এসে পিছলে যাচ্ছে গুঁড়িগুঁড়ি কাঁচাপাকা চুল আর সামান্য দুরে দীঘির জলে। মলিন জলপাই উর্দি। পাশে শুইয়ে রাখা কালাশনিকভের গায়ে আলতোভাবে হাত বোলালো অবিনাশ। “একসঙ্গে অ্যাতোগুলো প্রশ্ন করে ফেললেন কমরেড? তবু চেষ্টা করছি এক এক করে সেগুলোর উত্তর দেওয়ার। আমি আগে একবার জবাব দেওয়া সত্ত্বেও গণ আন্দোলনের ওপর গুরুত্ব দেবার প্রসঙ্গটা আপনি বারবার তুলছেন। কে আপনাকে বললো সেটা আমরা দিচ্ছি না? শহরে, গ্রামে বিভিন্ন অর্গানাইজেশন আমাদের ওপেন ফ্রন্ট হিসেবে কাজ করছে। ডিফারেন্ট ট্রেড ইউনিয়নস, স্টুডেন্ট ইউনিয়নস, ইন্টেলেকচুয়ালস, তাদের মাধ্যমে যে কোন মাস মুভমেন্টে অংশগ্রহন করেছি আমরা। এ ব্যাপারেও খামতি থেকে যাচ্ছে অবশ্যই। যতটা সাফল্য আশা করা গিয়েছিল ততটা পাওয়া যায়নি। দলের পক্ষ থেকে সে বিষয়টাকেও অন্তত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে একটা কথা, আর সেটা চেয়ারম্যান মাওয়ের। ‘পলিটিকাল পাওয়ার কামস আউট ফ্রম দ্য ব্যারেল অফ গান।’ এই কোটেশনটা আজও মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি আমরা। তাই আমাদের কাছে মাস মুভমেন্টের গুরুত্ব থাকলেও কখনই সেটা আর্মস স্ট্রাগলের ওপরে নয়। বলা ভালো আপনার ওই সো কলড মাস মুভমেন্টের নামে আর্মস স্ট্রাগলকে বাতিল করে তো নয়ই। আমরা যারা ডাইরেক্টলি পার্টির সঙ্গে জড়িত আছি মানে লিডারশীপ, পি এল জি অ্যাঁ অর্থাৎ পিপলস্‌ লিবারেশন গেরিলা আর্মির মেম্বার … তাদের কখনই কোনও ওপেন মুভমেন্টে যোগ দেওয়া উচিত নয় বলে মনে করি আমরা। শুধুমাত্র প্রয়োজনে গেরিলা ওয়ারফেয়ার আর আর্মস ট্রেনিং ছাড়া …।” অবিনাশের কথাটাকে ধরে ফেললো অভিরূপ – “আচ্ছা, নন্দীগ্রাম মুভমেন্টে কি ডাইরেক্ট ইনভলভমেন্ট বা পার্টিসিপেশন ছিল আপনাদের? আই মীন ওই গেরিলা ওয়ারফেয়ার আর আর্মস ট্রেনিংয়ের ব্যাপারটা ছাড়াও …।”

“কোনও সলিড এভিডেন্স আছে আপনার কাছে?” কুঁচকে যাওয়া ভ্রু আর ঠোঁটের কোণে ঝুলিয়ে রাখা একচিলতে হাসি নিয়ে অভিরূপের চোখে এসে বিঁধে গেল একচোখের দৃষ্টি।

“কলকাতার দুএকজন সেলিব্রিটি কাম ইন্টেলেকচুয়ালস, যারা এই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তারাই বলেছেন একথা।”

“তাহলে জবাবটা তাদের কাছে গিয়ে চাইলেই ভালো হয় না? আশা করি প্রথম দুটো প্রশ্নের উত্তর ইতিমধ্যেই দিয়ে দিয়েছি আমি। এবার আপনার তৃতীয় প্রশ্নে আসি। নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষের ব্যাপারটা …।” কথার মাঝখানে একটু থামল অবিনাশ। অভিরূপ বুঝতে পারছিল হাল্কা হাসির পিছনে দাঁতে দাঁত চাপা চোয়ালটা আরও শক্ত হচ্ছে ক্রমশ। কঠিন গ্রানাইট পাথরের দেয়াল তুলে দিতে চাইছে কোথাও। স্পষ্ট বুঝিয়ে দিতে চাইছে এদুটো ব্যাপারে আর একটাও প্রশ্ন কাম্য নয়। দু-চার সেকেন্ড চুপ থেকে ফের শুরু করলো অবিনাশ – “… এটা ঠিক যে দুহাজার চার সালের আগে অবধি প্রায় একই পথ আর মতাদর্শে বিশ্বাসী তিনটে দলের মধ্যে লড়াইয়ে অনেক ক্ষতি হয়েছে আমাদের। বহু প্রাণ গেছে। ব্যাপারটা একই সঙ্গে ভীষণ দুঃখজনক আর মর্মান্তিক। তারা সবাই, সবাই আমাদের কমরেড, একথাটা স্বীকার করতে আজ আর কোন বাধা নেই আমাদের। কিন্তু সেইসব ভুলভ্রান্তি আর মতপার্থক্য কাটিয়ে শেষ অবধি এক হতে পেরেছি আমরা। শত্রুর বিরুদ্ধে আক্রমণকে আরও এককাট্টা আরও জোরদার করা গেছে – সেটাই সবচেয়ে বড় কথা। যা ক্ষতি হয়েছে, পিছন ফিরে তাকিয়ে তার জন্য হাহুতাশ না করে সামনে এগোতে হবে। আর হ্যাঁ, চার নম্বর যে দলটার কথা বললেন আপনি, জেনে রাখুন আমরা তাদের মুছে দিইনি। তারাই মুছে গেছে। জঙ্গলের মানুষ, গ্রামের মানুষ মুছে দিয়েছে তাদের। কারণ তারা হাতের অস্ত্র ফেলে, বুলেট ছেড়ে ব্যালটের দিকে ঝুঁকেছিল। ভোটে নেমে নেতা মন্ত্রী হতে চাইছিল।” শান্ত গলা উঁচুতে চড়ছিল ক্রমশ। অভিরূপের মনের কোণে চওড়া ভয়টা ফের উঁকি মারতে শুরু করেছে। তবু প্রশ্নটা করেই ফেললো দম চেপে – “লেনিনের ‘পার্লামেন্ট অ্যান্ড প্র্যাকটিস’ বইটা কিন্তু আমি পড়েছি কমরেড। কৌশল হিসেবে কখনও আর্মস স্ট্রাগল কখনও পার্লামেন্টারি ডেমোক্রাসিতে অংশগ্রহন করা। একটা দলকে পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য এটুকু জায়গা ছাড়বেন না আপনারা? মত আর পথের একচুল এদিক ওদিক হলেই বন্দুকের নলের মুখে মুছে ফেলে দিতে হবে তাদের?”

ঠাণ্ডা চোখে প্রশ্নটা শুনলো অবিনাশ। তারপর ফের যখন মুখ খুললো, কণ্ঠস্বর শান্ত হয়ে এসেছে আবার – “দেখুন, এভাবে আসলে কোনও সমাধানে আসা যাবে না। আমি বলবো ওদের এলাকাছাড়া হওয়ার পিছনে সাধারণ মানুষ, আপনি বলবেন দলের তরফে বসানো গণ আদালতগুলোতে মানুষ আমাদের ভয়ে ‘হ্যাঁ’-তে ‘হ্যাঁ’ মেলায়। আমার অভিজ্ঞতা মানুষ শুধু স্বতঃস্ফূর্ত রায়ই দেয় না, আসলে তারাই গণ আদালতগুলো চালায়। চলতেই থাকবে তর্ক। তার চেয়ে বরং আপনার অন্য প্রশ্নের জবাব দিই। জঙ্গলমহলে একতরফা খুনখারাবি, ফলে লড়াইয়ে ধাক্কা, টপ লিডারশীপের একজন সমেত বহু কমরেডের শহীদ হয়ে যাওয়া, এইসব ভুল আর ব্যর্থতার সমালোচনা এবং পর্যালোচনা দুটোই করা হয়েছে পার্টির দলিলে। মিডিয়ার মানুষজন আপনারা জানেনও সেটা। এইসব ভুলভ্রান্তি থেকে রোজ শিখছি আমরা। সতর্ক হচ্ছি। দ্বিতীয়তঃ টোটালি ডিভোটেড অ্যান্ড ডিসিপ্লিনড পার্টিতে দলই শেষ কথা। তার উর্দ্ধে কেউ নয়। কেউ যদি নিজেকে দলের ওপরে ভাবতে আরম্ভ করে তাহলে যা যা ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, আপনি একটু আগে যাদের কথা বললেন তাদের বিরুদ্ধে পার্টি ঠিক সেটাই নিয়েছে। সেখানে ব্যক্তিগতভাবে কেউ সৎ না অসৎ তাতে কিছু এসে যায় না। যে কোন ডিসিপ্লিনড সিস্টেমে এটাই নিয়ম, সবখানে। আমাদের জঙ্গলেও। সেই কবে জেল ভেঙ্গে চলে আসা কথায় কথায় মাথাগরম আর গালাগাল দিয়ে তেড়ে যাওয়া এই অ্যাতোটুকু একটা ছেলেকে শান্ত, সংযত হতে শিখিয়েছে এই জঙ্গল। পড়তে ভালো লাগতে শিখিয়েছে। বন্দুকের সঙ্গে বেহালা হাতে তুলে দিয়েছে। লুম্পেন নুইসেন্স ভ্যালু আর পলিটিকাল স্ট্রেন্থের মধ্যে ফারাকটা বুঝিয়েছে। বুঝতে শিখিয়েছে হিসাবের একচুল এদিক ওদিক, একটা ভুল পদক্ষেপ, সামান্য অসতর্কতা … জঙ্গল থেকে কাউকে মুছে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। আর এটা শিখতে পেরেছি বলেই এ্যাতোদিন ধরে এই বিশাল এলাকা, আপনাদের ভাষায় রেড করিডরে টিকে আছি আমরা। আর আছি বলেই জঙ্গল নদী পাহাড় বাঁচছে। বানিয়া – কনট্রাকটর – কর্পোরেটের লুটের বাতাসা হয়ে যায়নি এখনও। এটাকে আপনি বন্দুকের শাসন, প্যারালাল সিস্টেম, দেশের মধ্যে দেশ, কিলিং ফিল্ড … যা ইচ্ছে বলতে পারেন। লিখতেও পারেন যা মন চায়। তাতে কিস্যু এসে যায় না আমাদের। তারপরেও মারের বদলা মার, একটা চোখের বদলে দুটো চোখ – লড়াইটা কিন্তু চলবে।”

“বানিয়া আর কর্পোরেটের কথা যখন তুললেনই, তাহলে প্রশ্নটা করি।” অবিনাশের কথা শেষ হওয়ার গায়ে গায়েই মুখ খুললো অভিরূপ। “আপনাদের অস্ত্রের একটা বড় অংশ যে পুলিশ আর অন্যান্য সিকিওরিটি ফোর্সের থেকে স্ন্যাচ করা সেটা বন্দুকের বাঁটের গায়ে আবছা হয়ে যাওয়া নম্বর আর মার্কিং দেখলেই বোঝা যায় কিন্তু এর বাইরেও প্রচুর আর্মস – অ্যামুনেশনস রয়েছে আপনাদের আর্মারিতে। তার ওপর এরকম একটা ম্যাসিভ এস্টাবলিশমেন্টের খরচ … মিডিয়ার কাছে খবর অনুযায়ী এর একটা বড় অংশ আসে ওই যাদের আপনি একটু আগেই কর্পোরেট আর বেনিয়া বললেন সেই কাঠ – কেন্দুপাতার কনট্রাকটর আর এই অঞ্চলের মাইনিং ইন্ড্রাস্ট্রিগুলোর পকেট থেকে। যাকে আপনাদের ভাষায় ‘লেভি’ বলেন আপনারা। আর এই ‘লেভি’ দেনেওয়ালার যদি লেভির বদলে মেইনস্ট্রিমের মতো এখানেও কিছু কিছু ইমমরাল অ্যাডভানটেজ নিতে চায় সেটাকেও পুরোপুরি অস্বীকার করা যায় কি? আপনাদের দলে এরকম বেশ কিছু করাপশনের কথা ইতিমধ্যেই শোনা গ্যাছে। অস্বীকার করতে পারেন অভিযোগগুলো?”

“কে বললো অস্বীকার করছি?” প্রশ্নের জবাবে কৌতুক একচোখের কোণে । “সিস্টেম থাকলেই করাপশন থাকবে। লোভ – মানুষের একটা চিরন্তন প্রবণতা। সিস্টেমকে খেয়াল রাখতে হবে এটা কখনোই যেন ভিতরকার খোলস ছেড়ে বেড়িয়ে না পড়ে। পার্টি এদিকটায় সবসময় কড়া নজর রাখে। বলতে পারেন এটাও একটা কন্টিনিউয়াস প্রসেস। অনেকগুলো লড়াইয়ের মতো আরেকটা লড়াই আর সেই লড়াইটাও শক্ত হাতেই লড়তে হয় আমাদের। একটা কথা জানিয়ে রাখি, ফর ইয়োর কাইন্ড ইনফরমেশন … এই ধরনের করাপশনের চার্জে আজ অবধি কয়েকজনকে ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে যার মধ্যে এরিয়া এবং জোনাল কমান্ডান্ট র‍্যাঙ্কিংযের লোকজনও রয়েছে। আর বাকি রইল আর্মস আর এস্টাবলিশমেন্ট কষ্টের ব্যাপারটা। আর্মস স্ট্রাগলে বিশ্বাসী একটা পার্টি, এর সোর্স জানায় না কখনও। আপনার নিজের মতো করে যা ভাবার ভেবে নিন। ব্যস …।” অভিরূপ মুখ খোলার আগেই ওকে হাত তুলে থামাল অবিনাশ “আপনার প্রশ্নের কোটা শেষ হয়ে গ্যাছে কমরেড।”

চুপ করে ভাবছিল অভিরূপ। এটাই কি সেই আয়রন কার্টেন? লৌহ যবনিকা? সব সিস্টেম আর এস্টাবলিশমেন্টের মধ্যেই যা একজিস্ট করে। আলাদা আলাদা মোড়কে। নিজেকে মেলে ধরতে চায় না কিছুতেই।

চিন্তাভাবনার মাঝখানেই সিঁড়ি বেয়ে উঠে আসা পায়ের শব্দ। একটা ছেলে। উনিস-কুড়ি। জলপাই উর্দি। কাঁধে অটোম্যাটিক। এসে দাঁড়ালো সামনে। “কমরেড দাদা, দোপহের কা খানা …।”

“তুম যাও কমরেড। হামলোগ আ রহে হায়।”

চলবে…

গত পর্বের লিঙ্ক –
https://banglalive.com/ketjel-pakhi-the-bird-with-the-fiery-wings-bengali-novel-19/

সুপ্রিয় চৌধুরী
জন্ম ও বেড়ে ওঠা উত্তর কলকাতার পুরোনো পাড়ায়। বহু অকাজের কাজী কিন্তু কলম ধরতে পারেন এটা নিজেরই জানা ছিল না বহুদিন। ফলে লেখালেখি শুরু করার আগেই ছাপ্পান্নটি বসন্ত পেরিয়ে গেছে। ১৪২১ সালে জীবনে প্রথম লেখা উপন্যাস 'দ্রোহজ' প্রকাশিত হয় শারদীয় 'দেশ' পত্রিকায় এবং পাঠকমহলে বিপুল সাড়া ফেলে। পরবর্তীতে আরও দুটি উপন্যাস 'জলভৈরব' (১৪২২) এবং 'বৃশ্চিককাল' (১৪২৩) প্রকাশিত হয়েছে যথাক্রমে পুজোসংখ্যা আনন্দবাজার এবং পত্রিকায়। এছাড়া বেশ কিছু প্রবন্ধ এবং দু চারটি ছোটগল্প লিখেছেন বিভিন্ন পত্রপত্রিকা আর লিটিল ম্যাগাজিনে। তার আংশিক একটি সংকলন বই আকারে প্রকাশিত হয়েছে 'ব্যবসা যখন নারীপাচার' শিরোনামে। ২০১৭ সালে পেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি পুরস্কার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here