কেতজেল পাখি (পর্ব ১২)

428
Bengali Novel

বিশাল পাথরটার ওপর বসেছিল দুজন।

ঘন কুয়াশার চাদর জড়ানো সন্ধে। বিশাল বিশাল সব শাল-মহুল গাছের পাতা বেয়ে ঝরে পড়া কুয়াশার টুপ টুপ শব্দ চারপাশে। খুব হাল্কা বৃষ্টিপাতের মতো। সামনে অনেকটা ফাঁকা জমি। দুরে লেলিহান আগুনের শিখা।

শিকার করা বুনো শুয়োরটা ঝলসানো হচ্ছে। লোকজনের কথাবার্তার ক্ষীণ আওয়াজ ভেসে আসছে। ডান দিকে বেশ খানিকটা দুরে একটা ভগ্নপ্রায় হাভেলীর দিকে আঙুল তুলে দেখালো অবিনাশ। “ওই যে হাভেলীটা দেখছেন ওটা ছিল এই অঞ্চলের কুখ্যাত জোতদার যদুনন্দন পাণ্ডের। রণবীর সেনা। উঁচুজাতের লোকেদের প্রাইভেট আর্মি। বিহার ঝাড়খণ্ডে দলিত হরিজন আদিবাসীদের মধ্যে আমাদের প্রভাব রুখতে তৈরি হয়েছিল। তো সেই রণবীর সেনার স্থানীয় নেতা ছিল যদুনন্দন। বহু নিরপরাধ মানুষ ছাড়াও আমাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কমরেডকে খুন করেছিল ওর বাহিনী। ভয়ঙ্কর শয়তান। আস্ত নরপিশাচ একটা। আশেপাশের দশবিশটা গাঁয়ে কোন হরিজন আদিবাসী বাড়িতে বিয়ে হয়ে নতুন বউ এলে প্রথম রাতে সেই বউয়ের ওপর অধিকার ছিল ওর। বছর পঁচিশ আগে ওর হাভেলী অ্যাটাক করি আমরা। সে এক ধুন্ধুমার লড়াই। হাভেলীর ছাদ থেকে বৃষ্টির মত ছুটে আসা বুলেটে আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুই কমরেড জোগন মূর্মূ আর কুন্তী ওঁরাও শহীদ হয়। ঘণ্টাখানেকের ওপর লড়াই চালিয়ে তবে হাভেলীর দখল নিই আমরা। ভিতরে ঢুকে সে এক দৃশ্য বটে। উঠোনে, বারান্দায়, হাভেলীর ছাদে, চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ভাড়াটে গুণ্ডাদের লাশ। রক্তের স্রোত বয়ে যাচ্ছে। দু-চারটে হার্মাদ কাতরাচ্ছে তখনও। কয়েকটা ছুটে যাওয়া বুলেট। ব্যস মুখ বন্ধ। বাড়ির মেয়েদের ভয়ার্ত চীৎকার ভেসে আসছে বন্ধ ঘরের ভেতর থেকে। স্কোয়াডের কয়েকজন ওদের ওপর গুলি চালাতে যাচ্ছিল। অবস্থা বেগতিক দেখে তড়িঘড়ি দৌড়ে যাই সেখানে। ওদের বোঝাই এটা পুরোদস্তুর একটা যুদ্ধ। নিরপরাধ, অসামরিক মানুষজনকে কিছুতেই আক্রমণ করা চলবে না। সে কিছুতেই বুঝতে চায় না ওরা। কয়েকজন তো উন্মত্তের মতো চীৎকার করছিলো – “আপনারা বাইরে থেকে এসেছেন কমরেড। আপনারা জানেন না গরীব মানুষের ওপর অ্যাতোদিন ধরে কি অত্যাচার চালিয়েছে এরা।” অনেক কষ্টে বুঝিয়ে সুঝিয়ে নিরস্ত করতে হয় ওদের। যদুনন্দন, ছোটভাই শ্যামনন্দন আর দুই ছেলে লুকিয়েছিল মড়াইয়ের পাশে খড়ের গাদার মধ্যে। হাভেলীরই গাই চরানোর একটা বাগাল টেনিয়া লুকোনোর জায়গাটা দেখিয়ে দ্যায় আমাদের। সেখান থেকে চারজনকে টেনে বের করে এনে লাথি মেরে ফেলে দেওয়া হয় উঠোনের মাঝখানে। চারদিক ঘিরে দাঁড়ানো স্থানীয় মানুষ। হাতে হাতে টাঙ্গি, কুঠার, তীরধনুক, বল্লম, কাটারি। আধঘণ্টাখানেকের সংক্ষিপ্ত বিচার। অ্যাতোদিন ধরে এলাকায় যে অত্যাচার চালিয়েছে যদুনন্দন আর ওর বাহিনী, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা। এরপরই যদুনন্দন আর বাকি তিনজনের মৃত্যুদণ্ড দেয় জনগনের আদালত। ব্যস, এরপর আমাদের আর একটাও বুলেট খর্চা করতে হয়নি। এলাকার লোকজনই বাকি কাজটা সেরে দিয়েছিলো। হাভেলীর স্থাবর অস্থাবর যা কিছু সম্পত্তি, গোরু,মোষ, ফসল, টাকাপয়সা … সব বিলিয়ে দেওয়া হয়েছিল মানুষের মধ্যে। কেবলমাত্র বন্দুক, কার্তুজ … সেগুলোর দখল নিয়েছিলো স্কোয়াড। যদুনন্দনের পরিবারের বাকি লোকদের বলা হয়েছিল এই মুহূর্তে হাভেলী ছেড়ে চলে যেতে। দুএকজন কাঁইকুঁই করছিল এক আধটু। মাথার ওপর বন্দুক তুলে একটা ব্ল্যাঙ্ক ফায়ার। মুহূর্তে হাভেলী ফর্সা। জোগন আর কুন্তীকে গড় দেয়া হয়েছিল হাভেলীর জমিতে। আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে শ্লোগান উঠেছিল – “কমরেড জোগন-কুন্তী লাল সালাম!” হাভেলীর পেছনে বিশাল একটা দীঘি ছিল যদুনন্দনের। এখনও আছে। সেটার দখল নিয়ে মাছ চাষ শুরু করা হয়। এই অঞ্চলে এইরকম অনেক পুকুর আছে। কাটাও হয়েছে বেশ কিছু। যৌথ মাছ চাষ শেখানো হচ্ছে। পুকুরের মাছে এলাকার সব মানুষের সমান অধিকার। তবে সমস্যা একটাই। মাছ চাষের ব্যাপারটা আদিবাসীরা বুঝতে চায় না কিছুতেই। ওরা নদী নালা থেকে মাছ ধরে খাবে। অতিরিক্ত মাছ শুকিয়ে রাখবে, গরমে খরায় নদীর জল শুকিয়ে গেলে অসময়ে খাবার জন্য। তবু চাষ করে পুকুরের টাটকা মাছ খেতে চাইবে না কিছুতেই। ওদের মতে এ তো কোন প্রাণীকে বন্দী অবস্থায় হত্যা করার সামিল। শিকার নয় কোনমতেই। এই একই সমস্যা আমরা ফেস করেছি দুধের ব্যাপারেও। এইসব এলাকায় বিশেষ করে মেয়েরা সাংঘাতিক রকম অ্যানিমিয়া, ম্যালনিউট্রিশন আর ক্যালসিয়ামের অভাবে ভোগে। নিয়মিত দুধ খেতে পারলে এইসব অসুখগুলোর মোকাবিলা করা যেতো অনেক সহজেই। তবু এরা গরু, মোষ, ছাগল মানে কোন ধরনের গবাদি পশুর দুধ খাবে না কিছুতেই। ওদের মতে গরুর দুধ, সে তো খাবে বাছুর। মানুষ হয়ে সেটা খাওয়া মানে একটা বাচ্চার থেকে তার মায়ের বুকের দুধ কেড়ে নেয়ার সমান। গরুমোষের প্রয়োজন বলতে এরা বোঝে অসময়ে কেটে তার মাংস খওয়া অথবা বড় করে বিক্রি করা। অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে এর বিরুদ্ধে লড়তে। গ্রামে গ্রামে অ্যাওয়ারনেস ক্যাম্পেন চালানো হয় নিয়মিত। স্কোয়াডের মেম্বারদের ব্যাপারটা বোঝানো গেলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে এ ব্যাপারে সেই বহুযুগ ধরে চলে আসা ভুল ধারনা আর কুসংস্কারগুলো এখনও বেশ ভালোভাবেই গেড়ে বসে রয়েছে। অ্যাতোগুলো বছর ধরে টানা চেষ্টা চালিয়েও পুরোপুরি সফল হইনি আমরা। এটা মানতেই হবে। তবে হাল ছাড়িনি একদম। চেষ্টা চলছেই। ভরসা রাখছি একদিন না একদিন সাকসেস হাতের মুঠোয় আসবে, আসবেই।” বলতে বলতে অন্ধকারেও চকচক করে উঠছিল একচোখ।

“যদি কিছু মনে না করেন … একটা ব্যাপার জানতে প্রচণ্ড কৌতূহল হচ্ছে।।” সামনে রাখা দুটো চায়ের কাপ। সঙ্গে দুটো করে বিস্কুট। একটু আগে দিয়ে গেছে স্কোয়াডের একটা ছেলে। চায়ে চুমুক দিয়ে ফের শুরু করলো অভিরূপ। “আপনার সঙ্গে প্রথম পরিচয়ের পর থেকেই মনের মধ্যে পাক মেরে চলেছে প্রশ্নটা। আমার আদি বাড়ি নর্থ ক্যালকাটা শুনে আপনার চোখে ঝিলিক দিয়ে উঠেছিল। অবশ্য আমার অনুমান ভুলও হতে পারে। উত্তর দেয়া বা না দেওয়াটা সম্পূর্ণ আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার।” হাতের মুঠোয় ধরা চায়ের কাপ। অভিরূপের প্রশ্ন শুনে উদাস চোখে দূরে হাভেলীটার দিকে তাকিয়ে রইলো একচোখ। একটু একটু করে কুয়াশা কেটে গিয়ে ফিকে মোড়া চাঁদের আলো সামনে প্রান্তর জুড়ে। হাল্কা কুয়াশা আর মরা জোছনায় মাখামাখি আবছায়ায় অদ্ভুত দেখছিল খণ্ডহর হাভেলীটাকে। অলৌকিক, অদ্ভুতুড়ে। ঠিক কোন হরর ফিল্মের সিকোয়েন্স যেন।

কিছুক্ষণ বাদে সেদিক থেকে চোখ ফিরিয়ে অভিরূপের দিকে তাকালো অবিনাশ। চোখের উজ্জ্বল চকচকে ভাবটা অনেকটাই অন্তর্হিত এখন। “সে অনেক কথা কমরেড। আর আপনার হাতে সময় তো মেরেকেটে মাত্র আড়াইটে দিন। পুরোটা বলতে গেলে আড়াই মাসেও কুলোবে না। তাই যতটা কেটেছেঁটে বলা যায় আর কি …।” অন্ধকারে গভীর দীর্ঘশ্বাস পড়লো একটা। “উত্তর কলকাতার খালধার আর রেললাইন ঘেঁষা বস্তিটার খুপড়িটায় শুধু বিকেলের রোদ এসে পড়তো মিনিট দশেকের জন্য, ছোট একচিলতে জানালাটা দিয়ে। একটা সস্তা কেরোসিন কাঠের তক্তাপোষে জুড়ে ছিল ঘরের বারোআনা। বর্ষার সময় টালির ফুটো দিয়ে আর পচা খাল উপচে জল ঢুকতো হু হু করে। খাটের তলায় ইঁট দিয়ে উঁচু করা বেদীমত বানিয়ে ধোঁয়া ওঠা স্টোভ জ্বেলে রান্না করতো মা। অন্যসময় দমফাটা ধোঁয়ার উনুন। ফুঁ দিতে দিতে আর কাশতে কাশতে চোখ আর গলার শিরা ফেটে বেরিয়ে আসতে চাইতো আমার রোগাভোগা চেহারার মায়ের। আমার বাবা। তারকনাথ বাগ। তারক জেলে। আশুবাবুর বাজারের ফুটে মাছ বেচতো। বিখ্যাত মাতাল। একই সঙ্গে প্রচণ্ড মারকুটে। আমার থেকেও একপোঁচ কালো গায়ের রঙ। রক্তলাল দুটো চোখ ভাটার মতো জ্বলছে সব সময়। রোজ রাতে খালব্রীজের গায়ে বাঙলার দোকান থেকে মাল টেনে এসে বেধড়ক ঠ্যাঙ্গাতো মা আর আমাদের চার ভাইবোনকে। জুয়ার আড্ডায় হারলে ঠ্যাঙ্গানির পরিমাণটা আরও বাড়তো সেদিন। প্রথম মারের ঝাপটাটা এসে পড়তো আমাদের ভাইবোনদের ওপর। আমাদের বাঁচাতে মারের সামনে পিঠ পেতে দিতো মা। মাকে পিটতে পিটতে এক সময় ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়তো লোকটা। মার চোখে জল। রোগা শরীরময় মারের দাগড়া দাগড়া ছোপ। বাবা ঘুমিয়ে পড়ার পর চোখের জল মুছে আমাদের চার ভাইবোনকে খেতে দিতো মা। মাকে পেটানোর সময় উৎকট গর্জন করত বাবা। “শালী ঢেমনি, কালই তুই শুদ্ধ সবকটাকে লাথ মেরে তাড়াবো ঘর থেকে। তারপর কালীকে ঘরে এনে তুলবো।” একটু বড় হয়ে জেনেছিলাম, খান্না সিনেমার গায়ে হরি সাহার হাটের উল্টোদিকে নন্দন বাগানের লাইনপাড়ায় ওই নামে একটা বাঁধা মেয়েমানুষ ছিলো বাবার। ফলে মদ, জুয়া আর মেয়েমানুষের খরচা মিটিয়ে আর খুব বেশি কিছু ঢুকতো না সংসারে। ওপরে তিন দিদি। সবাই টেনেটুনে কর্পোরেশনের বিনে মাইনের স্কুলে বড়জোর থ্রি কি ফোর অবধি। আমার বেলায় মার জেদ চেপে গেছিল। বাবার গালাগাল, মারধোর সহ্য করেও আমাকে ভর্তি করে দিয়েছিল দীনেন্দ্র স্ট্রীটে পার্কের গায়ে সাড়ে তিন টাকা মাস মাইনের স্কুলে। তখনকার বাজারে অনেক টাকা। তবু মা আমাকে সেখানে পড়াবেই। পড়শিদের কাছে বলে বেড়াতো আমার ছেলে দশজনের একজন হবে। এদিকে আমি তো পাড়ার আর দশটা ছেলের সঙ্গে মিশে সেই ন্যাংটো বয়স থেকেই কথায় কথায় কাঁচা খিস্তি আর উদোম মারপিটে এক্সপার্ট হয়ে উঠছি। বয়সের তুলনায় গায়ের জোর আর শয়তানি বুদ্ধি দুটোই বেশি। তাই বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে আমিই ছিলাম ন্যাচারাল লিডার। সেই সময় বেপাড়ার ছেলেদের সঙ্গে মারপিটে জড়িয়ে পড়ে বাঁ চোখটা চলে যায় আমার। তারপর থেকেই আমার ডাকনামের আগে ‘কানা’ শব্দটা জুড়ে ডাকা শুরু হয়ে যায় আশেপাশের সবকটা এলাকায়। পাড়ায় অবশ্য সামনে ডাকার সাহস হতো না কারো। সেই ছোটবেলা থেকে আমার হিরো লঙ্কাদা। একটা বড়সড় গ্যাং ছিল এলাকায়। রেলইয়ার্ডে ওয়াগন ভাঙতো। বেলগাছিয়া থেকে উল্টোডাঙ্গা ব্রীজ অবধি এরিয়া ছিলো ওর। আমার তখন একমাত্র স্বপ্ন বড় হয়ে লঙ্কাদা হবো। ওর পাশে খামের গায়ে ডাকটিকিটের মতো সেঁটে থাকতাম সবসময়। কখনো সখনো ডেকে টুকটাক চা সিগ্রেট আনতে দিলে ধন্য হয়ে যেতুম একেবারে। বড় হয়ে হয়তো লঙ্কাদাই হতাম কিন্তু সব গণ্ডগোল হয়ে গ্যালো মা হাত ধরে নিয়ে গিয়ে পার্কের পাশে ওই স্কুলটায় ভর্তি করে দেবার পর। সেখানে নতুন সব বন্ধু। তন্ময়, সাগ্নিক, দেবাঞ্জন, সুরজিৎ, প্রশান্ত। ক্লাস ফাইভে অন্য স্কুল থেকে এসে ভর্তি হল সুদীপ্ত। ওরা কেউ আমার ফ্যামিলির মতো না। ওদের বাড়িতে সবাই পড়াশোনা জানে। বাবা কাকারা চাকরি করে। সবচেয়ে আশ্চর্য যেটা ঠেকেছিল ওদের বাবারা কেউ রাতে মাল খেয়ে বাড়ি ফিরে মাকে পেটায় না। ওদের জনে জনে জিজ্ঞেস করেছিলাম কথাটা। ওরা তো শুনে অবাক। এরকমটা আবার হতে পারে নাকি? আমি তো প্রশ্ন করে বেকুব কিন্তু লঙ্কাদা হবার স্বপ্নটায় একটা হাল্কা চিড় খেয়ে গেছিল সেই তখন থেকেই।” কথাগুলো বলেই মিনিটখানেক চুপ করে রইলো অবিনাশ। তারপর ফের শুরু করলো নিচু গলায়। “ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ার চেয়ে খেলাধুলায় অনেক বেশি দড় ছিলাম আমি। সে হান্ড্রেড মিটার স্প্রিন্ট হোক বা হাইজাম্প-লঙজাম্প। প্রত্যেক বছর স্কুল স্পোর্টস চ্যাম্পিয়ন। তবে সবচেয়ে প্রিয় ফুটবল। আর প্রিয় পজিশন গোলকিপার। একটা টিমের কেল্লার শেষ পাহারাদার। আমি ফসকালেই সব শেষ। আমার ওপর নির্ভর করে আছে সবাই। এটা ভাবলেই বুক ফুলে দশহাত। তখন কলকাতা ময়দান কাঁপাচ্ছে পিটার থঙ্গরাজ। দেশের সেরা গোলকীপার। তালগাছের মতো লম্বা। হাত দিয়ে ছুড়ে বল হাফগ্রাউন্ড পার করে দিতো। স্বপ্ন দেখতাম আমিও একদিন বড় ময়দানে বারপোস্টের নীচে দাঁড়াবো। ঠিক থঙ্গরাজের মতো। গ্যালারিতে হাজার হাজার সাপোর্টার চীৎকার করছে আমার নাম ধরে। ঠিক সেই বাগমারি ব্রীজের পাশে স্কটিশ ফুটবল গ্রাউন্ডের মতো।

চলবে…

গত পর্বের লিঙ্ক – https://banglalive.com/ketjel-pakhi-the-bird-with-the-fiery-wings-bengali-novel-2/

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.