অপহরণ করে সম্ভোগ এবং নামমাত্র বিয়েই যেখানে প্রচলিত রীতি

এখানে বিয়ের জন্য কনের মতামতের কোনও দাম নেই। বিয়ের নামে ছেলে বা তাঁর পক্ষ থেকে কেউ কনেকে অপহরণ করে আনতে পারলেই হল। কনের পছন্দ হোক বা না হোক অপহরণকারীর সঙ্গেই কনেকে বিয়ে করতে হবে। এটাই প্রথাগত নিয়ম আফ্রিকার দেশ মালি-তে।

মালি পশ্চিম আফ্রিকার একটি দেশ। এর রাজধানীর নাম বামাকো। পশ্চিম আফ্রিকার এই বড় দেশটির উত্তরে প্রায় অর্ধেক জুড়ে রয়েছে সাহারা মরুভূমি। এই দেশের অধিকাংশ মানুষ কৃষ্ণাঙ্গ, কৃষিকাজ ও পশুপালন এদের প্রধান জীবিকা। ১৯৬০ সালে মালি স্বাধীনতা লাভ করে। মালির অধিকাংশ মানুষ ইসলাম ধর্মাবলম্বী। থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদনে প্রকাশ্যে এসেছে এই দেশের বিবাহ সংক্রান্ত অমানবিক এক দিক, পনেরো বছরের এক স্কুলছাত্রী ‘ফাতামাতা’-এর ঘটনা।

মালি-র মাহাউ-এর বাজার সংলগ্ন এক এলাকা থেকে অপহরণ করা হয়েছিল ফাতামাতা-কে। অপহরণ করা মেয়ের উপর ছেলের থাকে সম্পূর্ণ অধিকার, এই নিয়মের জেরেই ফাতামাতা-র উপর চলতে থাকে নির্মম অত্যাচার। থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশনকে ফাতামাতা জানায়, তাঁর দাদা আগে অপহরণের প্রথা অনুসরণ করে বিয়ে করে মাহাউ-এর পার্শ্ববর্তী গ্রামের এক মেয়েকে। সেই প্রতিশোধ নিতেই পাল্টা অপহরণ করা হয় ফাতামাতাকে। অন্ধকারে ঢুবে যায় ফাতামাতা-র জীবন।

বছর পনেরোর ফাতামাতে আরও জানিয়েছিল, “আমি খুবই ভয়ে ভয়ে কাটিয়েছিলাম, সেই দিনগুলি। আমি সবসময়ই কাঁদতাম তখন। কারণ, আমি ওই লোকটাকে একদমই পছন্দ করি না। এ রকম মেয়েদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক বিয়ের রীতিকে আমি ঘৃণা করি। আমি দেশের সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, দয়া করে এই নিময় নিষিদ্ধ করা হোক। এইভাবে মেয়েদের জীবন নষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করুন।”

ইউনাইটেড নেশনস চিল্ড্রেন্স এজেন্সি, ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে মালি-তেই বাল্যবিহাহের হার সবচেয়ে বেশি। পনেরো থেকে আঠারো বছরের মধ্যেই প্রতি সাত জনের একজনের বাল্যবিহাহ হয়। মালি-র সরকারি কর্মকর্তা ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কর্মীরা এ বিষয়ে জানিয়েছেন, মালি-তে সবচেয়ে বড় সমস্যা অপহরণের পর বিয়ের প্রথা। এসব কন্যাশিশুকে নামমাত্র বিয়ের পর, জোর করে গৃহস্থালি কাজ করতে বাধ্য করা হয়। জোর করে তাঁদের ভোগ করতে থাকে পুরুষেরা। তাদের নিজেদের পরিবারে কখনওই আর যেতে দেওয়া হয় না। খুব কম মেয়েদেরই ছেড়ে দেওয়া হয়।

ফাতামাতা অপহরণের একমাস পর স্থানীয় অধিবাসী ও স্কুল কর্তৃপক্ষের অক্লান্ত চেষ্টায় মুক্তি পায় সে। শেষ অবধি তাঁকে আর অমতে বিয়ে করে জীবন নষ্ট করতে হয়নি। তবে সে দেশে ফাতামাতার মত পরিণতি পায় না বেশিরভাগ নাবালিকারাই। পুরুষ সমাজের ভোগ্য হিসেবেই ব্যবহৃত হয় তারা। মুক্তির পর আবার স্কুল জীবনে ফিরেছে ফাতামাতা। আবারও লেখাপড়ার সুযোগ পেয়ে খুবই খুশি সে। আর সেই সঙ্গে বাল্যবিবাহ বন্ধের প্রতিবাদে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে শুরু করেছে সে দেশের ফাতামাতারা। তাঁরা আশাবাদী একদিন নিজের পছন্দে বিয়েও করতে পারবে তাঁরা। আর তাঁদের শৈশব নষ্ট করা হবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here