Banglalive-4

সিনেমায় একের পর এক কিশোর কুমারের মারকাটারি গান। একটু করে সিন হচ্ছে আর একটা করে গান। ছোটবেলায় পুজো প্যান্ডেলে শুনতাম, এখন কাজ করতে করতে ল্যাপটপ থেকে শুনি। ছবিতে অবশ্য এগুলো কুমার শানুর গাওয়া, লিপ দিয়েছেন প্রসেনজিৎ। গানগুলো শুনতে শুনতে গায়ে কাঁটা দিচ্ছিল আমার, সঙ্গে মাঝে মাঝে বুকে আর গলার মধ্যে দলা পাকাচ্ছে আবেগ।

Banglalive-6

ফার্স্ট আধ ঘণ্টায় কেস যেন পুরো জমে কুলপি হয়ে গেল। এ কোন জীবনকে এবার স্ক্রিনে ধরলেন কৌশিক? রাত আড়াইটের সময় মাল খেয়ে টাল হয়ে থাকা শিল্পী মাচায় উঠছেন, নিজে পারছেন না, ধরে ওঠাতে হচ্ছে তাঁকে। কিন্তু কয়েক হাজার মানুষের সামনে গিয়ে দাঁড়ানো মাত্র ম্যাজিক! যখন গেয়ে উঠছেন ‘এ কী হল, কেন হল’ – সিনটা দেখতে দেখতে কী হয়েছিল ছাড়ুন, রিভিউ লিখতে বসে এই এখন অবধি সারা শরীরে ওটার রেশ ছড়িয়ে পড়ছে যেন।

Banglalive-8

এরপর টলতে টলতে বাড়ি ফিরছেন শিল্পী। তাঁর বাবার দেওয়া নামটা এই ছবির কোথাও নেই, নিজেকে তিনি একটা নামেই ডাকেন। ‘কিশোর কুমার জুনিয়র’ (অভিনয়ে প্রসেনজিৎ)। মাঝরাতে বাড়ি ফেরার পর খিঁচড়ে থাকে মেজাজ। মদ খাওয়া নিয়ে একটা কথা বলতে এলে সহ-শিল্পী খোকনের (অভিনয়ে লামা) মুখে ছুঁড়ে মারেন গ্লাসের এঁটো জল। আর সেটার প্রতিবাদ করতে যাওয়া মাত্র স্ত্রী রীতাকে (অপরাজিতা আঢ্য) ঠাটিয়ে একটা চড়।

Banglalive-9

তীব্র ক্ষোভে, নিপাট শ্লেষে রীতাকে তখন বলতে শুনছি, ‘শিল্পীর বৌ হয়েছি না? একটু মারধোর না খেলে ইজ্জত থাকবে?’

ঘটনা দেখে বোমের মতো ফেটে পড়ছে শিল্পীর তরুণ ছেলে ঋষি (ঋতব্রত মুখোপাধ্যায়)। চিৎকার করে বলে উঠছে, ‘মাচা করে কোন রাজকার্য কর নি, ওরকম গুচ্ছের লোক গান গাইছে।’ সেই নিশুত রাতে এটা বোধহয় শিল্পীর কাছে ‘বিলো দ্য বেল্ট’ শক। প্রচণ্ড রিয়্যাক্ট করে মাচা থেকে আনা নোটগুলো সব ঘরের মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে উড়িয়ে দিচ্ছেন তিনি।

যত দেখছি আর নেশার মতো মনে হচ্ছে, বাহ!

কাট টু পরদিন  সকালবেলায় আসুন। চায়ের দোকানে এই লোকটার কাছে ঝুলোঝুলি করে পাড়া প্রতিবেশী শুনতে চাইছে ‘কী আশায় বাঁধি খেলাঘর’-এর মতো চার্টবাস্টার হিট। পাড়ার পুজোর সেক্রেটারি ছক করছে লোকটাকে দিয়ে কী ভাবে মুফতে গাইয়ে নেওয়া যায়। দেশের বর্ডারে শান্তি ফেরাতে এই লোকটাকে দিয়ে ‘শো’ করানোর প্ল্যান হচ্ছে কেন্দ্রের মন্ত্রীমহল থেকে।

এসব ঘটনা একের পর এক দ্যাখাতে দ্যাখাতে টুপটাপ করে কৌশিক সোজা ঢুকে পড়ছেন গানে। গান মানে শুধু বাংলা নয়।  দু’কলি বাংলা গেয়ে তার সঙ্গে সেই গানটার হিন্দি ভার্সন মিক্স। তারপর ফের বাংলায় ফেরত এসে আবার হিন্দি গানের কলি। কী লাগছে তখন, মনে হচ্ছে ছোটবেলার সেই ‘চিত্রহার’-এর দিনগুলো সব ফেরত এল যেন।

মুশকিল হল এরপর, যখন শুধু কিশোর কুমারের গানের গল্প যথেষ্ট বলে মনে হল না ছবির ডিরেক্টরের! গল্পের গরুকে টেনে-হিঁচড়ে তাই পৌঁছে দিলেন সোনার কেল্লার দেশে! তারপর তাতেও খুশি না হয়ে ‘কিশোর কুমার জুনিয়র’কে বৌ-শুদ্ধু টেনে ওঠালেন একেবারে উটের পিঠের ওপর!

আরও পড়ুন:  'রিপাবলিক ডে'-তে এ কেমন ধরনের পোস্ট করলেন মীর? নেটদুনিয়ায় বিতর্ক তুঙ্গে

বুঝে দেখুন কাণ্ড!

সত্যি বলব? ছবির শুরুর দিকে যে আবেশটা তৈরি হয়েছিল, ছবির সেকেন্ড হাফে সেই মুগ্ধতা আর মোহ-টোহ সব কেটে গিয়ে পুরো সাফ! একেক সময় মনে হচ্ছিল, এই কৌশিক গাঙ্গুলী নামে লোকটার হাত দিয়েই কি একদিন বেরিয়েছিল ‘শব্দ’র (২০১৩) মতো ছবি? এই সেদিনও তো নিজের হৃদয় নিংড়ে ‘বিসর্জন’-এর মতো ছবি বানিয়েছে এ! কোথায় গেল লোকটার হাতের সেই তার?

মনে হচ্ছিল কিশোর কুমারের গান শোনার তো এখন একশো একটা ইজি অপশন আছে! সে সব ছেড়ে এই বকচ্ছপ গল্পওয়ালা সিনেমা দেখতে ঢুকব কেন হল-এ?

শুরুর আধ ঘণ্টা পরেই প্রথম গণ্ডগোলের শুরু। কলকাতার কিশোর কণ্ঠ ‘কিশোরকুমার জুনিয়র’-এর কাছে অনুরোধ আসে রাজস্থানের পাক-বর্ডারে শো করতে যাওয়ার জন্য। খোদ সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট একদিনের জন্যে দিল্লি ডেকে অডিশন নেন তাঁর। এর সঙ্গে সংলাপে এটা শোনান হয় যে, বিশেষ এই ‘শো’ করতে বাংলা থেকে শুধু তিনিই যাচ্ছেন, আর দেশের অন্য অন্য রাজ্য থেকে যাচ্ছে লতা-কণ্ঠী, আশা-কণ্ঠী, রফি-কণ্ঠ বা হেমন্ত কুমার-কণ্ঠ আর্টিস্ট।

স্ত্রী রীতা আর মিউজিক্যাল হ্যান্ডসদের সঙ্গে নিয়ে জয়শলমীর এয়ারপোর্ট অবধি নিরাপদেই যান তাঁরা। এরপর আয়োজকদের তরফ থেকে পাঠানো গাড়িতে উঠে কিছুদূর যাওয়ার পরেই বুঝতে পারেন, গাড়িটা আসলে একদল দুষ্কৃতীর পাঠানো গাড়ি! আর গানের এই পুরো দল এখন তাঁদের হাতে বন্দী!

স্ক্রিপ্টে এখানে একের পর এক ছ্যাঁদা। মিনিমাম লজিক-টজিক মরুভূমির বালির মধ্যে মরীচিকার মত সব হারিয়ে যাচ্ছিল যেন! এক এক করে তার কয়েকটা বলছি এখানে শুনুন।

বর্ডার এরিয়ায় সেন্ট্রাল গভর্নমেন্টের অ্যারেঞ্জ করা শো। সারা দেশের শিল্পীরা নাকি সেখানে পারফর্ম করবে গিয়ে। এঁদের মধ্যে থেকে বাংলার পুরো গ্রুপটা জাস্ট হাওয়া হয়ে গেল আর নড়ে বসল না আয়োজকদের কেউ?

এই হৈ-চৈ উঠলো না যে গভর্নমেন্টের কেটে দেওয়া এয়ার টিকিটে সফর করে যাঁরা এতদূর এই জয়শলমীর এলেন, তার ঠিক পরেই কোথায় গেলেন তাঁরা?

স্ক্রিপ্ট লেখার সময় কথাটা মনে একবারও স্ট্রাইক করে নি বুঝি?

গাইয়ে-বাজিয়ের পুরো দলটাকে নিজেদের আস্তানায় নিয়ে গিয়ে বন্দী করছে তৌফিক (মাসুদ আখতার) আর ফিরোজের (রাজেশ শর্মা) মত অস্ত্রধারী লোক। কিন্তু কেন তারা গোটা দলটাকে ধরে নিয়ে গেল, কেন তাঁদের আটকে রাখল দিনের পরে দিন, সেটা নিয়ে তাদের মুখে ডিরেক্টলি কোথাও কিন্তু একটা শব্দ নেই!

এদিকে কলকাতায় আরেক রগড় তখন। মা-বাবার যে খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না, ওঁদের ছেলে ঋষি সেটা প্রথম জানল নিউজ চ্যানেল থেকে। নিজের বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে ও তখন সেই নিউজ চ্যানেলের অফিসে গিয়ে হাজির। এরপর কী হচ্ছে শুনুন। দেখতে পাবেন, এই খবরটা কভার করতে এই ছেলেটার বাড়ির সামনে থিকথিক করছে রিপোর্টারের ভিড়। এটা দেখে মনে হতে পারে, এটাই এখন নিউজ ট্রেন্ডে টপ।

কিন্তু মজা হল, বাড়ির সামনে যতই রিপোর্টাররা ভিড় করে দাঁড়িয়ে থাকুক আর ঋষিকে ফোন করতে থাকুক না কেন, স্টেট লেভেলে এটা নিয়ে কারুর কিন্তু হেলদোল নেই কোন! একটা মিসিং ডায়রি করার জন্য ঋষি যখন থানায় গেল, পুলিশের বিহেভ দেখে মনে হচ্ছিল, জীবনে এই প্রথম বোধহয় এমন একটা খবর শুনছে লোকটা!

আরও পড়ুন:  মুম্বই গিয়ে দোরে দোরে ঘোরার থেকে থেকে নিজের জায়গায় রাজ করা অনেক ভালো : রচনা ব্যানার্জী

এসব আপনি কী দ্যাখালেন, বুঝিয়ে বলবেন একটু প্লিজ?  ভিন রাজ্যে গিয়ে আমাদের রাজ্যের গুণী মানুষেরা নিখোঁজ হলে, আর সেটা নিয়ে মিডিয়া এই লেভেলে শোর মাচালেও এই রাজ্যের মন্ত্রী-সান্ত্রী নড়ে বসে না কেউ?

আপনি নিজেই ভেবে দেখুন ঠিক কী রকম তালজ্ঞানহীন স্ক্রিপ্ট!

একটা সময় এটা জানা যাচ্ছে যে, অস্ত্রধারী লোকগুলো নাকি সব পাকিস্তানের ডাকাত। আর এঁদেরকে নাকি ধরে নিয়ে গ্যাছে মুক্তিপণ হিসেবে এঁদের ইউজ করবে বলে। আবার এর উলটো একটা কথাও শনা গেল যে এঁদের দিয়ে নাকি গানের একটা শো করানোই আসল লক্ষ্য! কিন্তু সিনেমার শেষ অবধি না মুক্তিপণের ক্লেম নিয়ে একটা কোন সিন আছে বা সেই গানের শো নিয়ে এক্সট্রা কোন শব্দ আছে!

উলটে সিনেমায় এটা দ্যাখান হচ্ছে যে রুক্ষ ঊষর মরুর মধ্যে ডাকাতদের আস্তানাতেই তাদের মর্জি-মাফিক গানবাজনা চালিয়ে গিয়ে তাদেরকে মাতিয়ে রাখছে কিশোর কুমার জুনিয়রের পুরো দলখানা। তার সঙ্গে চায়ের কাপে তুফান তুলে তুমুল তর্ক হচ্ছে যে, কে বেশি বড় গায়ক, রফি নাকি কিশোর। সেটার সলিউশন দেওয়ার জন্যে আরেক দফা গান। দলের কিশোর-কণ্ঠ তো ছিলই, সঙ্গে কো-আর্টিস্ট খোকন নিল রফি-কণ্ঠের রোল, আর শুরু হল রফি-কিশোরের ডুয়েট গাওয়া গান!

ওদিকে ডাকাতদের কিচেনে সোজা ঢুকে যাচ্ছে রীতা, আর নিজে হাতে রেঁধে-বেড়ে খাইয়ে জিতে নিচ্ছে ডাকাতগুলোর মন।

তখন ঠিক মনে হচ্ছিল যে, এটা সিনেমা নাকি ফক্কুড়ি হচ্ছে কোন!

ওদিকে কলকাতায় ঋষি ছেলেটা যা কিছু করছে তখন, তাতে আবার হেল্প করছে ওর এক গার্লফ্রেন্ডের বাবা! আচ্ছা, এই কিশোর কুমার জুনিয়র লোকটার কি সাতকূলে কোন রিলেটিভ কেউ নেই? যে এতবড় কাণ্ড হয়ে যাওয়ার পরেও ওঁদের বাড়িতে ওঁর অল্পবয়সী ছেলের কাছে টিকি দ্যাখা যায় না কারুর?

মাইরি কিছু স্টোরি নামিয়েছেন আপনি কৌশিক! ফার্স্ট ড্রাফট লেখার পরে কী লিখলেন, সেটা আর কখনও চেক করেন না, না?

গার্লফ্রেন্ডের বাবাকে দিয়ে বহু চেষ্টার পর দিল্লির এক মন্ত্রীর সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন পেল ওই ঋষি। আজ বাদে কাল দিল্লি উড়ে যাওয়া। ঠিক সেই মোমেন্টে ঋষি কী করল জেনে ঘাবড়ে যেতে পারেন! ওর একটা গানের দল রয়েছে নিজের। সেই গানের দলটাকে নিয়ে গানের একটা কম্পিটিশনে গাইতে চলে গেল ও। শুধু চলেই গেল না, সে এমন বিরল প্রতিভা যে, সেখানে গিয়ে একটা গান গাইতে না গাইতেই ফার্স্ট হয়ে তিরিশ হাজার টাকার হাতে গরম অ্যাওয়ার্ডও এসে গেল ওর!

এটাতেই আঁতকে উঠবেন না, এরপর আরও আছে।

পুরস্কার বিতরণী সভায় চেক উপহার দেওয়ার সময় চেকের মতো দেখতে ঢাউস যে ফ্লেক্সটা দেওয়া হয়, দেখতে পাবেন সেটা নিয়েই নিজের গানের দলের সাথীদের সঙ্গে বসে আছে ওই ঋষি। আর ফ্লেক্সটাকে দেখিয়ে বলছে, দিল্লি যাওয়ার জন্যে এই টাকাটা এখন আমার খুব দরকার, তাই পুরো টাকাটাই আমি নিচ্ছি। পরে এর পুরোটা তোদের শোধ করে দেব।

আরও পড়ুন:  আদালতে দাঁড়িয়ে আণ্ডারওয়ার্ল্ডের বিরুদ্ধে সাক্ষী দিতেও বুক কাঁপেনি তাঁর! জন্মদিনে অজানা প্রীতি...

এটা দেখে হতবাক হয়ে ভাবছিলাম যে, মঞ্চ থেকে নামার পরে এই চেকের মতো দেখতে বিপুলাকার ফ্লেক্সটা তো জেনারেলি আর সঙ্গে রাখে না কেউ। এই ঋষির দল তাহলে এটা সঙ্গে করে নিয়ে চলেছে কেন এভাবে? নাকি ছেলেগুলো এত গামবাট যে এই ফ্লেক্সটাকেই আসল চেক ভেবে ডগমগ হয়ে আছে! আর আসল চেকটা কালেক্ট করে নি!

ছবিটা দেখতে ঢুকেছিলাম একা। আর শুরুর দিকটা এত ভাল লাগছিল যে, মনে মনে ভাবছিলাম, হল্‌ থেকে বেরনোর সময় বাড়ির বাকিদের জন্যে টিকিট কেটে নিয়ে যাব কিনা। আর ছবিটা যখন শেষের দিকে, তখন টিকিট কাটার প্ল্যান তো ছাড়ুন, মনে মনে কী ভাবছি জানেন? ভাবছি, এত খাজা সিনেমা কি সত্যি সত্যি কৌশিক গাঙ্গুলীর তৈরি?

ঝুল স্ক্রিপ্টে ঠেসে মারকাটারি সব গান পুরে দিলেই ছবি হিট হয়ে যাবে, এরকম কোন ফর্মুলা পেয়েছিলেন নাকি কোথাও? পোস্টারে ‘কিশোর কুমার’ নামটাই বড় করে লেখা, তলায় ছোট্ট করে ‘জুনিয়র’। গানগুলোর পাশাপাশি লোকটার নাম আর ব্র্যান্ডটাকেও যতটা সম্ভব এনক্যাশ করা যায় আর কি!

প্রসেনজিৎ আর অপরাজিতার মতো দুই দুর্ধর্ষ অভিনেতাকে সঙ্গে পেয়েও ছড়িয়ে এভাবে মাঠ করে দিলেন স্যর?

বর্ডার এরিয়ায় দুষ্কৃতীরা কাউকে তুলে নিয়ে গেলে তারপর ঠিক কী যে হতে পারে, সে তো বহুকাল আগে ‘রোজা’ (১৯৯২) ছবিতে দেখেই ফেলেছি সবাই। ভেবে দেখুন তো, তার পাশে আপনার এই ছবি!

আর একটা কথা সত্যি করে বলুন আমায় দেখি? রাজস্থানি ডাকুর আখড়ার ওই অংশটা কলকাতার স্টুডিওতে সেট বানিয়ে সেরে ফেলেছিলেন, না? সেই জন্য খানকয়েক জোন ছাড়া আর কোথাও নড়ছিল না ফ্রেম! এমনকি ডায়ালগে যখন একবার এটা শোনান হল যে, ডাকুদের এই আস্তানা-কাম-কেল্লাটাতে ইচ্ছেমত ঘুরে-ফিরে বেড়াতে পারে কিশোর কুমার জুনিয়রের টিম, তখনও যে একজনও কেউ ‘কেল্লা’ ঘুরতে বের হল না, তার কারণও তো বোধহয় ওইটে! যে, ওরা ঘুরবে কোথায়, গণ্ডী-টানা জোন থেকে বেরিয়ে গেলে বাকি সবটাই তো স্টুডিও-ঘরের সেট!

ভুলে যাবেন না প্লিজ, যে সিনেমা বলুন, সিরিয়াল বলুন, লোকে শুধু নিটোল গল্প দেখতে চায়। মরুভূমিতে উটের সারি দেখতে হলে লোকে বাংলা সিনেমা না দেখে তো ‘অ্যানিম্যাল প্ল্যানেট’ দেখতে বসতো ভাই!

চতুর্দিকে যে রেটে এই ‘কিশোর কুমার’-এর গান বাজিয়ে প্রমোট করেছেন, কিছু লোক হল্‌ অব্দি পৌঁছে যাবে ঠিকই। ইনিশিয়াল কালেকশনও ভালই হয়তো হবে।

কিন্তু তারপর কী হবে? জেনেশুনে ক’দিন ঠকবে লোকে?

বক্স অফিসে ফাইনালি এর কী হাল হলো, জানার জন্য সবার মতো আগ্রহ ভ’রে ওয়েট করবো আমিও।

3 COMMENTS

  1. Duronto review. Cinema ta suru te dekhe vebechilam bodhoe macha shilpi’r jboner othapora nie ekta markatari classic kichu hobe. But second half ta puro ghente gelam.

  2. Credit Card e Gautam Ghosh er naam ta dekhe vebechilam hoeto onar life rr tanaporen nie kichu heart touching movie dekhte pabo…….but alas

  3. আনন্দবাজার হোক আর এই সাইট । খারাপ হোক কি ভালো, এই জাতীয় ছবি নিয়ে লেখালেখি করছে। ছবি তো প্রচার পেয়ে যাচ্ছে , যতই খারাপ লিখুক, লোকে তো জানতে পারছে । আজ থেকে ১৫ বছর আগে তো কিছুই লেখালেখি হত না । তবুও সেই ছবি গুলো কিন্তু বক্স অফিসে উতরে যেত ।