যন্ত্রণাদায়ক কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা এড়াতে পাতে রাখুন এগুলি

1400

খাদ্যাভ্যাস, জীবনচর্চা, ওষুধ বা রোগের কারণে অনেক সময়েই দেখা দিতে পারে বিব্রতকর এবং যন্ত্রণাদায়ক কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা। অনেকেরই ভ্রান্ত ধারণা, মলত্যাগ করতে কষ্ট হলেই তাকে কোষ্ঠকাঠিন্য বলে। বরং চিকিত্সকদের মতে, সপ্তাহে তিনবারের কম মলত্যাগ হলে তবেই তাকে কোষ্ঠকাঠিন্য বলা যায়। এর পাশাপাশি থাকতে পারে পেটব্যথা এবং পেট ফাঁপার মতো উপসর্গও। তাই এ সমস্যা এড়াতে প্রথমেই পরিবর্তন আনুন খাদ্যতালিকায়। পাতে রাখুন ফাইব্রাস ফুড! হেলদি ডায়েটের খাদ্যতালিকায় এই নামটি যথেষ্ট পরিচিত। সাধারণত আমরা যাকে বলে থাকি ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার।

একেক জনের ক্ষেত্রে একেকটি কারণে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দেয়। তাই কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিলে অবশ্যই ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করুন। কিছু সহজলভ্য ওষুধ রয়েছে যা কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে।

অনেকেরই দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারে পেটের সমস্যা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। সেক্ষেত্রে খাদ্য তালিকা থেকে এসব খাবার বাদ দিতে পারেন। তবে এর বদলে অবশ্যই অন্য ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার খাওয়া শুরু করতে হবে।

গরমকালে এমনিতেই বেশি করে জল পান করা উচিৎ। শরীরে নিয়মিত জলের অভাব হলেও কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। তাই কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিলে হালকা গরম জল পান করতে পারেন। তবে অবশ্যই কোমল পানীয় বা জুস পান করবেন না। এতে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা আরও বাড়তে পারে।

জল পান করার পাশাপাশি ফাইবারযুক্ত খাবার খান। যেমন হোল-গ্রেইন শস্য, সবজি, বাদাম, শিম, ডাল মটরশুঁটি, বিভিন্ন ফল। এসব খাবার মলত্যাগ হতে সাহায্য করে।

তবে ফাইবারযুক্ত খাদ্যের পাশাপাশি যথেষ্ট জলও পান করতে হবে। পুষ্টিবিদদের মতে, রোজকার খাদ্যতালিকায় ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার রাখা অত্যন্ত জরুরি। বিভিন্ন গবেষণায় এমন তথ্যও মিলেছে, যাঁদের খাদ্যে ডায়টারি ফাইবারের মাত্রা বেশি থাকে তাদের উচ্চ রক্ত চাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, স্ট্রোক ইত্যাদি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম থাকে।

যেমন, কলাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে অনেক সাহায্য করে থাকে। তাছাড়া কলা পটাশিয়াম বৃহদান্ত্র ও ক্ষুদ্রান্ত্রের কর্মক্ষমতা বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুতরাং কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর করতে কলার অবদান অপরিসিম। এছাড়া পালং, এক কাপ সেদ্ধ পালং শাকেই থাকে চার গ্রাম ফাইবার। এছাড়াও থাকে ১৫০ মিলিগ্রামের বেশি ম্যাগনেসিয়াম, যা কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে। সুতরাং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে পালং শাকের ভূমিকা অপরিসীম।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে টকদইয়ের তুলনায় নেই। টকদইয়ের প্রোবায়োটিক গুণাগুণ আপনার হজমের সমস্যাকে দূর করতে অনেকাংশে সাহায্য করে। এমনকি নিয়মিত টকদই খেলে আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার সম্ভাবনা থাকবেই না।

এছাড়া গাজর একটি সুস্বাদু সবজি। এই সবজিটি কাঁচাও খাওয়া যায় এবং রান্না করেও খাওয়া যায়। এই অত্যন্ত সুস্বাদু সবজিটি প্রক্রিতিক ডায়াটেরি ফাইবারের বেশ ভালো উৎস।


কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ত্রিফলা কার্যকরী। ত্রিফলা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে। এছাড়া এটি হজম প্রক্রিয়া সক্রিয় করতে ও বদহজম জনিত সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। একচা চামচ ত্রিফলা পাউডার একগ্লাস গরম জলে বা গরম দুধে ভালভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। রাতে ঘুমানোর আগে তা নিয়মিত পান করতে হবে। এতে করে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা নিয়ে চিন্তা করতে হবে না।

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.