ভাইদের মৃতদেহ খেয়ে জীবনধারণ করে বাবার হাড় থেকে পাশার ঘুঁটি বানিয়ে প্রতিশোধের খেলা খেলতে থাকেন শকুনি

ভাইদের মৃতদেহ খেয়ে জীবনধারণ করে বাবার হাড় থেকে পাশার ঘুঁটি বানিয়ে প্রতিশোধের খেলা খেলতে থাকেন শকুনি

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

আমি যদি দুর্গার বিপরীত দিক অর্থাৎ দুর্গতি নিয়ে বলি ? আরও স্পষ্ট করে বললে‚ পুরাণে যাঁরা খলনায়ক তাঁদের নিয়ে বলি ? প্রত্যেক খলনায়কের উৎস কিন্তু একই‚ যেখান থেকে নায়কের সৃষ্টি | জগতে ভালমন্দ দুটো একই সৃষ্টিকর্তার বানানো | কারণ একদিক না থাকলে অন্যদিকের ভালত্ব বা মন্দ দিক পরিস্ফুট হয় না | অন্ধকার না থাকলে বুঝতে পারতেন আলো কাকে বলে ? 

যাই হোক কিছু পৌরাণিক নেগেটিভ চরিত্রকে নিয়ে লিখব মনস্থ করেছি | কংসের পরে এই পর্বে আর এক পৌরাণিক খলনায়ক মাতুল শকুনি |

পুরাণ বা মহাকাব্যে খলনায়ক মাতুল হিসেবে কংস যতটা আলোচিত‚ ততটা নন শকুনি | তাঁকে কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের জন্য দায়ী করা হয় ঠিকই | কিন্তু গান্ধাররাজের মূল শত্রু ছিলেন ভীষ্ম‚ ধৃতরাষ্ট্র এবাং পাণ্ডু | একমাত্র পাণ্ডবরা নন | শকুনি চেয়েছিলেন সমগ্র কুরু বংশ ধ্বংস করে দিতে | এই শত্রুতার বীজ লুকিয়ে ছিল গান্ধারীর বিয়েতে |

গান্ধারী এবং শকুনি ছিলেন গান্ধাররাজ ( বর্তমান আফগানিস্তান ) সুবলের সন্তান | জ্যোতিষী ছকবিচার করে বলেন‚ গান্ধারী স্বামীহীনা হবেন | সতর্কতা নিতে তাঁর সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হ্য় এক ছাগলের | এরপর সেই ছাগটিকে মেরে ফেলা হয় | ধৃতরাষ্টের সঙ্গে বিয়ের সময় এই ঘটনা গোপন রাখা হয় |

পরে কুরু বংশে প্রকাশিত হয়ে পড়ে বিধবা অবস্থায় গান্ধারীর বিয়ে হয় ধৃতরাষ্টের সঙ্গে | এই কথা গোপন রাখার জন্য গান্ধার রাজ্য আক্রমণ করেন ভীষ্ম‚ ধৃতরাষ্ট্র এবং পাণ্ডুর বিশাল বাহিনী |

যুদ্ধে পরাস্ত হন রাজা সুবল | বন্দি করা হয় শকুনি-সহ তাঁর শতপুত্রকে | তাঁদের প্রাণে হত্যা না করে অভূক্ত রাখা হয় | কারাগারে আটক কয়েকশো গান্ধার যুদ্ধবন্দি | কিন্তু খাবার দেওয়া হত একজনের | এইভাবে তিলে তিলে তাঁদের হত্যার পরিকল্পনা নেয় হস্তিনাপুর রাজপুরুষরা |

গান্ধার রাজবংশ তখন স্থির করে‚ বাঁচিয়ে রাখা হবে চতুরতম বংশধর শকুনিকে | তাই সবাই অনাহারী থেকে ওই সামান্য খাদ্য দেওয়া হত শকুনিকে | এইভাবে বন্দিদশায় একে একে মারা যান শকুনির সব ভাই | মৃত্যু হয় গান্ধাররাজ সুবলেরও | শুধু প্রতিশোধ গ্রহণের লক্ষ্যে জীবিত থাকেন শকুনি | প্রাণধারণের জন্য তিনি নাকি ভাইদের মৃতদেহ খেতেন | রীতিমতো কুকুর-শকুনের সঙ্গে লড়াই করে খাদ্য যোগাড় করতে হত গান্ধার-কুমারকে !

বেদব্যাসের মহাভারতে না থাকলেও এই মহাকাব্যের আঞ্চলিক রূপে আছে‚ সুবল তাঁর পুত্রকে পরামর্শ দেন তাঁর হাড় থেকে পাশার ঘুঁটি বানাতে | বলা হয়‚ সুবলের মৃত্যুর পরে তাঁর নিভে যাওয়া চিতা থেকে গোড়ালির হাড় সংগ্রহ করেন শকুনি | পিতা তাঁকে বলে গিয়েছিলেন গোড়ালির হাড় আগুনে পুড়বে না | এরপর ওই হাড় দিয়ে তৈরি হয় শকুনির পাশার ঘুঁটি | যা নাকি আদপে ছিল তাঁর ক্রীতদাস |

মহাভারতের বহু রূপে কথিত‚ সুবল বেঁচে থাকতেই তাঁর দেহ থেকে ওই হাড় সংগ্রহ করেন শকুনি | কোথাও বলা হয়‚ পিতার নয় | ওই হাড় শকুনির জ্যেষ্ঠ ভ্রাতার | অনেক স্থানে আবার বলা হয়‚ কোনও হাড় নয় | শকুনির পাশার ঘুঁটি নির্মিত হয়েছিল হাতির দাঁত দিয়ে |

যাই হোক‚ বন্দিদশা থেকে একদিন মুক্তি পেলেন শকুনি | একে অন্ধ ধৃতরাষ্ট্রের সঙ্গে দিদির বিয়ে তিনি মেনে নিতে পারেননি | তার উপর চোখের সামনে দেখেছিলেন পরিবারের সবার মৃত্যু | ফলে প্রতিশোধস্পৃহায় জ্বলতে থাকা শকুনি এসে উঠলেন দিদি গান্ধারীর কাছে |

গান্ধার সিংহাসন পড়ে থাকল শূন্য | শকুনি মন্ত্রণা দিতে লাগলেন ভাগনে দুর্যোধনকে | পুত্র উলুকাকে শকুনি বললেন‚ রাজ-ঐশ্বর্যের থেকে তাঁর কাছে অনেক বেশি প্রিয় প্রতিশোধ চরিতার্থ করা | ধ্বংসের খেলায় নেমে ধূর্ত শকুনি বুঝলেন দুর্যোধন মূর্খ এবং গোয়াঁড় | তাঁকেই তিনি ব্যবহার করলেন নিজের চালের দান স্বরূপ | শকুনির লক্ষ্য ছিল কৌরব-পাণ্ডবদের লড়িয়ে দিয়ে পুরো বংশ ধ্বংস করে দেওয়া | শকুনির মন্ত্রণাতেই অয়োজিত হয় পাশাখেলা | যেখানে একে একে সব কিছু হারান পাণ্ডব ভ্রাতারা | এই পাশা খেলার আসরই কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের পূর্বপ্রস্তুতি |   

চরিত্রে তামসিক বৈশিষ্ট্যের আধিক্য থাকলেও সাত্ত্বিক শকুনি ছিলেন মহা শৈব | কেরলের কোল্লাম জেলায় পবিত্রেশ্বরমে শকুনির মন্দিরও আছে | কাছেই আছে মন্দির দুর্যোধনের নামে | দুটি মন্দির রক্ষণাবেক্ষণ করে কুরুবার সম্প্রদায় | বলা হয় মহাভারতের এরাই কৌরবদের বংশধর | এই পবিত্রেশ্বরম সেই স্থান যেখানে কৌরবদের মধ্যে কুরুক্ষেত্র সমরের আগে অস্ত্র ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল | এই স্থানেই নাকি যুদ্ধের পরে ব্রহ্মত্ব লাভ করেছিলেন শকুনি | তাই এখানেই আছে তাঁর মন্দির |

প্রচলিত বিশ্বাস হল শকুনি হলেন স্বয়ং দ্বাপর যুগের প্রতীক | আর দুর্যোধন হলেন কলিকালের প্রতীক | ভারতের ইতিহাসেও শকুনির উল্লেখ আছে | গান্ধারের রাজা অম্ভি কুমার ছিলেন রামায়ণের ভরত এবং মহাভারতের শকুনির বংশধর | তক্ষশীলায় চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের সহপাঠী ছিলেন অম্ভি | আলেকজান্ডার যখন ভারত অভিযানে আসেন‚ তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করেন অম্ভি | পরে সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের হাতে নিহত হন তাঁর একদা সহপাঠী এবং শকুনির উত্তরসূরী অম্ভি কুমার |

(পুনর্মুদ্রিত ও ঈষৎ পরিবর্তিত)

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

One Response

  1. তথ্য গুলো ঠিক মিলছে না (রামায়ন , মহাভারত, এবং আলেকজান্ডার ও চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের, আন্ন দিকে মহাভারতের শকুনি, রামায়ণের ভরত, চন্দ্রগুপ্ত এবং আলেকজান্ডার) এর মধ্যে কোনো মিল খুঁজে পাচ্ছি না।
    যদি কোনো ভুল না করি, তাহলে রামায়ন আগে ও মহাভারত পারে হয়, তাহলে শকুনির বংশধর ভরত কিকরে হয় ? ভারতের বংশধর শকুনির হবার কথা। কারণ রামায়ন হয়েছে ত্রেতাযুগে আর মহাভারত দাপরযুগে। রামের জন্ম ত্রেতাযুগে আর কৃষ্ণর জন্ম দাপরযুগে ।

Leave a Reply

Handpulled_Rikshaw_of_Kolkata

আমি যে রিসকাওয়ালা

ব্যস্তসমস্ত রাস্তার মধ্যে দিয়ে কাটিয়ে কাটিয়ে হেলেদুলে যেতে আমার ভালই লাগে। ছাপড়া আর মুঙ্গের জেলার বহু ভূমিহীন কৃষকের রিকশায় আমার ছোটবেলা কেটেছে। যে ছোট বেলায় আনন্দ মিশে আছে, যে ছোট-বড় বেলায় ওদের কষ্ট মিশে আছে, যে বড় বেলায় ওদের অনুপস্থিতির যন্ত্রণা মিশে আছে। থাকবেও চির দিন।