কোমল অঙ্গে বের হল কর্কশ লোম‚ দেখা দিল লেজ‚ শাপগ্রস্ত অপ্সরা পরিণত হলেন কুরূপা বাঁদরীতে

কোমল অঙ্গে বের হল কর্কশ লোম‚ দেখা দিল লেজ‚ শাপগ্রস্ত অপ্সরা পরিণত হলেন কুরূপা বাঁদরীতে

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

বেশ অনেকদিন হয়ে গেল হিন্দু পুরাণের অভিশাপ নিয়ে লিখছি | নতুন বছরে আর এই বিষয় নয় | অন্য কিছু নিয়ে লিখব বলে মনস্থ করেছি | তার আগে চৈত্র মাসের অন্তিম লগ্নে অন্তিম অভিশাপ কথন | একঘেয়েমি দূরীভূত হলে আবার পুনরায় প্রত্যাবর্তন করা যাবে এই বিষয়বস্তুতে | ইত্যবসরে হনুমানের জন্মদাত্রী অঞ্জনার অভিশাপগ্রস্ত হওয়ার আখ্যান | তিনি ছিলেন স্বর্গের অপ্সরা | পদস্খলনে বাঁদর হয়ে জন্ম দিলেন হনুমান সন্তানের |

কোন উৎস থেকে এই অভিশাপ এল তা নিয়ে একাধিক মত আছে | কোনও সূত্র অনুযায়ী তিনি ছিলেন মহা ঋষি গৌতমের কন্যা | মাতা অহল্যার অভিশাপে বানর রূপ লাভ করেছিলেন | আবার কোথাও উল্লেখিত হয়েছে ইন্দ্রের সভায় নৃত্যরত অপ্সরা পুঞ্জিকস্তলাকে শাপগ্রস্ত করেছিলেন দেবরাজ নিজেই | তৃতীয় সূত্র অনুযায়ী যা উল্লেখিত‚ সেটা নিয়েই আমি বলব |

একদিন স্বর্গের অপ্সরা পুঞ্জিকস্তলা মর্ত্যে আগমন করে ইতস্তত ভ্রমণ করছিলেন | সে সময় তাঁর চোখে পড়ে বৃক্ষতলে ধ্যানরত এক ঋষি | তিনি তপস্যামগ্ন | কিন্তু তাঁর রূপ অতি বিকট | তিনি বাঁদররূপী | অপ্সরা পুঞ্জিকস্তলার কাছে তা অত্যন্ত বিসদৃশ ও হাস্যকর বোধ হল | তিনি খিলখিলিয়ে হেসে উঠলেন | 

সেই হাসিতে ঋষির তপস্যাভঙ্গ হল না | কিন্তু এখানেই নিবৃত্ত হলেন না অপ্সরা | নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনলেন | বাঁদর ভেবে পাথর এবং ফল ছুড়তে লাগলেন ঋষির উদ্দেশে | একটি পাথর এসে লাগে ঋষির কপালে | আহত ধ্যানভঙ্গ ঋষি রোষানলে দৃষ্টিপাত করলেন পুঞ্জিকস্তলার দিকে | অভিশাপ দিলেন‚ অপ্সরা নিজেও পরিণত হবেন কুদর্শন বাঁদরীতে | 

এতক্ষণে ভ্রমভঙ্গ হল অপ্সরা পুঞ্জিকস্তলার | তিনি ভূলুণ্ঠিত হলেন ঋষির পদযুগলে | বারংবার ক্ষমা প্রার্থনা করলেন অনুতপ্ত অপ্সরা | তাঁকে দেখে ঋষি উপলব্ধি করলেন অপরাধে প্রকৃতই অনুতপ্ত অপ্সরা | তিনি ঈষৎ নম্র হয়ে বললেন‚ অভিশাপ তো ফেরাতে পারবেন না | তবে প্রভাব কিছুটা হ্রাস করতে পারবেন | অপ্সরা পুঞ্জিকস্তলাকে মহাদেবের পুজো করতে হবে | যেদিন তিনি মহাদেবের অবতারের জন্ম দেবেন সেদিন অভিশাপমুক্ত হয়ে অপ্সরারূপ ফিরে পাবেন |

এই বলে অদৃশ্য হয়ে গেলেন ঋষি | ততক্ষণে অপ্সরার কোমল অঙ্গ আবৃত বড় বড় কর্কশ লোমে | বেরিয়ে এসেছে লেজ | তিনি তখন কুরূপা বাঁদরী | দিকভ্রান্ত হয়ে ঘুরতে লাগলেন তিনি | কোথায় যাবেন‚ কী করবেন কিছু জানেন না | উদভ্রান্ত হয়ে প্রবেশ করলেন ঘন অরণ্যে | সেই অরণ্য অতিক্রম করে কখন উপস্থিত হলেন এক ঋষির আশ্রমে‚ নিজেও টের পাননি |

সেই তপোবনে গিয়ে এলিয়ে পড়লেন শ্রান্ত অবসন্ন বাঁদররূপী অপ্সরা | তাঁকে কিন্তু সেখানে কেউ পরিহাস করল না | পরম মমতা আর স্নেহে তাঁকে আপন করে নিলেন আশ্রমিকরা | নতুন নামকরণ হল অঞ্জনা | তপোবনের আবাসিক হয়ে দিবারাত্রি শিবপার্বতীর ধ্যান করতে লাগলেন তিনি |  

ইতিমধ্যেই শাম্বসদন নামে এক ভীষণদর্শন রাক্ষস আক্রমণ করল ওই তপোবন | অঞ্জনা সঙ্কল্প করলেন তিনি লড়াই কবরেন রাক্ষসের বিরুদ্ধে | তপোবনের কল্যাণ চেয়ে প্রার্থনা করতে লাগলেন হর পার্বতীর কাছে | একদিন শুনলেন দৈববাণী | নিজের রক্তেই বিনাশলাভ করবে শাম্বসদন | 

ইতিমধ্যে তপোবনে আগত হলেন রাজা কেশরী | তিনি বানররাজ ছিলেন | ওই তপোবন ছিল তাঁর শাসনাধীন অঞ্চলের মধ্যেই | তপোবনকে রাক্ষসদের অত্যাচার থেকে রক্ষার্থে এসেছিলেন তিনি | তাঁর সঙ্গে শাম্বসদন নিধনে উদ্যত হলেন অঞ্জনাও | 

কিন্তু নৃপতির কেশরীর কোনও শরেই সেভাবে আহত হল না রাক্ষস | তার হাত পা থেকে রক্তপাত হল | কিন্তু প্রাণ বিনাশ হল না | এক্ষণে স্মরণে এল অঞ্জনার | ভূমিতে পড়েছিল রাক্ষসের রক্ত | তাতে শর সিক্ত করে নিক্ষেপ করলেন তিনি | এ বার লুটিয়ে পড়ল রাক্ষস | উপলব্ধি করলেন কেশরী | তিনি ওই রক্তে সিক্ত করে একের পর এক শরনিক্ষেপ করে বধ করলেন রক্ষসকে | 

রক্ষা পেল তপোবন | ইতিমধ্যেই একে অপরের প্রেমে মগ্ন হয়ে ছিলেন কেশরী ও অঞ্জনা | এবার তাঁদের বিবাহ সম্পন্ন করলেন ওই তপোবনের ঋষি |  

এদিকে ওই সময়ে অযোধ্যায় পুত্র্যেষ্টি যজ্ঞ করছিলেন রাজা দশরথ | যজ্ঞের পরে মহাপ্রসাদ পায়স খাবেন তাঁর তিন রানি | কৌশল্যা ও কৈকেয়ী হাতে ধরে আছেন পায়সপূর্ণ পাত্র | তিন জনে একসঙ্গে চুমুক দেবেন | কিন্তু ছোট রানি সুমিত্রার হাত থেকে এক লহমায় পায়সপূর্ণ পাত্র নিয়ে চলে গেল এক বায়স | এরপর কৌশল্যা ও কৈকেয়ী নিজেদের পাত্র থেকে অর্ধেক পায়স দিলেন সুমিত্রাকে | ফলে তিনি জন্ম দেন যমজ পুত্র লক্ষ্মণ ও শত্রুঘ্নর |  

যাই হোক‚ সেই বায়স সুবর্চলাও এক শাপগ্রস্ত অপ্সরা | পরমান্ন পূর্ণ পাত্র ঠোঁটে ধরে সে উড়তে লাগল | এদিকে রাজা কেশরী ও রানি অঞ্জনা সকালের প্রার্থনা সেরে সবে বিশ্রাম নিচ্ছেন | এমন সময় সেই পরমান্ন পূর্ণ পাত্র অঞ্জনার হাতে ফেলল বায়স সুবর্চলা | বলল‚ ওই পরমান্ন স্বয়ং মহাদেবের আশীর্বাদধন্য | তাই অঞ্জনা যেন কালবিলম্ব না করে তা ভক্ষণ করেন | 

বায়স সুবর্চলার ঠোঁট থেকে পতন কালে এক দমকা বাতাস স্পর্শ করে যায় ওই পায়সের পাত্রকে | প্রকৃতপক্ষে তা ছিল বায়ুদেব বা মরুতের আশীর্বাদ | পায়স ভক্ষণের ফলে জন্ম হল হনুমানের | যিনি একাধারে পবনপুত্র এবং অন্যদিকে মহাদেবের অবতার | পুত্রের জন্মদানে এতদিনে অভিশাপমুক্ত হলেন অঞ্জনা | ফিরে পেলেন পুরনো অপ্সরা নাম ও রূপ | 

ভিন্ন পৌরাণিক সূত্র বলছে‚ রাজা কেশরী ও রানি অঞ্জনা নিজেদের পুণ্যবলে পেয়েছিলেন মহাদেব ও মরুতের আশীর্বাদ | সেই আশীর্বাদেই জন্ম নেন হনুমান | পবনপুত্র ও মহাদেবের অবতার | একাধারে বাঁদর ও অন্যদিকে মহাদেবের অবতার‚ এই দুয়ের সম্মিলিত বৈশিষ্ট্যধারী জাতকের জন্ম দিয়ে ঋষির দেওয়া শাপমুক্ত হলেন অপ্সরা পুঞ্জিকস্তলা | এছাড়াও হনুমানের জন্ম এবং তাঁর নররূপী জন্মদাত্রীর পরিচয় নিয়ে বহু প্রচলিত কিংবদন্তি‚ লোককথা‚ আলেখ্য আছে | একটির সঙ্গে অন্যটির তথ্যগত সাদৃশ্য নাও থাকতে পারে | মহাসাগরসম পুরাণ থেকে আমি এক গণ্ডুষ জল তুললাম মাত্র |

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

One Response

Leave a Reply

pandit ravishankar

বিশ্বজন মোহিছে

রবিশঙ্কর আজীবন ভারতীয় মার্গসঙ্গীতের প্রতি থেকেছেন শ্রদ্ধাশীল। আর বারে বারে পাশ্চাত্যের উপযোগী করে তাকে পরিবেশন করেছেন। আবার জাপানি সঙ্গীতের সঙ্গে তাকে মিলিয়েও, দুই দেশের বাদ্যযন্ত্রের সম্মিলিত ব্যবহার করে নিরীক্ষা করেছেন। সারাক্ষণ, সব শুচিবায়ু ভেঙে, তিনি মেলানোর, মেশানোর, চেষ্টার, কৌতূহলের রাজ্যের বাসিন্দা হতে চেয়েছেন। এই প্রাণশক্তি আর প্রতিভার মিশ্রণেই, তিনি বিদেশের কাছে ভারতীয় মার্গসঙ্গীতের মুখ। আর ভারতের কাছে, পাশ্চাত্যের জৌলুসযুক্ত তারকা।