শ্রীকৃষ্ণর পাদস্পর্শে কুৎসিৎ কুব্জা রূপান্তরিত হলেন পূর্ণযৌবনা নারীতে

1803

কুব্জা ছিলেন রাজা কংসের প্রাসাদের এক দাসী | তাঁর মুখশ্রী ছিল অপূর্ব | কিন্তু শরীরে তিনটি কুশ্রী কুঁজ | তাঁর সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণর সাক্ষাৎ হয় মথুরার পথে | দাসী তখন সুগন্ধি চন্দন লেপন নিয়ে যাচ্ছিলেন কংসরাজ সমীপে | কৃষ্ণ-কুব্জা সাক্ষাতের কথা বর্ণিত হয়েছে ভগবৎপুরাণ এবং সুরদাসের সুরসাগরে |

তিন স্থানে কুঁজ ছিল বলে কুব্জার আর এক নাম ছিল ত্রিবর্ক | তাঁকে দেখে স্বভাববশত তাঁর রূপের প্রশংসা করেন শ্রীকৃষ্ণ | রূপের স্তুতিতে অপমানিত হন কুঁজো দাসী কুব্জা | উপলব্ধি করতে পেরে কৃষ্ণ বলেন‚ তিনি তাঁর মনের রূপের প্রশংসা করেছেন |

এরপর কুব্জার হাতের সুগন্ধি পেতে চান কৃষ্ণ | কিন্তু তা ছিল রাজা কংসের জন্য | দ্বিধান্বিত হলেও কুব্জা সেটি কৃষ্ণকে দিয়ে দেন | সন্তুষ্ট ভগবান নিজের পা তুলে কুব্জার পিঠে রাখেন | দু হাতে তুলে ধরেন কুব্জার চিবুক | এরপর যেন জাদুবলে মিলিয়ে গেল কুব্জার দেহের কুঁজ | সোজা হয়ে দাঁড়ালেন কুব্জা | কুৎসিৎ কুব্জা থেকে তিনি হয়ে উঠলেন সুডৌল স্তন-নিতম্ব-সহ এক পূর্ণযৌবনা যুবতী |

আনন্দে বিহ্বল কুব্জা সব সমর্পণ করতে চাইলেন কৃষ্ণর পাদস্পর্শে | তিনি কামনা করলেন কৃষ্ণকে | ভক্তের প্রার্থনা মঞ্জুর হল | কুব্জাকে আলিঙ্গন করলেন কৃষ্ণ | আরও একবার দেবতাকে কামনা করলেন কুব্জা | সেই প্রার্থনাও রক্ষা করা হয়েছিল | কংস-নিধন শেষ করে কুব্জার কক্ষে আরও একবার পদার্পণ করেছিলেন কৃষ্ণ |

বিষ্ণুপুরাণে কুব্জার কুঁজমুক্তির কথা থাকলেও কৃষ্ণ-কুব্জা মিলনের বর্ণনা নেই | সুরদাস অবশ্য একে ভগবানের উদ্দেশে ভক্তের আত্মসমর্পণ হিসেবেই বলেছেন | ব্রহ্মবৈর্বত পুরাণে আবার বলা হয়েছে ত্রেতা যুগের শূর্পনখাই দ্বাপর যুগে জন্মগ্রহণ করেন কুব্জা হিসেবে | ত্রেতা যুগে রামচন্দ্রকে কামনা করে পাননি রাবণের বোন শূর্পনখা | তাঁর সেই ইচ্ছে পূর্ণ হয়েছিল দ্বাপর যুগে | ভগবান বিষ্ণু তথা রামচন্দ্রের সঙ্গ তিনি পেলেন | কিন্তু বিষ্ণুর অন্য অবতারে‚ শ্রীকৃষ্ণ রূপে |

(পুনর্মুদ্রিত)

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.