প্রেমদিবসে এক নারীর তৃষ্ণার চিঠি…

এ মেয়ে প্রকৃতির মতো উন্মুক্ত উজল উছল। খোলাপাতার এক আশ্চর্য নারী! যার নগ্ন হতে ইচ্ছে করে, শুষে নিতে ইচ্ছে করে পুরুষের সবটুকু কামক্রোধরাগরাগিনী। বহু যুগের ওপার হতে অরণ্যকে ঝিনুকের খোলা চিঠি। পড়লেন রমাপদ পাহাড়ি

আর কিচ্ছুটি না অরু, কিচ্ছুটি না। আমার অরণ্য, আমার সোনাই। শুধু আদর দিবি, আদর। আজ এই প্রেমের দিনে শুধু মনের নয় রে, শরীরের আদর চাই তোর কাছে। ভেজা ভেজা আদর। শরীর নিংড়োনো আদর। আমার ভিতর ঘরের আদর।

একটা মিষ্টি ফুল, তোর নিজের লেখা দুটুকরো কান ফিসফিস কবিতা, আর একটা সুগন্ধী সাবান—সেই যে দিতিস তুই ভ্যালেন্টাইন ডেতে, দিবি তুই?

জানি না, ভ্যালেন্টাইন সন্ন্যাসী ঠিক কী উপহার দিয়েছিলেন তাঁর প্রেমিকাকে! নাকি, শুধুই ওই দুটো শব্দই লিখে যেতে পেরেছিলেন তাঁর প্রেমিকার জন্য, ‘ইয়োরস ভ্যালেন্টাইন’।সত্যি বলতে, নিজের জীবনটাকেই যিনি সঁপে দিতে পেরেছিলেন প্রেমের জন্য, তার কাছে আর সব যে তুচ্ছ অরু। আজ তুই যদি পাশে থাকতিস, জানি, ফিরে ফিরে শুনতে চাইতিস ভ্যালেন্টাইন ডের অতীত ইতিহাসটা। জেনেশুনেও কেন শুনতে চাইতিস বারবার? নিজেকে ভ্যালেন্টাইন বলে বড়ো বেশি ভাবতে ইচ্ছে করত তোর! ওকে, আজও শোনাই তোকে, বলি তোকে, লিখি তোকে।

সে এক প্রাচীন রোমের কথা। সে দেশে দেবদেবীদের রানি ছিলেন জুনো। তিনি ছিলেন পরিণয়েরও দেবী। জুনোদেবীর পুজো হত ১৪ ফেব্রুয়ারি। সেই উপলক্ষে থাকত ছুটিও। পুজোকে কেন্দ্র করে হইহই করে করে চলত লিউপারকেলিয়া উৎসব। জানিস অরু, এই উৎসবটা ছিল ভারি মজার। যাদের তখন ঘরবাঁধা হয়নি, হয়নি সংসারপাতা, সেইসব অবিবাহিতা তরুণীরা নিজেদের নামে লিখত চিরকুট। ফেলে আসত গির্জার সামনে রাখা কাচের জারে। আর তারপর? তারপর অবিবাহিত পুরুষেরা একটা করে চিরকুট তুলত জার থেকে। যার চিরকুটে যে মেয়ের নাম, তাকে নিয়েই উৎসবের ওই কটা দিন প্রাণের খেলায়, প্রেমের খেলায় মেতে ওঠা। উৎসব শেষে সেই জুটি বন্ধনহীন গ্রন্থি হতে চাইলে, সুযোগ ছিল তারও। গড়াত ছাদনাতলা পর্যন্তও।

সেই সুখের দিন আর রইল না। সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াস তখন রোমের সিংহাসনে। শুরু হল রণরনিয়ে যুদ্ধ। হাতছাড়া হল বহু রাজ্য। দিগভ্রান্ত সম্রাট। রাজ্য ফেরাতে তাঁর আরও আরও সৈন্য চাই। কিন্তু লোকলস্কর, সৈন্যসামন্ত মেলে না। ক্লডিয়াসরাজ্যের কোনো যুবকই যুদ্ধে যেতে রাজি নয়। কিন্তু কেন? চলল ছানবিন। কে যেন জানাল, প্রেমভালোবাসাঘরসংসারসন্তানসন্ততিদের প্রতি স্নেহমায়ার কারণে পুরুষেরা যুদ্ধে যেতে নারাজ। ক্রুদ্ধ সম্রাট সে দিনই আইন জারি করলেন, তাঁর রাজ্যে বিবাহ অবৈধ। বিয়ে করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আদেশ অমান্য করলেই শিরচ্ছেদ অনিবার্য। কিন্তু প্রাণের স্ফূরন কি বন্ধ হয় বলো! প্রেমের রক্তকরবী যে মাথা তুলবেই।

সে সময় রোমে যাজকদের মধ্যে ছিলেন বিশিষ্টতম ভ্যালেন্টাইন। তিনি দেবদূত হয়ে উঠলেন তরুণতরুণীদের কাছে। ত্রাতার ভূমিকা নিলেন। তাঁর গির্জাতেই নিশুতি রাতে চলল মন্ত্রোচ্চারণ। মোমবাতির কাঁপা আলোয় বাঁধা পড়তে লাগল দুই প্রাণ, দুই হৃদয়। খবর পৌঁছোল সম্রাটের কাছে, গুপ্তচর মারফত। হানা দিল সম্রাটের অনুচরেরা। বন্দী হলেন ভ্যালেন্টাইন। সালতারিখের হিসাবে ২৬৯ খ্রিস্টাব্দের (মতান্তরে ২৭০) ১৪ ফেব্রুয়ারি। বিবাহের দেবী জুনো পুজোর দিন, প্রেমকে স্বীকৃতি দেওয়ার অপরাধে, সম্রাটের বিরুদ্ধাচরণের কারণে ভ্যালেন্টাইনের শিরচ্ছেদ করা হল।

অরু, একে আশ্চর্য বলব না, কিন্তু এটাই ঘটনা যে, এই প্রেমের মানুষটিই প্রেমে পড়েছিলেন বন্দীদশায়। কারাঅধিকর্তার একমাত্র মেয়ের প্রেমে। মৃত্যুর আগে লিখে যেতে পেরেছিলেন এইটুকুই, রাজা ক্লডিয়াসের সাধ্যি নেই ভালোবাসার তীব্রতাকে রোধ করতে পারার। সত্যিই কি ভালোবাসা কোনো প্রতিরোধ শোনে, মানে, বোঝে! সে যে বড়ো অবুঝ অরণ্য। তা নাহলে আজও আমার তোর প্রতি, অলকানন্দা জলে হৃদি ভেসে যাওয়া আবেগ! এত উথাল প্রেম, তোর সঙ্গে শরীরে শরীর মিশিয়ে দেওয়া, মিলিয়ে দেওয়ার এত দুর্নিবার ইচ্ছে!

আমার শরীরী উপত্যকায় জ্বালিয়ে দে না অরু, কামনার ফসফরাস। আমার উরুসন্ধির আগুনে পুড়ে খাক হবি না তুই? আমার নাভিপদ্ম, আমার গর্বোদ্ধত বিল্বস্তন, আমার অসুখী জঙ্ঘা, আমার উপোসী শরীরে দে না একটু রতিসুখ!

কী ভাবছিস অরু, প্রকৃতির মতো উন্মুক্ত উজল উছল, এ কেমন মেয়ে! এ কেমন খোলাপাতার আশ্চর্য নারী! এ কেমন বেয়াড়া বেহায়া বামা! যার নগ্ন হতে ইচ্ছে করে, শুষে নিতে ইচ্ছে করে পুরুষের সবটুকু কামক্রোধরাগরাগিনী।

না রে অরু, এই ভ্যাল ডেতেও ভোলে না শরীরী কামনা। কী বললি, মানিক বাঁড়ুজ্যের ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’ আওড়াবি? উপন্যাসের নায়িকা কুসুম ও নায়ক শশী ডাক্তারের দুটি বহু আলোচিত সংলাপ বলবি? “কুসুম নিঃশ্বাস ফেলিয়া বলিল, ‘আপনার কাছে দাঁড়ালে আমার শরীর এমন করে কেন, ছোটো বাবু’?”

জবাবে শশী ডাক্তার বলেন, “শরীর! শরীর! তোমার মন নাই কুসুম?”

মন? তোরা পুরুষেরা মনের কথা বলছিস! অবশ্য তোরাই তো আবার প্লেটোনিক লাভের তত্ত্ব তুলে দেহাতীত মনজ প্রেমের কথা বলিস। সেকেলে উদাহরণ তুলিস। বলিস, দান্তে আর বিয়াত্রিচের কথা। তোদের বলা কথাটাকেই বলি। ফ্লোরেন্সের মহাকবি দান্তে যখন প্রেমে পড়েন তখন বিয়েত্রিচ বয়সে মাত্র ৯। এরও ৯ বছর পর বিয়েত্রিচের কাছ থেকে প্রথম সম্ভাষণ লাভ। অমনি, আত্মহারা হয়ে পড়েন কবি। তাকে নিয়ে রচনা করেন কাব্যগ্রন্থ ‘ভিটা নোভা’ (নতুন জীবন)। তাছাড়া, বিয়েত্রিচের সঙ্গে দান্তের দেখা হয়েছিল মাত্র দুচারবার। বিয়েত্রিচ জানতেই পারেননি, তার জন্য উন্মাদ এক কবি, এক স্রষ্টা, এক প্রেমিক। স্বাভাবিকভাবে স্বাভাবিক পরিণতির দিকে এগোয়নি সেই সম্পর্ক। সাইমন নামে এক ব্যক্তির ঘরনি হয়েছিলেন বিয়েত্রিচ। মাত্র ২৪ বছর বয়সে অকাল প্রয়াণ ঘটে কবির প্রেমিকার। বিয়েত্রিচের মৃত্যুর কয়েক বছর পর দান্তেও বিয়ে করেন গেমা নামে এক অভিজাত পরিবারের নারীকে।

কী ভাবিস, দান্তে যদি বিয়েত্রিচকে বক্ষলগ্না করার সুযোগ পেতেন, সেই প্রেমকে তিনি কুলুঙ্গিতে তুলে রাখতেন! শুধু আঁখি থরথর, হিয়াটিকে তুলে ধরো—এমনটাই বলতেন, ভাবতেন! দুধেল শয্যায় তুফান উঠত না! সঘন গহন স্পর্শে, তাপে, চুম্বনে স্খলিত হত না বসন! স্খলন হত না আদমইভের পুত্রকন্যাদের! শুধুই চণ্ডীদাসরজকিনীর উদাহরণ তুলবি তোরা! ঠোঁটে আনবি সেই একটিই মার্কামারা ডায়লগ, “রজকিনী প্রেম, নিকষিত হেম, কামগন্ধ নাহি তায়।” আসলে কী বল তো, হিয়ার মাঝে লুকিয়ে থাকা প্রেম ভয়ভীতি, চক্ষুলজ্জা, সংস্কারের শিকলে আটকে অঙ্কুরটুকু হওয়ার সুযোগ পায় না সবসময়। প্রেমের পত্রপল্লবে আকাশে মাথা তোলা, অভিসারে বেরোনো তো দূরস্থান। আর তোরা কিনা, সেই ভুঁইচাপা প্রেমকে তকমা দিলি প্লেটোনিক! বাঃ রে পুরুষ বাঃ! বলে উঠতে না পারার ব্যর্থতাকে আড়ালে আবডালে ঢেকে দিলি এভাবে! কি সুন্দর প্লেটোনিকের তকমা তোদের!

কী বল তো অরু, প্রেমের থেকে সংবেদনের, আলিঙ্গনের, আশ্লেষের, কামের আয়ু ঢের বেশি। কামনা দোলনা থেকে কবর, চিতা পর্যন্ত বেঁচে থাকে।

সেই কিশোরবেলা থেকে গোল্লাছুট হৃদয়ের লেনাদেনা আমাদের। তোকে বলতে, তোর কাছে উপুড় করা কলসি হতে বাধা নেই, লজ্জা নেই বিন্দুমাত্র। কিশোরী বয়সে কী ভাবতাম জানিস, প্রেম আসলে রক্তমাংসের বাইরে অন্য কিছু, ভিন গ্রহের আলাদিন দৈত্যের প্রদীপ। আঙুলের ছোঁওয়ায়, পায়ের বনিবনায় স্বর্গসুখ। জটিল অসুখও সুখী হয় কপালে হাতের স্পর্শে।

আজ আমায় কথায় পেয়েছে, তোকে আমার এক মাসতুতো দাদার গল্প বলতে ইচ্ছে করছে। একটু ধৈর্য্য ধরে পড়বি এই চিঠি!

বিনুনিবাঁধা বয়সে সেই দিয়েছিল হলুদ বইয়ের স্বাদ। তখন তো আজকের স্মার্টযুগ নয়। সেই বলেছিল, আমার মাবাবা, কাকাকাকি, জেঠুজেম্মা, আমার স্কুলের টিচার, এমনকি মনীষীরাও নাকি সেক্স করেন, সেক্স করেছেন! বিশ্বাস কর, আমার মন একটুও মানতে চায়নি, বিশ্বাস করতে চায়নি যে, এই মানুষগুলোও হলুদ বইয়ের ছবিগুলোর মতো নগ্ন হয়েছেন, মগ্ন হয়েছেন যৌনতায়, মেতে উঠেছেন বন্যতায়! কিন্তু দাদা খুব জোর দিয়ে বলেছিল, এসব সত্য, এটাই সত্যি।

ঘেন্নায় শিউরে উঠেছিলাম। মাবাবা, আত্মীয়জন থেকে শুরু করে দেয়ালের ফ্রেমের মনীষীদের দিকে তাকিয়ে নিঃশব্দে চিৎকার করে বলেছিলাম, নানা, তোমরা এমন করতে পারো না, তোমরা এত খারাপ নয়!

শরীরের খাঁজেভাঁজে শরীর বাড়লে বুঝেছি, কী বোকাই না ছিলাম তখন! কুঁয়োর ব্যাঙের থেকেও আমার জানাটা কম ছিল অরু। বুঝেছি, তুই বুঝিয়েছিস আমাকে, বাবামা থেকে ওবামা, শিক্ষকঅধ্যাপকমহাপুরুষ থেকে দেবদূত, কামের কাছে সবাই মানুষ, সবাই জটিঙ্গা পাখির মতো আগুনে আত্মাহুতি দেওয়া পতঙ্গমাত্র। পুংসকতার সঙ্গে আদিমতার আদিঅকৃত্রিম গভীর যোগ।

কাম আসলে বড়ো মানবিক, বড়ো মায়াময় অরু। কাম মানুষের সমান বয়সী। আর তোরা, পুরুষরা, পুরুষতন্ত্রের ধ্বজাধারীরা প্রেমের জয়গান করিস অথচ প্রেমে বিশ্বাস করিস না। কামের নিন্দা করিস, কিন্তু বিশ্বাস করিস কামে। তোদের বিধানে কামের যেটুকু নিন্দে করা হয়েছে, তা পুরুষের জন্য নয় শুধু নারীর জন্য। তোরা পুরুষরা নিজের সমস্ত সম্ভোগের পথ খোলা রেখে নারীকে দীক্ষিত করেছিস। হিমুর একটা কথা বলি তোকে, ‘পুরুষ নারীর কামকে নিরুদ্ধ করার জন্যে নারীকে অবরোধে, পর্দায়, জেনানায় বন্দী করেছে, তাকে সূর্যের আলো দেখতে না দিয়ে তার নাম রেখেছে অসূর্যম্পশ্যা, তার ভগাঙ্কুর ছিন্ন করেছে, তাকে সতীত্ববন্ধ পরিয়েছে, কিন্তু কামের তৃপ্তি খুঁজেছে নারী থেকে নারীতে।’

চিনের তাওবাদ কী বলছে জানিস, ‘একটি পুরুষ যত বেশি নারীর সঙ্গে সঙ্গম করবে তত বেশি কল্যাণ হবে তার, যদি পুরুষ একরাতে দশটির বেশি নারীর সঙ্গে সঙ্গম করতে পারে, তাহলে তাই সর্বোত্তম।’ শুধু কি তাওবাদ, ইসলামও পুরুষের জন্যে বহুবিবাহের এবং ক্রীতদাসী সম্ভোগের বিধান রেখে স্বীকৃতি দিয়েছে পুরুষের কামকে, আর নারীকে সতী রাখার সমস্ত ব্যবস্থা করেছে। যত দিন গিয়েছে, নারী হয়ে উঠেছে প্রেমের শিকার, নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে তার উথলে ওঠা বক্ষজোড়া কামনা, তার যোনির গভীর সুখ, তার ভগাঙ্কুরের উত্তেজনা।

অরু, তোরা পুরুষরাই বলিস, আগুন আর নারীর কামনার খিদে নাকি কখনও মেটে না। এ বড়ো সত্যি রে। এই একটি কথা অন্তত তোরা সত্যি বলিস। সত্যি মেটে না খিদে আমাদের। মেটানোর চেষ্টাটুকু করিস না তোরা। স্খলনের উত্তেজনা শেষে কখনও জানতে চাস, সঙ্গিনী প্রশমিত হল কতটা! পাশ ফিরে গভীর নিদ্রায় ডুবে যাস। ফিরেও তাকাস না। শয্যায় নারীকে পরাভূত করে তাকে পরাজিত করিস জীবনের সমস্ত বৃত্তে। খেয়াল করে দেখিস, সমস্ত কামসূত্র লেখা হয়েছে পুরুষের জন্যে, তার কামনাকে বাসনাকে চূড়ান্তরূপে পরিতৃপ্ত করার জন্যে। আর নারী? সে তো পুতুলমাত্র।

এই আধকুড়ি বয়সে পৌঁছেও ফিরে ফিরে আসে সেই কিশোরীবেলার কথা। কাটা রেকর্ডের মতো ফিরে ফিরে আসে সেই মাসতুতো দাদার অমোঘ বাণী। মানুষদেবতা সকলেই সেক্স করে, সকলেই শরীরী সুখ পেতে চায়। পিটুইটারির ক্ষরণে তৃপ্ত হতে চায়। আসলে, কিশোর বয়সে অভাব থাকে মাংসের অভিজ্ঞতার। তাই প্রেমকে মনে হয় একান্ত হৃদয়ের, দেহের অতীত কিছু। কিন্তু রতিরাগের সুযোগ পেলে, চারপাশের চোখে আড়াল হতে পারলে, আবডাল টানতে পারলে, ‘ছাদের ঘরে একলা পেলে বাংলা হিসেব’ বুঝে নেওয়ার কার না ইচ্ছে হয় বল? মনজ প্রেম হৃদয়াবেগের মোড়কে কতক্ষণ আর আটকে থাকতে পারে বল! দুপুরের হৃদয় সন্ধ্যায় মাংসের উল্লাসে উল্লসিত হতে চায়। মাংসের জন্য মাংসের সোনালি খিদে বললে, জানি রাগ করবি খু! সে তুই যাই করিস, যাই বলিস, আমি তোর কাছে, আমার হৃদয় তোর কাছে অনর্গল, বহতা নদীর চেয়েও খরস্রোতা।

আজ এই প্রেমের দিনে, বড়ো বেশি করে পেতে ইচ্ছে করছে তোকে। শরীরেমনে সবখানে। আর তুই, সেই কোন দূরে, হয়তো অন্য কারও অপেক্ষায়! আর আমি, শুধু তোর জন্য, শুধু তোর জন্য অরণ্য, আমার উজাড় করা শরীরী নৈবেদ্য সাজিয়ে রেখেছি। তোরআমার প্রেম, পুলক, কাম, সম্ভোগ সুখ, শীৎকারের শিহরণের অপেক্ষায় আছি। হ্যাঁ, আজও।

তোর বেয়াড়া বেহায়া ঝিনুক

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

রমাপদ পাহাড়ি
মাতৃপদত্ত নাম। যারা ‘নামেন পরিচিয়তে’ বিশ্বাস করেন, তাদের কাছে শ্যাওলা পড়া সত্তরোর্ধ্ব জনৈক ‘বুডঢা আদমি।’ আদতে কচি ঢ্যাঁড়স। পিছন টিপে পরীক্ষা প্রার্থনীয়। আগ্রহ সাহিত্য ও অর্থনীতিতে। জন্ম পূর্ব মেদিনীপুরে, কর্ম কলকাতায়। পত্রিকা সম্পাদনার পাশাপাশি এফ এম রেনবো ও গোল্ডে বকবকম। কাঠিবাজিতে সুনাম নেই। জীবনের আপ্তবাক্য, ‘মাথা গরম করবেন না, খুসকি বাড়বে’।

27 COMMENTS

  1. অসাধারন লাগলো সবটাই ,
    সত্যি অসাধারন,
    ভ্যালেন্টাইনের গল্পটা ও জানা ছিলনা,
    জানা হয়ে গেল…..
    শুভ কাামনা রইল ….

  2. রমাপদ পাহাড়ির অসাধারণ লেখা এটি। এমন বলিষ্ঠ সাহসী প্রতিবেদন আমি আগে কখনো পড়েছি বলে মনে করতে পারছি না ! ভ্যালেন্টাইনের অতীত ইতিহাস বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে মিস্টার পাহাড়ি তুলে ধরেছেন। উনি একদম রেখেঢেকে কিছু বলার চেষ্টা করেননি। যা বলেছেন, খোলাখুলি। এমন একটা লেখা আজকের প্রেমদিবসে উপহার দেওয়ার জন্যে রমাপদ পাহাড়িকে আমার তরফে অনেক অনেক ধন্যবাদ এবং আন্তরিক শুভেচ্ছা ।

  3. অনেক ইতিহাস সামনে এল ঝিনুকের হাত দিয়ে।খুব ভাল লাগল পড়ে।

  4. পড়লাম…ফিরে ফিরে আসুক ঝিনুক…আবার আবার আবার… সকল প্রকার দ্বিধা-দ্বন্দ্ব দূরে সরিয়ে তোমার প্রকাশ হোক সূর্যের আলোর মত দৃপ্ত, স্বভাবে কল্যাণময় রূপে, প্রকৃতির মত সহজ ছন্দে…আমরা যে বহুদিন ধরে অপেক্ষার প্রহর গুণছি তোমার পথ চেয়ে…

  5. Khinuk-Aranya juti amar kache Ekdom tatka. Kintu Lekhokerkolomer gune ERA PURONO MOD-er motoi eki shonge suswadu ar neshay matal kora. ek peg merei tai ami chokh-kaan buje hurmuriye preme porar neshay beshamal. bishesh kore JHINUKER. 21 to emon o-kopot nari-e chay. Ar amio je ekjon NARI… 🙂

  6. রমাপদ পাহাড়ির এমন বলিষ্ঠ সাহসী প্রতিবেদন পড়ে মুগ্ধ হলাম। রমাপদ একদম রেখেঢেকে বলেননি, যা বলেছেন খোলাখুলি! ভ্যালেন্টাইনের ইতিহাস আলোচনা করেছেন বিস্তারিত সে আলোচনায় ঋদ্ধ হলাম । প্রেম যে শুধুমাত্র মনের বা শুধুমাত্র দেহের নয়, দুই মিলিয়েই যে প্রেমধারা
    বহমানা যুগে যুগে, এটাই রমাপদর মূল বক্তব্য। আমার
    তরফে রমাপদকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

  7. একটি সত্যি কথা জানতে চাই, এই লেখাটি কি কোনো নারীর কলমে। ছদ্মনামে প্রকাশ করেছেন আপনারা? কারণ এমন সংবেদী, ন্যাকামোবর্জিত, সত্যভাষণ একজন পুরুষ কি করে তাঁর পৌরুষত্ব বর্জন করে লিখতে পারেন। সত্যিই যদি কোনো পুরুষের লেখা হয় তাহলে তাকে কুর্নিশ। নারীর লেখা হলেও তাকে হাজারো সেলাম। এমন স্পষ্টবাদিতার জন্য। সত্যিই তো, নারীর চাওয়া-পাওয়া, তার তৃপ্তি-শান্তি-প্রশমনের খোঁজ ক-জন রাখে! আমি নিজেও তার বহুবার শিকার।

  8. ভালো লাগলো, প্রেম দিবসে এক বলিষ্ঠ ভংগীর প্রেমের প্রকাশ .. অরণ্য ফিরুক ঝিনুকের পাশে .. উজ্জ্বল হোক ভ্যালেন্টাইন গাথা , লেখককে ধন্যবাদ ।

  9. এরই নাম প্রেম। উস্কে দিলে লেখক। তোমার কলমের জয় হোক।……

  10. এক কথায় অসাধারণ।অজানাকে জানা হলো,অচেনা কে চেনা হলো,পেলাম অনেক তথ্য।তোমার কলমের জোর আছে গুরুদেব।

  11. এরই নাম প্রেম।উস্কেদিলে। তোমার কলমের জয় হোক।

  12. বন্ধু রমাপদর শানিত তরবারি’তে ঝলসে গেলাম।।।।।
    এই প্রথম ভ্যালেন্টাইন্স ডে’তে কারও কাছ থেকে এমন এক অগ্নিবীণা উপহার পেলাম–যার শরীরী সুরমূর্ছনায় প্রেমসাগরে ডুব দিয়ে অনেক অরুপরতন খুঁজে পেলাম।।।।
    রমাপদ, তোমার আগামী ঝলকের অপেক্ষায় রইলাম,,,,,,।।।

  13. পড়লাম। কলমের জোর আছে। অনেক অজানা তথ্য জানা গেল। তবে এই প্রেম-ভালোবাসা, শরীর বা বর্তমানে ভ্যালেন্টাইন ডে নিয়ে কিছু না জেনেই মাতামাতি-ন্যাকামি ও শিল্প-সাহিত্যে শ্লীল-অশ্লীল ইত্যাদি বিষয়গুলো নিয়ে সুস্থ আলোচনা,গঠনমূলক তর্ক বিতর্ক হতে পারে। ৭২ বছর বয়সে এসে অনেক কিছুই তো দেখলাম। যাকগে ওসব কথা। তবে লেখাটি পড়ে কিন্তু বেশ ভালো লাগলো। ঝিনুক আর রমাপদ পাহাড়ির সাহস আছে বটে।

  14. পড়লাম। কলমের জোর আছে। অনেক অজানা তথ্য জানা গেল। তবে এই প্রেম-ভালোবাসা, শরীর বা বর্তমানে ভ্যালেন্টাইন ডে নিয়ে কিছু না জেনেই মাতামাতি-ন্যাকামি ও শিল্প-সাহিত্যে শ্লীল-অশ্লীল ইত্যাদি বিষয়গুলো নিয়ে সুস্থ আলোচনা, গঠনমূলক তর্ক বিতর্ক হতে পারে। ৭২ বছর বয়সে এসে অনেককিছুই তো দেখলাম। যাকগে ওসব কথা। তবে লেখাটি পড়ে কিন্তু বেশ ভালো লাগলো। ঝিনুক আর রমাপদ পাহাড়ির সাহস আছে বটে।

  15. প্রেমাস্পদ কে কেবল চোখে নয় ছুঁতে ও মন চায়।তার আলিঙ্গনে আদরে ধরা দিতে চায় নারীর শরীরও।কিন্তু স্বীকার করতে, প্রকাশ করতে কলজের দম লাগে।।কেননা তাতে মেয়েদের নেকুপুষু মার্কা ইমেজটাতে কাদা ছেটে যে।নারীর ইচ্ছেকে স্বীকৃতি দেবার জন্য তোমায় সেলাম রমাপদ।

  16. হুম! তা বেশ! বেশি ঢং না করে মুক্তপত্রের নিয়ম মেনে মেদহীন প্রেমপত্তরের জন্য ধন্যবাদ পাহাড়িকে। কিন্তু হঠাত মনে হল… এই চিঠি পড়েই যদি অরণ্য চলে আসে! কলকাতার বুকে পা দিতে একটু বসন্তের হাওয়া… তারপর শরীরী চাওয়া! শিহরিত ঝিনুক কী করিবে! (বেরসিকতা, সকলে রতন নহে)।
    তা ইয়ে… তেলেনাপোতার যামিনী এই চিঠি লেখে যদি! সম্পাদক মহাশয় খোঁজ নেবেন! মীরাবাঈ! রাধা…সবাই তো আছে লিস্টিতে!
    পাঠকের ঔদ্ধত্য মার্জনীয়…!

  17. Excellent……Lekhoker lekhhani khhub-i hridoygrahi o mormosprshi. Prem-er onubhuti plus upolobdhi jeno mile mishe ekakaar… Falguni Shuvechha janai aaj ei basante…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here