পরিণতি জেনেও পিছিয়ে যাননি‚ এক দশক ধরে তিনিই পঙ্গু স্বামীর জীবনীশক্তি

1461

সিনেমায় তো অনেক দেখেছেন নানা প্রতিকূল অবস্থায় নানারকম বিপদের মধ্যে দিয়ে গিয়েও নিজের জীবনসঙ্গীর পাশে থাকার ঘটনা | কিন্তু জানেন কি বাস্তব জীবনেই রয়েছেন এমনই এক দম্পতি যাঁরা একসঙ্গে প্রেমকে আজও করে রেখেছেন অমর | আজকের দিনে যখন সম্পর্ক হয়ে উঠেছে ক্ষণস্থায়ী‚ তখনই ভালবাসা দিয়ে যে সমস্ত প্রতিকূলতা অতিক্রম করা যায় তা দেখিয়ে দিচ্ছেন বারাসাতের রতন ও ঝুমা |

কলেজে পড়াকালীনই একে অপরকে চিনতেন বারাসাতের রতন সমাদ্দার ও ঝুমা | ২০০০ সালে ফুটবল খেলোয়াড় রতন একটি খেলার সময় পায়ে চোট পান | ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে জানা যায় রতনের জিবি সিনড্রোম নামে একটি রোগ আছে | এই রোগে দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দেহেরই স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে | ফলত আর কখনওই নিজের পায়ের শক্তি ফিরে পাননি রতন | পরিবারের লোকজনের নিষেধ এড়িয়ে ২০০৮ সালে রতনের সাথে বিয়ে করেন ঝুমা |

রতনের বড়দা জয়ন্ত সমাদ্দার জানান যে তাঁদের বাবাও ঝুমাকে রতনের সঙ্গে বিয়ে করতে বারণ করেন | কিন্তু বিকলাঙ্গ জেনেও রতনকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটে যাননি ঝুমা | তিনি জানান রতনকে বিয়ে করা নিয়ে তাঁর মনে কোনওদিনই কোনওরকম সংশয় বা দ্বিধা ছিল না | রতনের যখন কোনও মানুষকে তাঁর পাশে সবথেকে বেশি প্রয়োজন ছিল‚ তখন নিজের স্বার্থ বুঝে তাঁর পাশ থেকে সরে যাননি ঝুমা | রতনের কোনও নির্দিষ্ট উপার্জন না থাকলেও হাতের কাজের নানা জিনিস বিক্রি করে বিগত ১০ বছর ধরে সংসার চলাছেন তিনি নিজেই |

পায়ের শক্তি সম্পূর্ণ ভাবে ফিরে না পেলেও পা ব্যবহার করে কিছু কিছু কাজ করতে পারেন রতন | তাঁর চালানোর সুবিধার্থেই তাঁর মোটরবাইকটিকে বিশেষ ভাবে তৈরি করে দেওয়া হয়েছে যাতে পায়ের সম্পূর্ণ শক্তি না থাকা সত্ত্বেও তিনি মোটরবাইকটি চালাতে পারেন |দুজনে একসঙ্গে মাঝেমধ্যে বর্ধমান‚ হুগলি বা ঝাড়খন্ডের বনাঞ্চল থেকে বেড়িয়ে আসেন | ঝুমা বলেন তাঁর ব্যবসা আরও বড় করে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি | কিন্তু তিনি যাই করুন না কেন‚ স্বামী ও সঙ্গী  রতনের খুশিই তাঁর কাছে সবথেকে বেশি মূল্যবান |

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.