পুজোর শেষেও গন্ধ ছড়াচ্ছে ফুল‚ ধূপকাঠি ও সার হিসেবে

225

মন্দিরের বর্জ্য ফুল থেকেই তৈরি হচ্ছে জমিতে ব্যবহৃত সার , সুগন্ধি ধূপকাঠি । দিল্লির ঝান্ডেওয়ালন মন্দির । প্রতিদিনই ৫০০০ থেকে ১০০০০ ভক্তের সমাগম হয় । প্রতিদিন বর্জ্য ফুলের পরিমাণ ২০০ কেজি । শনি মঙ্গলবার সেই সংখ্যাটাই দাঁড়ায় ৫০০ কেজিতে । নবরাত্রি বা অন্যান্য বিশেষ অনুষ্ঠানে পরিমাণ আরও ছাড়িয়ে যায় । প্রতিদিনের সেই বর্জ্য ফুলই আগে ফেলা হত নদীর জলে । পচনের ফলে দূষিত হয় নদীর জল।

বর্জ্য ফুলকে কীভাবে কাজে লাগানো সম্ভব , ভেবেই বছর খানেক আগে সার তৈরির পরিকল্পনা করে মন্দির কর্তৃপক্ষ । বসানো হয় মেশিন , দেওয়া হয় মিহি কাঠের গুড়ো ও ব্যাকটেরিয়া । ১৫ দিন এভাবেই রাখা হয় শুকনো ফুল । শুকনো ফুল পচে তৈরি হয় সার । প্রতিদিন ৩০ কেজি করে সার সংগ্রহ করা হয় । সেই সারই ক্রমে সরবরাহ করা হয় মান্ডোলির মন্দির , স্কুল ও হরিয়ানার চাষিদের ।

একে একে দিল্লির অন্যান্য ধর্মীয় স্থানেও একইভাবে শুরু হয়েছে এই সার তৈরির কাজ । আটটি জায়গায় ইতিমধ্যেই মেশিন বসানো হয়েছে । দেশে ধর্মীয় স্থানগুলিতে প্রতিদিন প্রায় ২০ লক্ষ টনেরও বেশি ফুল বর্জ্য হিসেবে উৎপাদিত হয় । বেশিরভাগই ভ্যাট বা নদীর জলে পচে নষ্ট হয় , পাশাপাশি জল ও পরিবেশ দূষণ ঘটায় । দেশের অন্যান্য ধর্মীয় স্থানগুলিতেও এমন সার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে কানপুর ও মুম্বই এলাকায় বিভিন্ন মন্দির ঘুরে বর্জ্য ফুল সংগ্রহ করেন অঙ্কিত আগরওয়াল , করণ রাস্তোগী ও নিখিল গুপ্তারা । প্রতিদিনের কয়েক টন বর্জ্য ফুল দিয়েই তাঁরা তৈরি করেন ধূপকাঠি । বায়োটেকনোলজির ছাত্র নিখিল জানান , প্রথম এই পরিকল্পনা আসে মধ্যপ্রদেশের এক প্রত্যন্ত গ্রামে সমীক্ষার কাজে গিয়ে । সেখানেই এক মন্দিরে থাকার সময় মশার উপদ্রব থেকে বাঁচতে বর্জ্য ফুল ব্যবহার করতেন । তখন থেকেই বর্জ্য ফুলকে কাজে লাগানোর কথা মাথায় আসে । এই ধূপকাঠি প্রকল্পের মাধ্যমে এখন স্বনির্ভর কয়েকশো মহিলা । প্রতিদিন ১ কিলোগ্রাম বর্জ্য ফুল থেকে তাঁরা ৮০০ থেকে ১০০০টি ধূপ প্রস্তুত করেন । 

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.