‘মহালয়া’ – ভোরবেলায় রেডিও খোলার অভ্যেস থাকে যদি, এ ছবিটা মিস করবেন না

এ ছবির প্রযোজক হলেন প্রসেনজিৎ। তবে শুধু প্রযোজনা নয়, ছবিতে এক বিশেষ ভূমিকায় অভিনয়ও করেছেন তিনি।

তাঁর চরিত্রটা হল শশী সিংহ নামে গভর্নমেন্টের এক উঁচু পোস্টের আমলার। সত্তর দশকের এমারজেন্সি চলার সময় পদাধিকারের দৌলতে যিনি হয়ে বসেন আকাশবাণীর প্রভু। তবে এখানে মুশকিল শুধু এইটে যে, এরকম ‘প্রভু’ হয়ে বসতে গেলে পেটে যতটা বিদ্যে লাগে, ততটা তাঁর নেই।

ওদিকে কিন্তু মনে মনে ‘রাজ’ করবার ইচ্ছেটি আছে ষোলআনা! অফিসে সাব-অর্ডিনেটকে ধমক দিয়ে দাবিয়ে রাখেন যেমন, পারলে ঠিক সেভাবে দাবিয়ে রাখতে চান গ্ল্যামার দুনিয়ার স্টার-মেগাস্টারদেরও! আর আকাশবাণীর শ্রোতাদের তো বোধহয় ইনি মনুষ্যেতর চাকর-বাকর ভাবেন!

বিনোদনের ইন্ডাস্ট্রিটা পুরো এঁর বাপ-ঠাকুরদার জমিদারি যেন কোন। কিশোর কুমার বিনে পয়সায় সরকারি শো করতে রাজি না হলে রেডিওতে কিশোরের গান বাজানো বন্ধ করে দ্যান। জোর গলায় এই কথাটা শুনিয়েও দ্যান যে, ‘ওকে এমন টাইট দেব যে বিশ-পঁচিশ সাল বাদ ওকে কেউ ইয়াদ রাখবে না’। এরপর প্ল্যান আঁটেন মহালয়ার প্রভাতী অনুষ্ঠান রি-ভ্যাম্প করতে হবে। কারণ? ওপরতলা থেকে নাকি ‘ইন্সট্রাকশন’ আছে! বুড়ো-বুড়ো লোকগুলো সব বাদ! গ্ল্যামার দিয়ে পুরোটা আবার নতুন করে সাজিয়ে নিতে হবে।

‘ব্যানার্জি’ (অভিনয়ে কাঞ্চন মল্লিক) নামে এক অধস্তন এটা শুনে আমতা-আমতা করতে গেলে তাঁকে খুব কড়া ভাবে শাসন করেন এটা বলে যে, ‘ইনোভেশন্‌স সে ডরতে হ্যায় আপলোগ। মার্কেটিং শিখেন বেনার্জিবাবু, মার্কেটিং শিখেন।’

কোন প্রোগ্রামের কনটেন্ট যতই ঢিলে হোক না কেন, স্টার-সুপারস্টার থাকলে পরে তাঁদের চোটেই হিট হয়ে যাবে শো – এরকমটাই ভাবনা চিন্তা ওঁর।

একটা কথা স্বীকার করতে অসুবিধে নেই যে, এই ভদ্রলোকের সিনগুলো দেখতে দেখতে হাঁ হয়ে যাচ্ছিলাম আমি। কারণ একবারও মনে হচ্ছিল না এটা পঁয়তাল্লিশ বছর আগের ঘটনা বলে। তা’ সে যতই পুরনো দিনের লুক-ফিল দেওয়া কালার টোনে ফ্রেমগুলো সব চুবনো থাক না কেন। মনে হচ্ছিল, এ যেন একেবারে হাল আমলের স্টোরি!

এন্টারটেনমেন্ট মিডিয়ার সঙ্গে নানাভাবে যুক্ত আছি বহু বছর হল। নিজের অভিজ্ঞতায় দেখেছি যে এরকম আকাট টাইপ লোকজন মিডিয়ার প্রায় সব অফিসেই উঁচু পোস্টে আছে। আর এই মহাপুরুষদের ট্যাক্‌ল করে চলতে গিয়ে অফিসের বাকি লোকগুলোর শ্বাস উঠে যায় প্রায়! সিনেমাটা দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল, এরকম সব স্যাম্পেল কি তার মানে সেই অত বছর আগের যুগেও ছিল?

মনে পড়ছিল এটাও যে, বড় পর্দার পাশাপাশি ছোট পর্দাতেও প্রসেনজিৎ কাজ করেছেন একের পর এক। কর্পোরেট মিডিয়া-ঘরের হাই র‍্যাঙ্কের গাধা সামলানোর কাজ তো তখন সম্ভবত করতে হয়েছে ওঁকেও! ভাবছিলাম যে, সেই সময়ের জমে থাকা রাগ-ক্ষোভগুলো এতদিন পরে এই সিনগুলোর মধ্যে দিয়ে ছিটকে পুরো বেরিয়ে আসছে কিনা!

এতক্ষণ ধরে যেটা লিখলাম সেটা পড়ে নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন, ছবির বিষয় যতই সত্তর দশকের বিশেষ এক মহালয়ার গল্প শোনানো হোক। সেই গল্প শোনাতে গিয়ে বকলমে আসলে যেন মিডিয়ার সো-কল্‌ড সব মহাপ্রভুদের গালে সপাটে চড় কষানো হল!

ঠিক কেমন হন সো-কল্‌ড এই মহাপ্রভুরা? এঁদের কাছে এঁদের নিজের সব আইডিয়াই মহান! আর সেই ‘গ্রেট’ আইডিয়া রূপায়ণ করতে গিয়ে যদি থমকে যায় অফিসের বাকি লোক? ছবির শুরুর দিকে দেখতে পাবেন অধস্তন স্টাফের ওপর হুঙ্কার ছাড়ছেন শশীবাবু, ‘এক্সিকিউট অর বি এক্সিকিউটেড’ বলে। আসুন ছবির মাঝখানে। দেখতে পাবেন পেটোয়া চামচা সামনে বসিয়ে সেই শশীবাবু নিজের কাজের তারিফ শুনতে ব্যস্ত। তবে মুশকিল হল, রেডিওর শ্রোতারা তো আর কেউ মোসাহেব নন ওঁর। তাই ছবির শেষ দিকে গিয়ে দেখতে পাবেন নিজের আইডিয়া দিয়ে তৈরি ‘শো’ এয়ার হওয়ার পরে হেড অফিসের বড়বাবুটির কেমন ল্যাজে-গোবরে দশা।

এই যে পুরনো একটা যুগের গল্প বলতে গিয়ে সুকৌশলে হাল আমলের তীব্র তীক্ষ্ণ স্টোরি দেখিয়ে দেওয়া, গত কয়েক বছরে বাংলা মঞ্চে এই ধাঁচে বেশ কয়েকটা নাটক হয়েছে জানি। উদাহরণ হিসেবে এক্ষুনি তো মনে পড়ছে, ব্রাত্যজনের ‘রুদ্ধসঙ্গীত’ (২০০৯), স্বপ্নসন্ধানীর ‘ম্যাকবেথ’ (২০১২) বা সংসৃতির ‘জতুগৃহ’র (২০১৫) মতো প্রযোজনাগুলোর নাম। কিন্তু বাংলা ছবিতে এই ট্রিটমেন্ট এর আগে আর কখনও হয়েছে কি? নাকি এই ব্যাপারে এই ছবিটাই ট্রেন্ডসেটারের মতো?

ছবির শুরুতে ১৯৭৫ সালে জরুরি অবস্থা জারির সিন। সেখান থেকে ছবি পৌঁছচ্ছে উত্তর কলকাতার মাছের বাজারে এসে। বাজার করতে বেরিয়েছেন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র (শুভাশিস মুখোপাধ্যায়)। রেডিওতে ‘মহিষাসুরমর্দ্দিনী’ অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রাণপুরুষ যিনি, মাছের বাজারে তাঁকে দেখে বাজার করতে আসা লোকজন তো বটেই মাছওয়ালাদেরও গদগদ-প্রায় দশা। এবং এটাও দ্যাখান হচ্ছে যে, ধর্ম নিয়ে এই মানুষের কোনরকম শুচিবায়ুও নেই। মুসলিম মাছ-বিক্রেতা আলির থেকে তেলাপিয়া মাছ নিতেও আদৌ বাধে না কোথাও ওঁর।

এরপর আসুন এই বীরেন্দ্রকৃষ্ণের বাড়ির ভেতরে। দেখতে পাবেন, নিজের বউয়ের (সুদীপা বসু) কথাতেও ছেলের চাকরির জন্যে উমেদারি করতে রাজি করান গেল না তাঁকে। চাকরির সুপারিশ করে বেড়ানর চেয়ে সেই সময়টুকু চা খেতে খেতে নাটক লেখা বরং তাঁর বেশি পছন্দের কাজ।

এমন প্রখর নীতিজ্ঞানের একজন মানুষকে ‘মহালয়া’র প্রভাতী শো থেকে ছেঁটে ফেলার ডিসিশন নেয় আকাশবাণী। বেতার অফিসের বড়বাবুরা যে মনে করছেন, ‘ভদ্রলোকের সময় এখন গেছে’। কে আসবেন তাঁর জায়গায়? কে আবার! ‘সত্যজিৎ তো ডিক্লেয়ার করেছে যে বাঙ্গাল মে একই নায়ক আছে’। মানে উত্তম কুমার? কিন্তু তাঁর গলা শুনলে মহালয়ার ভোরবেলায় কি আদৌ মনে ভক্তিভাব আসবে? এর উত্তরে বড়বাবুদের ব্যাখ্যা হল, ‘লোকে স্টার বোঝে। ভক্তি-টক্তিঅটোম্যাটিকালি চলে আসবে।’

একদিকে মিডিয়া অফিসের ওপরমহলের এই আকাটপনা। আর তার সঙ্গে গল্পে এসে মিশতে থাকে শিল্পীদের নিজেদের মধ্যে হওয়া আকচা-আকচি আর মন কষাকষির স্টোরি। পঙ্কজ মল্লিকের (শুভময় চট্টোপাধ্যায়) ওপর চাপা রোষে ফুটছেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায় (সপ্তর্ষি রায়)। বছর কয়েক আগে রিহার্সালের জন্যে যথেষ্ট সময় দিতে পারেন নি বলে হেমন্তকে নাকি ‘মহিষাসুরমর্দ্দিনী’ থেকে একেবারে বাদই দিয়ে দিয়েছিলেন পঙ্কজ মল্লিক।

এবার সময় এসেছে পাল্টা দেওয়ার। মাথার ওপর আছে দিল্লির বড় বাবুদের হাত। আর ভয় কি তাহলে? বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র, পঙ্কজকুমার মল্লিক আর বাণীকুমার – ‘মহিষাসুরমর্দ্দিনী’ অনুষ্ঠানের এই তিন প্রধান মানুষকে সরিয়ে দিয়ে নতুন করে নতুন শো-এর ভাবনা হোক তবে। যার পুরোভাগে থাকছেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায় স্বয়ং। উত্তম কুমারকে (অভিনয়ে যীশু সেনগুপ্ত) স্তোত্রপাঠ করানোর জন্য রাজি করালেন তো তিনিই। বম্বে থেকে লতা-আশা এঁদের গানেরও ব্যবস্থা করা হল।

অনুষ্ঠান থেকে যে তিনি বাদ পড়েছেন, এই খবরটা রেডিও অফিস থেকে সরাসরি বীরেন্দ্রকৃষ্ণকে বলে নি অবধি কেউ। চরম অসম্মানের এই খবর কিনা শুনতে হচ্ছে অন্য লোকের মুখে! এসব কিছুর পরেও কী স্থিতধী অভিব্যক্তি তাঁর দেখুন – খুব ঠাণ্ডা মুখে শুধু বললেন ‘এটাই তো অভিপ্রেত… নবীনরা তো আসবেই, নইলে আমাদের মতো বুড়ো আধমরাদের ঘা দিয়ে বাঁচাবে কে?’  

১৯৭৬ সালে নবকলেবরে এই অনুষ্ঠান এয়ার হওয়ার পরে পাবলিকের কী রিয়্যাকশন হয়, এ লেখায় আগেই তার হিন্ট দিয়েছি খানিক। বাকি ডিটেল যদি না জানা থাকে তো আলাদা করে আর লিখছি না সেটা আমি। আপনি বরং সে সিনগুলো হল-এ গিয়েই দেখুন।

‘শিল্পান্তর’ (২০০২) বা ‘হারবার্ট’ (২০০৫) ছবিতে এর আগে শুভাশিস মুখোপাধ্যায়ের অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়েছি আমি। এ ছবিতে নিজের সেই অভিনয়ও যেন ছাপিয়ে গেছেন তিনি। আর এর পাশে যীশু সেনগুপ্তকে রাখুন। দেখতে যে এঁকে উত্তমকুমারের মতো নয়, সেটা তো কোন নতুন কথা না। কিন্তু উত্তমের অন-স্ক্রিন যে ম্যানারিজমগুলো বাঙালি চোখের অভ্যেস হয়ে গেছে, সেগুলো যীশু নিখুঁত নিপাট তুলে এনেছেন স্ক্রিনে।

ছবির সংলাপ কোথাও কোথাও তুখোড় ভাবে লেখা। চাপা শ্লেষ তো কিছু বাক্যে ফেটে পড়ছে যেন! মাঝে মাঝে মনে হচ্ছিল, এসব শুনে কত লোকের গায়ে যে চরম জ্বালা ধরবে, ভাই! কোথাও আবার সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম পাঞ্চও আছে তুমুল! যেমন আন্ডারলাইন করে কিছু না বলে মোসাহেবদের একটা সিনে সমস্বরে ‘ঠিক-ঠিক-ঠিক’ বলে ওঠা এমন ভাবে আছে যে, ঝট করে মনে পড়ে যাবে কল্পলোকের বিশেষ এক রাজার সভার কথা!

তবে সংলাপে আবার খামতির দিকও আছে। হাল আমলের ভাষা-ব্যবহার ঢুকে গেছে পঁয়তাল্লিশ বছর আগের স্টোরিতে গিয়ে। যেমন ধরুন একটা সিনে শুনতে পাবেন, বীরেন্দ্রকৃষ্ণকে একজন বলছে ‘এই শুরু হল আপনার বাতেলা’। এখন ‘বাতেলা’ শব্দের এই ব্যবহার কি অতদিন আগে এরকমভাবে হত? যাঁরা লিখেছেন, লেখার আগে খোঁজ নিয়েছেন তো?

হেমন্ত মুখোপাধ্যায়কে বলতে শুনছি, ‘পেটের ভেতর প্রজাপতিরা রণে ভঙ্গ দিচ্ছে কি?’ এখন আপনি বলুন, ‘বাটারফ্লাই ইন স্টমাক’ ইডিয়মের আক্ষরিক এই বঙ্গানুবাদ অত বছর আগে ওই গায়কের মুখে ঠিক শোনাল কিনা।

আর বীরেন্দ্রকৃষ্ণের মেয়েকে যখন বলতে শুনছি, ‘বাবা তুমি অকারণে গ্লুমি হয়ে যাচ্ছ’ তখন মনে হয় এরকম চোখা একটা ছবিতে এ সব ইউজেস শুনতে হবে, এই কি কপালে ছিল?

ছবির আরও বেশ কিছু খামতির জায়গা আছে। যেমন ধরুন, রিসার্চ। ছবির শুরুতে একটা কার্ড দেখিয়ে কৃতজ্ঞতা জানানো হল বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র, উত্তম কুমার আর পঙ্কজ মল্লিকের পরিবারকে। ধরে নিচ্ছি এঁদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিশেষ ওই ঘটনা সম্পর্কে এঁদের ভিউ পয়েন্টগুলোর খোঁজ নিয়েছে ছবির রিসার্চ টিম। কিন্তু এমারজেন্সির সময়ে দিল্লির রেডিও অফিসে কী হয়েছিল, সেটা জানা গেল কোথা থেকে? নাকি সেটা পুরোটাই জাস্ট কল্পনা থেকে করা?

এছাড়া দেশে জরুরি অবস্থার জন্যে কেন ধর্মীয় এই রেডিও শো পালটাতে হবে, ছবিতে কোথাও তো তার কোন ব্যাখ্যা নেই! আর সত্যি কি এই শো নিয়ে পঙ্কজ মল্লিক আর হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের তুমুল এক ইগোর যুদ্ধ হয়? পঙ্কজ মল্লিকের হার্ট অ্যাটাক কি সত্যি হয় এই সবেরই জেরে? বুঝতে পারছেন তো, কী রকম সব ঘটনা দ্যাখান হচ্ছে স্ক্রিনে, কিন্তু সেগুলো আদৌ সত্যি নাকি নাটক জমাতে বানিয়ে লেখা, সেটার কোথাও ক্লু দেওয়া নেই কোন!    

এক জায়গায় ব্যানার্জিকে ‘মহিষাসুরমর্দ্দিনী’ নিয়ে বলতে শুনবেন, বছর বছর ওই দিন নাকি ‘সেম রেকর্ড বাজতা হ্যায়’। কিন্তু এই ছবিতেই তো পরে এটা দ্যাখান হচ্ছে যে, ‘সেম রেকর্ড’ বাজিয়ে যাওয়ার ‘শো’ ছিল না এটা। যতদিন কলাকুশলীরা হাজির ছিলেন, তিন মাস ধরে রিহার্সাল করে ভোরের বেলা পুরো শো ‘লাইভ’ পারফর্ম করা হতো!

নাটক নিয়ে বীরেন্দ্রকৃষ্ণের প্যাশন ছবিতে দ্যাখান হয়েছে ঠিকই, কিন্তু একটা বারও কোথাও কেউ এটা বলল না যে, ব্যাক্তিগত লেখালেখি করার জন্যে তাঁর একটা ছদ্মনাম ছিল। ‘বিরূপাক্ষ রচনাসমগ্র’ বইয়ের দোকানে কিনতে পাবেন আজও।

এগুলো ছাড়াও বেশ কয়েকটা খটকার সিন আছে। সত্তরের দশকের মাঝামাঝি উত্তম কুমার তো টপ ফর্মে পুরো! তাঁকে এক পলক দেখতে পেলে বাঙালির কি হাল হয়, সেটা তো এই ছবির কিছু দৃশ্যে দ্যাখান হয়েছে ভালই! কিন্তু এমন এক টপ স্টারকে কিনা চিনতে পারে না বীরেন্দ্রকৃষ্ণের বাড়ির কাজের লোক? এছাড়া উত্তম কুমার দিনের বেলা হাসি হাসি মুখে নর্থ কলকাতার তস্য গলিতে বীরেন্দ্রকৃষ্ণের বাড়িতে আসছেন, আর রাস্তাটি পুরো ফাঁকা, আপনি বলুন এটা কি আদৌ বিশ্বাস করা যায়?

সব থেকে চোখে লেগেছে শুরুর ডিসক্লেমার। রেডিও অফিসের কিছু মানুষ ছাড়া বাকি সবাই যে ছবিতে বাস্তবের নাম-পরিচয় নিয়ে হাজির, সেই ছবিরও শুরুতে কিনা দ্যাখান হচ্ছে ‘অল ক্যারেকটার, প্লেসেস আর ফিকটিশাস’ বলে! এর বদলে যে ‘বেস্‌ড অন ট্রু ইভেন্ট্‌স’ কথাটা লেখা উচিৎ ছিল, সেটুকুও কি মাথায় আসে নি কারুর?

রবীন্দ্রনাথকে অন স্ক্রিন দ্যাখাতে যাওয়া ছবির অন্যতম ভুল। নির্মাতাদের এই কথাটা মাথায় রাখা উচিৎ ছিল যে, এটা ম্যারাপ-বাঁধা পাড়ার নাটক নয়। হাল্কা করে নকল দাড়ি লাগিয়ে কাউকে রবি ঠাকুর সাজাতে গেলে পুরো সিনটাই খেলো হয়ে যেতে পারে!

তবে এসব ত্রুটি যতই চোখে লাগুক না কেন, এ কথাটা মানতে হবে, ছবি যখন শেষ হচ্ছে করতালিতে ভেসে যাচ্ছিল হাউসফুল ‘হল’। টের পাচ্ছি পর্দায় একের পর এক এতগুলো আইকনকে দেখতে দেখতে আর তার সঙ্গে ‘মহিষাসুরমর্দ্দিনী’র স্তোত্রপাঠের অব্যর্থ প্রয়োগ শুনে অটোম্যাটিকালি জল এসে গেছে চোখে।

মনে মনে যেটা ভাবছিলাম, সেই কথাটাই শুনতে পেলাম পাশে বসা কলেজ পড়ুয়া ছেলেগুলোর মুখে! ‘রসগোল্লার পর আবার একটা ভাল বাংলা ছবি হল’।

হ্যাঁ, খুঁটিয়ে বিচার করতে গেলে দ্যাখা যাবে, এটা হয়তো নিখুঁত ছবি নয়। কিন্তু এমন একটা বিষয় নিয়ে ছবিটা তৈরি, যে দেখতে গিয়ে অবিশ্বাস্য আবেগ আসবে মনে।

মহালয়ার ভোরবেলায় রেডিও খোলার অভ্যেস থাকে যদি, এ ছবিটা মিস করবেন না যেন।

1 COMMENT

  1. কিন্তু লেক টাউনের জয়াতে প্রথম দিনের শো তে জনা দশেক দর্শক ছিল । ছবি শেষে হাততালি কোথায় ? সম্ভবত দর্শকদের প্রতিক্রিয়া জানতে প্রযোজকদের কিছু লোককে মোতায়েন করেছিল । তারা জানতে চাইলে ছবিটা কেমন লেগেছে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here