রাতের অন্ধকারে প্রায় চল্লিশের কাছাকাছি বয়সের এক ব্যক্তিকে শ্মশানে অনেকক্ষণ একভাবে বসে থাকতে দেখে সন্দেহ হয় আশপাশের মানুষদের। ধীরে ধীরে সন্দেহভাজনের কাছে যান তাঁরা৷ খুব কাছে যেতেই, সেখানকার মানুষ তাঁদের নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। অভিযোগ‚ তাঁরা দেখতে পান যে, ওই ব্যক্তি সেখানে বসে শ্মশানের আধপোড়া মৃতদেহের মাংস খাচ্ছে! তার মুখে তখনও লেগে রয়েছে কাঁচা রক্তের দাগ!

সম্প্রতি এই ভয়ংকর ঘটনার সাক্ষী তামিলনাড়ুর বাসুদেবভানাল্লুরের একটি প্রত্যন্ত গ্রাম৷ স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, ওই ব্যক্তি ওই গ্রামেরই বাসিন্দা৷ পেশায় সে একজন ঠিকা শ্রমিক। তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এর আগেও উঠেছে৷ আর এই কারণেই তার স্ত্রী, সন্তানদের নিয়ে আলাদা থাকেন। তার এরকম অদ্ভুত আচরণের জন্যই তার সঙ্গে থাকে না কেউই। এতকিছুর পরেও তার স্বভাবের কোনও পরিবর্তন দেখা যায়নি৷ সূত্রের খবর, বেশ কয়েক মাস ধরেই গ্রামের শ্মশানে কিছু সন্দেহজনক ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছে গ্রামবাসীরা৷ তাঁরা দেখেন যে, অনেক লাশই আধপোড়া অবস্থায় রয়েছে৷ লাশের আধপোড়া মাংস শ্মশানের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে৷ আর এই ঘটনার পরেই, রাত্রিবেলা পাহারা বসানো হয় গ্রামের ওই শ্মশানে। পর পর বেশ কয়েকদিন গ্রামের কয়েকজন যুবককে পাহারায় বসানো হয়৷ আর তখনই হাতেনাতে ধরা পড়ে ওই ব্যক্তি৷

ইতিমধ্যেই অভিযুক্তকে স্থানীয় পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে৷ কোন মানসিক পরিস্থিতিতে তিনি এমন কাজ করেছেন তা জানতে মনোবিদদের সাহায্য নিচ্ছেন পুলিশকর্তারা৷ কিন্তু ঘটনার দু’দিন পরেও ওই রাতের কথা ভেবে আতঙ্কে ভুগছেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা৷ ওই ব্যক্তি কোনওভাবে কোনও তন্ত্রসাধনা করেন কিনা তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

আরও পড়ুন:  জনমানবশূন্য দ্বীপের একমাত্র বাসিন্দা ৮১ বছরের এই মহিলা

NO COMMENTS