প্রাচীন সভ্যতায় দেবতাকে তুষ্ট করতে হৃদযন্ত্র উপড়ে বলি শতাধিক শিশুকে

267

সম্প্রতি পেরুতে আবিষ্কৃত হয়েছে এমনই তথ্য যা থেকে জানা যাচ্ছে দেবতাকে তুষ্ট করার জন্য প্রায় ১৪০ জন শিশুর হৃদযন্ত্র উপড়ে নিয়ে বলি দেওয়া হয়েছিল তাদের |

আমেরিকার বৃহত্তম গণবলির ঘটনাগুলির মধ্যে এই ঘটনাটিরও স্থান হওয়া উচিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা | পঞ্চদশ শতাব্দীর চিমু সভ্যতায় দেবতাকে তুষ্ট করতেই পাঁচ থেকে চোদ্দ বছরের বহু শিশুর বুক চিরে হৃদযন্ত্র বের করে নিয়ে তাদেরকে ঈশ্বরের কাছে বলি দেওয়া হয় বলেই মনে করছেন তাঁরা | জানাচ্ছেন ওই অঞ্চলে হওয়া এক সাংঘাতিক এল নিনোর তাণ্ডব থেকে মুক্তির আশায় এই গণবলির আয়োজন করা হয়েছিল | এটিকে বলা যেতে পারে বিশ্বের সবথেকে বৃহত্তম ইলামা বলিদানের ঘটনা |

শিশুদের ও প্রায় ২০০ জন ইলামার অবশিষ্ট কঙ্কাল ৭‚৫০০ বর্গফিটের এই এলাকা থেকে আবিষ্কৃত হয়েছে | চিমুর রাজধানী চান চান থেকে হাফ মাইলেরও কম দূরত্বে অবস্থিত ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হুয়ানচাকুইটোলাস লামার কবরস্থান | প্যাসিফিক কোস্টের সংলগ্ন ৬০০ মাইল বিস্তীর্ণ এই এলাকার অধিকার ইনকান সাম্রাজ্যের অধীনে চলে যাওয়ার আগেও কোনও এক প্রাচীন বংশের রাজারা এই অঞ্চলটির শাসন চালাত | ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রত্নতাত্ত্বিক খনন কার্য ও গবেষণার পরে এই গণবলির তথ্য পাওয়া যায় |

ইউএসের লুইসিনিয়ার তুলানে ইউনিভার্সিটির অ্যানথ্রোপলজির অধ্যাপক জন ভেরানো জানিয়েছেন প্রাচীন বিশ্বে শিশু বলিদানের ইতিহাসের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সংযোজন করল এই আবিষ্কার | উত্তর পেরুর উপকুলবর্তী অঞ্চলে এই বিপুল সংখ্যায় বলিদানের কোনও খবরই এর আগে জানা যায়নি | পেরুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ ত্রুজিলোর অধ্যাপক গ্যাব্রিয়েল প্রিতো জানান যে উদ্ধার হওয়া কঙ্কালগুলির বুকে ক্ষতের চিহ্ন ও পাঁজরের হাড়ের অবস্থানে গন্ডগোল দেখে তাঁরা অনুমান করেছেন যে মৃত শিশুদের হৃদযন্ত্র উপড়ে নেওয়া হয়েছিল |

মেক্সিকোর মধ্যস্থলে মেক্সিকা টেম্পলো মায়োরে ৪২ জন শিশু বলি দেওয়ার ঘটনার কথা জানা গিয়েছিল | কিন্তু এইক্ষেত্রে বলির সংখ্যা অরও অনেক বেশি | অনুমান‚ ১৪০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৪৫০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী কোনও সময়ে পেরুর এই স্বল্প বৃষ্টিপাত যুক্ত অঞ্চলে এলনিনোর প্রকোপে বন্যা হয় | বন্যার সম্ভাব্য ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পেতেই শিশুদের বলিদানের আচার পালন করা হয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা | রীতির শিকারে বলি হওয়া এই শিশুগুলির উদ্ধার হওয়া কঙ্কাল পরীক্ষা করে এই গণবলির আচরণের উৎপত্তির কারণ ও স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস ও ইতিহাস সম্পর্কে বহু তথ্য পাওয়া যাবে বলেও আশাবাদী তাঁরা |

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.