অনুপ্রেরণার আরেক নাম প্রাঞ্জল পাটিল – ভারতের প্রথম দৃষ্টিহীন মহিলা আইএএস অফিসার

2612
Pranjal Patil blind IAS officer

প্রাঞ্জল পাটিল, বয়স ৩১ । প্রথম দৃষ্টিহীন ভারতীয় যিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন একজন সফল আইএএস অফিসার হয়ে। ২০১৮ সালের মে মাসে তিনি কেরালার এর্নাকুলাম জেলার সহকারি কালেক্টর পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। দুর্বল দৃষ্টিশক্তি নিয়ে জন্ম নেন প্রাঞ্জল, ছয় বছর বয়সে পুরোপুরি দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন তিনি। কিন্তু তাঁর স্বপ্নকে দমাতে পারেনি এই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা। ছোট থেকেই আইএএস অফিসার হতে চাইতেন। একবারের জন্যও ছাড়েননি আশা। স্বপ্নকে সত্যি করতে সব বাধা পেরতে প্রস্তুত ছিলেন তিনি। জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ইন্টারন্যাশনল রিলেশনসে স্নাতকোত্তর। এরপর তিনি এম ফিল এবং পিএইচডি করেন।

জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতি তাঁকে প্রতিবাদী হতে শিখিয়েছিল। সত্যের জন্য কাজ করতে আর লড়তে শিখিয়েছিল। তাই তিনি ভারতীয় সিভিল সার্ভিসে কাজ করবেন সিদ্ধান্ত নিলেন। তেমন ভাবেই প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করলেন। প্রথম বারের চেষ্টাতেই তিনি ইউপিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ভারতীয় রেলের অ্যাকাউন্ট সার্ভিস বিভাগে চাকরি পান। কিন্তু দৃষ্টিহীনতার জন্য সে চাকরিতে নিয়োগ করতে অসম্মত হয় ভারতীয় রেল । ‘ভারতীয় রেল আমাকে প্রত্যাখ্যান করলে আমি হতাশ হয়ে পড়েছিলাম বটে কিন্তু সব আশা ছেড়ে দিইনি। ঠিক করলাম আবার দেব এই পরীক্ষা। আরও বেশি করে পড়াশোনা শুরু করলাম যাতে পরের বার আরও ভালো র‍্যাঙ্কিং হয়। ভারতীয় রেলওয়েকে তাঁর বার্তা – ‘চাকরির সুযোগ সকলের জন্য রাখা উচিৎ। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হবে, এমনটা গ্রহণযোগ্য নয়’।

দ্বিতীয়বার ইউপিএস পরীক্ষা দিয়ে সারা ভারতে তিনি ১২৪ র‍্যাঙ্ক করেন। এরপরই এর্নাকুলামের সহকারী কালেক্টর পদে নিযুক্ত হন প্রাঞ্জল। মুসৌরির ‘লাল বাহাদুর শাস্ত্রী ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব অ্যাডমিনিসস্ট্রেশন’ থেকে প্রশাসনিক বিষয়ে একাধিক দফায় ট্রেনিং নিয়ে এসেছেন। এক বছরের জন্য ওই পদেই বহাল আছেন তিনি। ‘ট্রেনিং করতে গিয়ে আমি নানা দপ্তর ও বিভাগ, তাদের কাজ, দায়িত্ব সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হই। আমি জানি এই দায়িত্ব সামলাতে ভবিষ্যতে অনেক সমস্যা আসতে পারে, কিন্তু আমি ঘোরতর আত্মবিশ্বাসী’, সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন প্রাঞ্জল। জীবনের পথে সামনে এগিয়ে যেতে দৃষ্টিহীনতাকে কেউ যেন বাধা হিসেবে না ভাবেন, এ কথা প্রাঞ্জল তাঁর নিজের দৃষ্টান্ত দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন। তাঁর মত মানুষ আমাদের সকলের অনুপ্রেরণা। যারা চেষ্টা দিয়ে, পরিশ্রম দিয়ে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে চাইছে, এমন কোনও প্রতিবন্ধকতা নেই যা তাদের সেই স্বপ্নকে বাধা দিতে পারে। তেমন ভাবে চেষ্টা করলে শত বাধা বিঘ্ন কাটিয়েও সাফল্য ধরা দেবেই, শুধু আত্মবিশ্বাসটা যেন অটল থাকে।

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.