১২০ রকমের পাখির ডিম‚ হারিয়ে যাওয়া বাংলার ধান – বুকের ওমে বাঁচিয়ে রেখেছেন এই আশ্চর্য মানুষটি

birds egg collector amaresh mitra

চেনেন নাকি ‘কৃষ্ণনগরের সেলিম আলি’কে? ডিমের কারবারি | না‚ না‚ শুধু মুরগি বা হাঁস নয়‚ হরেক কিসিমের পাখির ডিমের কারবারি | তবে তাঁর কারবার ব্যবসার জন্য নয় | ভালোবাসার | ভালোবেসেই প্রায় ১২০ রকমের পাখির ৪০০ ডিম সংগ্রহ করে আগলে রেখেছেন বুক দিয়ে | তিনি ৮২ বছরের অমরেশ কুমার মিত্র | 

ছোট থেকেই আকর্ষণ ছিল পাখিদের প্রতি | আর সেই আকর্ষণই একদিন বদলে গেল নেশায় | ১৯৫২ সাল থেকে শুরু করে ৬০-এর দশক পর্যন্ত ছুটে চলেছেন বনে বাদাড়ে‚ গ্রামে গঞ্জে‚ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় | এমনকি বাংলার বাইরেও পা পড়েছে এই পাখিপ্রেমী মানুষটির | নিজের জানার আগ্রহে ও ছাত্রছাত্রীদের শেখাতে কুড়িয়ে নিয়ে এসেছেন কাক‚ কোকিল‚ জলপিপি‚ বাবুই‚ ছাতার‚ ময়ূর‚ নীলকন্ঠ থেকে আরও অসংখ্য পাখির ডিম | তারপর তাদের যত্ন করে ঠাঁই দিয়েছেন নিজের বসতবাড়ির একটি ঘরে | 

এ পর্যন্ত শুনেই যদি আশ্চর্য লাগে তবে অবাক হওয়ার আরও বাকি | শুধুমাত্র পাখির ডিমই নয় তাঁর সংগ্রহে আছে হারিয়ে যাওয়া ২০০ রকমের ধানের বীজও | বাংলার ধানকে বাঁচিয়ে রাখতে ঘুরে ঘুরে সংগ্রহ করেছেন তার নমুনা | আর কি আশ্চর্য সব নাম তাদের! কবিরাজ‚ রেশমি‚ আলমশাক…এমনই আরও কত, রূপকথার চরিত্র যেন | 

শুধুমাত্র তাঁর সংগ্রহই নয়‚ জানার পর মনে হয় একবার দেখে আসি মানুষটিকেও | তবে আজ তিনি অশক্ত‚ বয়সের ভারে ন্যুব্জ | সঙ্গী বলতে স্ত্রী আরতি | আর অবশ্যই সঙ্গী এতদিন ধরে তিল তিল করে জমানো তাঁর বিস্ময় সংগ্রহ |

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.