মেরুদণ্ডে আজও বিঁধে আছে পাক সেনার গুলি‚ চেনেন ভারতের প্রথম প্যারালিম্পিক সোনা জয়ী মুরলীকান্ত পেটকার কে?

padma shri murlikant petkar

মুরলীকান্ত পেটকার, প্রথম ভারতীয় যিনি প্যারালিম্পিকস-এ সোনা জিতেছেন। ১৯৭২ সালে জার্মানির হেইডেলবার্গে অনুষ্ঠিত প্যারালিম্পিকস গেমস-এ এই কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন তিনি। পুনের সাংলির নিকটবর্তী কেনদ্রি গ্রামে জন্ম মুরলীকান্তের। ভারতীয় সেনায় জওয়ান হিসেবে চাকরি করতেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইলেকট্রনিক এন্ড মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং শাখায় কাজ করার সময় তিনি আহত হন। আহত হওয়ার আগে তিনি বক্সিং খেলতেন। ১৯৬৫ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের যুদ্ধের সময় তিনি সাতটি গুলি বিদ্ধ হন। এখনও মেরুদণ্ডে একটি গুলি রয়ে গেছে। গুলিবিদ্ধ হবার পর যখন মুম্বইয়ের এক হাসপাতালে ভর্তি তিনি, তখন জে আর ডি টাটা একবার আহত সৈন্যদের দেখতে আসেন, মুরলীকান্ত তখন তাঁকে অনুরোধ করেন আর্থিক ক্ষতিপূরণের বদলে তাঁকে যেন একটি চাকরি দেওয়া হয়।

তারপর মুরলীকান্ত পুনের টেলকো কোম্পানিতে সুপারভাইজারের কাজ পান। শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধকতার শিকার হলেও তাঁর প্রাণশক্তি দমেনি কখনওই। মনের জোর নিয়েই তিনি ধীরে ধীরে আবার অ্যাথলিট জীবন শুরু করেন। সাঁতার, টেবিল টেনিস, জাভলিন, শটপুট, স্ল্যালম রেসিং ইত্যাদির চর্চা আরম্ভ করেন তিনি। এর বছর তিনেকের মধ্যেই তিনি ইজরায়েলে ১৯৬৮ সালের প্যারালিম্পিক-এ ১০ জনের ভারতীয় স্কোয়াডের মধ্যে নিজের জায়গা করে নিতে সক্ষম হন। সেবার কোনও মেডেল না জিতলেও টেবিল টেনিসের দ্বিতীয় রাউন্ড অবধি যেতে পেরেছিলেন তিনি। এরপর ১৯৭২ সালের প্যারালিম্পিকস-এ বর্শা ছোঁড়া বা জাভলিনে, প্রিসিশন জাভলিন থ্রো এবং স্ল্যালমে ফাইনালিস্ট হয়েছিলেন। সাঁতারেও ছিনিয়ে নিয়েছিলেন চার চারটি আন্তর্জাতিক মেডেল। ১৯৭৫ সালে মুরলীকান্ত শ্রী শ্রী ছত্রপতি পুরস্কারে সম্মানিত হন। মহারাষ্ট্র সরকারের কাছ থেকে ৪০০০ টাকার পেনশনও পান তিনি। অনেক দিন ধরেই এই প্রবাদপ্রতিম ক্রীড়াবিদ শারীরিক বাধা জয় করেও নানান স্বীকৃতি অর্জন করেন। তিনি সোনা জেতার ৩৬ বছর বাদে অলিম্পিকস থেকে সোনা আসে ভারতের ঘরে। মুরলীকান্তের পর ২০০৮ সালে অভিনব বৃন্দা সোনা জেতেন শ্যুটিং-এ। ২০১৭ সালে মুরলীকান্ত পেটকারকে ‘পদ্মশ্রী’ দেয় ভারত সরকার। শুধুমাত্র মনের জোর আর আত্মবিশ্বাস থাকলে যে কোনও প্রতিকূলতা জয় করেও যে উন্নতির শিখরে পৌঁছন সম্ভব মুরলীকান্ত নিজের জীবন দিয়ে তা প্রমাণ করেছেন। মুরলীকান্তের জীবনের এই প্রেরণাদায়ী উপাখ্যান উদ্বুদ্ধ করবে সমস্ত ভারতীয়কে।

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.