সোলার পাওয়ার চালিত এটিএম থেকে দেশের প্রথম ভাসমান সোলার প্লান্ট – কলকাতার ‘সোলার ম্যান’-এর অবদান

santi pada gon chaudhuri

কলকাতার ‘সৌর পুরুষ’। শক্তির পুনরুৎপাদন বিষয়ে তাঁর ৩৫ বছরের কর্মজীবন। সম্প্রতি, গত ২৭ শে মে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে পেয়েছেন মিশন ইনোভেশন চ্যাম্পিয়ন বিশেষ সম্মাননা। সোলার এনার্জি বা সৌর শক্তি বিষয়ে বিশেষ অবদানের জন্য দেওয়া হয় এই পুরস্কারটি। ১৯৮৩ সালে ত্রিপুরার একটি অজ গ্রামের মানুষদের কাছে যখন বিদ্যুৎ প্রায় স্বপ্নবৎ ছিল, তখনই সৌর শক্তির সাহায্যে তারা জ্বলতে দেখল টিমটিমে বাল্বের আলো। নৃপেন চক্রবর্তী তখন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী এবং প্ল্যানিং কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান ডঃ মনোমোহন সিং সাক্ষী ছিলেন সেই আলোকিত মুহূর্তের। গ্রামীণ অঞ্চলে সৌর শক্তির সাহায্যে বৈদ্যুতিকরণের প্রবক্তা ছিলেন কলকাতার এক বিজ্ঞানী এস পি গন চৌধুরি তথা শান্তিপদ গন চৌধুরি |

মনমোহন সিং এই তরুণ বাঙালির কাজে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে নর্থ ইস্টার্ন কাউন্সিলের উপদেষ্টা নিযুক্ত করেন এবং সীমান্ত অঞ্চলে অপ্রচলিত শক্তির যাবতীয় উৎস খুঁজে সেগুলি চালু করার দায়িত্বও পড়ে তাঁর ওপরে। এর পর গন চৌধুরি দেশে ও বিদেশে অনেকগুলি সোলার পিভি প্রকল্প শেষ করেছেন। প্রথম মেগা ওয়াট স্কেল গ্রিড সংযুক্ত সোলার পাওয়ার প্লান্ট এবং ভাসমান সোলার প্লান্ট তিনিই প্রবর্তন করেন। এছাড়াও সুন্দরবন অঞ্চলে গ্রামে গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেন তিনি। মিনি গ্রিড-এর ধারণাও তাঁরই মস্তিস্ক প্রসূত। কলকাতায় প্রথম সোলার হাউসিং কমপ্লেক্সও পরিকল্পনা করেন তিনি। শান্তিপদ গন চৌধুরি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে করেন স্পেশালাইজেশন, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পেয়েছেন ডক্টরেট।

নব্বই দশকের শেষ দিক অবধিও সুন্দরবন অঞ্চলের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষজন কাটাত বিদ্যুৎহীন জীবন। কেরোসিনের বাতি জ্বালিয়ে কাজ চালাত। ১৯৯৪ সালে প্রথম সাগর দ্বীপের কামালপুর গ্রামে সৌর শক্তির সাহায্যে আলো পৌঁছে দিলেন তিনি। বাস্তবায়িত হল তাঁর মিনি গ্রিডের ধারণা। কামালপুর গ্রামে স্থাপন করলেন সোলার পাওয়ার প্লান্ট। তৈরি করলেন আঞ্চলিক গ্রিড যাতে গ্রামবাসীরা কিছুক্ষণের জন্য হলেও বিদ্যুৎ-এর সুবিধা পায়। ‘মিনি গ্রিডের মাধ্যমে এশিয়ায় এই প্রথম কোনও গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছল। এখন সুন্দরবনের প্রায় ২ লক্ষ মানুষ সৌর বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল’, জানালেন শ্রী গন চৌধুরি। এই প্রকল্পে অর্থ সাহায্য করেছে কেন্দ্র সরকার ও রাজ্য সরকার। এই ভাবেই গ্রিডের মাধ্যমে রাজস্থান, ছত্তিসগড় এবং ঝাড়খণ্ডের গ্রামে গ্রামে বিদ্যুৎ পাঠানোর প্রকল্প গৃহীত হয়েছে। অনেকে আবার এই তাঁর সমালোচনায় মুখর হয়েছেন, ‘ভারতবর্ষ দরিদ্র দেশ। সৌরশক্তি সে তুলনায় ব্যয়সাপেক্ষ’। কিন্তু বিজ্ঞানী গন চৌধুরি তাঁর নিজের জায়গাতেই অটল থেকে সরকারের কাছ থেকে অর্থ ও সমর্থন দুই-ই সংগ্রহ করে যাচ্ছেন। পেছন ফিরে তাকানোর কোনও কারণ নেই। সৌর শক্তিতে চলে এমন নানা কিছু তিনি উদ্ভাবন করেছেন যেমন, মাইক্রো সোলার ডোম, সোলার ওয়াটার পিউরিফায়ার, জনতা সোলার এটিএম, সোলার পাম্প ইত্যাদি। বিজ্ঞানী গন চৌধুরি আগামীতে ব্যবহার করা যেতে পারে এমন আরও নবায়নযোগ্য শক্তির উৎসের খোঁজে রয়েছেন। ‘রিনিউএবল এনার্জি অর্থাৎ নবায়নযোগ্য শক্তি দু’টি ক্ষেত্রে বিশাল ভূমিকা নিতে পারে, এক বিদ্যুৎ উৎপাদন আর দুই, পরিবহনে’ জানান বিজ্ঞানী শান্তিপদ গন চৌধুরি |

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.