৫০ বছর আগে পাঠানো টেলিগ্রাম শেষপর্যন্ত পৌঁছল প্রাপকের হাতে

230

টেলিগ্রাম? সে ছিল বহুযুগ আগের ব্যাপার | আমাদের মধ্যে এমন অনেক মানুষই আছেন যাঁরা হয়ত নিজের চোখে কখনই দেখেনইনি কোনও টেলিগ্রাম | কিন্তু মিশিগানের এই ব্যক্তি ভাবতে পারেননি পঞ্চাশ বছর আগে পাঠানো একটি পথহারানো টেলিগ্রাম শেষ পর্যন্ত এসে পৌঁছবে তাঁর কাছে | তাই টেলিগ্রামটি হাতে পেয়ে স্মৃতিপথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে কোন সেই যৌবনে গিয়ে পৌঁছলেন রবার্ট ফিঙ্ক |

৭১ বছরের রবার্ট ওকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিকাল সাইকোলজিস্ট এবং কাউন্সেলিঙের অধ্যাপক | হয়ত তিনিই ওয়েস্টার্ণ ইউনিয়নের শেষ টেলিগ্রাম প্রাপক | ১৯৬৯ সালের মে মাসের ২ তারিখে শুভেচ্ছাবার্তা জানাতে রবার্টকে এই টেলিগ্রামটি পাঠিয়েছিলেন তাঁর এক বন্ধু‚ আর্নির বাবা মা‚ মিঃ ও মিসেস ফিশম্যান | টেলিগ্রামটিতে রবার্টের উদ্দেশে লেখা রয়েছে যে যখন তিনি ডিপ্লোমা পাবেন তখন উপস্থিত থাকতে না পারলেও তাঁদের মন ও শুভকামনা রবার্টের সঙ্গে থাকবে | টেলিগ্রামটি পাঠানোর প্রায় পঞ্চাশ বছর পরে জানুয়ারির দুতারিখে বহু পথ ঘুরে শেষ পর্যন্ত রবার্টের হাতে এসে পৌঁছয় টেলিগ্রামটি | কিন্তু কেন পঞ্চাশ বছর আগে টেলিগ্রামটি পাননি রবার্ট?

তিনি জানিয়েছে অ্যান আর্বরের একটি বাড়ির একটি ঘরে কয়েকজনের সঙ্গে থাকতেন তিনি | ১৯৬৯এর মে মাসের ১ তারিখেই সেই অ্যাপার্টমেন্ট ছেড়ে নিউ ইয়র্কের একটি গ্র্যাজুয়েট স্কুলে ভর্তি হতে রওনা হয়ে গিয়েছিলেন | আর টেলিগ্রামটি এসে পৌঁছেছিল ঠিক তার পরের দিনই | বাড়ির মালিকের কাছে রবার্টের ঠিকানা না থাকায় টেলিগ্রামটি ওই বাড়িতেই থেকে যায় |

তারপরে টেলিগ্রামটি খুঁজে পান ক্রিস্টিনা জাস্কে ( ৩৮ ) | আইকন ইন্টার অ্যাক্টিভ নামে একটি ডিজিটাল মার্কেটিং সমস্থায় কর্মরতা ক্রিস্টিনা | আইকন ইন্টার অ্যাক্টিভ সংস্থারই একটি ফাইলের ডেস্কে ভরা পে চেকের স্তূপের মধ্যে থেকে কাগজপত্র ঘাঁটতে গিয়েই রবার্টকে পঞ্চাশ বছর আগে করা এই অভিনন্দন জ্ঞাপন করা টেলিগ্রামটি আবিষ্কার করেন ক্রিস্টিনা |  হলুদ খামের ভিতর পুরনো হলদে হয়ে যাওয়া টেলিগ্রামটি বের করে পড়েন | তাঁর মন আবেগে আর্দ্র হয়ে গিয়েছিল পড়ে | এবং তখনই তিনি ঠিক করেন টেলিগ্রামটি তার আসল প্রাপকের কাছে পৌঁছে দেবেন তিনি | অনেক প্রচেষ্টা করে রবার্টের সঙ্গে যোগাযোগ করতে শেষ পর্যন্ত সফল হন ক্রিস্টিনা |

ক্রিস্টিনার মেল পেয়ে প্রথমে রবার্ট ভেবেছিলেন হয়ত বা ক্রিস্টিনা তাঁর সঙ্গে কোনওরকম মজা করার বা বোকা বানানোর চেষ্টা করছেন |  কিন্তু শেষে যখন সেটি এসে পৌঁছয় রবার্টের কাছে তখন অবাক হন | টেলিগ্রামটির প্রেরক অর্থাৎ মিঃ এবং মিসেস ফিশম্যান এতদিনে মারা গিয়েছেন | তিনি তাঁদের এই টেলিগ্রাফটি পাঠানোর জন্য ধন্যবাদ জানাতে না পারার জন্য আফসোস করেন | জানান তখনকার দিনে একটি টেলিগ্রাফ পাঠানো আজকের দিনে একটি মেসেজ পাঠানোর থেকে অনেক বেশি শ্রমসাপেক্ষ ছিল | কারণ টেলিগ্রাফ পোস্ট অফিসের কর্মীরা নির্দিষ্ট পোশাক পরে এসে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে যেতেন | রবার্টের জন্য মিঃ ও মিসেস ফিশম্যান যে এতখানি চিন্তা করেছিলেন তার জন্য মনে মনে কৃতজ্ঞতা বোধ করেন রবার্ট |

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.