৫০ বছর আগে পাঠানো টেলিগ্রাম শেষপর্যন্ত পৌঁছল প্রাপকের হাতে

৫০ বছর আগে পাঠানো টেলিগ্রাম শেষপর্যন্ত পৌঁছল প্রাপকের হাতে

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

টেলিগ্রাম? সে ছিল বহুযুগ আগের ব্যাপার | আমাদের মধ্যে এমন অনেক মানুষই আছেন যাঁরা হয়ত নিজের চোখে কখনই দেখেনইনি কোনও টেলিগ্রাম | কিন্তু মিশিগানের এই ব্যক্তি ভাবতে পারেননি পঞ্চাশ বছর আগে পাঠানো একটি পথহারানো টেলিগ্রাম শেষ পর্যন্ত এসে পৌঁছবে তাঁর কাছে | তাই টেলিগ্রামটি হাতে পেয়ে স্মৃতিপথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে কোন সেই যৌবনে গিয়ে পৌঁছলেন রবার্ট ফিঙ্ক |

৭১ বছরের রবার্ট ওকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিকাল সাইকোলজিস্ট এবং কাউন্সেলিঙের অধ্যাপক | হয়ত তিনিই ওয়েস্টার্ণ ইউনিয়নের শেষ টেলিগ্রাম প্রাপক | ১৯৬৯ সালের মে মাসের ২ তারিখে শুভেচ্ছাবার্তা জানাতে রবার্টকে এই টেলিগ্রামটি পাঠিয়েছিলেন তাঁর এক বন্ধু‚ আর্নির বাবা মা‚ মিঃ ও মিসেস ফিশম্যান | টেলিগ্রামটিতে রবার্টের উদ্দেশে লেখা রয়েছে যে যখন তিনি ডিপ্লোমা পাবেন তখন উপস্থিত থাকতে না পারলেও তাঁদের মন ও শুভকামনা রবার্টের সঙ্গে থাকবে | টেলিগ্রামটি পাঠানোর প্রায় পঞ্চাশ বছর পরে জানুয়ারির দুতারিখে বহু পথ ঘুরে শেষ পর্যন্ত রবার্টের হাতে এসে পৌঁছয় টেলিগ্রামটি | কিন্তু কেন পঞ্চাশ বছর আগে টেলিগ্রামটি পাননি রবার্ট?

তিনি জানিয়েছে অ্যান আর্বরের একটি বাড়ির একটি ঘরে কয়েকজনের সঙ্গে থাকতেন তিনি | ১৯৬৯এর মে মাসের ১ তারিখেই সেই অ্যাপার্টমেন্ট ছেড়ে নিউ ইয়র্কের একটি গ্র্যাজুয়েট স্কুলে ভর্তি হতে রওনা হয়ে গিয়েছিলেন | আর টেলিগ্রামটি এসে পৌঁছেছিল ঠিক তার পরের দিনই | বাড়ির মালিকের কাছে রবার্টের ঠিকানা না থাকায় টেলিগ্রামটি ওই বাড়িতেই থেকে যায় |

তারপরে টেলিগ্রামটি খুঁজে পান ক্রিস্টিনা জাস্কে ( ৩৮ ) | আইকন ইন্টার অ্যাক্টিভ নামে একটি ডিজিটাল মার্কেটিং সমস্থায় কর্মরতা ক্রিস্টিনা | আইকন ইন্টার অ্যাক্টিভ সংস্থারই একটি ফাইলের ডেস্কে ভরা পে চেকের স্তূপের মধ্যে থেকে কাগজপত্র ঘাঁটতে গিয়েই রবার্টকে পঞ্চাশ বছর আগে করা এই অভিনন্দন জ্ঞাপন করা টেলিগ্রামটি আবিষ্কার করেন ক্রিস্টিনা |  হলুদ খামের ভিতর পুরনো হলদে হয়ে যাওয়া টেলিগ্রামটি বের করে পড়েন | তাঁর মন আবেগে আর্দ্র হয়ে গিয়েছিল পড়ে | এবং তখনই তিনি ঠিক করেন টেলিগ্রামটি তার আসল প্রাপকের কাছে পৌঁছে দেবেন তিনি | অনেক প্রচেষ্টা করে রবার্টের সঙ্গে যোগাযোগ করতে শেষ পর্যন্ত সফল হন ক্রিস্টিনা |

ক্রিস্টিনার মেল পেয়ে প্রথমে রবার্ট ভেবেছিলেন হয়ত বা ক্রিস্টিনা তাঁর সঙ্গে কোনওরকম মজা করার বা বোকা বানানোর চেষ্টা করছেন |  কিন্তু শেষে যখন সেটি এসে পৌঁছয় রবার্টের কাছে তখন অবাক হন | টেলিগ্রামটির প্রেরক অর্থাৎ মিঃ এবং মিসেস ফিশম্যান এতদিনে মারা গিয়েছেন | তিনি তাঁদের এই টেলিগ্রাফটি পাঠানোর জন্য ধন্যবাদ জানাতে না পারার জন্য আফসোস করেন | জানান তখনকার দিনে একটি টেলিগ্রাফ পাঠানো আজকের দিনে একটি মেসেজ পাঠানোর থেকে অনেক বেশি শ্রমসাপেক্ষ ছিল | কারণ টেলিগ্রাফ পোস্ট অফিসের কর্মীরা নির্দিষ্ট পোশাক পরে এসে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে যেতেন | রবার্টের জন্য মিঃ ও মিসেস ফিশম্যান যে এতখানি চিন্তা করেছিলেন তার জন্য মনে মনে কৃতজ্ঞতা বোধ করেন রবার্ট |

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

Leave a Reply

Handpulled_Rikshaw_of_Kolkata

আমি যে রিসকাওয়ালা

ব্যস্তসমস্ত রাস্তার মধ্যে দিয়ে কাটিয়ে কাটিয়ে হেলেদুলে যেতে আমার ভালই লাগে। ছাপড়া আর মুঙ্গের জেলার বহু ভূমিহীন কৃষকের রিকশায় আমার ছোটবেলা কেটেছে। যে ছোট বেলায় আনন্দ মিশে আছে, যে ছোট-বড় বেলায় ওদের কষ্ট মিশে আছে, যে বড় বেলায় ওদের অনুপস্থিতির যন্ত্রণা মিশে আছে। থাকবেও চির দিন।