প্রাচীন অভিজাত মিশরীয় রমণীর মিসক্যারেজ…২৫০০ বছর ধরে ৪ মাস বয়সী অপরিণত ভ্রূণ ঘুমিয়ে আছে মামি হয়ে

978

১০০ বছর আগে ব্রিটিশ পুরাতাত্ত্বিকরা পিরামিডের অন্ধকার থেকে বের করে এনেছিল | ছোট্ট‚ মাত্র ১৭ ইঞ্চি দৈর্ঘ্য‚ মামি না বলে বলা ভাল একটা পুঁটুলি | বিশেষজ্ঞরা ভেবেছিলেন‚ ভিতরে আছে মৃত মানুষের নাড়ি ভুঁড়ি‚ মানে মামি বাবানোর সময় দেহের যে অংশগুলো ফেলে দিত এমবামাররা | অর্থাৎ মামিফিকেশনের উচ্ছিষ্ট | তাই বিশেষ গুরুত্ব না দিয়ে সেটি পড়ে ছিল কেম্ব্রিজ জাদুঘরের এক কোণায় |

আবিষ্কারের শতবর্ষ পরে ভুল ভাঙল পুরাতাত্ত্বিকদের | জানা গেল‚ ভিতরে উচ্ছিষ্ট নয় | আছে একটি অপরিণত ভ্রূণ | পরিণত হয়ে ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগেই যে ঝরে পড়েছিল | তাকেও যত্ন করে মামি বানিয়েছিলেন প্রাচীন মিশরীয়রা | বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন‚ এতদিন অবধি মিশর থেকে অপরিণত ভ্রূণের যে যে মামি আবিষ্কৃত হয়েছে তার মধ্যে এটি কনিষ্ঠতম | অর্থাৎ সবথেকে কমবয়সী ভ্রূণ |

পরীক্ষা নিরীক্ষার পরে বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন‚ খ্রিস্টপূর্ব ৬৬৪-৫২৫ অব্দে‚ আজ থেকে অন্তত ২৫০০ বছর আগে কোনও এক অভিজাত মিশরীয় রমণীর গর্ভে জন্ম নিয়েছিল এই ভ্রূণ | কিন্তু সেই সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়নি | গর্ভধারণের ১৬ থেকে ১৮ সপ্তাহের মাথায় বা প্রেগন্যান্সির চার থেকে সাড়ে চার মাসের মাথায় ওই রমণীর মিসক্যারেজ হয়ে যায় | তুতানখামুনের সমাধি থেকেও মামি করা মানব-ভ্রূণ আবিষ্কৃত হয়েছে | কিন্তু সেগুলোর বয়স ৬ মাস এবং ৯ মাস | যার অর্থ হল‚ দ্বিতীয় ভ্রূণটি ভূমিষ্ঠ হওয়ার মাত্র কদিন আগে গর্ভপাত হয়ে যায় | সেদিক দিয়ে কেম্ব্রিজ যাদুঘরে রাখা ভ্রূণ সবথেকে ছোট | মাত্র চার-সাড়ে চার মাস মায়ের গর্ভে ছিল সে |

মাইক্রো সিটি স্ক্যান দেখিয়েছে‚ ভ্রূণটির দুটি হাত বুকের উপর ক্রস করে রাখা | দীর্ঘ হাত-পায়ে পাঁচটি করে আঙুল | কুঁড়িতেই বিনষ্ট হলেও নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে আছে সে | মামির সৌন্দর্য এবং অন্যান্য খুঁটিনাটি থেকেই স্পষ্ট‚ অপরিণত ভ্রূণকেও কতটা গুরুত্ব দেওয়া হত নীল নদের সভ্যতায় | ব্যান্ডেজের পরতে জড়িয়ে থেমে যাওয়া ছোট্ট প্রাণটিকে পরম মমতায়‚ যত্নে রেখে দেওয়া হয়েছে সেডার কফিনে |

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.